৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেট অনুমোদন
২৬ জুন ২০২৫ ১১:০৩
স্টাফ রিপোর্টার : বড় কোনো পরিবর্তন ছাড়াই আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট চূড়ান্ত অনুমোদন করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। গত ২২ জুন রোববার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেট চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়। এবারের বাজেটে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের মধ্যে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে। এছাড়া আয়কর, মূল্য সংযোজন কর ও শুল্কের ক্ষেত্রে কিছু পরিবর্তন এসেছে। অন্যদিকে স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে রফতানিতে প্রণোদনা কমানোর ঘোষণা এসেছে।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে গত রোববার অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেটের চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়। সংসদ না থাকায় ২ জুন রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম বিটিভিতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। প্রস্তাবিত এ বাজেট নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ১৯ জুন পর্যন্ত নাগরিকদের কাছ থেকে মতামত গ্রহণ করা হয়। এরপর কিছু সংযোজন-বিয়োজন করে বাজেটের খসড়া চূড়ান্ত করে অর্থ মন্ত্রণালয়। রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করার পর আগামী ১ জুলাই এ বাজেট কার্যকর হবে।
আগামী অর্থবছরের জন্য ২ জুন ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার যে বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছিল, সেটি অপরিবর্তিত রয়েছে। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটের তুলনায় আগামী বাজেটের আকার ৭ হাজার কোটি টাকা কম। যদিও চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের চেয়ে এ বাজেটের আকার ৪৬ হাজার কোটি টাকা বেশি। চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া এ বাজেটের মাধ্যমে আগামী অর্থবছরে সাড়ে ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য অন্তর্বর্তী সরকারের। এতে পরিচালন ও অন্যান্য খাতে ৫ লাখ ৬০ হাজার কোটি এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সরকারের রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকা। বাজেট ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকা। এ ঘাটতি মেটাতে দেশি উৎস থেকে ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি ও বিদেশি উৎস থেকে ১ লাখ ১ হাজার কোটি টাকার ঋণ নেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
গত ২২ জুন রোববার অর্থ মন্ত্রণালয়ে বাজেট অনুমোদন-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বাজেটের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন অর্থ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। এ সময় অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খানসহ অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বাজেট-উত্তর সংবাদ সম্মেলনে অর্থ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘অনেকে অভিযোগ করেছেন যে, বাজেট নিয়ে আলোচনাই হয়নি। যদিও আমরা বিস্তৃত পরিসরে আলোচনা করেছি। গণমাধ্যমের সঙ্গে বসেছি, অর্থনীতিবিদদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে, ব্যবসায়ীদের সঙ্গেও কথা বলেছি। তাছাড়া এনবিআর চেয়ারম্যানের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে বাজেটের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তাই একেবারে আলোচনা হয়নি, এটি ঠিক নয়। এখন ঘটা করে ঘোষণা দিয়ে আলোচনা করতে হবে, সেটি তো হয় না। থিংকট্যাংকদের অনেকে বাজেটের বিষয়ে লিখেছেন। তাদের কেউ কেউ আমার সঙ্গে আলোচনাও করেছেন। তাদের ধারণা একেবারে এমন বাজেট আমি করব যেটাতে ট্যারিফ কমে যাবে, ট্যাক্স কমে যাবে, ভ্যাট কমে যাবে, অন্যদিকে মানুষের আয় বাড়বে, ব্যবসা-বাণিজ্যের শ্রীবৃদ্ধি হবে। এরকম বাজেট কীভাবে সম্ভব? হঠাৎ করে আকাশ থেকে পড়বে? এক বাজেটে এটি হয় না।’
আয়করের ক্ষেত্রে একদিকে কমানো হলে সেটি আরেকদিকে বাড়াতে হয় উল্লেখ করে ড. সালেহউদ্দিন বলেন, ‘আমাদের এখানে আয়করের পরিমাণ কম। এটি জিডিপির ন্যূনতম ৮ শতাংশ হওয়া প্রয়োজন। আমাদের এখানে ১৮ লাখ আয়কর রিটার্নের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশেরই কোনো কর নেই (জিরো ট্যাক্স)। এতসংখ্যক মানুষের সাড়ে ৩ লাখ টাকার ওপরে আয় নেই এটা কি বিশ্বাসযোগ্য?’
কালো টাকা সাদা করার সুযোগ প্রত্যাহারের বিষয়ে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘সব টাকাই কিন্তু কালো টাকা না। অপ্রদর্শিত আয়ও আছে। আমরা কর বাড়িয়ে দিয়ে একটি সুযোগ দিয়েছিলাম, কিন্তু এটি এখন প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে। এর ফলে আবাসন খাতে প্রভাব পড়তে পারে বলে খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এ খাতে অনেকের কর্মসংস্থান জড়িত। তবু আমি বলেছি যে, যাদের দরকার, তারা বেশি কর দিয়ে ফ্ল্যাট কিনবে। সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের জমা করা অর্থ বেড়ে যাওয়ার বিষয়টিতে আমি উদ্বিগ্ন। এটি কেন বেড়েছে, সেটি আমরা দেখছি। এখানে কিছু হয়তো বিদেশে যেসব বাংলাদেশি রয়েছেন, তাদের টাকা। গত বছর জাতীয় নির্বাচনের পর থেকেই ওনারা হয়তো বুঝতে পেরেছিলেন যে, সময় ঘনিয়ে আসবে। কী কারণে ঘনিয়ে আসবে জানি না। এ কারণে হয়তো তারা যত দ্রুত সম্ভব টাকা সরিয়ে নিয়েছেন।’
আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে অ্যাপার্টমেন্ট বা ভবনে বিনিয়োগের মাধ্যমে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার সুযোগ দেয়া হয়েছিল। তবে বাজেট চূড়ান্ত অনুমোদনের সময় বিশেষ এ সুবিধা প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর ফলে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার জন্য বিশেষ সুবিধা আর থাকছে না। তবে আয়কর আইন অনুসারে চাইলে যেকোনো করদাতা নিয়মিত করের সঙ্গে আরো বাড়তি ১০ শতাংশ কর দিয়ে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করতে পারবেন। এক্ষেত্রে আয়ের উৎস বৈধ হতে হবে।
পাবলিকলি ট্রেডেড কোম্পানি যাদের পরিশোধিত মূলধনের ন্যূনতম ১০ শতাংশ শেয়ার প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) বা ডিরেক্ট লিস্টিংয়ের মাধ্যমে হস্তান্তর হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে আয়ের সাড়ে ২২ শতাংশ করারোপ করা হয়েছে। তবে বিবেচ্য আয়বর্ষে সব ধরনের আয় ব্যাংক লেনদেনের মাধ্যমে সম্পন্ন করলে এক্ষেত্রে করহার হবে ২০ শতাংশ। অন্যসব পাবলিকলি ট্রেডেড কোম্পানির ক্ষেত্রে সাড়ে ২৭ শতাংশ হারে করারোপ করা হয়েছে। তবে বিবেচ্য আয়বর্ষে সব আয় ব্যাংক লেনদেনের মাধ্যমে সম্পন্ন করলে করহার হবে ২৫ শতাংশ।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি মেডিকেল কলেজ, বেসরকারি ডেন্টাল কলেজ, বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ বা কেবল তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে শিক্ষাদানে নিয়োজিত বেসরকারি কলেজের করহার ১৫ শতাংশের পরিবর্তে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। সম্পত্তি হস্তান্তর হতে কর সংগ্রহের ক্ষেত্রে বিদ্যমান কর কর্তনের হার ৮ শতাংশ, ৬ শতাংশ ও ৪ শতাংশের স্থলে যথাক্রমে ৫, ৩ ও ২ শতাংশ করা হয়েছে।
অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে একটি সাশ্রয়ী ও বাস্তবায়নযোগ্য বাজেট প্রণয়ন করাটাই মূল্য লক্ষ্য ছিল উল্লেখ করে অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আমরা আগের বছরের তুলনায় বাজেটের আকার কমিয়েছি। গত মে মাসে আমাদের মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশে ছিল। বর্তমান যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তাতে চলতি জুন শেষে এটি ৮ শতাংশে নেমে আসতে পারে। আগামী বছর আমাদের মূল্যস্ফীতি যখন ৬ শতাংশে নেমে আসবে, তখন আমরা আবার সম্প্রসারণমূলক বাজেটের দিকে যাব। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার শর্তানুসারে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার সময় রফতানি প্রণোদনার পরিমাণ শূন্য হতে হবে। এজন্য আমরা দুই বছর ধরে কাজ করছি। এরই মধ্যে দুই ধাপে প্রণোদনা কমানো হয়েছে। তৃতীয় ধাপে আগামী ১ জুলাই থেকে প্রণোদনা কমানোর কথা ছিল। তবে সেটিকে আমরা পিছিয়ে আগামী বছরের ১ জানুয়ারি নির্ধারণ করেছি। এবার সামাজিক নিরাপত্তায় বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি সুবিধাভোগীর সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি অবসর ভাতা ও সঞ্চয়পত্রের সুদকে সামাজিক নিরাপত্তা খাতের বাইরে নিয়ে আসা হয়েছে। বাজেট উপস্থাপনের পর থেকে আমাদের কাছে এ বিষয়ে অনেক মতামত এসেছে, যার অধিকাংশই ছিল সামাজিক নিরাপত্তা ও বিশেষ সুবিধাসংক্রান্ত। আমরা এগুলোকে আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় সংশোধনী এনেছি।’
২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী খাতে ৮১ হাজার ২৯৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল। তবে চূড়ান্ত বাজেটে এ বরাদ্দ বাড়িয়ে ৯১ হাজার ২৯৭ কোটি টাকা করা হয়েছে। চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৯০ হাজার ৪৬৮ কোটি টাকা।
সরকারি কর্মচারীদের মূল বেতনের ওপর ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বিশেষ সুবিধা দিয়ে ৩ জুন প্রজ্ঞাপন জারি করে অর্থ বিভাগ। কর্মরত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এ ‘বিশেষ সুবিধা’র ন্যূনতম পরিমাণ ১ হাজার টাকা, আর পেনশনভোগীদের ন্যূনতম ৫০০ টাকা দেয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। তবে চূড়ান্ত বাজেটে বিশেষ এ সুবিধার ন্যূনতম পরিমাণ সরকারি কর্মচারীদের ক্ষেত্রে ১ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৫০০ ও পেনশনভোগীদের জন্য ৫০০ থেকে বাড়িয়ে ৭৫০ টাকা করা হয়েছে। তাছাড়া যাদের নিট পেনশন ১৭ হাজার ৩৮৮ টাকা বা তার বেশি তারা পেনশনের ১০ শতাংশ বিশেষ ভাতা হিসেবে পাবেন। আর যাদের নিট পেনশন এ পরিমাণের কম তারা পাবেন ১৫ শতাংশ বিশেষ ভাতা।
মূল্য সংযোজন করের (মূসক) ক্ষেত্রেও চূড়ান্ত অনুমোদিত বাজেটে বেশকিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর মধ্যে রিফাইন্ড পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে আগাম কর সাড়ে ৭ শতাংশের পরিবর্তে ২ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। ঝুট থেকে রিসাইক্লিং প্রক্রিয়ায় উৎপাদিত তুলার উৎপাদন পর্যায়ে মূসক অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। নারী উদ্যোক্তা কর্তৃক পরিচালিত বিউটি পার্লারের স্থান ও স্থাপনা ভাড়ার ওপর মূসক অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। বল পয়েন্ট কলমের আমদানি পর্যায়ে মূসক অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। হার্টের রিং ও চোখের লেন্স আমদানির ক্ষেত্রে আগাম কর অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।
এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আগের তুলনায় পাঁচগুণ বেশি করারোপ করে প্রস্তাবিত বাজেটে অ্যাপার্টমেন্ট ও ভবনে বিনিয়োগের মাধ্যমে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ রাখা হয়েছিল। তবে বিভিন্ন দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এটি প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে। ফলে এখন আমাদের আইনে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ নেই। প্রশ্ন আসতে পারেÑ যারা আগে রিটার্নে টাকা দেখায়নি তাদের কী হবে? তারা নিয়মিত করের পাশাপাশি আরো ১০ শতাংশ কর দিয়ে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করতে পারবেন। তালিকাভুক্ত কোম্পানি ও বিদেশি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আইপিওর মাধ্যমে ১০ শতাংশ শেয়ার ইস্যু করা হলে করছাড়ের সুযোগ দেয়া হয়েছে। আগে এটি ১০ শতাংশের বেশি ছিল। পাশাপাশি ডিরেক্ট লিস্টিংয়ের মাধ্যমে পুঁজিবাজারে আসা কোম্পানিগুলোও এ সুবিধা পাবে। যেহেতু কালো টাকা সাদা করার সুযোগ প্রত্যাহার করা হয়েছে, সেহেতু রিহ্যাবের একটি দাবি ছিল নিবন্ধন কর কমানোর, আমরা সেটি কমিয়েছি।’
চূড়ান্ত বাজেটে আমদানির ক্ষেত্রে শুল্কে বেশকিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর মধ্যে সব ধরনের পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানিতে ট্যারিফ মূল্যের পরিবর্তে ইনভয়েস মূল্যের ভিত্তিতে শুল্কায়ন-ব্যবস্থা চালুর জন্য ক্রুড পেট্রোলিয়াম পণ্যের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ৫ শতাংশ আমদানি শুল্ককে কমিয়ে ৩ শতাংশ এবং অন্য ক্ষেত্রে নির্ধারিত ১০ শতাংশ আমদানি শুল্ককে কমিয়ে ৬ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। সৌরশক্তি উৎপাদনসংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতিকে আরো সহজলভ্য করার উদ্দেশ্যে সোলার ইনভার্টারের আমদানি শুল্ক ১০ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করা হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃক চিকিৎসা যন্ত্রপাতি ও উপকরণ রেয়াতি সুবিধায় আমদানিসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে আরো ১০টি আইটেম যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে জনগণের চিকিৎসাসেবা আরো সহজলভ্য হবে বলে মনে করছে সরকার। দেশে মানসম্পন্ন টায়ার উৎপাদনের জন্য টায়ার তৈরির অন্যতম কাঁচামাল টেকনিক্যাল স্পেসিফায়েড ন্যাচারাল রাবারের আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে।
তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, ‘বাজেটে উৎপাদন পর্যায়ে কটন ইয়ার্ন ও ম্যান মেড ফাইবারের ক্ষেত্রে প্রতি কেজিতে করের পরিমাণ ৩ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ টাকা করা হয়েছে। পাশাপাশি পলিয়েস্টার স্ট্যাপল ফাইবারের ওপর ১ শতাংশ হারে আবগারি শুল্কারোপ করা হয়েছে। এটি ব্যবসার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তাই এটিকে আগের জায়গায় নিয়ে যাওয়ার দাবি জানাচ্ছি। সেইসঙ্গে তৃতীয় ধাপে রফতানিতে প্রণোদনা কমানোর বিষয়টি এ বছরের জুলাইয়ের পরিবর্তে আগামী বছরে জানুয়ারিতে কার্যকর করার যে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, সেটিকে আরো পিছিয়ে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ হওয়ার আগ পর্যন্ত নির্ধারণের দাবি থাকবে। তবে এবারের বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ প্রত্যাহার ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর বিষয়টিকে আমরা স্বাগত জানাই।’
সার্বিক বিষয়ে সিপিডির ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘বাজেটে খুব বেশি পরিবর্তন নেই, প্রায় একই রকম আছে। এবারের বাজেট নিয়ে আলোচনার খুব বেশি সুযোগ হয়নি। বাজেট ঘোষণার পরপরই ঈদুল আজহার ছুটির সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে খুব বেশি কর্মদিবস পাওয়া যায়নি। এবারের বাজেট নিয়ে বেশকিছু সুবিবেচনাপ্রসূত প্রস্তাব এসেছিল। একটু সময় নিয়ে সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হলে আরো পরিবর্তন আনা যেত। কালো টাকা সাদা করার সুযোগ প্রত্যাহার করা হয়েছে, এটি ভালো দিক। ন্যূনতম আয়করসীমার বিষয়টি ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকেই কার্যকর করা যেত। আয়করসীমার ক্ষেত্রে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তের ওপর করভার বেশি বাড়বে। এটি পরিবর্তন করার সুযোগ ছিল। সামাজিক নিরাপত্তা ভাতার পরিমাণ মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাড়ানোর প্রয়োজন ছিল। বাজেট এত তাড়াতাড়ি অনুমোদন না করে আরো কয়েকদিন পরও করার সুযোগ ছিল। তাহলে আরো আলোচনার সুযোগ তৈরি হতো। সরকারের নীতিনির্ধারকরাও বিচার-বিবেচনা করার জন্য বেশি সময় পেলেন না।’