প্রায় প্রতিদিনই শিডিউল বিপর্যয়
৫ জুলাই ২০২৫ ০৮:৩০
আহসানুল হক জুয়েল, কিশোরগঞ্জ : চট্টগ্রাম থেকে জামালপুরগামী আন্তঃনগর বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনটি সপ্তাহের প্রায় প্রতিদিন শিডিউল বিপর্যয়ের মুখে পড়ছে। সপ্তাহের প্রায় প্রতিদিনই নির্ধারিত সময়ে চলাচল করতে পারছে না এ ট্রেনটি। জানা গেছে, চট্টগ্রাম থেকে সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে ৭৮৫ নম্বর আপ বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনটি জামালপুর সন্ধ্যা ৬টায় পৌঁছার কথা থাকলেও প্রতিনিয়তই সময়মতো পৌঁছাতে পারছে না। মাসের অল্পসংখ্যক দিন ট্রেনটি সময়মতো পৌঁছাতে সক্ষম হয়। বিজয় এক্সপ্রেস ৭৮৬ ডাউন ট্রেনটি জামালপুর রেলস্টেশন থেকে রাত ৮টায় ছেড়ে এলেও কখনোই চট্টগ্রাম স্টেশনে ভোর ৫টায় পৌঁছতে পারে না। এই ধরনের অভিযোগ বিজয় এক্সপ্রেস এ চলাচলকারী শত শত যাত্রীর। বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনটি চট্টগ্রাম থেকে ভায়া ভৈরব বাজার কিশোরগঞ্জ গৌরীপুর ময়মনসিংহ হয়ে জামালপুর যায়। জানা গেছে, এর পূর্বে বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনটি প্রথম যখন চালু করা হয়, তখন চট্টগ্রাম থেকে ময়মনসিংহ পর্যন্ত চলাচল করতো। বিজয় এক্সপ্রেসের চলাচলকারী যাত্রী চট্টগ্রামের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী দিদারুল আলম, মাহবুব রানা, ভৈরব বাজারের মাহবুবুর রহমান মিঠু, বাজিতপুর সরারচরের ইউনুস আলী, নিকলী উপজেলার জাহিদুর রহমান, বৈশাখী আক্তার, নজরুল ইসলাম, করিমগঞ্জের সাদেক আহমেদ স্বপন, কিশোরগঞ্জের আব্দুর রহমান সুলাইমান হোসেন, আঠারো বাড়ির হিমেল মিয়া, খালেদ সাইফুল্লাহ, গৌরীপুরের আহমদ মিয়া, জামাল হোসেন, ময়মনসিংহের মাহাবুবুর রহমান নিলয়সহ অসংখ্য যাত্রী এ প্রতিবেদককে বলেন, চট্টগ্রাম ময়মনসিংহ এবং ময়মনসিংহ চট্টগ্রাম চলাচলের সময় এ ট্রেনটির শিডিউল বিপর্যয় হতো না বললেই চলে। কিন্তু জামালপুর থেকে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের নির্দেশে চট্টগ্রাম পর্যন্ত এ ট্রেনটি যখন নতুন শিডিউলে চালু করা হলো এরপর থেকেই এ ট্রেনটি সপ্তাহের প্রায় প্রতিদিনই সিডিউল বিপর্যয়ের মুখে পড়ছে। ফলে যাত্রীদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। কিশোরগঞ্জ রেলস্টেশনের বেশ কয়েকজন যাত্রী জানান, কিশোরগঞ্জ রেলস্টেশনে জামালপুর থেকে চট্টগ্রামগামী বিজয় এক্সপ্রেস ডাউন ট্রেনটি যাহার নম্বর ৭৮৬ রাত ১২টায় কিশোরগঞ্জ স্টেশনে পৌঁছার কথা থাকলেও বেশিরভাগ সময় রাত ৪টা ভোর ৫টা এমনকি সকাল ৬টার দিকেও ট্রেনটি এ স্টেশনে আসে। তাহলে যাত্রীদের কী রকম ভোগান্তি এখন বুঝতেই পারছেন।
বিজয় ট্রেনে কর্তব্যরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে কথা হলে তারা জানান, শিডিউল বিপর্যয়ের ফলে আমাদের অনেক কষ্ট করতে হয়। দিন রাতে আমাদেরকে রেষ্ট করার কোনো সময় পাওয়া যায় না। ট্রেনটি শিডিউল অনুযায়ী চললে আমরা কিছু সময় রেস্ট করতে পারি। আর শিডিউল বিপর্যয় হলে আমাদের অনেক কষ্ট করতে হয়।
ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়ের ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন স্টেশন মাস্টারের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, কন্ট্রোলার সাহেব যেভাবে আমাদেরকে নির্দেশ দেন, আমরা ঠিক সেভাবে ট্রেন পরিচালনা করি। ট্রেনটি কোন স্টেশনে ক্রসিংহ হবে, স্টেশনগুলো থেকে কখন ছেড়ে যাবেÑ এগুলো কন্ট্রোল রুম থেকে নির্দেশ করা হয় এবং সেই মোতাবেক আমরা ট্রেন পরিচালনা করি। যাত্রীদের কষ্টের কথা, ট্রেনটিতে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কথা যথাযথ কর্তৃপক্ষকে ইতোমধ্যেই অবহিত করা হয়েছে। আশা করা যায়, এ বিষয়ে আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
চট্টগ্রাম থেকে জামালপুরগামী বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনের বিভিন্ন স্টেশনের যাত্রীরা জানান, তারাও যথাসময়ে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছতে পারেন না। আফসোস করে বলেন, কিছু করার নাই শিডিউল বিপর্যয় থাকলেও আমাদেরকে চট্টগ্রাম থেকে জামালপুর পর্যন্ত একপ্রকার বাধ্য হয়েই এ ট্রেনে চলাচল করতে হয়। বাসে চলাচল করা ব্যয়বহুল এবং ঝুঁকিপূর্ণ বলেই ট্রেনে যাতায়াত করি। কোনো কোনো যাত্রী বলেন, বিজয় এক্সপ্রেস একটি ট্রেন আপ এবং ডাউন করার কারণে এই শিডিউল বিপর্যয় থামছে না। চট্টগ্রাম থেকে একটি ট্রেন এবং অপরদিকে জামালপুর থেকে আরেকটি ট্রেন একই সময় চলাচল করলে ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় হবে না বলে যাত্রীগণ মন্তব্য করেন। এর ফলে এ এলাকার যাত্রীগণ আরামদায়কভাবে ভ্রমণ করতে পারবেন কিংবা চলাচল করতে পারবেন। যাত্রীগণ আরো বলেন, সকল সময়ই এ ট্রেনে যাত্রী হাউসফুল থাকে।
যাত্রার কয়েকদিন আগে টিকিট না কাটলে কোনোদিনই তাৎক্ষণিক কোন টিকিট পাওয়া যায় না। স্টেশনের কর্মরত টিকিট কাউন্টারের কর্মচারীগণ জানান, অনলাইনে টিকিট বিক্রি হওয়ার কারণে যাত্রার নির্ধারিত দিনে তাৎক্ষণিক কোনো টিকিট পাওয়া যায় না। নির্ধারিত যাত্রায় যদি কোনো যাত্রী ভ্রমণ না করেন এবং টিকিট ফেরত দেন, তাহলে সেই টিকিট যাত্রীগণ কিনতে পারেন। নয়তো যাত্রার দিন টিকিট পাওয়া যায় না।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ রেলওয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন বলে সচেতন যাত্রীমহল মনে করেন।