রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন কর্নেল (অব.) অলি আহমদ
৯ আগস্ট ২০২৬ ১৩:১৩
রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট ও ১১ দলীয় ঐক্যের নেতা কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম
বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট ও ১১ দলীয় ঐক্যের নেতা কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম। রোববার বেলা সাড়ে ১১ টায় রাজধানীর ২৯ মিন্টো রোডের বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনে ১১ দলের শীর্ষ নেতাদের এক বৈঠকের পর সাংবাদিকদের ব্রিফিং করে এই ঘোষণা দেয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিরোধীদলীয় নেতা ও আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান।
ব্রিফিংয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গণতন্ত্রের সৌন্দর্যের জন্য আমরা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব। সবক্ষেত্রে রাজনীতি স্বচ্ছ হওয়া উচিৎ। আমরা চাই বাংলাদেশে গণতন্ত্রের গতি ও সুস্থধারা ফিরে আসুক। এ জন্য আমরা সর্বসম্মতক্রমে এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করেছি।
কর্নেল (অব.) অলি আহদ বলেন, আমি বাংলাদেশের জনগণ ও ১১ দলের সবার প্রতি কৃতজ্ঞ। সবাই মনে করেছে আমি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে একজন পরীক্ষিত লোক এবং আমার বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ নেই। শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে কোনো অভিযোগ নাই। সুন্দরভাবে জীবনযাপন করেছি। এজন্য সবাই আমাকে মনোনীত করেছেন।
তিনি আরও বলেন, আমি আমাদের জায়গা থেকে এ জাতির সাথে বেঈমানি করব না। হারবো বা জিতবো সেটি প্রশ্ন না- জনগণের স্বার্থ রক্ষার জন্য এবং মানুষের জন্য যেটা ভালো, সেটার জন্য সবসময় দাঁড়াবো। সেইজন্য আজ একসাথে হয়েছি এবং সবাই আমার নাম প্রস্তাব করেছে।
নাহিদ ইসলাম এমপি বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ। বিএনপি সরকার দ্বিচারিতা করছে। জুলাই সনদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। ক্ষমতার ভারসাম্যের জন্য রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়ানো যায়। আমরা আশা করেছিলাম, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে নতুনভাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করতে পারব। কিন্তু সরকার গণভোটের গণরায়কে অস্বীকার করেছে। এই সরকার স্বৈরতন্ত্রের পথে হাঁটছে।
মাওলানা মামুনুল হক বলেন, আমরা আনন্দিত আমাদের বিবেচনায় সবচেয়ে যোগ্য একজনকে প্রেসিডেন্ট পদের জন্য মনোনীত করেছি। ১১ দলের পক্ষ থেকে সম্মিলিতভাবে বাংলাদেশের ইতিহাসে রণাঙ্গণের মুক্তিযোদ্ধা ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদকে মনোনীত করেছি। তিনি জুলাইয়ের চেতনার একজন বলিষ্ঠ ধারক। আমরা আশা করব, ১১ দলের বাইরেও যারা দেশকে ভালোবাসেন তারাও তাকে বিবেচনা করবেন। আমরা প্রত্যাশা রাখি তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে বাংলাদেশের সফল নেতৃত্ব দেবেন।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর আল্লামা মামুনুল হক, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও সাবেক এমপি ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, জাগপার সহসভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমীর আব্দুল কাইয়্যুম সোবহানী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলনা জালালুদ্দিন, এবি পার্টির জেনারেল সেক্রেটারি ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, জাগপার মহাসচিব অধ্যাপক ইকবাল হোসাইন, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুদ্দিন, বিডিপির জেনারেল সেক্রেটারি নিজামুল হক নাঈম। এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল মিয়াজী,নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুসা বিন ইযহারসহ ১১ দলের শীর্ষ নেতারা।
এর আগে গত ৮ আগস্ট বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দলের নির্বাহী বৈঠক করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেবে মর্মে সিদ্ধান্ত নেয়। তবে তা ১১ দলের শীর্ষ বৈঠকে চূড়ান্ত করবে বলেও জানায় দলটি।
এর আগে গত ৬ আগস্ট বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসির ঘোষিত তফশিল অনুযায়ী, আগামী ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র দাখিলের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে এবং ২০ আগস্ট ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
ইসি সচিব জানান, ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১’-এর ৫(৩) ধারা অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে এই সময়সূচি চূড়ান্ত করেছেন। নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব ভবন ও জাতীয় সংসদ অধিবেশনে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সার্বিক নির্বাচনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
তিনি জানান, তফশিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র দাখিল ১৩ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত (নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে)। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ১৬ আগস্ট রোববার) সকাল ১০টা থেকে (ইসি ভবনে)। প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৮ আগস্ট (মঙ্গলবার) বিকাল ৪টা পর্যন্ত। ভোটগ্রহণের তারিখ ও সময় ২০ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত (জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে)।
সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ উল্লেখ করেন, ইতোমধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। সময়সূচি ঘোষণার পর কমিশনের পরবর্তী প্রশাসনিক কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হবে। আপাতত কেবল নির্বাচনের তফসিলই প্রকাশ করা হলো, পরবর্তীতে হালনাগাদ তথ্য ও অগ্রগতি আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকে জানিয়ে দেওয়া হবে বলে জানান সচিব।