ফ্যাসিস্ট পুনর্বাসনের ষড়যন্ত্রকারীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে
১৩ জুন ২০২৫ ০৮:২০
৩৬ জুলাই বিপ্লবের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল দেশের রাজনীতি দুর্বৃত্তায়ন মুক্ত করা। কারণ দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, দখলবাজি এবং বৈষম্যের মূল কারণ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন। দেশের রাজনীতির ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ক্ষমতাসীন দলের সর্বোচ্চ নেতা থেকে তৃণমূলের পাতিনেতা পর্র্যন্ত সবাই দেশটাকে তাদের তালুক মনে করে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও ক্ষমতাসীন দলের অনুগত দাসে পরিণত হয়। ফলে আইন-আদালত, মিডিয়া সবই চলে তাদের অঙ্গুলি হেলনে। বর্তমানে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছে। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ পালিয়েছে। কিন্তু রাজনীতি, সরকার, প্রশাসন থেকে নিয়ে সর্বত্র আওয়ামী ফ্যাসিজমের ছায়া বিরাজ করছে। এ ছায়া মাঝে মাঝে দৃশ্যমান হচ্ছে, একটি রাজনৈতিক দলের শেল্টারে এমন অভিযোগ সেই দলের নেতা-কর্মীরাই করছেন। আরো অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে টাকার বিনিময়ে তারা এ অপকর্ম করছে। আওয়ামী লীগ দেড় দশকের শাসনে জনগণের নিকট থেকে লুট করে কালো টাকার যে পাহাড় গড়েছে, তার বিনিময়ে তারা একটি রাজনৈতিক দলের মাসলম্যান ও পাওয়ারম্যানদের কাজে লাগাচ্ছে। দৈনিক প্রথম আলো, যুগান্তর, আমার দেশ, সমকালসহ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও অন্যান্য মিডিয়ায় এমন একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে এবং হচ্ছে।
আমাদের দৃষ্টিতে এসেছে এমন কয়েকটি খবরের শিরোনাম তুলে ধরা হলো: ‘বিএনপির সার্চ কমিটিতে আওয়ামী লীগের দোসরদের অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ’ (দৈনিক প্রথম আলো, ২৯ এপ্রিল ২০২৫)। ‘বিএনপি নেতাদের শেল্টারে এখনো বেপরোয়া আওয়ামী চেয়ারম্যান ইকবাল’ (দৈনিক যুগান্তর প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৫)। “অনুপ্রবেশকারী, নিষ্ক্রিয়রা আছেন দাপটে, ‘হাইব্রিডদের’ চাপে কোণঠাসা বিএনপির তৃণমূলের ত্যাগীরা, ত্যাগী আর যোগ্যরা থাকেন আতঙ্কে” (দৈনিক সমকাল ২৬ অক্টোবর ২০২৪)। ‘বিএনপি নেতাদের শেল্টারে ফিরছেন পলাতক আওয়ামী চেয়ারম্যানরা’ (আমার দেশ ১ জুন ২০২৫)। আমার দেশের এ খবরে বলা হয়েছে, ‘খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পলাতক চেয়ারম্যানদের এলাকায় ফিরতে সহায়তা করছেন প্রধানত বিএনপির স্থানীয় পর্যায়ের কিছু নেতা। এ কাজে বিস্তর অর্থকড়ি লেনদেন হয়েছে। এমনকি এক ইউপি চেয়ারম্যানকে ‘পুনর্বাসনের’ জন্য বিএনপির এক নেতাকে ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত অফার করা হয়েছে।’ যদিও তারা তা অস্বীকার করেছেন। তবে আমরা মনে করি তদন্ত করে দায়ীদের চিহ্নিত করা সময়ের দাবি।
আমরা মনে করি, আরো শিরোনাম ও বিবরণ লিখে নিবন্ধের পরিধি বাড়িয়ে লাভ নেই। তবে এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই বিষয়টি খুবই আতঙ্কজনক। কারণ দেশের পত্রিকার এমন সব শিরোনাম ও খবরের ভিড়ে ভারতের পত্রিকায় মাঝে মাঝেই আওয়ামী লীগের পলাতক হাসিনা, ওবায়দুল কাদেরসহ বিভিন্ন নেতাদের যেসব বক্তব্য প্রকাশিত হচ্ছে, তাতে তাদের মধ্যে অনুশোচনার কোনো গন্ধ পাওয়া যায় না। বরং বার বার হুমকি দিচ্ছে শিগগিরই তারা দেশে ফিরবেন এবং তাদের ফ্যাসিস্ট দুঃশাসনের বিরুদ্ধে যারা আন্দোলন করেছেন, তাদের সবাইকে ফাঁসি দিয়ে হত্যা করে প্রতিশোধ নিবে আওয়ামী লীগ। এ কথা জানার পরও টাকার লোভে খাল কেটে যারা কুমির আনার ষড়যন্ত্র করছেন, তাদের পরিণতি যে মীর জাফর, মিরন, রায় দুর্লভ, উমি চাঁদদের মতো হবে এতে কোনো সন্দেহ নেই। সরকার ও দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করে দুর্বৃত্তদের বিচারের মুখোমুখি করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা। তা না হলে আমাদের দ্বিতীয় স্বাধীনতাই শুধু নস্যাৎ হবে না, স্বাধীনতার পক্ষের বীর, গাজী, শহীদ ও আহতদের পরিবারগুলোও নিশ্চিহ্ন হবে। আমাদের প্রিয় জন্মভূমি আবারও ভারতীয় আগ্রাসনের নাগপাশে বন্দি হবে। যা কারো কাম্য নয়।