অনির্বাচিত প্রশাসনের কারণেই ডিএনসিসির যথাযথ উন্নয়ন হচ্ছে না
৪ জুলাই ২০২৬ ২০:২৬
দেশকে কল্যাণ রাষ্ট্রের পরিণত করে ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে সকল শ্রেণির মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় জামায়াত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর ও ডিএনসিসিতে জামায়াত মনোনীত মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।
তিনি আজ রাজধানীর পল্লবীর একটি মিলনায়তনে পল্লবী থানা উত্তর আয়োজিত জনকল্যাণ, জবাবদিহিতা ও ইনসাফের ভিত্তিতে নাগরিক সুবিধাসমৃদ্ধ আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য ঢাকা উত্তর গড়ার প্রত্যয়ে এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। থানা আমীর সাইফুল কাদেরের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ঢাকা-১৬ আসনের সংসদ সদস্য কর্নেল আব্দুল বাতেন (অব.)। উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের কর্মপরিষদ সদস্য নাসির উদ্দীন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ শ্রমিক কল্যাণের সভাপতি আব্দুস সালাম, পল্লবী দক্ষিণ থানা আমীর জনাব আশরাফুল আলম, রূপনগর থানা আমীর জনাব আবু হানিফ এবং ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মোজাম্মেল হোসেন প্রমূখ।
সেলিম উদ্দিন বলেন, ৫ দশক অতিক্রান্ত হলেও আমাদের স্বাধীনতার স্বপ্নগুলো অনেক ক্ষেত্রেই অধরায় রয়ে গেছে। স্বাধীনতা পরবর্তী সরকারগুলো দেশে সুশাসন উপহার দিতে পারেনি। দেশকে কল্যাণ রাষ্ট্রের পরিণত করার ব্যর্থতার কারণেই মানুষ আজো উপেক্ষিত ও অধিকার বঞ্চিত। দেশে আইনের শাসন না থাকায় প্রতিটি পদে পদে হচ্ছে মানবাধিকারের লঙ্ঘন। একই সাথে অপরাধ প্রবণতা বেড়েছে আশঙ্কাজনকভাবে। ক্ষমতাসীনদের ধারাবাহিক ব্যর্থতার কারণেই দেশ আজ দুর্নীতি ও লুটপাটের অভ্যয়ারণে পরিণত হয়েছে। ধর্মীয় শিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধের অনুপস্থিতির কারণে দেশের আইশৃঙ্খলা পরিস্থিতি একেবারে প্রান্তিক পর্যায়ে নেমে গেছে। তিনি জামায়াতের আন্দোলন-সংগ্রামের কথা উল্লেখ করে বলেন, গণমানুষের মুক্তি ও অধিকার প্রতিষ্ঠার জামায়াত দীর্ঘ পরিসরে আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা দেশকে ন্যায়-ইনসাফের ভিত্তিতে দেশকে কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করতে চাই। তিনি দেশকে কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত আন্দোলনে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান।
তিনি বলেন, ডিএনসিসি নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত। কিন্তু অনির্বাচিত প্রশাসনের কারণে সেসব সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। চাপিয়ে দেওয়া দলীয় প্রশাসক হওয়ায় তাদের জবাবদিহীতা রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষের কাছে। তাই নগর প্রশাসন জনগণের কল্যাণে কাজ করতে পারছে না। তাই অবিলম্বে নির্বাচন দিয়ে নগর প্রশাসনের দায়িত্ব জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধির কাছে হস্তান্তর করার কোন বিকল্প নেই। তিনি ডিএনসিসি নিয়ে জামায়াতের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে বলেন, জনগণ আমাদেরকে নগর প্রশাসনের দায়িত্ব প্রদান করলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নগরীর সকল সমস্যার সমাধান করা হবে। ডিএনসিসিকে পরিণত করা হবে এক সর্বাধনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন নগরীতে। খানা-খন্দক, রাস্তাঘাটের সংস্কার, খেলার মাঠ ও সুস্থ্যধারার বিনোদন কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। তিনি ডিএনসিসিকে আধুনিক নগরীতে পরিণত করতে সকল শ্রেণির মানুষের সমর্থন কামনা করেন। ৪ জুলাই ২০২৬