কুরআনের শিক্ষায় সমাজ গঠনে নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের
১৬ অক্টোবর ২০২৬ ২১:১৬
হিফযুল কোরআন প্রতিযোগিতার অনন্য আয়োজনের এক ঝলক, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র প্রার্থী জননেতা সেলিম উদ্দিন ভাইয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় বিজয়ীদের মাঝে প্রধান অতিথি হিসেবে পুরস্কার প্রদান করেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা- জামায়াতে ইসলামীর সম্মানীয় আমীর জননেতা ডা: শফিকুর রহমান এমপি

হিফযুল কোরআন প্রতিযোগিতার অনন্য আয়োজনের বিজয়ীদের সাথে নেতৃবৃন্দ
নগর উন্নয়ন ফোরামের উদ্যোগে এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের পৃষ্ঠপোষকতায় ৫ মাসব্যাপী আয়োজিত ‘হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা ২০২৬’ এর গ্র্যান্ড ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় রাজধানীর মিরপুরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, এমপি। এতে সভাপতিত্ব করেন নগর উন্নয়ন ফোরামের চেয়ারম্যান,বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহি পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।
পাঁচ মাসব্যাপী এ প্রতিযোগিতার সমাপনী অনুষ্ঠানে দেশবরেণ্য ব্যক্তিবর্গ, বিশিষ্ট আলেম-ওলামা, হাফেজে কুরআন, প্রতিযোগী ও তাঁদের অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে প্রতিযোগিতায় কৃতিত্ব অর্জনকারী প্রতিযোগীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পবিত্র কুরআনের হিফজ চর্চায় উৎসাহ প্রদান, হাফেজে কুরআনদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ এবং কুরআনের শিক্ষা ও আদর্শ সমাজে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের মধ্যে কুরআন মুখস্থ করা, শুদ্ধভাবে তিলাওয়াত করা এবং কুরআন শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

হিফযুল কোরআন প্রতিযোগিতার অনন্য আয়োজনের এক ঝলক
প্রতিযোগিতার পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, বিজয়ীদের মধ্যে ওমরাহ পালনের সুযোগ, ল্যাপটপ, সাইকেল ও অর্ধ কোটি নগদ অর্থসহ বিভিন্ন পুরস্কার বিতরণ করা হয়। চূড়ান্ত মূল্যায়ন ও পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে পাঁচ মাসব্যাপী এ আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, এমপি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এ ধরনের বিরল আয়োজন আগে কোথাও হয়নি। এ আয়োজন বাস্তবায়নে নগর উন্নয়ন ফোরামের চেয়ারম্যান সেলিম উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
তিনি বলেন, এই কুরআন যাঁদের বুকের মধ্যে ধারণ করার শক্তি দিয়েছেন, তাঁরা যেন কুরআনের শিক্ষাকে সমাজে বাস্তবায়নের জন্য নেতৃত্ব দিতে পারেন। আমরা মেহরাব থেকে নেতৃত্বের আসনে আপনাদের দেখতে চাই।
ছোটখাটো মত ভিন্নতা দূরে রেখে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কুরআন ও রাসুলুল্লাহ (সা.) এর সুন্নাহর আলোকে সমাজ গঠনে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
প্রতিযোগিতায় ১০ পারায় প্রথম স্থান অর্জনকারী ছোট্ট রিদওয়ান বিন আলীকে অভিনন্দন জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান ঘোষণা করেন,তার বাবা, মা ও উস্তাদকে আমার পক্ষ থেকে ওমরাহ করানো হবে, ইনশাআল্লাহ।
এ সময় ঢাকা মহানগরী উত্তরের জনপদের জন্য মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনকে আল্লাহ যেন কবুল করেন এবং তাঁকে সেই তাওফিক দান করেন এ দোয়া করেন তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে নগর উন্নয়ন ফোরামের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, আমরা পুরস্কার দেওয়ার আর নেওয়ার জন্য আজ এখানে আসিনি। আমরা এসেছি কুরআনের আলোয় সমাজকে আলোকিত করতে এবং সমাজে কুরআনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠা করতে।
তিনি বলেন, হাফেজে কুরআনরা কুরআনকে ধারণ করে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দাঈ ইলাল্লাহর দায়িত্ব পালন করবেন এটাই তাঁদের প্রত্যাশা। মতামতের ক্ষেত্রে বিভেদ থাকলেও পবিত্র কুরআনের প্রশ্নে সবাই এক ও অভিন্ন উল্লেখ করে তিনি বলেন, আল্লাহর জমিনে আল্লাহর কুরআন প্রতিষ্ঠার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
এর আগে স্বাগত বক্তব্যে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন পাঁচ মাসব্যাপী এ আয়োজন সফল করতে যাঁরা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন, তাঁদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান। তাঁদের প্রচেষ্টা মহান আল্লাহ কবুল করুন এবং উত্তম প্রতিদান দান করুন এ দোয়াও করেন তিনি।
তিনি বলেন, আজকের এই অনুষ্ঠান শুধু পুরস্কার বিতরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি পবিত্র কুরআনের প্রতি সম্মান প্রদর্শন, কুরআনের শিক্ষা ও আদর্শকে ধারণ এবং সমাজে তা
প্রতিষ্ঠার এক মহতী আয়োজন।
সেলিম উদ্দিন আরও বলেন, পাঁচ মাসব্যাপী এ প্রতিযোগিতায় আট শতাধিক কওমি ও আলিয়া মাদরাসার লক্ষাধিক হাফেজ অংশগ্রহণ করেছেন। কওমি, আলিয়া কিংবা অন্য কোনো নেসাব ও পরিচয়ের ভিন্নতা থাকলেও পবিত্র কুরআনের প্রশ্নে সবাই ঐক্যবদ্ধ। কুরআনের শিক্ষা ও আদর্শ ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে প্রতিষ্ঠা করে একটি আদর্শভিত্তিক, ন্যায় ও ইনসাফপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলাই তাঁদের লক্ষ্য।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রফিকুল ইসলাম খান এমপি বলেন, এ আয়োজনে অংশগ্রহণ
করতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। পবিত্র আল কুরআন সমগ্র মুসলিম জাতির জীবনবিধান উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে প্রতিবছর হাজার হাজার হাফেজে কুরআন তৈরি হচ্ছেন। আলহামদুলিল্লাহ।
নগর উন্নয়ন ফোরামের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান মূসা বলেন, এ ঐতিহাসিক কুরআনের সমাবেশ থেকে তাঁরা আগামী দিনে বাংলাদেশকে কুরআনের বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করছেন। জীবন, সমাজ ও রাষ্ট্রে কুরআনের জীবনবিধান প্রতিষ্ঠার কথাও বলেন তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মুফতি আলী হাসান ওসামা বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে আজকের আয়োজন যুগান্তকারী ঘটনা হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে, ইনশাআল্লাহ। তিনি বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, দেশে হাফেজ ও আলেমদের কদর বাড়ছে। এ প্রতিযোগিতার আয়োজক ও পৃষ্ঠপোষক নগর উন্নয়ন ফোরামের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
মুফতি আলী হাসান ওসামা আরও বলেন, এ আয়োজনের সার্থকতা তখনই আসবে, যখন ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় নেতৃত্ব, জাতীয় মসজিদের নেতৃত্বসহ দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃত্বে হাফেজ ও আলেমরা দায়িত্ব পালন করে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।
প্রতিযোগিতার প্রধান বিচারক হুফফাজুল কুরআন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের চেয়ারম্যান শায়েখ হাফেজ আব্দুল হক বলেন, বাংলাদেশে অনেক প্রতিযোগিতার আয়োজন হলেও নগর উন্নয়ন ফোরামের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের উদ্যোগে পাঁচ মাসব্যাপী এ কুরআন প্রতিযোগিতা আয়োজনের জন্য তিনি মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য যায়নুল আবেদিন বলেন, যাঁরা কুরআনকে জানেন, কুরআনকে মানেন এবং কুরআনের সব হুকুম-আহকাম মেনে চলেন, তাঁদের সম্মানিত করতে হবে। এই সমাজকে কুরআনের আলোয় আলোকিত করতে হবে, ইনশাআল্লাহ।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি বলেন, আজ একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। কুরআনকে যাঁরা সংরক্ষণ করেন, তাঁদের নিয়ে দীর্ঘ পাঁচ মাসব্যাপী কুরআন প্রতিযোগিতার আয়োজন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এ আয়োজন নতুন একটি সূচনা সৃষ্টি করেছে।
তিনি এ আয়োজনের পৃষ্ঠপোষক নগর উন্নয়ন ফোরামের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান। নুরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, কিয়ামত পর্যন্ত কেউ আল-কুরআনকে মুছে ফেলতে পারবে না। এটি মহান আল্লাহর বাণী এবং তিনিই এর সংরক্ষক।
কুরআনের শিক্ষার আলোকে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটি ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, কুরআনের শিক্ষা সমাজে প্রতিষ্ঠার জন্য হাফেজদের প্রস্তুত করতে হবে। ভবিষ্যতে আলেমরা রাষ্ট্রের নেতৃত্বে ভূমিকা রাখবেন উল্লেখ করে তিনি এ আয়োজনের বার্তা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি বলেন, আজকের দিনটি তাঁর জীবনের একটি ঐতিহাসিক দিন। তাঁর জানামতে, এ ধরনের বৃহৎ কুরআনভিত্তিক আয়োজন কোনো সরকারও করতে পারেনি। এ অনুষ্ঠানে কওমি ও আলিয়া মাদরাসার আলেম-ওলামা এবং পীর-মাশায়েখদের অংশগ্রহণের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি দেশের সর্বত্র ইসলামের সঠিক দাওয়াত পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বক্তারা পবিত্র কুরআনের শিক্ষা ও আদর্শ ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে বাস্তবায়ন, হাফেজে কুরআনদের যথাযথ মূল্যায়ন এবং কুরআনভিত্তিক নৈতিক ও মানবিক সমাজ গঠনের আহ্বান জানান।
নগর উন্নয়ন ফোরামের সদস্য সচিব,ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড.মুহাম্মদ রেজাউল করিম এবং হাফেজ খালিদ সাইফুল্লাহ বকসির সঞ্চালনায় এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান এমপি, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা যায়নুল আবেদিন, হুফফাতুল কুরআন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের চেয়ারম্যান শায়েখ হাফেজ আব্দুল হক, ঢাকা মহানগরীর উত্তর জামায়াতের নায়েবে আমীর আব্দুর রহমান মূসা, কর্ণেল( অব.) আব্দুল বাতেনএমপি , বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন মুফতী আলী হাসান উসামা, উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান, নাজিম উদ্দীন মোল্লা, ডা.ফখরুদ্দিন মানিক, ইয়াসিন আরাফাত প্রমুখ।
গত ১৬ জুলাই শুরু হওয়া এ প্রতিযোগিতায় ঢাকার ৮০০টি মাদরাসার প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। প্রতিযোগিতাটি পবিত্র কুরআনের ১০, ২০ ও ৩০ পারা এই তিনটি পৃথক ক্যাটাগরিতে অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিটি ক্যাটাগরি থেকে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী তিনজন করে মোট ৯ জন সহ টোটাল ২৪৩ জন প্রতিযোগীকে বিজয়ী নির্বাচিত করে পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে। ।প্রেসবিজ্ঞপ্তি।
১৬ অক্টোবর ২০২৬