সামাজিক সংকট উত্তরণে পরিবারে নৈতিক প্রশিক্ষণের বিকল্প নাই : নুরুন্নিসা সিদ্দীকা এমপি
৩০ আগস্ট ২০২৬ ১৪:১৯
মিথ্যা আভিজাত্য বর্জন করে নৈতিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সমাজের সংকটসমূহ দূর করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগীয় সেক্রেটারি নুরুন্নিসা সিদ্দীকা এমপি।
তিনি বলেন, আল্লাহর আইন না মানলে পরিবারে নারী নির্যাতন যেমন বাড়ে,পুরুষ নির্যাতনও ব্যাপকহারে হয়।
শনিবার ২৯ আগস্ট রাজধানীর আল ফালাহ মিলনায়তনে ‘সামাজিক সমস্যা : উত্তরণের উপায় ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সেমিনারের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মহিলা বিভাগের সমাজকল্যাণ বিভাগীয় সেক্রেটারি খন্দকার আয়েশা সিদ্দিকা। এতে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন সাইকোসোস্যাল কাউন্সিলর এবং ময়মনসিংহ সরকারি কলেজের সাবেক সহকারী অধ্যাপক নাসিমা বেগম ঝুনু।
সেমিনারে বিভিন্ন সামাজিক সংকট নিয়ে আলোচনা করেন ডা. আমেনা শফিক, ড. শামীমা তাসনিম, ড. সিরাজুম মুনীরা, প্রফেসর ডা. নাঈমা মোয়াজ্জেম।
এছাড়াও সেমিনারে বক্তব্য দেন মহিলা বিভাগীয় সহকারী সেক্রেটারি সাঈদা রুম্মান এবং মারজিয়া বেগম এমপি।
সেমিনার সামাজিক সংকট উত্তরণে ১২ টি প্রস্তবনা দেয়া হয়- প্রস্তাবনাগুলো হলো-
১.সামাজিক সমস্যা প্রতিরোধে মানসম্মত একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে।
২. নারী,শিশু ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য মানসম্মত শিক্ষা ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে।
৩. নারীদের পাশাপাশি পুরুষদের বেকারত্ব কমাতে ও পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য যুবসমাজের বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা,কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধি করা এবং ক্ষুদ্র,মাঝারি সব ধরনের উদ্যোক্তাদের পৃষ্ঠপোষকতা বাড়াতে হবে।
৪. নারী ও শিশু নির্যাতন, যৌতুক,বাল্যবিবাহ, সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করা এধরনের সামাজিক অপরাধ সমূহকে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং আইনের কঠোর ও নিরপেক্ষ প্রয়োগের মাধ্যমে নারীর মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে।
৫. কিশোর অপরাধ, মাদক চোরাচালান, সন্ত্রাসী কার্যকলাপ বন্ধে অপরাধীকে রাজনৈতিক ছত্রছায়া থেকে মুক্ত করে আইনের মুখোমুখি করা এবং সংশোধন ও প্রয়োজনীয় শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
৬. সমকামিতা, ট্রান্সজেন্ডারে রুপান্তর, পরকীয়া, ধর্ষণসহ সকল যৌন অনাচার আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে সমাজ থেকে দূরীভূত করতে হবে এবং নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
৭. প্যারেন্টিং স্কিল বা ইতিবাচক সন্তান প্রতিপালন বিষয়ে অভিভাবকদের ব্যবস্থা করতে হবে।
৮.পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, সামাজিক সংগঠন এবং ধর্মীয়,সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান কে সর্বসাধারণের নৈতিকতা তৈরিতে ভূমিকা রাখতে হবে।
৯. কিশোর গ্যাঙ এর বিপরীতে শিশু, কিশোর, তরুন ও যুব সমাজকে সাহিত্য সাংস্কৃতিক, খেলাধুলা, সামাজিক সেবা ও কল্যাণমূলক কাজে সম্পৃক্ত করতে পৃষ্ঠপোষকতা বৃদ্ধি করতে হবে।
১০. জনসাধারণের মাঝে ডিভাইস প্রবণতা হ্রাসে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে এবং সামাজিক নির্মল বিনোদন ও পারিবারিক বন্ধন মজবুত করার চেষ্টা চালাতে হবে।
১১. বিদেশী ষড়যন্ত্রের মোকাবেলায় জনগণের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি এবং রাষ্ট্রীয় দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো।
১২. ধর্মীয় সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধ সৃষ্টির ব্যপারে সরকার ও জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগ নিতে হবে, যা একটি সুন্দর সমাজ বিনির্মাণের ভিত গড়ে দেবে।