সংস্কার ও জুলাই ঘোষণাপত্র প্রশ্নে ছাত্র-জনতা আপস করবে না

হারুন ইবনে শাহাদাত
৩ জুলাই ২০২৫ ১১:৪৫

ছাত্র-জনতার বুকের তাজা লাল রক্তের বিনিময়ে দেশ ফ্যাসিবাদ ও ভারতীয় আগ্রাসনমুক্ত হয়েছে। ্ দেশে এখন বিপ্লবী-প্রতিবিপ্লবী-অতিবিপ্লবী সবাই একাকার। প্রতিবিপ্লবীদের পরাজিত শক্তির কালো হাতগুলো অতিবিপ্লবী আচরণ করছে। ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠী বর্ণ লুকিয়ে সওয়ার হচ্ছে দেশ গঠনে গঠিত সংস্কার কমিশনের ঘাড়ে। বিপ্লবী ছাত্র-জনতার ঐক্যের প্রাচীরে বিভেদের হাতুড়ি-শাবল মারছে নির্দয়ভাবে। জনগণের আকাক্সক্ষার আলোকে রাষ্ট্র গঠনের প্রতি পদে পদে বাধা দিচ্ছে, তাই এক বছরেও ঐকমত্যের ভিত্তিতে তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে না ‘জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র’।
ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার দরজা বন্ধে বিরোধীদলগুলো সংস্কার প্রশ্নে একমত হচ্ছে না। অথচ পালিয়ে গিয়ে লুকিয়ে থাকা ফ্যাসিবাদী সরকারের নিষিদ্ধঘোষিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা ভয়ঙ্কর রূপে ফিরে এসে বিপ্লবে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করা ছাত্র-জনতা এবং তাদের সমর্থক ও সহযোগিতা করা শান্তির পক্ষের নাগরিকদের একশত ফুট মাটির নিচ থেকে তুলে এনে টুকরো টুকরো করে হত্যার হুমকি দিচ্ছে। ফ্যাসিবাদের পক্ষে ভূমিকা পালনকারী কেউ কেউ লুটেরাদের লুট করা অর্থের বিনিময়ে, কেউবা দ্রুত ক্ষমতার মসনদ কব্জা করার জন্য জনগণের বিপক্ষে দাঁড়াচ্ছেন। কারণ তারা ভুলে গেছেন ইতিহাসের সেই নির্মম সত্য- মীর জাফর আলী খাঁ বেনিয়া ইংরেজদের খুশি করতে লর্ড ক্লাইভের হাত ধরে বাংলা-বিহার-ঊড়িষ্যার মসনদে বসেছিলেন। কিন্তু তার শেষ রক্ষা হয়নি। ক্লাইভের স্বার্থ হাসিলের পর তাকে ছুড়ে ফেলেছে। একই পরিণতি বরণ করতে হয়েছে জগৎশেঠ, উমিচাঁদ, মীরন ও মীর কাসিমকেও। তাই জুলাই বিপ্লবে যার যতটুকু ভূমিকাই থাকুক না কেন, ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ ও সংস্কার প্রশ্নে তাদের সরকার এবং জুলাই বিপ্লবী ছাত্র-জনতার সাথে একসাথে কাজ করা জরুরি বলে মনে করেন রাজনীতি বিশ্লেষকরা। তারা এক নেই এ সংশয়ের কারণ রাজনৈতিক দলগুলো ঐকমত্যে না আসায় তিনবার তারিখ ঠিক করেও ‘জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র’ তৈরি করা সম্ভব হয়নি। সংস্কার নিয়েও দেখা দিয়েছে সন্দেহ ও সংশয়।
সংস্কার নিয়েও দেখা দিয়েছে সন্দেহ ও সংশয়
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত গত ২৯ জুন রোববার ঐকমত্য কমিশনের সর্বশেষ বৈঠকে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি ড. আলী রীয়াজ বলেছেন, গত সাত দিনের বৈঠকে বিভিন্ন বিষয়ে কিছু অগ্রগতি হলেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি এখনো হয়নি। ‘জুলাই সনদ’ কবে নাগাদ হতে পারে, তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমরা আশা করেছিলাম- আবু সাঈদের শাহাদতবার্ষিকীতেই সকলে মিলে সনদে স্বাক্ষর করতে পারব। সেটা কতটা সম্ভব হবে, তা আপনাদের (রাজনৈতিক দল) ওপর নির্ভর করছে। আমরা খানিকটা শঙ্কিত যে, সে জায়গায় যাব না। তবে এটা আমরা বলতে পারিÑ জুলাই মাসের মধ্যে এ প্রক্রিয়াকে একটা পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে হবে। গত ২৯ জুন রোববার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর দ্বিতীয় দফার সপ্তম দিনের বৈঠক হয়। আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল- সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ কমিটি, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট পার্লামেন্ট, উচ্চকক্ষের নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং উচ্চকক্ষের দায়িত্ব ও ভূমিকা।
বৈঠকে কমিশনের সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, ড. বদিউল আলম মজুমদার, ড. মো. আইয়ুব মিয়া এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার। এ সময় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টিসহ ৩০টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
ড. আলী রীয়াজ সেদিন বলেছিলেন, একদিন পর (২৯ জুনের ১ দিন পর) জুলাই মাস। কমিশন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিÑ আমরা আন্তরিক থাকতে চাই, জুলাই মাসের মধ্যেই যেন আমরা একটি জাতীয় সনদে উপনীত হতে পারি। সেই প্রচেষ্টায় আমাদের একটা স্বপ্ন ছিল।
তিনি আরও বলেন, আমাদের লক্ষ্য ছিল ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে মুক্ত হবো। যে ব্যবস্থা ফ্যাসিবাদী শাসনকে তৈরি করেছে, তার কাঠামোগত পরিবর্তনগুলো আমাদের করতে হবে। এ সংকল্প থেকে সবকিছু পাশে রেখে আমরা সমবেত হয়েছিলাম। আপনাদের কর্মীরা প্রাণ দিয়েছেন, নিপীড়ন সহ্য করেছেন। সেই রক্তের ওপর পা রেখে আমরা এখানে এসেছি। ৭০ অনুচ্ছেদের ক্ষেত্রে কমিশনের যে প্রস্তাব ছিল, সেখান থেকে কমিশন আলোচনার মধ্য দিয়ে সরে এসেছে। আলী রীয়াজ বলেন, উচ্চকক্ষের বিষয়ে দুটি প্রস্তাব ছিল। এর মধ্যে একটি, ১০৫ জন সদস্যকে রাষ্ট্রপতি মনোনয়ন দেবেন। আপনারা এ বিষয়ে আপত্তি তুলেছেন। সঙ্গতভাবে কমিশন এ জায়গা থেকে সরে এসে ১০০ সদস্যের উচ্চকক্ষ তৈরির বিষয়ে একমত হতে পেরেছি। মূলনীতির ক্ষেত্রে কমিশনের কিছু প্রস্তাব ছিল সংবিধান সংস্কার কমিশনে। সেখানে আমরা আলোচনা করেছি, অনেকটা অগ্রসর হয়েছি।
বিএনপি কী চায়
বৈঠক শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ কমিটি ও দ্বিকক্ষবিশিষ্ট পার্লামেন্ট নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ বিভিন্ন কমিটি নিয়ে আমাদের মতামত আগের মতোই। আমরা চাই এসব সংস্থার স্ব স্ব আইন সংশোধন করা এবং বিদ্যমান আইনে প্রয়োজনীয় সংস্কারের মধ্য দিয়ে আরও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হোক। বিদ্যমান আইনের সংস্কারের মধ্য দিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন গঠন করতে চাই। আইনের ধারা নির্ধারিত আরও যদি সংস্থা থাকে, সেগুলোয় ঐকমত্যের মধ্য দিয়ে আমরা আইন প্রণয়নের মধ্য দিয়ে নিয়োগবিধি স্ব স্ব আইনে রাখতে চাই। কারণ আমরা ভারসাম্যমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চাই।
তিনি বলেন, ১০০ সদস্যবিশিষ্ট উচ্চকক্ষ গঠনের জন্য বিএনপির পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। সংসদের নিম্নকক্ষের প্রাপ্ত আসনের ভিত্তিতে উচ্চকক্ষ নির্ধারণের জন্য দলের পক্ষ থেকে সুপারিশ করা হয়েছে। তবে নির্বাচন প্রক্রিয়া কীভাবে হবে, তা নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে যদি সুন্দর গ্রহণযোগ্য কোনো প্রস্তাব আসে দেশের স্বার্থে, আমরা সেটা বিবেচনা করব। ঐকমত্য কমিশন থেকে আরও আলোচনা করতে বলা হয়েছে। এভাবে আর কতদিন আলোচনা করলে ঐকমত্য হবে, তা জানি না।
জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থাগুলোয় নিয়োগের জন্য একটি স্থায়ী কমিটি গঠনে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তবে প্রস্তাবিত ‘সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থার নিয়োগ কমিটি’ (পূর্বে ন্যাশনাল কনস্টিটিউশনাল কাউন্সিল নামে পরিচিত) গঠনে এখনো বিএনপির আপত্তি রয়েছে।
দ্বিতীয় ধাপের সপ্তম দিনের আলোচনা শেষে সংবাদমাধ্যমকে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর। ডা. তাহের বলেন, শতভাগ একমত হয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়াটা প্রায় অসম্ভব। আমরা চেষ্টা করছি কীভাবে এ জটিলতা কমানো যায়। দ্বিকক্ষবিশিষ্ট পার্লামেন্টের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। আমরা ইন প্রিন্সিপাল বাই ক্যামেরাল পার্লামেন্টের ব্যাপারে একমত আছি। উচ্চকক্ষের সদস্যরা শুধু এমপিদের ভোটে নির্বাচিত না হয়ে জনগণের ভোটের প্রতিফলন থাকতে হবে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একটি প্রতিনিধিদল গত ২০ মার্চ সকাল ৯:৩০টায় জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সংসদ ভাবনের কার্যালয়ে ঐকমত্য কমিশনের কো-চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজের কাছে সংস্কার প্রস্তাব জমা দিয়েছিলেন। এ সময় অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারের সাথে ছিলেন সংগঠনের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি ড. হামিদুর রহমান আযাদ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ। অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজের কাছে জামায়াত নেতৃবৃন্দ ১. সংবিধান; ২. নির্বাচন; ৩. বিচার বিভাগ; ৪. জনপ্রশাসন ও ৫. দুর্নীতি দমন কমিশনসহ পাঁচটি বিষয়ের ওপর প্রস্তাবনা পেশ করেন।
জমা দেয়ার দিন উপস্থিত সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছিলেন, জামায়াতে ইসলামী একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করে আসছে। আমীরে জামায়াতসহ নেতৃবৃন্দ প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করে দ্রুত একটি অর্থবহ নির্বাচন দেওয়ার জন্য বার বার বলে আসছেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময়ের ব্যাপারে একটি ধারণা জাতির সামনে পেশ করা হয়েছে। আমরা তার সাথে দ্বিমত পোষণ করিনি। আজকে আমরা পাঁচটি বিষয়ের ওপর আমাদের মতামত তুলে ধরেছি। কমিশনের প্রস্তাবের সাথে কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমরা একমত হতে পারিনি; আবার অনেক বিষয়েই একমত হয়েছি। আমরা ব্যাখ্যাসহ আমাদের বক্তব্য তুলে ধরেছি। আমরা সংখ্যানুপাতিক নির্বাচনের ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেছি। আমরা আশা করি, দ্রুত সময়ের মধ্যেই সংস্কার সম্পন্ন করে একটি অর্থবহ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কাজ শুরু করবে।
এনসিসির বিষয়ে বিএনপির আপত্তি
জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিলের (এনসিসি) ওপর অনেক দলের আপত্তি থাকায় এর পরিবর্তে ‘সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ নিয়োগ কমিটি’ গঠনের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। এনসিসির প্রস্তাবে বিএনপির আপত্তি ছিল, তাই কমিশন থেকে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে যে, একটা বডি থাকবে, যারা এ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোয় নিয়োগ দেবে। যেখানে দলীয় রাজনীতিকরণের মাধ্যমে নিয়োগ হবে না। বড় একটি দল রাজি না হওয়ায় কমিশনের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় স্বার্থে আরেকবার বিবেচনা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এরপর দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ ও নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। যাতে বিএনপি এবং তাদের সমমনা এনডিএম, লেবার পার্টি, ১২ দলীয় জোট এবং জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট ছাড়া অধিকাংশ দলই নীতিগতভাবে একমত ছিল। উচ্চকক্ষের বিষয়ে আপত্তি ছিল সিপিবি, বাসদ এবং আমজনতা পার্টির।
তাহলে কি আবার রাজপথ
রাজনীতি বিশ্লেষকরা মনে করেন, পৃথিবীর ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, প্রতিটি বিপ্লব ও স্বাধীনতা সংগ্রামের পর শোষক, দুর্বৃত্ত ও ফ্যাসিস্টদের ফিরে আসা প্রতিহত করতে ঘোষণাপত্র তৈরি করা হয়। এক্ষেত্রে ব্যর্থ হলে পরাজিত অপশক্তি প্রতিশোধ নিতে রং বদল করে ফিরে আসার সুযোগ পায়। কিন্তু ঘোষণাপত্র থাকলে সেই সুযোগ থাকে না। এক্ষেত্রে সব রাজনৈতিক দল একমত হবে এটি অপরিহার্য নয়। বরং বিপ্লবে যারা বড় ভূমিকা পালন করে থাকে, তাদের মতামতকেই অগ্রাধিকার দেয়া হয়। রাজনীতি ও রাষ্ট্র সংস্কারের কাজে রাজনৈতিক দলগুলোকে নয়, জনগণের রায়ে নির্বাচিত গণপরিষদ সদস্যদের দায়িত্ব দেয়া হয়। কারণ রাজনৈতিক দলগুলো এক্ষেত্রে নিরপেক্ষভাবে জনগণের সুবিধা-অসুবিধার কথা চিন্তার করার চেয়ে নিজের দিকটাকেই প্রাধান্য দেয়। এ বিষয়টি সংস্কার কমিশন ও রাজনৈতিক দলগুলোর বিবেচনা করা দরকার। কারণ সংস্কার ও জুলাই ঘোষণাপত্র নিয়ে সংশয়ের কারণে জনমনে আবার দ্রোহের উত্তাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ছাত্র-জনতা যেকোনো মূল্যে ৩৬ জুলাই বিপ্লবের স্বপ্নের আলোকে সংস্কার চায়। কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও দলের রাজনৈতিক ইচ্ছা বা শক্তির কাছে বিসর্জন হোক শহীদদের রক্তের বিনিময়ে পাওয়া ৩৬ জুলাই বিপ্লবের অর্জন, তা ছাত্র-জনতা কিছুতেই মেনে নেবে না। প্রয়োজনে আবার রাজপথে নামবে বলে মনে করেন রাজনীতি বিশ্লেষকরা।