ভারতীয় মিডিয়ার মিথ্যাচার
৩ জুলাই ২০২৫ ১২:০৫
স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীর খিলক্ষেতে রেলওয়ের জায়গায় অবৈধভাবে তৈরি করা একটি পূজামণ্ডপ সরিয়ে দেওয়ার ঘটনা নিয়ে চরম মিথ্যাচার করছে ভারতীয় কিছু গণমাধ্যম। কোনো ধরনের সত্য ও বিশ্বাসযোগ্য তথ্য ছাড়াই এসব মিডিয়া মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার অসৎ উদ্দেশ্যে। এসব মিডিয়া প্রকৃত ঘটনা জেনেও তা প্রকাশ করছে না। প্রকৃত ঘটনা ছিল একেবারেই স্বাভাবিক। ওই মণ্ডপ সরিয়ে নেওয়ার সময় উদ্যোক্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
প্রকৃত ঘটনা কী ছিল : পূজা করার জন্য সরকারের রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের জায়গায় অস্থায়ীভাবে তৈরি করা হয় মণ্ডপ। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পূজা উদযাপনকারীদের শর্ত ছিল পূজা করার পর সরিয়ে নেওয়া হবে সব মণ্ডপ। কিন্তু পূজা পালন শেষ হলেও কথা রাখেনি সনাতন ধর্মাবলম্বী ওই আরাধনাকারীরা। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বার বার বলার পরও তারা মণ্ডপ না সরিয়ে উল্টো সেখানে পাকা ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। ফলে বিরক্ত হন স্থানীয়রাও। তারা সরকারি জায়গায় অবৈধভাবে মন্দির তৈরির উদ্যোগের প্রতিবাদও জানান। আর রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ তাদের জায়গা অবৈধভাবে দখল করে তৈরি করা অবৈধ অস্থায়ী স্থাপনা উচ্ছেদে প্রায়ই অভিযান চালায়। নিয়মিত ওই অভিযানে সরিয়ে দেওয়া হয় অস্থায়ী ওই মণ্ডপটি। শুধু একটি মণ্ডপ সরিয়ে দেওয়ার জন্য এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে ভাতীয় মিডিয়া মিথ্যাচার করলেও প্রকৃতপক্ষে ওই অভিযানে সেখানকার একাধিক অবৈধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ করা হয়। এ অভিযানে ভেঙে দেওয়া হয় বর্তমানে রাজনৈতিকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকা দলের কয়েকটি স্থানীয় কার্যালয়ও। অবশ্য অবৈধ দোকান ও রাজনৈতিক কার্যালয় ভাঙা নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমে কোনো তথ্য তুলে ধরা হয়নি। স্বাভাবিক একটি উচ্ছেদ অভিযানকে সাম্প্রদায়িক উসকানি দেওয়ার জন্য অনেকটা সুড়সুড়ি দেওয়া হয়েছে ভারতীয় ওইসব গণমাধ্যমের রিপোর্টে। সাময়িক সময়ের জন্য মণ্ডপ তৈরি করে পূজা করার পর তা সরিয়ে নেওয়ার শর্তে মণ্ডপ তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু সেখানে সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া স্থায়ীভাবে মন্দির তৈরির উদ্যোগ নিয়ে সমালোচনা করা হয়নি ভারতীয় ওইসব মিডিয়ায়।
স্থানীয়দের প্রতিবাদ
গত ২৩ জুন খিলক্ষেতে রেলের জায়গায় অস্থায়ীভাবে নির্মিত একটি মন্দির অপসারণের দাবি জানিয়েছে স্থানীয় কিছু বাসিন্দা। খিলক্ষেত থানার ওসি মো. কামাল হোসেনের ভাষ্য অনুযায়ী, রেলের জায়গায় মন্দির ছিল। এতদিন টিনের বেড়া ছিল। ২৩ জুন মন্দির কর্তৃপক্ষ পাকা দেয়াল নির্মাণের কাজ শুরু করলে স্থানীয়রা বাধা দেন। এতে উত্তেজনা দেখা দিলে রাত ১০টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ২৪ জুন সকালে সেনাবাহিনী, র্যাব ও বিজিবির সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এলাকাবাসী ও মন্দির কমিটির সঙ্গে আলাদা আলাদাভাবে আলোচনা করেছে পুলিশ। উভয়পক্ষ আমাদের জানিয়েছে, এ বিষয়ে আর কোনো ধরনের উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে না। একইভাবে মন্দির থাকা না থাকার বিষয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে রেল কর্তৃপক্ষের একটি বৈঠক হয়েছে। পরে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে তা সরিয়ে দেয়।
ভারতীয় মিডিয়ার বয়ান ও বাস্তবতা
মণ্ডপ সরিয়ে নেওয়া নিয়ে ভারতীয় মিডিয়া যেসব সংবাদ প্রচার করেছে, সে সম্পর্কে প্রবাসী লেখক, অ্যাক্টিভিস্ট পিনাকী ভট্টাচার্য ফেসবুকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট দিয়েছেন। তিনি যা লিখেছেন, তা হচ্ছে, ঢাকার খিলক্ষেতে একটি অবৈধ হিন্দু মন্দির ভাঙা নিয়ে ভারতীয় মিডিয়া তোলপাড়। নরেন্দ্র মোদির বিজেপিও বাংলাদেশে হিন্দুরা ‘আবার আক্রান্ত’ হয়েছে এমন রব তুলেছে। যে দুর্গা মন্দিরটি (২৬ জুন) বৃহস্পতিবার ভাঙা হয়েছে, সেটি রেলের জমি অবৈধভাবে দখল করে কর্তৃপক্ষের বিনা অনুমতিতে অস্থায়ীভাবে নির্মিত হয়েছিলো গত বছর দুর্গাপূজার সময়। পূজার উদ্দেশ্যে প্রতিমা মণ্ডপে আসার পর ঘটনাটি রেল কর্তৃপক্ষের নজরে আসে।
পূজার পরে ওই অস্থায়ী মন্দির বা মণ্ডপ সরিয়ে নিবে সংগঠকরা এ শর্তে কর্তৃপক্ষ তাদের ওই রেলের জায়গায় গত বছর পূজার অনুমতি দেয়। রেল কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে অনুরোধ আসার পরও কিন্তু হিন্দু সংগঠকরা পূজার পর ওই অস্থায়ী মন্দির সরায়নি। উল্টো কয়েকদিন আগে অস্থায়ী টিন-বাঁশের স্থাপনা সরিয়ে ইট-সিমেন্টের পাকা গাঁথনি দিয়ে মন্দিরটি স্থায়ীভাবে তৈরির কাজ শুরু করে। স্থায়ী স্থাপনার কাজ শুরু হতেই স্থানীয় মানুষজন তার প্রতিবাদ করেন এবং তার পর রেল কর্তৃপক্ষ হিন্দু সংগঠকদের রেলের জমির বাইরে অন্য জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যেতে বাধ্য করে। মন্দিরের মূর্তি সব সরিয়ে নেয়ার পর কর্তৃপক্ষ ওই অবৈধ স্থাপনা ভেঙে দেয় ২৬ জুন বৃহস্পতিবার।
স্থানীয় পত্রপত্রিকাকে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান জানান যে, অবৈধ মন্দিরটি ভাঙার আগে রেলের জমির ওপর অবৈধভাবে তৈরি দেড়শ’রও বেশি দোকান, অন্যান্য স্থাপনা; এমনকি রাজনৈতিক দলের অফিসও ভেঙে দেয়া হয় সেদিন। এ ঘটনা ভারতীয় মিডিয়ায় ভুল তথ্যসহ অপেশাদারি স্টাইলে উপস্থাপনা করা হয়েছে। কেউ হাইলাইটই করেনি যে মন্দিরটি অবৈধভাবে রেলের জমির ওপর তৈরি হয়েছিল। কোনো রিপোর্টার তো জানায়ইনি যে সংগঠকরা গত বছর পূজার পর ওই অস্থায়ী মন্দির সরিয়ে নেবে, এ কথা দিয়েছিল রেলের উচ্চপদস্থ অফিসারদের সাথে যথারীতি মিটিং করে। সেই শর্তেই তাদের ওখানে পূজার অনুমতি দেয়া হয়েছিল। সংগঠকরা শর্ত অনুযায়ী পূজার পর যে মন্দির না সরিয়ে ওখানে কয়েকদিন আগে স্থায়ীভাবে মন্দির স্থাপনার কাজ শুরু করেছিলো- এসব খবর মিডিয়ায় নেই। ভারতের মিডিয়ায় এমনভাবে রিপোর্ট উপস্থাপনা করেছে তারা যে তাতে মনে হচ্ছে একটি বৈধ হিন্দু মন্দির ভেঙে দিয়েছে এক হিন্দুবিরোধী সরকার।
মোদির বিজেপি পার্টির পক্ষে এক ফেসবুক পোস্টে লেখা হয়েছে, ‘ইসলামপন্থীরা গুঁড়িয়ে দিয়েছে’ হিন্দু মন্দির। হিন্দুদের অস্তিত্বও বিপন্ন বাংলাদেশে, তাও লিখেছে তারা। যদিও বাংলাদেশে রেলের জমিতে থাকা অবৈধ হিন্দু মন্দির ভাঙার ঘটনা নিয়ে ভারতীয় মিডিয়া তোলপাড়। তবে এটা কেউ তাদের রিপোর্টে জানাচ্ছে না যে, বিজেপি শাসিত ভারতেও মুসলমান ধর্মীয় স্থাপনা তো বটেই, অনেক হিন্দু মন্দিরও বুলডোজার দিয়ে সাম্প্রতিক অতীতে গুঁড়িয়ে দিয়েছে বিভিন্ন রাজ্য সরকার, তাদের অবৈধ স্থাপনা বলে চিহ্নিত করে। ২০০৮ সালে মোদি যখন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী তখন রাজ্যের রাজধানী গান্ধীনগরে আশিটা হিন্দু মন্দির সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ভেঙে দেয়া হয় বেআইনি স্থাপনার বিরুদ্ধে সরকারি অভিযানের সময়। খবরের লিংক দিলাম কমেন্ট বক্সে। ২০১৫ সালে রাজস্থানে প্রায় ১০০টি মন্দির ভেঙে দেয় স্থানীয় সরকার মেট্রোরেল তৈরি ও রাস্তা সম্প্রসারণের সময়।
গত বছর বিজেপি জোট শাসিত মহারাষ্ট্রে একটি এলাকায় ৩০টি বেআইনি হিন্দু মন্দির ভাঙার আদেশ দেয়। এ খবরের লিঙ্কও জুড়ে দেন কমেন্ট বক্সে। তিনি আরও লিখেন, আর মুসলমানদের মসজিদ, দরগা ও মাদরাসা ভেঙে দেয়ার উদাহরণ তো ভূরি ভূরি দেয়া যায়। আমার পোস্টের পাঠকেরা ভারতে মুসলমান ধর্মস্থান ভাঙার অনেক ঘটনার সাথে ওয়াকিবহাল। তাই সেসব খবরের ব্যাপারে বিশদ কিছু এখানে দিলাম না। ভারতে এমন নজির অনেক আছে যেখানে শুধু মুসলমানদের ঘরবাড়ি, দোকান, ধর্মীয় স্থান ভাঙা হয়েছে বেআইনি স্থাপনা হিসাবে সেগুলোকে চিহ্নিত করে অথচ তারই পাশে হিন্দুদের ধর্মস্থলসহ সবকিছুকে ছাড় দেয়া হয়েছে। বিজেপি শাসিত রাজ্য গুজরাটে ২০২৩ সালের এমন এক অ্যান্টি-মুসলিম রিপোর্টের লিংকও কমেন্ট বক্সে দেওয়ার কথা জানান।
ভারতীয় মিডিয়া ভারতে সরকার বেআইনি মন্দির ভাঙলে তা নিয়ে মাতামাতি করে না। তিনশ’ বা চারশ’ বছরের পুরনো বৈধ মসজিদ ভাঙলেও ওই মিডিয়া সেই খবর প্রকাশ করেন বা ছোট্ট খবর করেই চালিয়ে দেয়। অথচ বাংলাদেশে একটা অবৈধ অস্থায়ী মন্দির ভাঙতেই এদের চেঁচামেচি শুরু হয়েছে। টিভি চ্যানেলে প্রাইম টাইমে শোরগোল তুলেছে বাংলাদেশে হিন্দু ধর্ম বিপন্ন হয়েছে। এরা ভুল তথ্যের মাধ্যমে দেখাতে চায় যে, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর জুলুম চলছে, তাদের স্বাধীনভাবে ধর্ম পালনে বাধা দেয়া হচ্ছে। শেখ হাসিনার পতনের পর আমরা দেখেছি কীভাবে ভারতীয় ‘গোদি মিডিয়া’ ভুয়া খবর সব তৈরি করে ক্যাম্পেইন করার চেষ্টা করেছিলো যে বাংলাদেশে হিন্দুদের ধর্মীয় কারণে ইসলামিস্টরা আক্রমণ করছে। ২০০ আওয়ামী লীগপন্থী হিন্দুদের ওপর তখন আক্রমণ হয়ে থাকলে তখন এক হাজার মুসলমান আওয়ামী পরিবারও আক্রান্ত হয়েছিলো। সে খবর কিন্তু গোদি মিডিয়া দেখায়নি। সেই সময় বিবিসি, ডয়েচে ভেলে, ভয়েস অব আমেরিকা, সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট তাদের রিপোর্টে স্পষ্টভাবে জানিয়েছিল যে, বাংলাদেশে হিন্দু এবং মুসলমানরা তখন আক্রমণের শিকার হয়েছিলো পুরোপুরি রাজনৈতিক কারণে বা তারা হাসিনার পার্টির সন্ত্রাসী সমর্থক ও কর্মী হওয়ার জন্য এবং ওইসব আক্রমণের উদ্দেশ্য কোনোভাবেই ধর্মীয় ছিলো না।
উদ্বেগ জানায় ভারতও
ঢাকার খিলক্ষেতে একটি ‘মন্দির’ উচ্ছেদের ঘটনায় ভারত নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ উদ্বেগ জানান। তিনি বিষয়টিকে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর নির্যাতনের ধারাবাহিকতা আখ্যা দিয়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব পালনের প্রশ্ন তুলেছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে। রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি, ঢাকার খিলক্ষেত এলাকায় দুর্গামন্দির ভাঙার জন্য উগ্রবাদীরা চাপ দিচ্ছিল। কিন্তু বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার মন্দিরটি রক্ষার বদলে এটিকে অবৈধ নির্মাণ বলে চিহ্নিত করে আজ ভেঙে ফেলার অনুমতি দেয়।’ জয়সওয়াল আরও বলেন, ‘ভাঙচুরের সময় দুর্গা প্রতিমা ভেতরে থাকাকালেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমরা মর্মাহত যে, বাংলাদেশে এমন ঘটনা বার বার ঘটছে। আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিচ্ছি, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব হলো হিন্দু সম্প্রদায়, তাদের সম্পত্তি ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান রক্ষা করা।’
যা বলছেন মন্দির কমিটির নেতা
মন্দির কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক সজিব সরকার বিবিসি বাংলাকে বলেন, পুলিশ, র্যাব, সেনাবাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য বুল্ডোজার দিয়ে মন্দিরের স্থাপনা ভেঙে ফেলে। তিনি বলেন, পূজা আয়োজন করতে গত বছর রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অস্থায়ী মণ্ডপ তৈরির লিখিত অনুমতি নিয়েছিলেন তারা। তবে মন্দির গড়ে তোলার কোনো অনুমতি তাদের ছিল না। রেল মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান তার বিবৃতিতে বলেছেন, পূজা শেষে মণ্ডপটি সরিয়ে নেওয়ার শর্তেই আয়োজকদের সেখানে পূজা অনুষ্ঠানের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এরপর বার বার তাদের বলার পরও তারা মণ্ডপটি সরিয়ে নেয়নি বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করেন তিনি। এ বিষয়ে যেকোনো ধরনের বিভ্রান্তি ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে সকলের প্রতি আহ্বানও জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।