অসম্পূর্ণ বিপ্লবকে চূড়ান্ত রূপ দিতে কবি সাহিত্যিকদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে : কবি হাসান আলীম
৩০ আগস্ট ২০২৬ ২০:০১
গত ২৯ আগস্ট শনিবার বিকেলে রাজধানীর শাহজাদপুরের পূর্ণিমা রেস্টুরেন্টের কনফারেন্স হলে ‘৩৬ জুলাই সাহিত্যকর্ম বিশেষ সম্মাননা’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ‘কবিতা বাংলাদেশ’-এর সহসভাপতি কবি হাসান আলীম
‘কবিতা বাংলাদেশ’-এর সহসভাপতি কবি হাসান আলীম বলেছেন, ৩৬ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য ছিলো চূড়ান্ত বিপ্লব। কিন্তু চূড়ান্ত লক্ষ্য এখনো অর্জন হয়নি। অসম্পূর্ণ বিপ্লবকে চূড়ান্ত পর্যায়ে দিতে লেখক,সাংবাদিক, কবি সাহিত্যিক শিল্পীদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। জনগণকে জাগ্রত রাখবে কবি সাহিত্যিক শিল্পীদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে। বাংলাদেশ কালচারাল একাডেমি- ‘৩৬ জুলাই সাহিত্যকর্ম বিশেষ সম্মাননা’ একটি শুভ সূচনা। আমরা আশা করি তারা এর পরিসর ভবিষ্যতে আরো বাড়াবেন।

সাহিত্যে অবদান রাখায় কথাসাহিত্যিক হারুন ইবনে শাহাদাতের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দিচ্ছেন অতিথিরা
গত ২৯ আগস্ট শনিবার বিকেলে রাজধানীর শাহজাদপুরের পূর্ণিমা রেস্টুরেন্টের কনফারেন্স হলে ‘৩৬ জুলাই সাহিত্যকর্ম বিশেষ সম্মাননা’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেছেন।
বাংলাদেশ কালচারাল একাডেমির সেক্রেটারি গল্পকার ও কবি ইবরাহীম বাহারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ‘বিশেষ সম্মাননা’ প্রদান অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সমকালীন সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় কবি দৈনিক নয়া দিগন্তের সাহিত্য সম্পাদক কবি জাকির আবু জাফর ও বাংলাদেশ কালচারাল একাডেমি সভাপতি সাংস্কৃতিক সংগঠক আবেদুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য দেন বিসিএ’র প্রকাশনা সৃজনধারা সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক কবি শহীদ সিরাজী।
আমন্ত্রিত অতিথির বক্তব্য দেন ইতিহাসবিদ মো. আশরাফুল ইসলাম, কবি আতিক হেলাল, কবি নাসির হেলাল, কথাসাহিত্যিক হারুন ইবনে শাহাদাত প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে ‘৩৬ জুলাই বিপ্লব’ বিষয়ক সাহিত্যকর্ম মূল্যায়ন করে শীর্ষ লেখকদের বিশেষ সম্মাননা ক্রেস্ট ও নগদ অর্থ প্রদান করা হয়। সম্মাননাপ্রাপ্ত লেখকগণ হলেন কবি আমিনুল ইসলাম, কবি ও চারুশিল্পী ইব্রাহীম মন্ডল, কবি নাঈম আল ইসলাম মাহিন, কথাসাহিত্যিক নাসীমুল বারী, কবি শহীদ সিরাজী, কথাসাহিত্যিক হারুন ইবনে শাহাদত। সম্মাননাপ্রাপ্ত কবি ও লেখকগণ তাঁদের অভিব্যক্তি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন।
বিশেষ অতিথি কবি জাকির আবু জাফর বলেন,কবি সাহিত্যিকদের নিয়ে অনেক অপতথ্য ও ইতিহাস বিকৃতি আছে। প্রতিটি আন্দোলন ও বিপ্লবের নেপথ্যের নায়ক কবি সাহিত্যিকরা। ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনে কাজী নজরুল ইসলামের ইতিহাসে অবদান চির স্মরণীয়। ২০২৪ এর আন্দোলনের প্রেরণাও তাঁর সাহিত্যকর্ম।
আবেদুর রহমান বলেন, বিসিএ’র এ আয়োজনের সমালোচনা নয়, উৎসাহিত করুন। পরামর্শ দিন। আমাদের প্রচেষ্টাকে আরো সমৃদ্ধ করুন।
সভাপতি বক্তব্যে কবি ইবরাহীম বাহারী বিসিএ এবং এর সাহিত্য বিষয়ক প্রকাশনা সৃজনধাধার বিভিন্ন দিক নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন।
কবি নাঈম আল ইসলাম মাহিন ও ড. মানসুর ফিরোজীর যৌথ উপস্থাপনায় ও ক্বারী আব্দুল কাইয়ুমের কুরআনুল কারিম তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে লেখা পাঠ করেন একঝাঁক প্রবীণ ও নবীন কবি ও লেখক। তাঁদের মধ্যে অন্যতম কবি নাসির হেলাল, গল্পকার লিয়াকত আলী, কবি মুর্শিদ উল আলম, কবি আর কে শাব্বীর আহমদ, কবি রবিউল খন্দকার, কবি রহমান মাজিদ, ড. এমদাদুল হক হেলালী, কবি আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, কবি কফিল উদ্দিন দুলাল, কবি শরীফ জামিল, কবি হাসানুল ইসলাম, কবি মামুন বাসার, কবি এম এ আলিম, কবি আব্দুল কাইয়ুম, কবি গাজী মিজান, কবি রানা হামিদ, কবি শাজাহান সানু, কবি মুনমুন নাহার, কবি আলম শেখ, কবি কাজী মমিনুল হক, কবি সাগর হাওলাদার, কবি সাহেদ বিপ্লব, কবি বাধন শফিক, কবি ইয়াকুব বিশ্বাস। এছাড়া যারা লেখা পাঠিয়ে সাহিত্যসভাকে সমৃদ্ধ করেছেন তারা হলেন কবি রফিক উল আলম, কবি আমজাদ বিন মেহের, গীতিকার জাহিদ হোসেন, কবি সাইফুল ইসলাম, শেখ বিপ্লব হোসেন, কবি জাফর আহমেদ, কবি নাসরিন সুলতানা, কবি নুরুল ইমরান প্রমুখ। পঠিত লেখা পর্যালোচনা করেন আলোচক কবি ও গবেষক ড. ইয়াহ্ইয়া মান্নান। অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পী মিরাজুল মুনিম, শোয়াইব হোসেন ও মিনহাজুর রহমান।

কবি ও গবেষক ড. ইয়াহ্ইয়া মান্নান পঠিত লেখাগুলোর উপরে সংক্ষিপ্ত ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন। অনুষ্ঠানে কবি ‘শহীদ সিরাজী’র লেখা ৩৬ জুলাই বিপ্লবকে নিবেদিত ‘হৃদয়ে লাল জুলাই’ গ্রন্থটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
কবি ও গবেষক ড. ইয়াহ্ইয়া মান্নান পঠিত লেখাগুলোর উপরে সংক্ষিপ্ত ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন। অনুষ্ঠানে কবি ‘শহীদ সিরাজী’র লেখা ৩৬ জুলাই বিপ্লবকে নিবেদিত ‘হৃদয়ে লাল জুলাই’ গ্রন্থটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়।