পেঁয়াজ ডিম ও আলু স্থিতিশীল হলেও বেড়েছে ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দাম
১৭ জুলাই ২০২৫ ১৩:১৯
স্টাফ রিপোর্টার: নিত্যপণ্যের মূল্য ক্রমান্বয়ে বাড়তে শুরু করেছে। টানা বৃষ্টির পর থেকে সব ধরনের সবজি বিক্রি হচ্ছে বাড়তি দামে। পেঁয়াজ, ডিম ও আলুর মতো অতিনিত্যপণ্য মূল্য না বাড়লেও বেড়েছে ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির মূল্য। তবে মুদি পণ্যমূল্য স্থিতিশীল রয়েছে। সাধারণ মানুষের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় সব ধরনের সবজির মূল্যই বেড়েছে। কোনো কোনো সবজির মূল্য সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিগুণও বেড়েছে। এতে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৬৫ নম্বর ওয়ার্ডের সেকান্দর আলী সুপার মার্কেটে গিয়ে জানা গেছে, ব্রয়লার ও সোনালি মুরগি আর আগের দামে যাওয়া যাবে না। এই বাজারে এখন ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা কেজিতে। গত সপ্তাহেও সেটি ছিল ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকার মধ্যে। অর্থাৎ কেজিতে ২৫ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। সোনালি মুরগির দামও বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ২৮০ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কেজিতে বেড়েছে ২০ টাকা। বাজারে গরু ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দামে বিক্রি হচ্ছে, খাসি ১১০০ টাকা আর ছাগলের গোশত কেজি ১০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
রাজধানীর বাজারগুলোয় অকল্পনীয়ভাবে বেড়েছে কাঁচামরিচের মূল্য। প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায়। দীর্ঘদিন কাঁচামরিচের এমন উচ্চমূল্য কেউ দেখেনি। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বৃষ্টি শুরু হওয়ার আগে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ছিল ৮০ থেকে ১২০ টাকা, সেই কাঁচামরিচ এখন বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায়। মূলত টানা কয়েকদিন বৃষ্টির কারণে বাজারে কাঁচামরিচ সরবরাহ অনেক কমে গেছে। সে কারণে দাম হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে।
রাজধানীর বাজারগুলোয় রুই ও কাতল বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৪০ টাকা কেজিতে। পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, চিংড়ি ৬৫০ থেকে ৭০০, টেংরা ৬০০ থেকে ৭০০, শিং ৪০০ থেকে ৪৫০, কৈ ২০০ থেকে ২২০ এবং তেলাপিয়া ও পাঙাশ পাওয়া যাচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়। দেশি শিং ও কৈ মাছের দাম অবশ্য এখনো অনেক বেশি, প্রতি কেজি যথাক্রমে ১২০০ ও ১০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে সব ধরনের পণ্য মূল্য বেড়েছে। প্রতি কেজি করলা বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়, মিষ্টি কুমড়া প্রতি কেজি ৪০ টাকা, কচুরমুখী প্রতি কেজি ৭০ থেকে ৮০ টাকা। লাউ প্রতি পিস ৬০ থেকে ৭০ টাকা, পটোল প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকা, গাজর প্রতি কেজি ১৫০ টাকা, টমেটো প্রতি কেজি ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি কেজি চিচিঙ্গা বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়, ধন্দুল প্রতি কেজি ৭০ টাকা, বরবটি প্রতি কেজি ৮০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকা, শসা প্রতি কেজি ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
রাজধানীর বাজারে ফার্মের মুরগির ডিমের দাম হঠাৎ কমে যাওয়ায় বেড়েছে চাহিদা ও বেচাকেনা। পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে দাম ১৫ থেকে ২০ টাকা কমে যাওয়ায় অনেক দোকানে এখন ডজনপ্রতি ডিম বিক্রি হচ্ছে ১০৫ থেকে ১১০ টাকায়। এদিকে চাহিদার পাশাপাশি সরবরাহও সমানতালে বাড়তি থাকায় ডিমের বাজারে অনেকটাই চাঙাভাব ফিরে এসেছে। তবে বাজার সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করছেন, দামে ভারসাম্য না থাকলে ভবিষ্যতে বাজার আবার অস্থির হতে পারে।