এসএসসিতে ১৩৪ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতভাগ শিক্ষার্থীই ফেল করেছে

স্টাফ রিপোর্টার
১৭ জুলাই ২০২৫ ১৩:২২

স্টাফ রিপোর্টার : চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার ডাউকী ইউনিয়নের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বকসীপুর দাখিল মাদরাসা। মাদরাসাটি থেকে এবার দুই শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়ে অকৃতকার্য হয়েছে। এর আগে ২০২৪ সালেও এ মাদরাসা থেকে দুই শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়ে অকৃতকার্য হয়েছিল। এছাড়া ২০২১, ২০২২ ও ২০২৩ সালে মাদরাসাটি থেকে দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ৫, ৩ ও ১। ১১টি শিক্ষা বোর্ডের ১৩৪ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতভাগ শিক্ষার্থীই ফেল করেছে।
এমন চিত্র কেবল এ মাদরাসারই নয়, চলতি বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় শতভাগ ফেল করা ১৩৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৫৫টিতেই পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৫-এর কম। এ প্রতিষ্ঠানগুলো বেশিরভাগেরই বিগত চার বছরে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১০-এর কম।
শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিগত সরকারের ১৫ বছরে রাজনৈতিক বিবেচনায় অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে এবং নীতিমালা পুরোপুরি অনুসরণ না করেই প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমপিওভুক্ত করা হয়েছে। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠানই শিক্ষার গুণগতমান নিশ্চিত না করেই শিক্ষাকার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।
ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট ৫৫টি প্রতিষ্ঠানে পাঁচজনের কম এবং ২১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কেবল একজন পরীক্ষার্থী ছিল। এর মধ্যে অন্তত ১৮টি প্রতিষ্ঠানে বিগত পাঁচ বছরে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১০ বা তার কম ছিল।
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার শেখ ফজিলাতুননেছা মুজিব বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষা দেয় চারজন। তাদের সবাই অকৃতকার্য হয়েছে। ২০১১ সালের জানুয়ারিতে একাডেমিক স্বীকৃতি পাওয়া এ বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংখ্যা ১২। তবু পাসের হার শূন্য। এর আগে ২০২৪ সালে বিদ্যালয়টি থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল দুই শিক্ষার্থী। তারাও অকৃতকার্য হয়েছিল।
এ বছর শতভাগ ফেল করা ১৩৪ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বড় অংশই এমপিওভুক্ত। ২০২১ সালের নীতিমালা অনুযায়ী এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় ৫০ শতাংশ পাসের হারের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে অভিযোগ রয়েছে এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো খারাপ ফল করলেও তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয় না। ১৯৮৫ সালে এমপিওভুক্ত হয় কৃষ্ণপুর দাখিল মাদরাসা। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষক রয়েছেন ১৩ জন। এবার সাতজন দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিলেও কেউ পাস করেনি। এর আগে ২০২৪ সালে মাদরাসাটি থেকে ১৮ জনের মধ্যে মাত্র একজন অকৃতকার্য হলেও ২০২৩ সালে ২০ জনের মধ্যে ১১ জন এবং ২০২১ সালে ১৫ জনের মধ্যে নয়জন অকৃতকার্য হয়েছিল।
এ বছর শতভাগ ফেল প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৮৬টি মাদরাসা। এর মধ্যে ৩৪টির পরীক্ষার্থী সংখ্যা ৫-এর কম ছিল। শতভাগ ফেল প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মিঞা মো. নূরুল হক বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানগুলোর ফলাফল কেন খারাপ হয়েছে সে বিষয়ে আমরা তদন্ত করছি। প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকেও কারণ জানতে চাওয়া হয়েছে। অনুসন্ধান শেষে আমরা বোর্ডের নিয়ম ও ক্ষমতা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, ‘বিগত সময়ে রাজনৈতিক বিবেচনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনুমোদন ও এমপিওভুক্ত করায় অনেক প্রতিষ্ঠানেই মানসম্মত শিক্ষার ঘাটতি রয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর মান নিশ্চিতে এমপিও নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ এবং ফলাফল খারাপের কারণ অনুসন্ধান করে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া উচিত।’
শিক্ষাবিদদের অভিমত যেসব প্রতিষ্ঠানের পাসের হার ৫০ ভাগের কম তাদের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।