শাহজাদপুরে জমে উঠেছে কৈজুরী ডিঙিনৌকার হাট


১৭ জুলাই ২০২৫ ১৪:১৬

এম. এ জাফর লিটন, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) : শাহজাদপুরের নদী-নালা, খাল-বিলে প্রবেশ করেছে বন্যার পানি। প্রত্যন্ত অঞ্চলের কাঁচা-পাকা সড়ক প্লাবিত হওয়ায় নৌকাই এখন যাতায়াতের মূল ভরসা। এ কারণে উপজেলার বিভিন্ন কারখানায় রাত-দিন ডিঙিনৌকা তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে কারিগররা। যমুনা, করতোয়া, বড়াল, হুড়াসাগর, গোহালা নদীর মতো বেশ কটি নদী এ উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবহমান থাকায় অনেক আগে থেকেই কৈজুরী, জামিরতা, ডায়া, তালগাছী, রতনকান্দী নৌকার হাট বসে আসছে। তবে শাহজাদপুর উপজেলা সদর থেকে ১২ কিলোমিটার পূর্ব দিকে যমুনা নদীর তীরে কৈজুরীতে নৌকার হাটটি জমজমাট। এই হাটে পসরা সাজিয়ে হাট বসছে এখনো। কৈজুরী ফাজিল মাদরাসা ও প্রাইমারি স্কুল মাঠে সপ্তাহের নৌকার হাট বসে প্রতি শুক্রবার। হাট ঘুরে দেখা গেছে, সড়কপথে ও নদীপথে হাটে বিক্রির জন্য শতাধিক ডিঙিনৌকা আনা হয়েছে। পাবনার বেড়া ও গোবিন্দপুর উপজেলার কৈজুরী, চরকৈজুরী, পাঁচিল, দুগালী, বর্ণিয়া, জামিরতা, গুদিবাড়ী, বেনোটিয়া থেকে বহু মহাজন ডিঙি নৌকা বিক্রির জন্য নিয়ে এসেছেন।
নৌকার কারিগর রতনকান্দীর আব্দুর রাজ্জাক মেম্বর জানান, বর্ষা এলেই এ অঞ্চলে নৌকার চাহিদা বেড়ে যায়। সারা বছর অন্য কাজ করলেও এসময় তারা শুধু নৌকাই তৈরি করেন। বছরের তিন থেকে চার মাস তাদের এ ব্যস্ততা থাকে। এখন দিন-রাত নৌকা তৈরিতেই সময় কাটছে তাদের। কারিগরিরা জানান, ডিঙি ও কোষাসহ বিভিন্ন ধরনের নৌকা তৈরিতে তারা জামরুল, কড়ই, আম, কদম ও শিমুল গাছের কাঠ ব্যবহার করেন। ৯ ফুট থেকে শুরু করে ১৫ পর্যন্ত লম্বা নৌকা তৈরি করা হয়। কাঠ ও আকার ভেদে নৌকার দামও বিভিন্ন।
নৌকা বিক্রেতা হোসেন আলী জানান, নৌকা বিক্রির ব্যবসা বহুকাল আগে থেকেই করে আসছেন। বাড়িতেই তাদের কারখানা রয়েছে। দেশ স্বাধীন হওয়ার আগ থেকেই কিশোর বয়সে বাবার সঙ্গে নৌকা বিক্রি করতে তিনি কৈজুরী হাটে আসতেন। তখন ১২ হাত লম্বা একটি ডিঙিনৌকা ৬শ’ থেকে সাড়ে ৬শ’ টাকায় বিক্রি হতো। এখন সেটি বিক্রি হচ্ছে ৮ হাজার থেকে সাড়ে ১০ হাজার টাকায়। কাঠের দাম বৃদ্ধির কারণেই নৌকার দাম একটু বেড়েছে । কৈজুরী হাটে নৌকা কিনতে আসা জমির উদ্দিন জানান, গত বছরের তুলনায় এবার নৌকার দাম ৫০০ থেকে এক হাজার টাকা বাড়তি। ঘুরে ঘুরে দেখছি দাম ও পছন্দ হলেই একটি নৌকা কিনে নিয়ে যাবো।
কৈজুরী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মোয়াজ্জেম হোসেন খোকন জানান, শত বছরের ঐতিহ্য ধরে রেখেছে আমাদের কৈজুরী নৌকার হাট। একসময় এ হাট আরও জমজমাট ছিল। বেড়া, বেলকুচি, চৌহালী উপজেলার মানুষ এ হাটে নৌকা কিনতে আসতো। কালের বিবর্তনে কোষা, বজরা, গয়না নৌকার সঙ্গে বড় বড় পণ্যবাহী নৌকার বিলুপ্ত ঘটলেও আমাদের কৈজুরীতে ডিঙিনৌকার হাট এখনো টিকে আছে।