আলোকে তিমিরে

সব ক্যালকুলেশন এবার উল্টে-পাল্টে যাবে


১০ জুলাই ২০২৫ ১১:২৪

॥ মাহবুবুল হক ॥
আমাদের দেশে বেশ কিছুদিন যাবত একটা কথা চাউর দিয়েছে, তা হলো, ‘মহান আল্লাহ ছাড় দেন, ছেড়ে দেন না।’ পাপকারীরা, অপরাধকারীরা, জুলুম ও নির্যাতনকারীরা অর্থাৎ এককথায়, অন্যায়কারীদের উদ্দেশে এ কথা বলা হয়। যখন একটি সমাজে বা দেশে দীর্ঘদিন ধরে অবলীলাক্রমে জুলুম-অত্যাচার চলতে থাকে, কোনো প্রতিকারের আশা-ভরসা মানুষ খুঁজে পায় না, তখন সাধারণ মানুষ এ ধরনের কথা উচ্চারণ করে থাকে। এ ধরনের কথা বিশ্বাস ও আস্থার জায়গা থেকে বলতে থাকে। সব ধরনের সাধারণ ধার্মিক মানুষ এ ধরনের কথাকে শাশ্বত বাণী বা চিরন্তন বাণী হিসেবে গ্রহণ করে থাকে। এ ধরনের কথার ওপর শুধু আস্থা বা বিশ্বাস নয়, স্বস্তিও উপলব্ধি বা অনুভব করে। বিশেষ করে উল্লেখিত ধরনের পাপচারীরা যখন কোনো বিপদ-আপদ-মুসিবতের সম্মুখীন হয়, তখন নিপীড়িত, অত্যাচারিত মজলুম জনগোষ্ঠী খুশি হয়। তৃপ্তি অনুভব করে। সুখ অনুভব করে। তখনই তারা বিভিন্নভাবে উপর্যুক্ত কথাই বলে। বলে, ‘আল্লাহর কুরআনে এ ধরনের কথা আছে। রাসূলের (সা.) হাদিসে এ ধরনের বহু কথা আছে।’ এ বিষয়ে ইতিহাস, কিংবদন্তি, কিচ্ছা-কাহিনী, গল্প, দৃষ্টান্ত বা উদাহরণের কোনো অভাব হয় না। যুগে যুগে কালে কালে দেখা গেছে, দুনিয়াতেই অপরাধীদের কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হতে হয়েছে। এ বিষয়ে আখিরাতে মহান আল্লাহ কী বিচার করবেন এবং কী শাস্তি দেবেন, তা তো কুরআন ও হাদিসে সবই পরিষ্কার করে বিবৃত করা আছে। অন্যান্য ধর্মের বেলায়ও প্রায় একই ধরনের পরিণাম আমরা দেখতে পাই।
বাংলাদেশের প্রথম ও প্রধান ফ্যাসিবাদী সরকার ২০২৪-এর ৫ আগস্টে পতিত হওয়ার পর বা পরাভূত হওয়ার পর দেশবাসী এমন ধরনের কথাই বলে আসছে। প্রথম এপিসডে দেশবাসী ধরেই নিয়েছিল ফ্যাসিবাদের পতন হয়ে গেছে। আর ফিরে তাকানোর প্রয়োজন নেই। আমরা এখন নির্দ্বিধায় গণতন্ত্রের দিকে এগিয়ে যেতে পারব। কিন্তু সামান্য অবকাশের আড়মোড়া ভেঙেই তারা অনুভব করল, সামান্য ব্যতিক্রম ছাড়া সবকিছু পূর্বের মতোই বিরাজমান রয়েছে। দলবদল হয়েছে, কিছু কিছু ক্ষেত্রে ব্যক্তি বদল হয়েছে, কিন্তু চাঁদাবাজি, লুটপাট, হিংসা-বিদ্বেষ, কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ ও মাৎস্যর্য সমানতালে চলছে। চলছে নতুন বোতলে পুরাতন মদ। ‘জোর যার মুল্লুক তার’- এর কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি। ‘মাইট ইজ রাইট’ যেন মজলুম দেশবাসীর নিয়তি।
এ জায়গাটিতে অনেকেই হয়তো ভাবতে পারেন, ‘স্টেকহোল্ডার’-এর দিক থেকে সর্বাংশে পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু ভারত তার অংশীদারিত্ব নিয়ে পুরোপুরি কায়েম রয়েছে। সাথে রয়েছে তার অনুগত পতিত রাজনৈতিক দল। এ উভয় তথাকথিত মালিক তাদের সাথে পেয়েছে শক্তিশালী একটি রাজনৈতিক দলকে। যারা বিশ্বাস করে, ভারতের অংশীদারিত্ব ছাড়া বাংলাদেশের তথাকথিত স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব টিকিয়ে রাখা কোনোভাবে সম্ভব নয়।
মহান আল্লাহর পর এ দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব টিকিয়ে রাখার সৈনিক হলো দেশপ্রেমিক দল, জনসাধারণ এবং সেনাবাহিনী। পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে, দেশপ্রেমিক দলের মধ্যে ভাঙন ধরেছে। বাকি রয়েছে জনসাধারণ ও সেনাবাহিনী। বোধগম্য নানা সুবিধা ও অসুবিধার কারণে উপর্যুক্ত প্রধান দুই মহলের মধ্যে দ্বিধাবিভক্তি সামান্য হলেও যে রয়েছে, তা তো বলাইবাহুল্য। তবে ভালোর দিক মেরুকরণ চলছে মনে হয়।
সবচেয়ে উত্তম হতো, যদি প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কথা সবাই মিলে আপাতত শুনতে ও মানতে পারতাম। ক্ষমতা গ্রহণের প্রাক্কালে আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতার সামনে তিনি বলেছিলেন, ‘তোমরা যদি আমার কথা শোন ও মানো, তাহলে আমি দায়িত্ব নেব। আর যদি না শোন, তাহলে আমি চলে যাবো। আমার তো অনেক কাজ আছে।’ উপস্থিত ছাত্র-জনতা সমস্বরে আবেগ ও আনন্দের সাথে বলেছিলেন, আমরা আপনার কথা শুনবো ও মানবো। একটা এক ধরনের গণভোট কিন্তু হয়ে গেল। প্রফেসর ড. ইউনূস প্রথম গণভোটে শতকরা একশ’ ভাগ বিজয় লাভ করে বা প্রতিশ্রুতি আদায় করে ক্ষমতার চেয়ারে বসেছিলেন। কিন্তু এ উইন-উইন সিচুয়েশনটা বেশিদিন বিদ্যমান ছিল না।
পতিত সরকারের লোকজন নানা জটলা বাধালো এবং তাদের সাথে যুক্ত হলো শক্তিশালী একটি রাজনৈতিক দল, যারা পতিত দলের বিকল্প দল হিসেবে দেশ-বিদেশে একসময় গণ্য ছিল। পাশ্চাত্যে ভোটের রাজনীতি হিসেবে মাত্র দুটি দলের প্রাধান্যই বেশি। মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠের মতো। দুই দলই মাত্র দৃশ্যমান থাকবে। হয় মুদ্রার এপিঠ, না হয় ওপিঠ। কিন্তু বাংলাদেশে এখনো আমরা সে অবস্থানে পৌঁছাতে পারিনি। এবার অনেকেই অনুমান করেছিল, যেহেতু মুদ্রার একপিঠের দল ফ্যাসিস্টশক্তি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে পতিত ও পলাতক রয়েছে, সুতরাং মুদ্রার অপর পিঠের দলটি দৃশ্যপটে এসে যাবে। একটি রাজনৈতিক দলের যবনিকাপাত হওয়া মানে সেই দলের শূন্যস্থান পূরণ হবে সবচেয়ে বড় বা শক্তিশালী বিরোধীদলের এগিয়ে আসা। সেই দলটি এগিয়ে এসেছিল, কিন্তু দেখা গেল যারা এগিয়ে এসেছিল, তারা ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের সাথে সংযুক্ত বা সংশ্লিষ্ট ছিল না। অভ্যুত্থানকালে তাদের নেতৃবৃন্দ বার বার ঘোষণা দিয়েছিলেন, ‘তারা এ আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত নন।’ কিন্তু দেশবাসী জানে, পরিষ্কারভাবে জানে, ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের সাথে তারা সরাসরিভাবে সংযুক্ত না হলেও ছাত্রদলের একটি অংশ বা যুবদলের একাংশ অভ্যুত্থানকারীদের সাহায্য করেছে এবং কিছুটা সহযোগিতাও করেছে। এসব নাকি অফিসিয়াল নয়, ব্যক্তিগত সংযোগ। ‘যদি লাইগ্যা যায়।’ বিষয়টা যেন জুয়া খেলার মতো। লেগে গেলে তো সবচেয়ে বড় লাভ হবে বড় বিরোধীদলের। তাই কিন্তু হলো। অভ্যুত্থানকারীরা এদের সাথে লিয়াজোঁ করতে ব্যর্থ হলো। তারাও এদের পাত্তা দিতে চাইলো না। বলল, ‘তোমরা কারা, তোমাদের তো চিনলাম না।’ অভ্যুত্থানের বেনিফিটটা তারা একাই ছিনতাই করল, অভ্যুত্থান বা বিপ্লবের দিকে না গিয়ে বিকল্প রাজনৈতিক দল কনস্টিটিউশনাল সরকারের দিকে চলে গেল। সরকারে নেয়া হলো অভ্যুত্থানকারীদের তিনজনকে। অভ্যুত্থানকারীরা খুশি হয়ে গেল। তারা ভাবল প্রফেসর ইউনূস তাদের সাথে আলাপ-আলোচনা করেই দেশ বা সরকার চালাবেন। কিন্ত বাস্তবে তা হলো না। সরকার নানাভাবে বিভক্ত হলো।
সেনাবাহিনী শুরু থেকে ভারত, পতিত সরকার, বড় বিরোধীদল, প্রেসিডেন্ট, কনস্টিটিউশনাল সরকার ইত্যাদির পক্ষে ছিল, এখনো তাই আছে। যদিও বিপ্লবোত্তর সরকার গঠনের প্রাক্কালের প্রথম ভাষণে সেনাবাহিনী প্রধান জামায়াতে ইসলামীর কথা এবং একজন শিক্ষকের কথা বার বার উল্লেখ করেছেন। মনে হচ্ছিল, তিনি যেন চাচ্ছিলেন ঐ শিক্ষককেই প্রধান উপদেষ্টা করা হোক, কিন্তু ছাত্ররা যখন প্রফেসর ইউনূসকেই পছন্দ করে বসলেন, তখন অনেক কিছুই ওলট-পালট হয়ে গেল। সেনাবাহিনী বা সেনাপ্রধান প্রফেসর ইউনূসকে চাননি, বিকল্প প্রধান দলও চায়নি। কিন্তু তিনি বিদ্যমান আছেন, বিরাজমানও আছেন। এ সত্যকে এখনো মেনে নেয়া হচ্ছে। নানা চাপের মুখে প্রফেসর ইউনূস একবার সরকার থেকে সরে পড়ার কথা তুলেছিলেন। তখন বিকল্প বড় দলের এক নেতা বলেছিলেন, ‘এ সময় প্রেসিডেন্ট চলে গেলে সরকার বা রাষ্ট্রের ক্ষতি হবে, কিন্তু প্রফেসর ইউনূস চলে গেলে অসুবিধা হবে না।’ অথচ সে সময় ঐ বিকল্প দলসহ দেশের সকল বৈধ রাজনৈতিক দল প্রফেসর ইউনূসকে সরকারে অবস্থান করার বিনীত অনুরোধ জানায়। এক্ষেত্রেও জনগণের ম্যান্ডেট সর্বাংশে পাওয়া যায়।
অভ্যুত্থানকারী ছাত্র নেতৃবৃন্দ পূর্বাপর দেখলেন, ইউনূস সরকার তাদের সব কথা মানছে না। তখন ধীরে ধীরে তারা নিজেদের দল গঠন করার অভিপ্রায় নিয়ে বেরিয়ে আসার উদ্যোগ গ্রহণ করে। নাহিদ ইসলাম উপদেষ্টার পদ ছেড়ে দিয়ে মাঠের রাজনীতিতে নেমে আসেন। অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে তারা নতুন দল ও দলের ছাত্র সংগঠন গড়ে তোলেন। এটি একটি বড় ঘটনা। তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। অনেকেই মনে করেন, প্রফেসর ড. ইউনূস এ দল গঠনের নেপথ্য কারিগর। জামায়াতে ইসলামী, ছাত্রশিবির, এবি পার্টি, খেলাফত মজলিস, শাসনতন্ত্র আন্দোলন, চরমোনাইসহ বাম ঘরানার কিছু রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তি এখনো ছাত্র-জনতার সাথে কোনো না কোনোভাবেই জড়িত রয়েছে। এ ছায়া মোর্চায় নেই সেনাবাহিনী, বিকল্প বড় দলসহ জাতীয় পার্টি।
সবচেয়ে ভালো হতো, পতিত দল ছাড়া আর সবাই যদি একটা মোর্চা বা জোট গঠন করতে পারত অথবা দুটি জোট গঠন করতে পারত।
ইউনূস সরকার নির্বাচনের পূর্বে সংস্কার ও বিচার শুরু করতে চাচ্ছে। বিকল্প বড় দল ও জোট সেটা এখন চাচ্ছে না। তারা আগে নির্বাচন চায় এবং তারা বরাবর বলেই যাচ্ছে, নির্বাচিত সরকার এসব রুটিন কাজ করবে। সংস্কার ও বিচার চলমান কাজ। নির্বাচনের সাথে সাথে এসবও চলবে এবং চলতে পারে।
তথ্যাভিজ্ঞ মহল সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক আদালতে পতিত সরকার ও দলের সদস্যদের বিচারকার্যে সরকারপক্ষ হয়ে বিকল্প বড় দলের কোনো আইনজীবী কাজ করবে না। অর্থাৎ তারা বাদীর পক্ষে থাকবে না। বিবাদীর পক্ষে থাকবে। তারা জামায়াতে ইসলামী বা অন্য দলের আইনজীবীদের এ গুরুদায়িত্ব নিতে অনুরোধ করছে। এ থেকে অনুভব করা যায়, এরা রাষ্ট্রের কোনো রিস্কি দায়িত্বে অংশগ্রহণ করতে চায় না। শুধু ক্ষমতা চায়!
বিকল্প বড় দল কেন ডিসেম্বরেই নির্বাচন চায়, সে রহস্য তো ফাঁস হয়ে গেছে। এ দেশের সবাই জানে, জন্ম যখনই হোক, ইউনিয়ন কাউন্সিল বা শহর-নগরের ওয়ার্ডে সাধারণভাবে দেখা যায় জন্মতারিখ লেখা হয় ১ জানুয়ারি। নতুন যারা ভোটার হবেন বা হচ্ছেন, তাদের বেশিরভাগ জন্ম তারিখ যদি পূর্বের মতো ১ জানুয়ারি হিসেবে রেকর্ড করা হয়, তাহলে বিকল্প বড় রাজনৈতিক দলের ধারণা, তারা এখনকার বড় দলকে ভোট দেবে না। তারা ভোট দেবে জামায়াতে ইসলামী, কোনো ইসলামী দল বা জাতীয় নাগরিক পার্টিকে। ডিসেম্বরে নির্বাচন হলে বক্ষমাণ বড় পার্টি বেশি ভোট পাবে। সংবাদপত্রে এ বিষয়টি প্রকাশিত হয়েছে কি না আমাদেরও জানা নেই। তবে এ তথ্যটি সংশ্লিষ্ট মহল সূত্রে প্রাপ্ত।
অনেক কথাই বলা হলো, একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা কিন্তু বলা হয়নি। তা হলো, দেশবাসী এখন পূর্বের তুলনায় অনেক সচেতন। যারা বিপ্লবের পর থেকে পতিত সরকার ও তাদের লোকজনের মতো লুটপাট করছে, পূর্বের মতো চাঁদা আদায় করছে, নদী-নালা, খাল-বিল জবরদখল করছে, সরকারের পতিত জমি দখলে নিচ্ছে, সরকারের গাছপালা কেটে নিয়ে যাচ্ছে, বালু-পাথর নিচ্ছে, সাধারণ মানুষকে মিথ্যা মামলায় জড়াচ্ছে, মব-জাস্টিসের ব্যবস্থা করছে, নারীদের ওপর অত্যাচার করছে, স্কুল, মাদরাসা, এতিমখানা, মসজিদের সম্পত্তি দখল করছে, সিন্ডিকেট করে কমিটি দখল করছে, টেন্ডারবাজি করছে, ওয়াক্্ফের সম্পত্তি অন্যায়ভাবে দখল করছে, তাদেরকে বা তাদের দলের লোকজনকে এখন থেকে কেউ আর ভোট দেবে না। সব ক্যালকুলেশন এবার উল্টে-পাল্টে যাবে।
পূর্বে যেমন ভোটপ্রার্থী সৎ ও উপযুক্ত মানুষকে সাধারণ মানুষ বলত, ‘আপনাকে ভোট দিয়ে কী লাভ হবে? আপনি নিজে খাবেন না, আমাদেরও বাড়তি কিছু দিতে পারবেন না। যারা নিজে খাবে এবং নিজের লোকদের খাওয়াতে পারবে, তাদের আমরা ভোট দেব।’
মনে হয় এবার আর এমন দুঃসহ ও দুর্বহ কথা কেউ বলার সাহস পাবে না।
সর্বজনশ্রদ্ধেয় প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস সাহেবের প্রতি আবেদন, আপনি কায়দা-কৌশল করে চলুন, কিন্তু অন্যায়কারীদের প্রতি আপনার রবের মতো ছাড় দিন, কিন্তু ছেড়ে দেবেন না।