সংস্কার ছাড়া অর্থনৈতিক সংকট কাটবে না
২২ জুলাই ২০২৬ ২০:০৩
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সংকট ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে। বর্তমানে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ব্যাংকিং খাতে অস্থিরতা এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের মতো নানামুখী চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে অর্থনীতি। সরকার বলছে অর্থনীতিতে গতি সঞ্চারের কথা। মন্ত্রীগণ বলছেন, ‘কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিল্পায়ন ও বেসরকারি খাতের বিকাশে সরকার সহযোগী ভূমিকা পালন করবে। উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ, উৎপাদন ও উদ্ভাবনের সুযোগ তৈরি করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে এ ধরনের বক্তব্য প্রচার হচ্ছে। কিন্তু বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন।
উৎপাদন, কর্মসংস্থান বিনিয়োগে স্থবিরতা এখনো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। ব্যাংকিং খাতে এক ভয়াবহ আতঙ্ক বিরাজ করছে। ফ্যাসিবাদী শাসনামলে ব্যাংক লোপাট, বিদেশে অর্থ পাচার, শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দেয়ার যে ব্যবস্থা করা হয়েছিল, তার হাত থেকে অর্থনীতি এখনো উদ্ধার পায়নি।
জুলাই সনদে অর্থনৈতিক সংস্কার, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ, দুর্নীতি দমন কমিশনসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে সংস্কারের যেসব পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলা হয়েছিল, সরকার তার ধারেকাছেও নেই। সংস্কার ব্যতীত বাংলাদেশের অর্থনীতির অনিশ্চয়তা দূর হবে না, তা আইএমএফ স্পষ্টতই উল্লেখ করেছে।
সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর ব্যাংক ব্যবস্থায় সংস্কারসহ জনগণের আমানতের সুরক্ষা দিতে পারেনি। বরং অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্ত অর্থনীতিকে নতুনভাবে অনিশ্চয়তায় ফেলেছে। জনগণের প্রত্যাশা ছিল জনগণের অর্থ আত্মসাৎকারী ঋণখেলাপিদের বিষয়ে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নেবে। নির্বাচনে ঋণখেলাপিদের মনোনয়ন দিয়ে সরকার জনগণের বিশ্বাসের ওপর আঘাত করেছে।
সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমান সংসদে আইনগতভাবে কোনো এমপিই ঋণখেলাপি নন। কারণ নির্বাচনে অংশগ্রহণের আগে প্রার্থীদের ঋণখেলাপির বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের বিধান অনুযায়ী যাচাই করা হয়। এ কারণেই সরকার সংসদে বলেছে, বর্তমান সংসদকে ‘ঋণখেলাপিদের সংসদ’ বলা আইনগতভাবে সঠিক নয়। আইনের অজুহাত দেখিয়ে যাই বলা হোক, বাস্তবে সংসদে ঋণখেলাপি আছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন এসেছে, নির্বাচনের আগে কিছু ঋণখেলাপি প্রার্থী আদালতের স্থগিতাদেশ বা অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাচন করার সুযোগ পান এবং তাদের মধ্যে অনেকেই পরে এমপি নির্বাচিত হন। সত্য লুকানোর যত প্রক্রিয়াই অবলম্বন করা হোক না কেন, জাতীয় সংসদে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ঋণখেলাপি সদস্য রয়েছেন।
ঋণের নামে অর্থ তুলে ফেরত না দেওয়া এবং অর্থ পাচার করার জন্য বিগত আওয়ামী লীগ সরকার ব্যাংক খাতকে কিছু মানুষের হাতে উন্মুক্ত করে দিয়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকার এসে ব্যাংক খাতে বেশকিছু সংস্কারের উদ্যোগ নেয়। বিএনপি সরকার নির্বাচনী ইশতেহারে ব্যাংক খাত নিয়ে সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর মধ্যে আছে, সুদহার যৌক্তিক করা, বাংলাদেশ ব্যাংককে স্বায়ত্তশাসন প্রদান, অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগকে বিলুপ্ত করে রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকের পরিচালনা ও তদারকির ভার বাংলাদেশ ব্যাংকের হাতে ছেড়ে দেওয়া, ব্যাংক পরিচালনায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ ও পারিবারিক প্রভাবমুক্ত করা, উচ্চ খেলাপি ঋণের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং অর্থনীতিবিদ, গবেষক, ব্যাংকার ও করপোরেট নেতাদের সমন্বয়ে একটি অর্থনৈতিক সংস্কার কমিশন গঠন। এসব প্রতিশ্রুতি পূরণ কবে হবে, সেটিই দেখার অপেক্ষায় আছে জনগণ।
খেলাপির কারণে অনেক ব্যাংক তারল্য সংকটে পড়েছে। বিশ্বের চতুর্থ সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণ বাংলাদেশে। ব্যাংকগুলো দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। সরকার এখনো ব্যাংকের ওপর নির্ভরশীল।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটেও ব্যাংক থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেয়ার কথা বলা হয়েছে। বাজেটে বিদেশি ঋণ ও অনুদান ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা ধরা হয়েছে। সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য দেশীয় উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা ধরে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি পূরণের একটি হিসাব বাজেটে দেখানো হয়েছে।
উল্লেখিত ঋণের পরিমাণ যোগ হলে সরকারের মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়াবে ২৮ কোটি ৭৬ লাখ টাকা।
বাংলাদেশের সরকারি মোট ঋণ (দেশীয়+বৈদেশিক) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরুতে আনুমানিক ২৬ কোটি ৩৩ লাখ টাকা হওয়ার প্রক্ষেপণ রয়েছে। এর মধ্যে দেশীয় ঋণ প্রায় ১৫ কোটি ২ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ প্রায় ১১ কোটি ৩০ লাখ টাকা ।
বর্তমানে যদি মোট সরকারি ঋণ প্রায় ২৬ কোটি ৩৩ লাখ টাকা এবং বাংলাদেশের জনসংখ্যা প্রায় ১৭ কোটি ৫০ লাখ ধরা হয়, তাহলে মাথাপিছু সরকারি ঋণ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা (প্রায়)। এটি একটি গড় হিসাব। শিশু থেকে প্রবীণ- সকল নাগরিককে অন্তর্ভুক্ত করে এই গড় নির্ধারণ করা হয়।
যদি ঋণের অর্থ এমন প্রকল্পে বিনিয়োগ হয়, যা ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও আয় বাড়ায়, তাহলে ঋণ দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক হতে পারে। তবে ঋণ অদক্ষভাবে ব্যবহার হলে বা পরিশোধের সক্ষমতা দুর্বল হলে তা অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
১৫ জুলাই জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন শেষ হয়েছে। বাজেট অধিবেশনে ৩১৬ জন এমপি বক্তব্য রেখেছেন। বাজেট একটি রাষ্ট্রের এক বছরের অর্থনৈতিক দলিল। রাষ্ট্রের ব্যয়, উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে বাজেটে যেমন আলোচনা থাকে, তেমনি থাকে উন্নয়ন নিয়ে। দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক চিত্র থাকে বাজেটে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির হারের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাময়িক হিসাব অনুযায়ী, সদ্যবিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রবৃদ্ধির হার ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ।
আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (GDP) পরিমাণ আনুমানিক ৫১০.৭ বিলিয়ন এবং মাথাপিছু আয় দাঁড়াবে ২,৯১১ ডলার। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো প্রবৃদ্ধি ৪.৭% থেকে কমে ৩.৫%-এর ঘরে নামার আশঙ্কা করছে, যা কাটিয়ে উঠতে নানামুখী সংস্কার কার্যক্রম চলছে।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) গত ১৬ জুলাই বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে পূর্বাভাস দিয়েছে, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হার কমে ৩ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে আসবে। রাজস্ব আহরণ জোরদার, রাজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ব্যাংক খাতের দুর্বলতা দূর করার প্রয়োজনীয় সংস্কার না করলে মধ্য মেয়াদে এ হার আরও কমে ৩ শতাংশের নিচেও নেমে যেতে পারে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশের নিচে নেমে গেলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও মানুষের আয় বাড়ানোর গতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। এতে শিল্প ও সেবা খাতে বিনিয়োগে ভাটা পড়তে পারে, বাড়তে পারে বেকারত্ব। নিম্ন প্রবৃদ্ধির কারণে নিম্ন ও মধ্যবিত্তের প্রকৃত আয়ে টান পড়বে। আর কমবে তাদের ভোগ ব্যয়। শেষ পর্যন্ত পুরো অর্থনীতির গতি আরও মন্থর করে দিতে পারে এই নিম্ন প্রবৃদ্ধি।
আইএমএফ বলেছে, বাংলাদেশ এখনো উল্লেখযোগ্য রাজস্ব, আর্থিক খাত ও মূল্যস্ফীতিজনিত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, যা মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে আরও তীব্র হয়েছে। বৈশ্বিক বাজারে পণ্যের উচ্চমূল্য এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্নের ফলে মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন চাপ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি ভর্তুকি ব্যয় বেড়েছে। এতে আগে থেকেই সীমিত থাকা রাজস্ব সক্ষমতার ওপর আরও চাপ সৃষ্টি হয়েছে। প্রবাসী আয় শক্তিশালী থাকলেও আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বৈদেশিক খাতের ওপরও চাপ তৈরি হয়েছে। একইসঙ্গে ব্যাংক খাতের চাপ এখনো উচ্চপর্যায়ে রয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশকে রাজস্ব আহরণে জোর দিতে হবে, আবার ভর্তুকিও যৌক্তিক করা প্রয়োজন। সামাজিক সুরক্ষা ও উন্নয়ন খাতে অগ্রাধিকারমূলক ব্যয়ের জন্য যাতে রাজস্ব সক্ষমতা তৈরি করা যায়, তা বিবেচনায় আনতে হবে। লক্ষ্যভিত্তিক সামাজিক সহায়তা কর্মসূচি যেন ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে সুরক্ষা দিতে সহায়তা করতে পারে।
মূল্যস্ফীতি কমানো এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পুনর্গঠনের জন্য কঠোর মুদ্রানীতি বজায় রাখার পাশাপাশি বাংলাদেশকে ফলপ্রসূ রাজস্বনীতি অব্যাহত রাখা উচিত বলে মনে করে আইএমএফ। জাতিসংঘ এবং বিভিন্ন সংস্থার তথ্যানুযায়ী, নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যের কারণে মুদ্রাস্ফীতি দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে তুলনামূলক বেশি।
সরকার মূল্যস্ফীতি ৭৫%-এ নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যনিুযায়ী, এখন মূল্যস্ফীতির হার (জুন ২০২৬) ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ। আর একই সময়ে মজুরি বৃদ্ধির হার ৮ দশমিক ১৬ শতাংশ। এর অর্থ হচ্ছে আয়ের তুলনায় ব্যয় বেশি বাড়ছে। মূল্যস্ফীতি মজুরি বৃদ্ধির চেয়ে প্রায় ১ শতাংশ পয়েন্ট বেশি। ফলে গড় হিসাবে শ্রমজীবী মানুষের প্রকৃত (Real) ক্রয়ক্ষমতা কমছে। কারণ মজুরি যতটা বাড়ছে, জীবনযাত্রার ব্যয় তার চেয়ে দ্রুত বাড়ছে।
মানুষের প্রকৃত আয় কমে গেলে সাধারণত তারা কম খরচ করে এবং সঞ্চয় বাড়ানোর চেষ্টা করে। এতে বাজারে সামগ্রিক চাহিদা কমে যায়। চাহিদা কমে গেলে ব্যবসা ও শিল্পে এর প্রভাব পড়ে। এতে উৎপাদন হ্রাস পায়, নতুন বিনিয়োগও শ্লথ হয়। এর সবই ঘটেছে বাংলাদেশে।
আইএমএফের ঋণের শর্ত মানতে গিয়ে সরকার বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি উৎপাদন ও পরিবহন খরচ বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি আরও উসকে দিচ্ছে। অন্যদিকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে যে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে, তা মূল্যস্ফীতির প্রকৃত হারের তুলনায় এতটাই অপ্রতুল যে, তা দরিদ্র মানুষের ক্ষয়প্রাপ্ত ক্রয়ক্ষমতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পারছে না। সরকারকে বিনিয়োগ বাড়াতে লাভের হার কমাতে হবে। সরকার মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে অর্থনীতি টেকসই হবে না।
বাংলাদেশে এখনো বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে পারেনি সরকার। অর্থনীতিতে বিনিয়োগ (Investment) হলো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সরকার যখন নতুন কারখানা, অবকাঠামো, যন্ত্রপাতি, প্রযুক্তি, শিক্ষা বা অন্যান্য উৎপাদনশীল খাতে অর্থ ব্যয় করে, তখন তা ভবিষ্যতে উৎপাদন ও আয় বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা থাকলেও দেশীয় ও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিভিন্ন ধরনের সমস্যা ও সুরক্ষার কমতির কারণে বিনিযোগে উৎসাহ পাচ্ছেন না। বিনিয়োগকারীগণ নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন।
দেশে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম দীর্ঘসময় ধরে বেশি। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা ক্রমাগতভাবে কমে যাচ্ছে। অপরদিকে দুর্বল ব্যাংকিং খাত, খেলাপি ঋণের উচ্চ হার, কিছু ব্যাংকের মূলধন ও তারল্য সংকট, আর্থিক খাতে সুশাসনের ঘাটতি অর্থনীতিতে বিষাক্ত পরিবেশ তৈরি করে রেখেছে।
বাংলাদেশে বৈদেশিক খাতের চাপ; বিশেষ করে আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ এবং টাকার বিনিময় হারে অস্থিরতা বিরাজ করছে। পাশাপাশি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে রয়েছে ব্যাপক ঘাটতি। বেসরকারি বিনিয়োগ প্রত্যাশিত হারে বাড়ছে না। শিক্ষিত তরুণদের জন্য পর্যাপ্ত মানসম্মত কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে না।
তৈরি পোশাক (আরএমজি)-এর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা অর্থনীতির জন্য মোটেই ভালো লক্ষণ নয়। বিশ্ববাজারে তৈরি চাহিদা কমলে বা বাজার ধরে রাখতে না পারলে অর্থনীতি আরো ঝুঁকিতে পড়ে।
অর্থনীতিতে জ্বালানি ও অবকাঠামোগত চ্যালেঞ্জ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তার কারণে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং শিল্প প্রতিযোগিতা কমে যাচ্ছে।
বাংলাদেশের অর্থনীতি মূলত তৈরি পোশাক (আরএমজি) শিল্প, প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) এবং কৃষির ওপর নির্ভরশীল এছাড়া সেবা খাতও অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখে, কিন্তু বর্তমানে অর্থনীতির সকল খাতেই স্থবিরতা বিরাজ করছে। সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনীতিতে গতি ফিরিয়ে আনার কোনো কার্যকর পদক্ষেপ বর্তমান সরকার এখনো গ্রহণ করতে পারেনি।
জুলাই আন্দোলনের অন্যতম লক্ষ্য বেকারত্ব কমানো। কর্মসংস্থান বাড়াতে বর্তমান সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের সুফল দৃশ্যমান নয়। বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়েনি, শিল্প খাতে মন্দা এখনো প্রকট। বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ যথেষ্ট কম। মানুষের জীবনযাত্রার মান বাড়েনি। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি বাড়ানোর সঙ্গে এগুলো সম্পর্কিত।
লেখক : আইনজীবী ও কলামিস্ট।