আগামী নির্বাচন নিয়ে সানেমের যুব জরিপ

বিএনপি ৩৯, জামায়াত ২২, এনসিপি ১৬ ভাগ ভোট পাবে


১০ জুলাই ২০২৫ ০৭:৫৩

স্টাফ রিপোর্টার: প্রত্যেক ঈমানদার বিশ্বাস করেন, ‘রাখে আল্লাহ মারে কে?’ বিশ্বাসের প্রতিদানও আল্লাহ তাদের দেন। ২০০৮ সালের কারচুপির নির্বাচনের মাধ্যমে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ ও ১৪ দল ক্ষমতা দখলের পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে নির্মূল করার মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছিলো। তারা তাদের দীর্ঘ দেড় দশকে অকথ্য নির্যাতন করেছে জামায়াতে ইসলামীসহ ইসলামপন্থিদের ওপর। জামায়াতে ইসলামীকে নির্মূল করার নীল নকশার অংশ হিসেবে হাসিনা সরকার দলের সাবেক আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, আবদুল কাদের মোল্লা, মীর কাসেম আলীকে জুডিশিয়াল কিলিংয়ের মাধ্যমে হত্যা করেছে। সাবেক আমীর অধ্যাপক গোলাম আযম, নায়েবে আমীর মাওলানা একেএম ইউসুফ, মাওলানা আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, নির্বাহী পরিষদ সদস্য মাওলানা আবদুস সুবহানকে কারানির্যাতন করে মৃত্যু নিশ্চিত করেছে।
সর্বশেষ হাসিনার পদত্যাগের দাবিতে তীব্র গণআন্দোলন দমাতে গত বছরের ১ আগস্ট জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে নাম-নিশানা মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র করেছিলো ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা। কিন্তু আল্লাহ রাব্বুল আলামিন জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের আত্মত্যাগ কবুল করেছেন। জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ ঘোষণার করার মাত্র চার দিন পরই জনতার ক্ষোভ থেকে প্রাণ বাঁচাতে শেখ হাসিনা ও তার সরকার দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।
জনতার বুকের সুপ্ত বাসনা বুঝতে পেরে দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান দেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠক করেন। সে বৈঠকে বিশেষ মর্যাদার সাথে জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের নাম উচ্চারিত হয়। সবাই বুঝতে পারেন হাসিনার দমন-পীড়ন নির্যাতনে জামায়াতে ইসলামী নির্মূল নয়, জনতার হৃদয়ের মর্মমূলে স্থান পেয়েছে। এ সত্যেরই প্রতিফল দেখা যাচ্ছে সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম)-এর জরিপে। এই ফলাফল বলছে, জামায়াতে ইসলামীর জনপ্রিয়তা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে।
দেশের সবকটি বিভাগের ওপর চালানো এ জরিপে অংশ নেয় ১৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সী দুই হাজার মানুষ। প্রথমে ৮ বিভাগ থেকে ২টি করে জেলা বাছাই করা হয়। এরপর সেখান থেকে আবার দুটি করে উপজেলা নির্বাচন করা হয়। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসির নিচে ৪০ শতাংশ, এসএসসি বা এর ওপরে ৬০ শতাংশ। এর মধ্যে শহরের ছিল ৫০ শতাংশ এবং গ্রামের ৫০ শতাংশ।
জরিপে তরুণদের মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে মতামত উঠে এসেছে। জরিপ অনুযায়ী, তরুণরা মনে করেন, বিএনপি ৩৮.৭৬ শতাংশ ভোট পাবে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকবে জামায়াত, যারা পাবে ২১.৪৫ শতাংশ ভোট। অন্য ধর্মীয় দলগুলো ৪.৫৯ শতাংশ ভোট পেতে পারে বলে মনে করেন জরিপে অংশগ্রহণকারীরা। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ১৫.৮৪ শতাংশ, জাতীয় পার্টি ৩.৭৭ শতাংশ এবং অন্যান্য দল শূন্য দশমিক ৫৭ শতাংশ ভোট পেতে পারে। জরিপে আরও দেখা গেছে, নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনুমতি পেলে আওয়ামী লীগ ১৫.০২ শতাংশ ভোট পাবে। গত সোমবার (৭ জুলাই) সানেম এ জরিপ প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
জরিপের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে সাপ্তাহিক সোনার বাংলার পক্ষ থেকে দৈনিক নয়া দিগন্তের সম্পাদক সালাহউদ্দিন বাবরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ‘জাতীয় নির্বাচন এখনো অনেক দূরে। বিগত বছরের ৫ আগস্টের পর মানুষের মনোজগতে ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। বিদ্যমান পরিবেশে তাদের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে তেমন কোনো আগ্রহ লক্ষ করা যাচ্ছে না। তারা রাজনৈতিক দলগুলোর আচরণ পর্যবেক্ষণ করছে।’
প্রতিবেদকের পক্ষ থেকে পাল্টা প্রশ্ন করা হয়, ভোটাররা কি এবার নির্বাচনী মেনিফেস্টো দেখে ভোট দেবে? তিনি জানান, ‘অবশ্যই না। তার কারণ দলগুলো মেনিফেস্টোর নামে যে মহাকাব্য জাতির সামনে নির্বাচনের আগে পেশ করে, বিজয়ী হওয়ার পর তা অনুসরণ দূরের কথা, মনেই রাখে না। তা মেনিফেস্টো নয়, নির্বাচনের আগে কোন দলের নেতা-কর্মীরা জনগণের সাথে কেমন আচরণ করছেন, তা বিবেচনা করেই তারা সিদ্ধান্ত নেবে। আর জরিপ অনেক সময় যারা করান, তাদের পক্ষে হয়। তারপর যে প্রতিষ্ঠান জরিপ করেছে, তাদের অতীত অভিজ্ঞতা এবং জরিপের পদ্ধতিও একটি বড় বিষয়। তাই এ নিয়ে হতাশ বা উৎফুল্ল হওয়ার কিছু নেই। তিনি আমেরিকার কয়েকটি নির্বাচনের জরিপের ফলাফল ব্যর্থ হওয়ার উদাহরণ দিয়ে বলেন, জরিপে সবসময় জনমতের প্রকৃত প্রতিফলন হয় না। আর নির্বাচনের এত আগে জরিপে তো তা সম্ভবই নয়।’ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে জরিপ নিয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, জরিপ যাই বলুক এতে কোনো সন্দেহ নেই। বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর জনপ্রিয়তা প্রতিদিন বাড়ছে। অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশে ভোটাররা ভোট দেয়ার সুযোগ পেলে দেশের রাজনীতিতে ইসলামপন্থিদের সুদৃঢ় অবস্থান প্রমাণিত হবে এতে কোনো সন্দেহ নেই।