চীনের সাথে সম্পর্ক ও বন্ধুত্বের মাত্রা আরও উচ্চপর্যায়ে পৌঁছবে
১৭ জুলাই ২০২৫ ১৩:০৫
সোনার বাংলা রিপোর্ট: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘অতীতে একটি দেশ আমাদের দেশের একটিমাত্র দলের সাথে সম্পর্ক করেছিল। জনগণের সাথে তাদের কোনো সম্পর্ক ছিল না। আমরা চীনকে অনুরোধ করেছিÑ চীন যেন সরকার টু সরকার এবং সরকার টু জনগণের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখে। এছাড়া আমরা পার্টি টু পার্টি সম্পর্কের কথা বলেছি। আমাদের সব দলই দেশের স্বার্থে কাজ করে। এজন্য আমরা দেশের সব দলের কথা বলেছি। এখানে কাউকে বড় ছোট আলাদা না করার কথা বলেছি। আমরা সেখানে সব দলের হয়ে কথা বলেছি। জনগণের পক্ষে কথা বলে এসেছি। আশা করছি, আগামীতে আমাদের যাওয়া-আসা আরও বাড়বে।’ এতে দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক ও বন্ধুত্বের মাত্রা আরও উচ্চপর্যায়ে পৌঁছবে বলে তিনি চীন সফর শেষে দেশে ফিরে সাংবাদিকদের কাছে এ আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
গত ১৫ জুলাই মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অবতরণ করেন আমীরসহ আট সদস্যের প্রতিনিধিদল। এ সময় বিমানবন্দরের ভিআইপ লাউঞ্জে ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের নেতৃত্বে একটি টিম জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমানকে ফুলের তোড়া দিয়ে স্বাগত জানান।
জামায়াত নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের নায়েবে আমীর ও সাবেক এমপি ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মা’ছুম, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, এডভোকেট মোয়াযযম হোসাইন হেলাল ও এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. সাহাবুদ্দিন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ে ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মো. সেলিম উদ্দিন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর এডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন প্রমুখ। এ সময় চীনা রাষ্ট্রদূত ও জামায়াত আমীর সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘চীনা রাষ্ট্রদূত আমাদের চীন সফরের শুরুর দিনও দলবল নিয়ে বিদায় দিতে এসেছিলেন। বিমানের দরজা পর্যন্ত এগিয়ে দিয়েছিলেন। আজো তিনি দলবল নিয়ে স্বাগত জানাতে এসেছেন। তিনি এটা না করলেও পারতেন। এটা তার নিয়মিত দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। নিশ্চয় বাংলাদেশের জনগণের প্রতি ভালোবাসা থেকে তিনি এটা করেছেন। একান্ত আন্তরিকতা না থাকলে তিনি আসতেন না। এজন্য তাকে আমাদের দলের পক্ষ থেকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই।’
তিনি বলেন, ‘আমরা সফরে প্রথমে সাংহাই যাই। সেখানে সাংহায় সিটি কর্তৃপক্ষের সাথে বৈঠক হয়। সাংহাই সিটি করপোরেশন চীনে গুরুত্বের দাবিদার। ইতোমধ্যে তারা ঢাবিতে একটি চায়নিজ কর্নার চালু করেছে। যাতে দুই দেশের ভাষা, সংস্কৃতি বিনিময় ও বোঝাপোড়া বাড়ে সেজন্য এটি স্থাপন করা হয়েছে। আগামী এক বছরে দেশের আরো তিনটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এটি স্থাপনের জন্য তাদের কাছে আমরা অনুরোধ জানিয়েছি। জাহাঙ্গীরনগর, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে চায়নিজ কর্নার স্থাপনের কথা বলেছি আমরা। তারা নীতিগতভাবে এ বিষয়ে একমত হয়েছেন এবং আগ্রহ দেখিয়েছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘সাংহাই সরকারি থিংকট্যাংকের সাথে আমাদের বৈঠক হয়েছে। তারা বাংলাদেশ সম্পর্কে অনেক কিছু জানেন। আবার আমাদের কাছেও কিছু জানতে চেয়েছেন। তাদের সাথে আমাদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলাপ হয়েছে।’
জামায়াত আমীর বলেন, ‘গত ৩৫ বছরে চীন বিস্ময়কর উন্নয়ন করেছে। তারা এটি কীভাবে করেছে, সেটা আমরা জানতে চেয়েছি। বোঝার চেষ্টা করেছি। এটাকে কাজে লাগিয়ে আমাদের সরকার এবং দল হিসেবে জামায়াত দেশের মানুষের ভাগ্য বদলে কীভাবে কাজ করতে পারি, সে বিষয়ে বোঝার চেষ্টা করেছি। আমরা এসব দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছি। সর্বশেষ চীনা কমিউনিস্ট পার্টির বিদেশ বিষয়ক নেতা ও ভাইস মিনিস্টারের সাথে বৈঠক হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘চীন ১৯৭৫ সালের ২৬ আগস্ট বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছে। এ বছর তাদের সাথে আমাদের সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি হচ্ছে। এজন্যই এ সফর ছিল। এজন্য বন্ধুত্বের বার্তা নিয়ে আমরা সেখানে গিয়েছিলাম। আমরা আশা করছি, এ সফরের মাধ্যমে দুদেশের বন্ধুত্ব আরও বাড়বে এবং বিশেষ করে দল টু দলের সম্পর্ক আরো মজবুত হবে।’
জামায়াত আমীর বলেন, ‘আমরা দলের পক্ষ থেকে শি জিনপিংকে দাওয়াত দিয়ে এসেছি। প্রেসিডেন্ট হিসেবে নয়, তার দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাওয়াত দিয়েছি। ফরমাল দাওয়াত তাদের দলের ভাইস চেয়ারম্যানের মাধ্যমে ইতোমধ্যে পৌঁছে দেয়া হয়েছে। তিনি এলে বাংলাদেশের মানুষ খুশি হবে, উপকৃত হবে এবং আমাদের বন্ধুত্বের মাত্রা আরো উচ্চপর্যায়ে যাবে বলে আশা করছি।’
তিনি বলেন, ‘আমরা অন্যান্য দেশের সাথেও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাই। চীন একটি উন্নত ও বড় প্রতিবেশী দেশ। তারা টেকনোলজিতে ব্যাপক উন্নয়ন করেছে। তাদের এ বিশ্বয়কর পরিবর্তন হয়েছে মাত্র ৩৫ বছরে। অনেক কিছুই আছে সেখানে, যেটা আমরা কাজে লাগাতে পারি। কিন্তু আমাদের উন্নয়ন করতে সময় লাগবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সফরকালে আমরা যে কয়টি জায়গায় গিয়েছি, চরম আন্তরিকতা ও আতিথেয়তা পেয়েছি। তাদের মধ্যে কোনোরকম কৃত্রিমতা দেখিনি। রিয়েলি ব্রাদারহুড আচরণ পেয়েছি। এজন্য তাদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।’
গত ১০ জুলাই রাতে জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে আট সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল পাঁচ দিনের সফরে চীন যান। সফরে জামায়াত আমীরের সাথে আরও ছিলেন দলটির কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম ও মাওলানা মুহাম্মাদ শাহজাহান, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, সংগঠনের শিল্প ও বাণিজ্য বিভাগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম ও সেক্রেটারি ডা. আনোয়ারুল আজিম, জামায়াত আমীরের পিএস নজরুল ইসলাম এবং আইটি এক্সপার্ট ওমর হাসিব শফিউল্লাহ।