কুলাউড়ায় জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমান

ন্যায়বিচারের দাবি হলো যার যা পাওনা সে যেন তা পায়


১৩ জুন ২০২৫ ০৮:৪৯

মো. সামছুল ইসলাম, কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও কুলাউড়ার কৃতি সন্তান ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, যার মাধ্যমে রাষ্ট্রের কল্যাণ নিহিত রয়েছে, যার হাতে রাষ্ট্র নিরাপদ, আল্লাহ যেন তার হাতে রাষ্ট্রের ক্ষমতা তুলে দেন। তারা যেন আল্লাহকে ভয় করে রাষ্ট্র পরিচালনা করেন। একটা কঙ্কাল আমরা পেয়েছি। অসুবিধা নেই মহান আল্লাহ যদি সহায় থাকেন এ কঙ্কালটাই জীবন্ত প্রাণী হয়ে দাঁড়িয়ে যাবে। অনেক মানুষ স্বার্থসংশ্লিষ্ট দাবি নিয়ে আমার কাছে আসতে পারে। আমি না করি না, আমি বলতাম হ্যাঁ আমি বলে দেবো। আমিতো যার কাছে বলার তার কাছে বলি। কিছুদিন পর আবার দেখা যায় ফুল ও মিষ্টি হাতে তারা আসেন। ওই আমি যে বলেছিলাম, আমার বলায় চাকরি হয়েছে। আমি যে কার কাছে বলেছি, সেটা তারা জানেই না। ন্যায়বিচারের দাবি হলো যার পাওনা সে যেন পায়।
জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমান কুলাউড়া পৌরসভা মিলনায়তনে (৮ জুন) দুপুর ১২টায় পেশাজীবী প্রতিনিধিদের নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। উপজেলা জামায়াতের আমীর সহকারী অধ্যাপক আব্দুল মুন্তাজিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, সিলেট মহানগর আমীর ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মো. ফখরুল ইসলাম, মৌলভীবাজার জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মো. ইয়ামির আলী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জেলার সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস, জেলা ছাত্রশিবির সভাপতি মো. নিজাম উদ্দিন, উপজেলা ছাত্রশিবির সভাপতি আতিকুর রহমান তারেক প্রমুখ। এর আগে ঈদের দিন শনিবার (৭ জুন) সন্ধ্যায় মৌলভীবাজারের কুলাউড়া পৌরসভা হলরুমে উপজেলা জামায়াত আয়োজিত সর্বস্তরের জনসাধারণের সঙ্গে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা বিনিময় ও আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন তিনি।
আমীরে জামায়াত বলেন, আমি যে তদবির করবো, আমার তদবিরে যদি একজন যোগ্যতাসম্পন্ন মানুষের হক নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে কাল কিয়ামতের দিন আমি কী জবাব দেবো। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হলে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। একটা সময় এদেশের মানুষ মুখ খুলে কথা বলতে পারতো না। নিজের ঘরেও শান্তিতে থাকতে পারতো না। সারি সারি লাশ আর স্তূপ স্তূপ রক্ত সারা দেশে। আয়নাঘর নামে টর্চার সেল মুসোলিনি ইতালিতে চালু করেছিল। বাংলাদেশে এর ছায়া চালু করেছিল বিগত সরকার। আমাকে ৩ বার জেলে নেওয়া হয়েছিল। আমি জেলে অনেক মানুষ দেখেছি, কেউ ৩ মাস, কেউ ৭ মাস থেকে জেল হাজতে। পরিবারের সাথে কোনো যোগাযোগ করতে পারেনি। পুলিশ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞেস করলাম, বলে এরা নন এন্ট্রি। এদেরকে আমরা ধরেছি কিন্তু আমরা স্বীকার করি না। সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারককে ৮ বছর এভাবে রেখেছিল। এভাবে মানুষকে গুম করেছে। এই তালিকায় আমাদের সিলেটের ইলিয়াস আলীর নাম রয়েছে। তার পরিবার জানে না। তিনি কোথায় আছেন, জীবিত আছেন নাকি মারা গেছেন। ৫ তারিখের পটপরিবর্তনের পরে আয়নাঘরের দুয়ার খুলে দেওয়া হয়েছে। অনেকে সেটা পরিদর্শনে গিয়ে গুম-খুনের প্রমাণও পেয়েছেন। বাংলাদেশ কোনো রাজতন্ত্রের দেশ নয়। অথচ বাংলাদেশে গত সাড়ে ১৫ বছর যা হয়েছে, রাজতন্ত্রের দেশেও তা হয়নি। এ কষ্ট মানুষ বুকে নিয়ে বেড়াচ্ছিল। রাষ্ট্র বিজ্ঞানে একটা কথা আছে, যারা স্বৈরাচারী হয়ে যায়, তারা পতনের সব রাস্তা বন্ধ করে দেয়। কিন্তু একটা ছিদ্র খোলা রাখে। যেটা দিয়ে তার পতন হয়। সিভিল প্রশাসন থেকে শুরু করে সব বিভাগকে ঠিক সেইভাবেই সাজিয়েছিল। ছাত্ররা তাদের ন্যায্য দাবি নিয়ে আন্দোলন শুরু করে। কিন্তু সরকার ভাবেনি এ পচা শামুকে তাদের পা কাটবে। আবু সাঈদের মৃত্যুতে শুধু দেশ নয়, গোটা দুনিয়া নড়ে উঠলো। আন্দোলন নতুন বেগ পেল। ৩১ তারিখ তারা চেয়েছিল, জামায়াতকে নিষিদ্ধ করতে, কিন্তু পরের দিন ১ আগস্ট সেটা করলো। আমরা আন্দোলনে সম্পৃক্ত হলাম। আমাদের প্রতীক কেড়ে নেয়া হলো। সেই আন্দোলনে ছাত্রদের পাশে শুধু আমরা নয় জাতীয়তাবাদী শক্তি ছিল। আরও অনেকে ছিল। সবার যুগপৎ আন্দোলনে সরকার দিশেহারা হয়ে পড়লো।