যারা জামায়াতকে রাজনৈতিকভাবে নিষিদ্ধ করেছিল আজ তারা দেশছাড়া : নূরুল ইসলাম বুলবুল


১৩ মার্চ ২০২৫ ১৫:৫১

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেছেন, জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীক, নিবন্ধন কেড়ে নেয়ার পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামীর কথা বলার অধিকারও কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। বিগত সাড়ে ১৫ বছর ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ জামায়াতে ইসলামীকে কোনো সভা-সমাবেশ করতে দেয়নি। জনগণের পাশে দাঁড়াতে দেয়নি, জনগণের কাছে যেতে দেয়নি। তবুও জামায়াতে ইসলামীকে জনগণ থেকে এক মিনিটের জন্যও বিচ্ছিন্ন করতে না পেরে সর্বশেষ জামায়াতে ইসলামীকে ২০২৪ সালের ১ আগস্ট নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। কিন্তু যারা জামায়াতে ইসলামীকে রাজনৈতিকভাবে নিষিদ্ধ করেছে, আল্লাহর ইচ্ছা তাদের এদেশের জনগণ দেশছাড়া করেছে।
গত ১০ মার্চ সোমবার দি বিজনেস ফোরাম কর্তৃক আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, জামায়াতে ইসলামীর ওপর যত দমন-নিপীড়নই করা হয়েছে জামায়াতে ইসলামীকে জনগণ থেকে দূরে সরাতে পারেনি। জামায়াত কর্মী মানেই সমাজ কর্মী সেই আদর্শে জামায়াতে ইসলামী সমাজসেবা করে আসছে। জামায়াতে ইসলামী সমাজসেবার অংশ হিসেবে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণে ১০টি অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা হাতের নাগালে আনার কাজ করছে। এসব অ্যাম্বুলেন্সে গরিব-অসহায় মানুষকে বিনামূল্যে সেবা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া জামায়াতে ইসলামীর শিক্ষা কল্যাণমূলক ব্যবস্থা, বৃত্তিমূলক ব্যবস্থা, আত্মকর্মসংস্থানমূলক ব্যবস্থা রয়েছে। মহিলাদের জন্যও এসব সুযোগ সমানভাবে রয়েছে। জামায়াতে ইসলামী সমাজসেবা ধর্ম-বর্ণ, জাতি-গোষ্ঠী দেখে করে না। মানবিকতা থেকেই মানবসেবা করে যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী।
মানুষ তৈরির কর্মসূচি জামায়াতে ইসলামী প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে চালিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, যারা জনগণের জন্য কাজ করছে বলে দাবি করে; ঐসব দলের একজন নেতাকর্মী কী বুকে হাত দিয়ে আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বলতে পারবে, তারা দুর্নীতিমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত? বলতে পারবে না। তাদের রাজনৈতিক চরিত্রের পাশাপাশি নৈতিক চরিত্রও জনগণের সামনে আজ উন্মোচিত। জনগণ বুঝে গেছে তাদের রাজনৈতিক চেতনা আসলে কী! একমাত্র জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী বুকে হাত দিয়ে শপথ করে বলতে পারবে, তারা দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজমুক্ত। কারণ জামায়াত-শিবিরের কর্মীদের নৈতিকতা, সততা ও আদর্শের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। যাদের অন্তরে আল্লাহর ভয় আর ইসলামের শিক্ষা রয়েছে, তাদের দ্বারা সমাজে অন্যায় হয়নি, হবেও না। তারা স্বপ্ন দেখে ছাত্র-জনতার প্রত্যাশিত বৈষম্যমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের। ছাত্র-জনতার উই ওয়ান্ট জাস্টিস প্রতিষ্ঠা করতে হলে ইসলামী সমাজ বিনির্মাণের বিকল্প নেই বলেও উল্লেখ করেন নূরুল ইসলাম বুলবুল।
দি বিজনেস ফোরামের সহ-সভাপতি ও হাব, আটাব, বায়রা ট্রেড অর্গানাইজেশনের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি আইয়ুব আলী ফরায়েজীর সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য ও দি বিজনেস ফোরামের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি মো. আমিনুর রহমান। এছাড়া সভায় ফোরামের নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।