ভাঙবে শৃঙ্খল

চিঠি দিয়েছে জুলাই শহীদেরা, জাগবে কি বিবেক!

সোনার বাংলা অনলাইন
৩ আগস্ট ২০২৬ ১৬:০৮

চিঠি দিয়েছে জুলাই শহীদেরা। জাগবে কি বিবেক! হ্যাঁ শহীদ আবু সাঈদ চিঠি দিয়েছে। জানিয়েছে শহীদদের স্বপ্নের কথা। পৌঁছবে কি কর্ণকুহরে! নাইবা পৌঁছলো, তাতে কী? সে তো বিবেকের দায়বদ্ধতা। মুগ্ধ, শান্ত, ফাইয়াজ, জাবির, রিয়া গোপ, নবীন, ফারহান, ওয়াসিম, আনাসসহ জুলাইয়ের সকল শহীদ ভাই-বোন দাঁড়িয়ে আছেন স্বমহিমায়। তারা ডেকে যাবে কাল কালান্তরে তরুণ-নবীনদের। তাঁরা জাগাবেই, ভাঙবে শৃঙ্খল এ জাতির।

প্রিয় সহযোদ্ধা,
আসসালামু আলাইকুম ।
৩৬
জুলাই, ২০২৬

প্রতীকী চিঠি

আমি আবু সাঈদ বলছি। শুধু আমি নই, আমার সাথে আজ মুগ্ধ, শান্ত, ফাইয়াজ, জাবির, রিয়া গোপ, নবীন, ফারহান, ওয়াসিম, আনাসসহ জুলাইয়ের সকল শহিদ ভাই-বোন দাঁড়িয়ে আছেন ।

তোমরা যারা জুলাইয়ের দিনগুলোতে সেদিন রাস্তায় ছিলে, যারা অনলাইনে প্রতিটা পোষ্টে সাহস জুগিয়েছিলে, যারা মনে মনেও আমাদের সাথে ছিলে; তোমাদের সবাইকে আজ একটা কথা বলার আছে।

আমরা যারা চলে গেছি, আমাদের একটা অভিমান জমে আছে। রাগ না, অভিমান। আমাদের ছবি, ভিডিও প্রতি বছর শেয়ার হয়, এক্সিবিশন হয়, চোখের পানি ঝরে; কিন্তু আমরা তো এখনো সেই ইন্টারনেটেই আছি, সেই ছবিতেই আছি যা বারেবারে একাই ফিরে আসে ।

অথচ আমরা যা চেয়েছিলাম, সেটা এখনো অর্ধেক পথে থেমে আছে। বাকি পথটুকুই আসল, বাকি পথটাতেই নতুন স্বাধীনতার পূর্ণতা। নির্বাচন হলো, গণভোটে মানুষ হ্যাঁ বললো; কিন্তু সেই রায় অনুযায়ী সরকারি দল আজও সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথটাই নিলো না। যেটার জন্য আমরা জীবন দিলাম, সেই কাজটাই তো এখনো বাকি। তোমরা তো নিশ্চয়ই জানো,

গণভোটে হ্যাঁ জয়ী হবার মানে, আর কোনো হাসিনা তৈরি হতে দেয়া হবে না ।
গণভোটে হ্যাঁ জয়ী হবার মানে, ভাতের হোটেলের নামে সরকারি টর্চার সেল তৈরি হবে না ।
গণভোটে হ্যাঁ জয়ী হবার মানে, আর আয়নাঘর তৈরি হবে না।
গণভোটে হ্যা জয়ী হবার মানে, এদেশে আর শিক্ষিত বেকারের মিছিল দেখতে হবে না ।

গণভোটে হ্যাঁ জয়ী হবার মানে, আমার গ্রামের কৃষক বাবাও ন্যায়বিচার পাবে, ঠিক শহরের শিল্পপতির মতোই। গণভোটে হ্যাঁ জয়ী হবার মানে, এমন বাংলাদেশ তৈরি হবে, যার মালিক সাধারণ জনগণ, কোনো দল বা সরকার না। গণভোটে হ্যাঁ জয়ী হবার মানে, দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার পথে সবাই মিলে এগিয়ে যাওয়া।

তাই তোমাদের কাছে অনুরোধ, আমাদের ছবি নিয়ে আর কষ্ট পেয়ো না, বরং যেটা অসম্পূর্ণ সেটা শেষ করার জন্য আওয়াজ তোলো। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করাই এখন আসল জুলাই উদযাপন, যার শুরুটা হবে সংবিধান সংস্কারের মাধ্যমে। তাই সরকারকে উৎসাহিত করো সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিতে।

প্রচলিত ফ্যাসিবাদের এই কাঠামো ভেঙে নতুন বাংলাদেশ গড়ে না তোলা পর্যন্ত লড়াই জারি রাখো । একটি সার্বভৌম, নিরাপদ ও ইনসাফের বাংলাদেশ- এটাই আমাদের চাওয়া, এর বেশি কিছু না ।

আমাদের রক্ত যেন বৃথা না যায়। থেমে যেও না। মঞ্জিল এখনো অনেক দূর।

জুলাই এখনো শেষ হয় নাই