পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধের দামামা


১ মে ২০২৫ ১৭:০৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : গত ২২ এপ্রিল মঙ্গলবার জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগাঁওয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ পর্যটকের প্রাণহানি ঘটে। এরপর থেকেই ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে শুরু করে। ওই হামলার জন্য ভারত সরাসরি পাকিস্তানভিত্তিক লস্কর-ই-তৈয়্যবাকে দায়ী করেছে। ইসলামাবাদ এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে এটি ভারতের নাটক বলে অভিহিত করে। ২০১৯ সালে পুলওয়ামা হামলার পর এটি ছিল কাশ্মীর উপত্যকায় সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী হামলা। এ হামলার প্রতিক্রিয়ায় ভারত ইতোমধ্যেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলোÑ ছয় দশকের পুরনো সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত করা ও আত্তারি স্থল সীমান্ত বাণিজ্য কেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়া। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে পাকিস্তানও ভারতের সঙ্গে তাদের সব দ্বিপাক্ষিক চুক্তি; এমনকি ঐতিহাসিক সিমলা চুক্তিও স্থগিত করেছে। দেশটি বলছে, সিন্ধু পানি চুক্তি বাতিল করা যুদ্ধ ঘোষণার শামিল।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারত ও পাকিস্তান আবারও একটি সামরিক সংঘাতের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়েছে। কারণ কাশ্মীরে প্রাণঘাতী সন্ত্রাসী হামলার প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে ভারত। দেশটি বলছে, এর সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পৃক্ততা আছে। উত্তেজনা দ্রুতই এতটা বেড়ে গেছে যে, পাকিস্তানের প্রবাহিত কয়েকটি নদীর পানিপ্রবাহ আটকে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে ভারত। এমন কঠোর পদক্ষেপ কয়েক দশকে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধের সময়েও নেওয়া হয়নি। বিশ্লেষকরা দীর্ঘমেয়াদি ও বিপজ্জনক অচলাবস্থার বিষয়ে সতর্ক করেছেন। কারণ পারমাণবিক শক্তিধর এ দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ বেশ কয়েক বছর আগেই অনেকটা বন্ধ হয়ে গেছে। আর বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলো বর্তমানে অন্যান্য সংকট নিয়ে ব্যতিব্যস্ত আছে। ফলে তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা বা কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় উত্তেজনা প্রশমিত না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে পরিণত হতে পারে এ শঙ্কাও রয়েছে।
ইট মারলে পাথর ছোড়ার হুঁশিয়ারি পাকিস্তানের
ভারতের পানি বন্ধের হুমকির জবাবে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বলেছেন, ‘একটি ইট এলে তার জবাবে আমরা পাথর ছুড়ব।’ গত ২৯ এপ্রিল মঙ্গলবার পেহেলগাঁওয়ের ঘটনার পর ভারতের অভিযোগের জবাবে সিনেটে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন। খবর জিও নিউজের। ইসহাক দার বলেন, ‘পেহেলগাঁওয়ের হামলার ঘটনাকে ভারত সাজানো নাটক হিসেবে ব্যবহার করে সিন্ধু পানি চুক্তি বাতিল করতে চাইছে।’ তিনি বলেন, ‘ভারত একতরফাভাবে এ চুক্তি বাতিল করতে পারে না।’ দার আরও দাবি করেন, পাকিস্তান এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন পেয়েছে; বিশেষ করে চীন ও তুরস্ক পাকিস্তানের পাশে রয়েছে। দার আরও জানান, ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেনি। তিনি পাকিস্তানের ইতিবাচক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ওপর জোর দিয়েছিলেন। এর আগে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোহাম্মদ আসিফও রয়টার্সকে বলেছিলেন, পাকিস্তানে ভারতের হামলা ‘আসন্ন’ ইসলামাবাদ অত্যন্ত সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। আসিফ বলেন, ‘আমাদের অস্তিত্বের প্রতি সরাসরি হুমকি সৃষ্টি হলে আমরা পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করব।’
সশস্ত্র বাহিনীকে হামলা চালানোর পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছে ভারত
ভারতের সশস্ত্র বাহিনীকে হামলা চালানোর পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। জম্মু ও কাশ্মীরে বন্দুকধারীদের হামলা ও এর সম্ভাব্য জবাব নিয়ে ২৯ এপ্রিল মঙ্গলবার দেশটির তিন বাহিনীর প্রধান, চিফ অব ডিফেন্স অনীল চৌহান, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনি। এ সময় এ স্বাধীনতা দেন। উল্লেখ্য, মোদির নয়াদিল্লির বাসভবনে ওই বৈঠক হয়। ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, বৈঠকে মোদি জানিয়েছেন, ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারিত্বের সক্ষমতার ওপর তার পূর্ণ আস্থা আছে। তিনি সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানদের উদ্দেশে বলেন, কবে-কখন লক্ষ্যে আঘাত হানতে হবে সে ব্যাপারে তাদের পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে। একটি সূত্র এনডিটিভিকে জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সন্ত্রাসবাদের ধ্বংসই ভারতের জাতীয় সংকল্প। এর মাধ্যমে মোদি জম্মু-কাশ্মীরের পেহেলগাঁওয়ে হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালানোর ‘সবুজ সংকেত’ দিয়েছেন বলে জানিয়েছে অপর একটি সূত্র।
উত্তেজনা বাড়ছেই
জম্মু ও কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলওসি) ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। গত ২৭ এপ্রিল রাতে ভারত শাসিত কাশ্মীরের পুঞ্চ জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় দুই দেশের সৈন্যদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। ২৮ এপ্রিল সকালে ভারতীয় সেনাবাহিনী এ তথ্য জানায়। খবর এনডিটিভির। ভারতীয় সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, ‘গত ২৭ ও ২৮ এপ্রিল রাতে পাকিস্তানি সেনা চৌকিগুলো থেকে কুপওয়াড়া ও পুঞ্চ জেলার নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর ছোট অস্ত্র দিয়ে গুলি চালানো হয়। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ভারতীয় সেনারা ‘দ্রুত ও কার্যকরভাবে’ এর জবাব দিয়েছে।
পাকিস্তানের প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন চীনের, উত্তেজনা নিরসনে আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের
কাশ্মীর সীমান্তে সাম্প্রতিক হামলার জেরে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা নিরসনে উভয় দেশের প্রতি দায়িত্বপূর্ণ সমাধানে’ কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সময়ে ইসলামাবাদের প্রতি তাদের অকুণ্ঠ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে চীন। স্থানীয় সময় গত ২৭ এপ্রিল মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বিবৃতিতে উত্তেজনা নিরসনের আহ্বান জানানো হয়। হামলার পর ভারতের প্রতি সমর্থন জানালেও পাকিস্তানের সমালোচনা করেনি যুক্তরাষ্ট্র। তবে ওই হামলার জন্য সরাসরি পাকিস্তানভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী লস্কর-ই-তৈয়্যবাকে দায়ী করেছে দিল্লি। যদিও এ অভিযোগ অস্বীকার করে নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে ইসলামাবাদ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র বিবৃতিতে বলেছেন, এটি একটি পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি এবং আমরা ঘনিষ্ঠভাবে ঘটনাবলি পর্যবেক্ষণ করছি। একই সঙ্গে একাধিক স্তরে ভারত ও পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। মুখপাত্র আরও যোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র সকল পক্ষকে একটি দায়িত্বপূর্ণ সমাধানে পৌঁছানোর জন্য একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছে। এদিকে পেহেলগাম হামলার পর ভারতের ‘মিথ্যা অভিযোগ ও উসকানিমূলক পদক্ষেপ’ তুলে ধরে আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ে বিদেশি মিত্রদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে পাকিস্তান। এ কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ ও উপপ্রধানমন্ত্রী (পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বেও রয়েছেন) ইসহাক দার চীন, যুক্তরাজ্য ও ইরানের নেতাদের সঙ্গে পৃথক ফোনালাপ করেছেন। এ সময় তারা নয়াদিল্লির ‘ভিত্তিহীন প্রচারণা ও একতরফা পদক্ষেপের’ বিষয়ে বিশ্বনেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। একই সঙ্গে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি পাকিস্তানের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় ইসলামাবাদের দৃঢ় অবস্থানের কথা ব্যক্ত করেন। সিনহুয়া বার্তা সংস্থার মতে, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ফোনালাপে বলেছেন, ‘বেইজিং পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যেকার ক্রমবর্ধমান পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।‘ চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাকিস্তানের দৃঢ় সন্ত্রাসবাদবিরোধী প্রচেষ্টার প্রতি তার দেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। সূত্র দ্য জাপান টাইমস ও ডন।
পরীক্ষার মুখে ভারতের সামরিক বাহিনী
ভারত ও পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের উত্তেজনা শেষবার যখন সংঘর্ষে রূপ নিয়েছিল, তখন ভারতীয় কর্মকর্তারা এক অস্বস্তিকর বাস্তবতার সম্মুখীন হতে বাধ্য হন। ওইসময় দেশটির বিশাল সামরিক বাহিনীকে অনেকটা ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে দেখানো হয়েছিল; তারা ছিল সেকেলে এবং সীমান্তে হুমকি মোকাবিলায় অপ্রস্তুত। পাকিস্তানের হাতে ২০১৯ সালে একটি ভারতীয় যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনায় লজ্জায় পড়ে যায় দেশটি। এতে ভারতের সামরিক বাহিনীর আধুনিকায়নের প্রচেষ্টাকে ত্বরান্বিত করার প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামরিক বাহিনীতে কয়েকশ’ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেন। অস্ত্র কিনতে নতুন আন্তর্জাতিক মিত্র খুঁজে নেন। দেশীয়ভাবে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন বাড়ান। এসব প্রচেষ্টায় ঠিক কতটুকু পরিবর্তন এসেছে, হয়তো খুব শিগগির তার পরীক্ষা হবে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, ভারতের সামরিক বাহিনী এখনো আধুনিকায়নের পর্যায়ে রয়েছে। এ অবস্থায় দুর্বলতা ফাঁস হওয়ার ভয়ে জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রে সংযমী হতে পারে ভারত। ২০১৮ সালে এক সংসদীয় প্রতিবেদনে জানানো হয়, ভারতের ৬৮ শতাংশ সামরিক সরঞ্জাম ‘সেকেলে’, ২৪ শতাংশ এখনকার মানের এবং মাত্র ৮ শতাংশ ‘সর্বাধুনিক’। পাঁচ বছর পর ২০২৩ সালে দেওয়া এক হালনাগাদ প্রতিবেদনে সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তারা স্বীকার করেন, বিশাল আকারের বাহিনী হওয়ার চ্যালেঞ্জের কারণে পর্যাপ্ত পরিবর্তন আসেনি। নিউইয়র্ক টাইমসের বিশ্লেষণ।
চীনের সঙ্গেও যুদ্ধ করতে হতে পারে ভারতকে
কাশ্মীর ইস্যুকে কেন্দ্র করে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধাবস্থা যখন ক্রমেই তীব্র হচ্ছে, তখন একপাশে দাঁড়িয়ে দৃশ্যপট পর্যবেক্ষণ করছে চীন। একদিকে পাকিস্তান তার দীর্ঘদিনের মিত্র চীনকে পাশে পাচ্ছে; অন্যদিকে ভারতকে একই সঙ্গে দুই ফ্রন্টে যুদ্ধের সম্ভাবনার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক অতীতে ভারত যতবার সীমান্তে পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়েছে, তার চেয়েও বেশি ও বড় আকারের সংঘাতে জড়িয়েছে চীনের সঙ্গে। ফলে পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ালে চীনের প্রতিক্রিয়া এড়ানো ভারতের পক্ষে কার্যত অসম্ভব। চীন ইতোমধ্যে পাকিস্তানকে জেএফ-৭ যুদ্ধবিমানের জন্য দূরপাল্লার শক্তিশালী পিএল-১৫ ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ শুরু করেছে। আকাশ থেকে আকাশে আঘাত হানতে সক্ষম এ ক্ষেপণাস্ত্র মূলত ভারতের রাফাল যুদ্ধবিমানকে লক্ষ করেই তৈরি, যা পাকিস্তানের হাতে বড় কৌশলগত সুবিধা এনে দিতে পারে। শুধু ক্ষেপণাস্ত্র নয়, জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমানও পাকিস্তানকে যৌথভাবে তৈরি করে দিয়েছে বেইজিং, যা আসন্ন যুদ্ধে বড় ভূমিকা রাখার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্ব রাজনীতির মঞ্চে পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা অংশীদার চীন। তাদের তৈরি কে-৮ কারাকোরাম এয়ারক্র্যাফট, আল-খালিদ ট্যাংক এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইতোমধ্যেই ইসলামাবাদকে সরবরাহ করা হয়েছে বা প্রস্তুত রয়েছে। পাকিস্তানও নিজেদের সেনা প্রস্তুতি বাড়িয়েছে এবং সম্প্রতি চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির সঙ্গে যৌথ মহড়ায় অংশ নিয়েছে, যা যুদ্ধ পরিস্থিতিতে পাকিস্তানকে বাড়তি সুবিধা দিতে পারে।
ইমরান খানকে মুক্তি দিয়ে সর্বদলীয় ঐক্যের আহ্বান
ইমরান খানকে মুক্তি দিয়ে সরকারের প্রতি সর্বদলীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। সম্প্রতি ভারতশাসিত কাশ্মীরের পেহেলগামে বন্দুকধারীদের হামলার পর পাকিস্তান-ভারত উত্তেজনা ও নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকারের হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে এ আহ্বান জানিয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল। ২৮ এপ্রিল সোমবার সিনেট অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে এ আহ্বান জানান পিটিআইয়ের সিনেটর সৈয়দ আলী জাফর। সিনেট অধিবেশনে বলেন, মানুষ মোদির নাটকের চিত্রনাট্য খুব ভালো করেই জানে। তিনি আরও বলেন, ভারত সরকার একতরফাভাবে সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত করতে পারে না। পেহেলগামে বন্দুকধারীদের হামলায় ২৬ জন নিহতের ঘটনায় পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে অভিহিত করেন পিটিআইয়ের এ নেতা সৈয়দ আলী জাফর। তিনি বলেন, মোদি ভারতকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যাচ্ছেন।