ইসিতে এনসিপিসহ ১৪৭ নতুন আবেদন
২৬ জুন ২০২৫ ১০:৫৯
আবেদনে অস্তিত্বহীন দলের সংখ্যাই বেশি
বর্তমানে নিবন্ধিত দল ৫০টি
স্টাফ রিপোর্টার: রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন পেতে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আবেদন জমা দিয়েছে শতাধিক রাজনৈতিক দল। এখন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ৫০টি রাজনৈতিক দল নিবন্ধিত রয়েছে। আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত করা হয়েছে। নতুন নিবন্ধন পাওয়ার আবেদনের শেষ দিন ২২ জুন পর্যন্ত যারা আবেদন করেছে তাদের আবেদনগুলো যাচাই শেষে শর্তপূরণ করে থাকলে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা আরও বাড়বে। এবার নতুন করে যারা আবেদন করেছে তাদের মধ্যে আছে আলোচিত দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রদের এ নতুন দল নিয়ে আগ্রহ রয়েছে দেশবাসীর। এছাড়া বাকি আবেদনকারী দলগুলোর মধ্যে হাতেগোনা কয়েকটি ছাড়া অনেকেরই রাজনৈতিক কোনো অস্তিত্ব নেই। দলের সভাপতি ও সম্পাদককে কেউ চেনেন না। পার্টির নেই কোনো পরিচয়। দলীয় কার্যালয়ের কোনো হদিস নেই। নেই বিশ্বাসযোগ্য কেন্দ্রীয় কমিটি। তবুও এরা রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন পেতে আবেদনপত্র জমা দিয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গত ২০ এপ্রিল পর্যন্ত ৬৫টি দল আবেদন করে। পরে এনসিপিসহ কিছু দলের অনুরোধে নিবন্ধনের আবেদনের সময়সীমা দুই মাস বাড়ানো হয়। শেষ দুই মাসে আবেদন জমা পড়ে ৮২টি। আবদনের শেষ সময়সীমার মধ্যে ২২ জুনই আবেদন জমা পড়ে ৪২টি। দুই দফায় নিবন্ধনের জন্য আবেদনপত্র জমা দেওয়া দলগুলোর নামের তালিকা ২৩ জুন সোমবার প্রকাশ করেছে কমিশন। সেই হিসেবে নিবন্ধনের জন্য নির্বাচন কমিশনে আবেদন জমা পড়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) ১৪৭টি দলের।
আবেদন জমা দেওয়া দলগুলোর মধ্যে বেশিরভাগেরই কোনো অস্তিত্ব নেই। দেশের প্রভাবশালী একটি গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এমন তথ্য। অনুসন্ধান অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনে (ইসি) রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছে ‘বাংলাদেশ ডেমোক্রেটিক পার্টি’। আবেদনে দলটির কার্যালয়ের ঠিকানা দেওয়া আছে ৬৩৯/বি, পেয়ারাবাগ, মগবাজার, ঢাকা। ২৪ জুন বিকেলে ওই ঠিকানায় গণমাধ্যমকর্মীরা গিয়ে দেখেন, পলেস্তারা খসে যাওয়া দেয়াল ও ওপরে টিনের ছাউনি দেওয়া এক কক্ষের একটি ঘর। ঘরে কেউ আছেন কি না জানতে চেয়ে কিছুক্ষণ ডাকাডাকি করেও সাড়া মিলল না। পরে দল নিবন্ধনের আবেদনে নির্বাচন কমিশনে দেওয়া দলটির সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর হাওলাদারের মুঠোফোন নম্বরে কল করলেন ওই সংবাদকর্মী, তখন সভাপতির স্ত্রী মাহমুদা সুলতানা ফোন ধরেন। জাহাঙ্গীর হাওলাদার বাসায় আছেন বলে জানান তিনি। এরপর গায়ে গামছা জড়িয়ে বাসা থেকে বের হয়ে আসেন বাংলাদেশ ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি। নির্বাচন কমিশনে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধনের আবেদনের বিষয়ে জাহাঙ্গীর হাওলাদার বলেন, ২০১১ সালে পার্টি গঠন করেছিলেন তিনি। তখন তিনি তিতুমীর কলেজে পড়েন। তিনি জানান, এখানে অফিস নেব চিন্তা করছি। দল ঠিক হলে (নিবন্ধন পেলে) এরপর অফিস নেবেন। গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে এমন অনেক দলের কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি।
আবেদন করা ১৪৭টি দলের মধ্যে অনেক বাহারি নামও রয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছেÑ জনতার পার্টি বাংলাদেশ (জেপিপি); গণদল, বাংলাদেশ জনজোট পার্টি (বাজপা); বাংলাদেশ রিপাবলিক পার্টি (বিআরপি), বাংলাদেশ সমতা পার্টি; বাংলাদেশ ফরায়েজী আন্দোলন; বাংলাদেশ সিটিজেন পার্টি; ইসলামী ঐক্যজোট; নতুন বাংলাদেশ পার্টি (এনবিপি); বাংলাদেশ জাগ্রত জনতা পার্টি; বাংলাদেশ গণবিপ্লবী পার্টি; ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ভাসানী ন্যাপ); বাংলাদেশ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ফেডারেশন; জনতার দল; বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা জনতা পার্টি; বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (এমএল); বাংলাদেশ নাগরিক পার্টি (বিসিপি); জাতীয় ন্যায় বিচার পার্টি; বাংলাদেশ ডেমোক্রেটিক পার্টি (বিডিপি), ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি) ও আমজনগণ পার্টি।
নতুন রাজনৈতিক দল নিবন্ধনে বিদ্যমান আইন-বিধি অনুযায়ী ১০টি তথ্য আবেদনপত্রের সঙ্গে জমা দিতে হবে। নিবন্ধন ফি হিসেবে দিতে হবে ৫ হাজার টাকা, যা অফেরতযোগ্য। নতুন দলের ক্ষেত্রে নিবন্ধনের শর্ত হলো, দলটির একটি সক্রিয় কেন্দ্রীয় কার্যালয় থাকতে হবে। কার্যকর কমিটি থাকতে হবে কমপক্ষে এক-তৃতীয়াংশ প্রশাসনিক জেলায়। সদস্য হিসেবে অন্তত ১০০টি উপজেলা কিংবা মহানগরীর থানার কমপক্ষে ২০০ ভোটারের সমর্থনের নথিও দেখাতে হবে। দলীয় প্যাডে দরখাস্তের সঙ্গে দলের গঠনতন্ত্র, নির্বাচনী ইশতেহার (যদি থাকে), দলের বিধিমালা (যদি থাকে), দলের লোগো ও দলীয় পতাকার ছবি, দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সব সদস্যের নামের তালিকা, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও সর্বশেষ স্থিতি জমা দিতে হবে। আবেদন পাওয়ার পর নির্বাচন কমিশন তা যাচাই-বাছাই শুরু করবে। নিবন্ধন শর্ত পূরণ করতে পারলে দলীয় প্রতীকসহ নিবন্ধন সনদ দেবে।
প্রসঙ্গত, রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের জন্য আবেদন করার শেষ দিন ছিল গত ২২ জুন। এর আগে এবারের নির্বাচন সামনে রেখে গত ১০ মার্চ আগ্রহী দলগুলোর কাছ থেকে নিবন্ধন আবেদন আহ্বান করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ২০ এপ্রিলের মধ্যে আবেদন করে ৬৫টি নতুন রাজনৈতিক দল। জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) ৪৬টি দলের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নিবন্ধন আবেদনের সময়সীমা দুই মাস বাড়ানো হয়, যা শেষ হয় ২২ জুন। বর্তমানে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত দলের সংখ্যা ৫০টি। সম্প্রতি নিবন্ধন স্থগিত হয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আর আদালতের আদেশে নিবন্ধন ফিরে পেয়েছে বাংলাদেশ জাময়াতে ইসলামী। গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে এ পর্যন্ত উচ্চ আদালতের নির্দেশে নিবন্ধন পেয়েছে ৬টি দল। সব মিলিয়ে এখন নিবন্ধিত দলের সংখ্যা ৫০। এর আগে গত দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে ইসিতে ৯৩টি দল নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছিল।