চায়ের দোকানে কাজ করে ধলঘাটার শহিদুলের জিপিএ-৫
১৭ জুলাই ২০২৫ ১৪:১৭
সরওয়ার কামাল, মহেশখালী (কক্সবাজার): ছোটবেলা থেকেই বই পড়ার প্রতি বেশ আগ্রহ শহিদুল ইসলাম বাবুর। পরিবারের অসচ্ছলতার কারণে ধলঘটার সুতরিয়া বাজারে পিতার সাথে চায়ের দোকানে তাকে কাজ করতে হয়। কাজের ফাঁকে সে লেখাপড়া করে এবার এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে। সে জেএসসি ও পিএসসিতেও জিপিএ-৫ পেয়েছিল। শহিদুল ইসলাম বাবু ধলঘাটা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের মানবিক বিভাগের ছাত্র। দীর্ঘ ৫ বছর পর এবার এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া একমাত্র ছাত্র। দীর্ঘ বছর পর ধলঘাটা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পাওয়ায় খুশি শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীরা।
শহিদুল ইসলাম বাবু মহেশখালী উপজেলার ধলঘাটা ইউনিয়নের সুতরিয়া বাজারের চায়ের দোকানদার ইব্রাহিম সওদাগরের ছেলে। এই অদম্য মেধাবী ছাত্রের সাফল্যে খুশি পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজন।
জানা গেছে, ধলঘাটার সুতরিয়া বাজারের চায়ের দোকান করে সংসার চালাতে হয় শহিদুল ইসলাম বাবুর পিতা ইব্রাহিম সওদাগরকে। এ চায়ের দোকানের আয় দিয়ে পরিবার চালানো তার পক্ষে দুষ্কর হয়ে পড়ে। সে সময় ছেলে শহিদুল ইসলাম বাবু লেখাপড়া করতে চায়। এতে কমপক্ষে ৩টি প্রাইভেট পড়তে হয়। কিনতে হয় অনেক বই। ছেলের লেখাপড়া করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে।
শহিদুল ইসলাম বাবুর স্বপ্ন একজন শিক্ষক হওয়ার। সে বলে স্কুল জীবন পাড়ি দিয়ে এবার কলেজ জীবন পাড়ি দিয়ে একজন শিক্ষক হবো। উচ্চশিক্ষা অর্জন করে দেশের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করব। বাবুর এসএসসির ফল শুনে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি চা বিক্রেতা পিতা মো. ইব্রাহীম সওদাগর। তিনি বলেন, আমার ছেলে কঠোর প্ররিশ্রম করে লেখাপড়া করে ফল পেয়েছে। মানুষের দোয়া ও ভালোবাসা তার সঙ্গে আছে। সেই সাথে বাবুর আপন চাচা আয়মন ছিদ্দিক আমার ছেলেকে অনেক সহায়তা করেছেন বলে জানান।
বর্ণমালা কোচিং সেন্টারের শিক্ষক বাবুর আপন চাচা আয়মন ছিদ্দিক বলেন, শুধু মনোবল আর অদম্য ইচ্ছাশক্তিই তাকে এ সাফল্য এনে দিয়েছে। আমি সবসময় তার লেখাপড়ার খোঁজখবর রেখেছি। সে প্রমাণ করে দিয়েছে, ইচ্ছাশক্তি থাকলে সাফল্য অর্জনে কোনো বাধাই বাধা নয়।