জনদুর্ভোগ লাঘব ও ইসির সক্ষমতা যাচাইয়ে আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিকল্প নেই : ডা. শফিকুর রহমান
৩ জুলাই ২০২৫ ১১:৪৭
গত ২৭ জুন শুক্রবার সিলেট মহানগর জামায়াত আয়োজিত দিনব্যাপী রুকন শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান
আবদুল বাছেত মিলন, সিলেট: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারপ্রধান ঘোষিত সময়ের মধ্যে জাতীয় নির্বাচনের ব্যাপারে আমাদের সমর্থন রয়েছে। তবে জাতীয় নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য স্থানীয় সরকার নির্বাচন একটি কার্যকর উদ্যোগ। এছাড়া জনপ্রতিনিধি না থাকায় স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠাগুলোয় জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে। প্রশাসক দিয়ে দায়িত্ব পালন করায় সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানে নাগরিক সেবা ব্যাহত হচ্ছে। তাই জনদুর্ভোগ লাঘব ও নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতা যাচাইয়ে আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিকল্প নেই। এ ব্যাপারে বাস্তবতার আলোকে সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐকমত্যে পৌঁছাতে হবে।
তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের প্রধান লক্ষ্য থাকতে হবে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা। দুনিয়া ও আখিরাতের জবাবদিহির ভয় একজন মানুষকে পরিপূর্ণ মুত্তাকি হিসেবে গড়ে তোলে। ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের; বিশেষ করে জামায়াতের রুকনদের মধ্যে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের ব্যাপারে আল্লাহর নিকট জবাবদিহির মানসিকতা থাকতে হবে। জান ও মালের কুরবানির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। তাহলে সকল প্রচেষ্টা সফল হবে, ইনশাআল্লাহ।
তিনি গত শুক্রবার (২৭ জুন) রাতে সিলেট মহানগর জামায়াত আয়োজিত দিনব্যাপী রুকন শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন। দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত শিক্ষাশিবিরে মহানগরের আওতাধীন সকল রুকন অংশ নেন।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরী আমীর মুহাম্মদ ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি মুহাম্মদ শাহজাহান আলীর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এবং সিলেট-১ আসনে জামায়াত মনোনীত এমপি প্রার্থী, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও সিলেট জেলা আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান।
আমীরে জামায়াত বলেন, ইসলামী আন্দোলনের ইতিহাস, ত্যাগ ও কুরবানির ইতিহাস। আমাদের ওপর সীমাহীন জুলুম-নিপীড়ন চালানো হয়েছে। আমাদের শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে অন্যায়ভাবে ফাঁসি দিয়ে ও কারাগারে আটকে রেখে শহীদ করা হয়েছে। নিবন্ধন ও প্রতীক কেড়ে নেয়া হয়েছে। এমনকি শেষ পর্যন্ত দলকেও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু আমরা সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল ছিলাম। যারা ন্যায় ও সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকে তারাই বিজয় লাভ করে। ন্যায়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকার কারণেই আমরা বিজয় অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি।
মো. সামছুল ইসলাম, কুলাউড়া (মৌলভীবাজার): জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় আমীর ও কুলাউড়ার কৃতিসন্তান ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, কুলাউড়ায় নৃশংসভাবে হত্যাকাণ্ডের শিকার আনজুমের পরিবার যেন ন্যায়বিচার পায়। শুধু আনজুমের পরিবার নয় এদেশের প্রতিটি মজলুম পরিবার যেন ন্যায়বিচার পায়। ন্যায়বিচার যেন নিশ্চিত হয়। কোনো নয়ছয় বরদাশত করা হবে না।
তিনি গত ২৭ জুন শুক্রবার কুলাউড়া উপজেলায় ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের দাউদপুর গ্রামের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার মেধাবী শিক্ষার্থী নাফিসা আক্তার আনজুমের কবর জিয়ারত করে তার শোকাহত পিতা-মাতাকে সমবেদনা জানান।
এ সময় উপস্থিত সমবেত জনতার উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, আনজুম হত্যার খবর ঢাকা থেকে শুনেছি এবং দোয়া করেছি। আজকে আসার উদ্দেশ্য কবর জিয়ারত ও পরিবারকে সান্ত্বনা দেয়া। আমরা জানতে পেরেছি, ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। মামলা প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কোনো অপশক্তির বা অন্যকিছুর কাছে নয়ছয় হলে কেউ ক্ষমা পাবেন না। স্বাধীন বিচারে হস্তক্ষেপ হলে আমরা বসে থাকবো না। আমরা মজলুমের পাশে থাকবো।
এ সময় বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, মৌলভীবাজার জেলা জামায়াতের আমীর ইঞ্জিনিয়ার সাহেদ আলী, আজিজ আহমেদ কিবরিয়া, রাজানুর রহিম ইফতেখার, কুলাউড়া উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমীর আব্দুল হামিদ খান, জুড়ী উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমীর আব্দুর রহমান প্রমুখ।