হদিস নেই লাইসেন্স পাওয়া ৬ হাজার অস্ত্রের

লুট হওয়া ১ হাজারের বেশি অস্ত্র উদ্ধার হয়নি:  নির্বাচন ঘিরে  সীমান্ত দিয়ে আসছে  অস্ত্র

সোনার বাংলা অনলাইন
৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ১০:১৫

অবৈধ অস্ত্রের ছড়াছড়ি

গত বছরের ৫ই আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে হাসিনা সরকারের পতনের হয়। ওই সময় দেশের বিভিন্ন থানায় দুর্বৃত্ত হামলা চালিয়ে লুটপাট করে পুলিশের অস্ত্র নিয়ে যায়। এ ছাড়া গণভবনে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এসএসএফ সদস্যদের অস্ত্র লুট হয়। এসব অস্ত্রের বড় একটি অংশ এখনো উদ্ধার হয়নি।
পুলিশের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গণ-অভ্যুত্থানের সময় সারা দেশের থানা ও কারাগার থেকে পাঁচ হাজার ৭৫০টি অস্ত্র লুট হয়েছিল। এর মধ্যে চার হাজার ৪০৮টি অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। উদ্ধার হয়নি ১ হাজারের বেশি অস্ত্র। লুট হওয়া অস্ত্রের মধ্যে এসএমজি, অ্যাসল্ট রাইফেল, স্নাইপার রাইফেল ও এলএমজির মতো মারণাস্ত্র রয়েছে। শুধু অস্ত্র নয় ওই সময় অস্ত্রের সঙ্গে গোলাবারুদও লুট হয়েছিল। সেগুলো পুরোপুরি উদ্ধার করা যায়নি। এসব অস্ত্র উদ্ধার না হওয়ায় নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়েছে কয়েকগুণ। একদিকে এসব অস্ত্র ব্যবহার করে মানুষ হত্যা করা হচ্ছে। অন্যদিকে এসব অস্ত্র হাত বদল হয়ে চলে গেছে সন্ত্রাসী, চরমপন্থি, উগ্রবাদী, জঙ্গি, জেল পলাতক সন্ত্রাসীদের কাছে। তাই গোয়েন্দারাও এসব অস্ত্রের হদিস পাচ্ছেন না। এতে করে শঙ্কা রয়ে যায় কোথায় কখন এসব অস্ত্র ব্যবহার হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রগুলো বলছে, দেশের অরক্ষিত সীমান্ত দিয়ে পার্শ্ববর্তী দুই দেশ থেকে অস্ত্র ঢুকছে। সীমান্তের অন্তত ১৮ থেকে ৩০টি পয়েন্ট দিয়ে দেশে আগ্নেয়াস্ত্র প্রবেশ করে। অস্ত্র চোরাচালানকারীরা একই রুট ব্যবহার করে দীর্ঘদিন অস্ত্রের চালান নিয়ে আসে না। কারণ ওই রুটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বেড়ে যায়। তাই তারা সুযোগ সুবিধামতো রুট পরিবর্তন করে।

উদ্ধার না হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের রাইফেল, এসএমজি (স্মল মেশিনগান), এলএমজি (লাইট মেশিনগান), বিদেশি পিস্তল, শটগান, চায়নিজ রাইফেল (সিআর) ইত্যাদি। আর গোলাবারুদের মধ্যে রয়েছে কাঁদানে গ্যাস লঞ্চার, গ্যাসগান, কাঁদানে গ্যাসের শেল, কাঁদানে গ্যাসের স্প্রে, সাউন্ড গ্রেনেড ও বিভিন্ন বোরের গুলি, কালার স্মোক গ্রেনেড, সেভেন মাল্টিপল ব্যাং স্টান গ্রেনেড, ফ্ল্যাশ ব্যাংক গ্রেনেড ও হ্যান্ড হেল্ড টিয়ার গ্যাস স্প্রে ইত্যাদি। এ ছাড়া পুলিশ জানিয়েছে, গত ৫ আগস্ট গণভবনে দায়িত্বরত এসএসএফ সদস্যদের ৩২টি অত্যাধুনিক অস্ত্রও লুট হয়। এসব অস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি। যার মধ্যে এসএমজি টি-৫৬, অত্যাধুনিক অ্যাসল্ট রাইফেল, স্নাইপার রাইফেল, ফ্ল্যাশ ব্যাং গ্রেনেড, অ্যান্টি ড্রোন গান, অ্যান্টি ড্রোন সিস্টেম ও বেতার যোগাযোগের ডিভাইসও ছিল। এখনো সেসব অস্ত্র উদ্ধারের তথ্য মেলেনি। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, লুট হওয়া ওই অস্ত্রগুলো হাতবদল হয়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার সন্ত্রাসী ও শীর্ষ সন্ত্রাসীদের হাতে চলে যেতে পারে, যা দিয়ে যে কোনো সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বড় ধরনের অবনতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানান, ‘শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর কারাবন্দি ঢাকার শীর্ষ সন্ত্রাসীরা কারামুক্ত হতে থাকে। শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমন, ইমামুল হাসান হেলাল ওরফে পিচ্চি হেলাল, আব্বাস আলী ওরফে কিলার আব্বাস, সুইডেন আসলাম, খন্দকার নাঈম আহমেদ ওরফে টিটন, খোরশেদ আলম ওরফে রাসু ওরফে ফ্রিডম রাসু, ফ্রিডম সোহেল, আরমান, হাবিবুর রহমান তাজ, নাজমুল মাকসুদ মুরাদসহ অনেকেই মুক্তি পেয়েছেন। তারা কেউ কেউ নতুন করে বাহিনী গঠন করছেন। এসব বাহিনীর হাতে থানা লুটের বেশ কিছু অস্ত্র থাকার আশঙ্কা রয়েছে।’পুলিশের এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, ‘লুণ্ঠিত কিছু অস্ত্র হাতবদল হয়ে সুন্দরবন এলাকার জলদস্যু, তিন পার্বত্য জেলায় তৎপর বিভিন্ন গ্রুপের হাতেও পৌঁছে গেছে। লুণ্ঠিত অস্ত্র চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। এসব ভয়ানক অস্ত্র ব্যবহার করে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর আশঙ্কা করা হচ্ছে।’

হদিস নেই লাইসেন্স পাওয়া ৬ হাজার অস্ত্রের

পুলিশসহ সরকারের বিভিন্ন সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ সরকারের তিন মেয়াদে (২০০৯-২০২৪) সারা দেশে ১৯ হাজার ৫৯৪টি আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয়। এর মধ্যে ১০ হাজারের বেশি লাইসেন্স ছিল রাজনৈতিক বিবেচনায়। এসব অস্ত্রের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ওইসব লাইসেন্স স্থগিত করে ৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব অস্ত্র জমা দিতে নির্দেশ দেয়। পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানায়, ২০০৯ সাল থেকে ইস্যু করা সব আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স স্থগিত করার পর বৈধ অস্ত্র জমা পড়েছে ১৩ হাজার ৩৪৯টি। আর জমা হয়নি কমপক্ষে ৬ হাজার ২৪৫টি অস্ত্র। এসব অস্ত্র আগেই অবৈধ হয়ে গেছে।স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জমা না দেওয়ায় ৭৭৮টি অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে সর্বাধিক ৩৮১টি বাতিল হয়েছে ঢাকা জেলায়। এ ছাড়া পাবনায় ১৪১, চট্টগ্রামে ৭৩, যশোরে ৬৬, সিলেটে ৬৩ ও কক্সবাজারে ৩৮টি অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। যেসব ব্যক্তির নামে থাকা অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে, সেগুলোর অধিকাংশের মালিক আওয়ামী লীগ সরকারের সংসদ সদস্য, ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালী ব্যক্তি। লাইসেন্সধারী ব্যক্তিরা বেশিরভাগ বিদেশে আত্মগোপন করেছেন। লাইসেন্সধারীদের কেউ কেউ বলেছেন, তাদের অস্ত্র লুট হয়ে গেছে।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিগত সরকারের সময় যারা অস্ত্রের লাইসেন্স পেয়েছেন তাদের অনেকেরই টিআইএন নেই। অথচ আগ্নেয়াস্ত্র কেনার ক্ষেত্রে শুধু টিআইএন নয়, ২ লাখ টাকার বেশি রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক ছিল। ২ লাখ টাকা রিটার্ন দিতে হলে সেই স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতাকে কমপক্ষে ১৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা বৈধভাবে আয় করতে হবে। অথচ রাজনৈতিক তদবির ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের নামেও অস্ত্রের লাইসেন্স ইস্যু করা হয়েছিল। তারা এখন ওইসব অস্ত্র জমা না দিয়ে আত্মগোপন করেছে।

অস্ত্র উদ্ধারে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার:লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘এখনো লুট হওয়া সব অস্ত্র উদ্ধার সম্ভব হয়নি। অস্ত্র উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার। লুট হওয়া অস্ত্র বাইরে থাকলে নিরাপত্তার হুমকি থাকবে। তাই আমাদের এগুলো উদ্ধার করতেই হবে।’

 নির্বাচন ঘিরে  সীমান্ত দিয়ে আসছে  অস্ত্র

সীমান্তে চোরাচালান রোধসহ সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্বে কাজ করে থাকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। তাদের হিসাব অনুযায়ী চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে পাচারের সময় দেশের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে মোট ১ হাজার ২২৫টি অস্ত্র, গুলি ও ম্যাগাজিন জব্দ করা হয়। এর মধ্যে গত জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত চার মাসে জব্দ হয়েছে ৯৭টি। বাকি ১ হাজার ১২৮টি গত মে মাস থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ পাঁচ মাসে জব্দ করা হয়। অর্থাৎ নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে অস্ত্র চোলাচালান বাড়ছে। এ সময় জব্দ হওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে দুটি এসএমজি। এছাড়া রয়েছে তিনটি মর্টার শেল, ১১টি রিভলবার, ১৯টি পিস্তল ও পাঁচটি শটগান। প্রাণঘাতী এসব অস্ত্র ছাড়াও এ বছরের প্রথম নয় মাসে সীমান্তে মোট ১ হাজার ১০৮ রাউন্ড বিভিন্ন ধরনের গুলি জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৩১ রাউন্ডই হয়েছে মে থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে। এছাড়া এ সময় ৩১টি ম্যাগাজিনও জব্দ হয়েছে সীমান্ত এলাকা থেকে। পাশাপাশি এ সময় দেশী পিস্তল, রাইফেলসহ অন্য আরো বেশকিছু অস্ত্র চোরাচালানের সময় সীমান্তে জব্দ হয়।

সীমান্তে জব্দ হওয়া অস্ত্রের কয়েক গুণ বেশি অস্ত্র দেশের অভ্যন্তরে ঢুকে পড়ে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক অস্ত্রের চোরাচালানে জড়িত সন্ত্রাসী ও চোরাকারবারি চক্র দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অশান্ত করতে বিভিন্ন সীমান্তে অবৈধ অস্ত্রের চোরাচালান বাড়িয়েছে। তার প্রমাণ হচ্ছে, গত পাঁচ মাসে দেশে উদ্বেগজনকভাবে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার বেড়েছে। বিশেষ করে কয়েকটি চক্র দেশের পশ্চিম, দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তের পাশাপাশি ছোট সীমান্ত দিয়েও নানা ধরনের অস্ত্র নিয়ে আসছে সীমান্তের ওপার থেকে। পাচার করে আনার সময় কিছু অস্ত্র বিজিবি বা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে জব্দ হলেও এর কয়েক গুণ বেশি ঢুকে যাচ্ছে দেশের অভ্যন্তরে। পরবর্তী সময়ে এসব অস্ত্র সন্ত্রাসী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর হাতে যায়। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় এগিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে এসব অবৈধ অস্ত্রের জোগানও দেশে বাড়তে শুরু করেছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে এর সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী অস্ত্রের বড় চালানগুলো দেশে ঢোকে কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়া সীমান্ত দিয়ে। এছাড়া যশোরের চৌগাছা, ঝিকরগাছা, শার্শা, দর্শনা, শাহজাদপুর, হিজলা, আন্দুলিয়া, মান্দারতলা, বেনাপোল সীমান্তের গোগা, কায়বা, শিকারপুর, দৌলতপুর, দিনাজপুরের হিলি সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অস্ত্র দেশে ঢুকছে। সীমান্ত এলাকার ঘাটমালিকরা রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় ঘাট চালান। সাধারণ অস্ত্রের পাশাপাশি অত্যাধুনিক অস্ত্রও তাদের মাধ্যমে দেশে প্রবেশ করানো হয়। বিষয়টি আলোচনায় আসে ২০১৬ সালে গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার পর। ওই হামলার জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে আমের ঝুড়িতে করে আনা হয় একে-২২ রাইফেল। যশোরের চৌগাছা সীমান্ত দিয়ে আনা হয় বোমা। আর পার্শ্ববর্তী দুই দেশ থেকে বাংলাদেশে আসা বেশির ভাগ অস্ত্র তৈরি হয় ওই দেশগুলোতেই। বিশেষ করে ভারতের বিহার রাজ্যের রাজধানী পাটনা থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বের শহর মুঙ্গেরে তৈরি হয় এসব অস্ত্র। এর আগে পাচারের সময় প্রায় অর্ধশত একে-৪৭ জব্দ করে ভারতের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মুঙ্গেরের চুরওয়া, মস্তকপুর, বরহদ, নয়াগাঁও, তৌফির দিয়ারা, শাদিপুরসহ বিভিন্ন গ্রামে অবৈধ অস্ত্র তৈরির কারখানা গড়ে উঠেছে।

আসন্ন নির্বাচনে এসব অবৈধ অস্ত্র ব্যবহারের আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘গণ-অভ্যুত্থানের সময় বিভিন্ন থানা থেকে যেসব অস্ত্র লুট হয়েছে, তার ২৫ শতাংশ এখনো উদ্ধার হয়নি। পাশাপাশি সীমান্ত দিয়েও অবৈধ অস্ত্র দেশে আসছে—সেই দাবিও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী করছে। একটা সমাজে যত বেশি অবৈধ অস্ত্র থাকবে, তত বেশি অপরাধের ঝুঁকি থাকবে। বিশেষ করে নির্বাচনী সংঘাত-সহিংসতা, চাঁদাবাজি, আধিপত্য বিস্তারে আমাদের দেশে অবৈধ অস্ত্র বেশি ব্যবহার হয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘নির্বাচনে নানাভাবে আধিপত্য বিস্তার করে মাঠ দখলে রাখার প্রবণতা এক শ্রেণীর প্রার্থীদের মধ্যে দেখা যায়। আমরা দেখলাম চট্টগ্রাম-৮ আসনের গণসংযোগের সময় একজন প্রার্থী গুলিবিদ্ধ হলেন, আরেকজন মারা গেলেন। এটিই কিন্তু তার একটি বড় উদাহরণ। প্রার্থী ও ভোটারদের মধ্যে ভয়ের সঞ্চার করার জন্য এ ধরনের অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার হতে পারে। নির্বাচনের আগে এ ধরনের অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধে জোরালো বিশেষ অভিযান প্রয়োজন। এ অস্ত্রগুলো সীমান্ত হয়ে কীভাবে দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করছে সে বিষয়টিও তদন্ত করে দেখতে হবে। এখানে কারো গাফিলতি থাকলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি কোনো প্রার্থীকে অস্ত্র ব্যবহার করে ভয়-ভীতি দেখালে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। তাহলেই এ ধরনের অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।’

লুট হওয়া ১ হাজারের বেশি অস্ত্র উদ্ধার হয়নি

সম্পর্কিত খবর