মেজর আখতারুজ্জামানের ছেলের উপর হামলার ঘটনায় অতি দ্রুত মামলা নিয়ে দুষ্কৃতিকারীদের পাকড়াও করে আইনের আওতায় আনতে হবে : ডা. শফিকুর রহমান এমপি
৫ নভেম্বর ২০২৬ ২০:৩৩
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেছেন, মেজর আখতারুজ্জামানের ছেলে শাহরিয়ার জামান রানার উপর হামলার ঘটনায় অতি দ্রুত মামলা নিয়ে দুষ্কৃতিকারীদের পাকড়াও করে আইনের আওতায় আনতে হবে ।
আজ ৫ নভেম্বর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের ছেলে শাহরিয়ার জামান রানাকে দেখতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক এমপি মেজর (অব,) আখতারুজ্জামান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিরষদ সদস্য মাওলানা মাহফুজুর রহমান, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য আতাউর রহমান সরকার, এডভোকেট আলাউদ্দিন সোহেলসহ মহানগরীর দায়িত্বশীলবৃন্দ।
সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আখতারুজ্জামানের ছেলেকে ছুড়িকাঘাত করে। আহতাবস্থায় তাকে উপজেলা হাসপাতালে নেয়া হয়। উপজেলা হাসপাতালে তাকে পুরোপুরি চিকিৎসা দেয়া হয়নি।
তিনি বলেন, আখতারুজ্জামান এলাকায় সুস্থ বিনোদনের জন্য, খেলাধুলার জন্য একটি বড় মাঠ করে দিয়েছেন। কিছুদিন ধরে মাদকচক্রের লোক মাঠটিতে গিয়ে উৎপাত করতে থাকে। রানা মাদকসেবীদের এর আগে সতর্ক করেন।
আমীরে জামায়াত বলেন, রানা জানিয়েছেন মাদকসেবীরা রাজনৈতিক দলের শেল্টার পায়। তারা আশ্রয় ও প্রশ্রয়ে এ সমস্ত উৎপাত করে। দুঃখজনক হলো দুইবারে সাবেক এমপি আখতারুজ্জামান ওই ঘটনায় মামলা করলেও এখন পর্যন্ত তা এন্ট্রি করা হয়নি। তাহলে প্রশাসন কার পক্ষে- দুষ্টের পক্ষে না শিষ্টের পক্ষে?

তিনি বলেন, মাদকচক্রের প্রতিবাদের কারণে যদি হামলা হয়ে থাকে তাহলে সেটিও তো প্রশাসনের দায়িত্ব ব্যবস্থা নেয়ার। কোন রহস্যজনক কারণে এ মামলা এন্ট্রি করা হচ্ছে না? পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে আখতারুজ্জামান কথা বলার পর আশ্বাস দিলেও তা হচ্ছে না।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এটি এমন কি বিষয় যে রেকর্ড করা যাবে না। আখতারুজ্জামান তো কোনো অসত্য তথ্য দিয়ে কারো বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দেননি। সত্য তুলে ধরে অভিযোগ করেছেন। শাহরিয়ার রাজনীতির সাথে জড়িত। তবে রাজনৈতিক কারণে এটি করা হয়েছে বলে আমরা মনে করি না।
তিনি বলেন, আখতারুজ্জামান বিমান বন্দরে অনিয়ম ও একটি চরম অন্যায় ও চুরি চামারির প্রতিবাদ করায় তার বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা দান ও সরকারি কর্মকর্তাদের গায়ে হাত তুলেছেন- এমন সাজানো মিথ্যা মামলা দিয়ে গত ৩ অক্টোবর গ্রেফতার করা হয়। আখতারুজ্জামান কারো গায়ে হাত দেননি, নিজের অধিকার ও যাত্রী সাধারণের অধিকার নিয়ে কথা বলেছেন। বিশেষ করে প্রবাসীদের সাথে যে নিষ্ঠুর আচরণ করা হয় সেটার শক্ত প্রতিবাদ করেছিলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আখতারুজ্জমানকে গ্রেফতার করে হ্যান্ডক্যাপ, ভেস্ট ও হেলমেট পড়ানো হয়েছে। এটি মানবতার প্রতি চরম অবজ্ঞা ও উপহাস ও ধৃষ্টতা বলে মনে করি আমরা। তার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ উত্থাপন কিংবা তাকে জামিন দেয়ার মুরোদ আদালতের না থাকায় বরং তাকে রিমান্ড দিয়েছেলেন। মেজর আখতারুজ্জামানের প্রতিবাদের কারণ বিমানবন্দরে চুরি করার সুযোগ বন্ধ হয়েছে এবং দ্রুত নিজের লাগেজ পাওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন আমীরে জামায়াত।
তিনি বলেন, আখতারুজ্জমানের প্রতিবাদকে স্বীকার না করে সরকার নোংরামি করেছে। তাকে কেন গ্রেফতার করতে হবে। আমরা জানি না তার ছেলের উপর আঘাত এর কোনো যুগসূত্র আছে কিনা। এজন্য আমাদের দাবি হলো অতি দ্রুত মামলা নিয় দুষ্কৃতিকারীদের পাকড়াও করে আইনের আওতায় আনুন। তাদের রিমান্ডে সমাজে সন্ত্রাসবাদের তথ্য জানুন। সন্ত্রাসীরা বলে দিক কাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে সেখানে এ অপকর্মগুলো হয়। তাহলে দেশ ও সমাজ শান্তির দিকে আগাবে।
এক প্রশ্নের আমীরে জামায়াত বলেন, হামলাকারীদের নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়েছে। অজ্ঞাত পরিচয়ে দুষ্কৃতিকারী হামলা করেছে এরকম ঘটনা না এটি। সুনির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে। ওসির ডিকটেশনে মামলা দেয়ার প্রস্তাবকে ন্যাক্কারজনক কাজ বলে উল্লেখ করেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট থানার ওসির ভূমিকা আইনের উপর হস্তক্ষেপ ও অন্যায়। আইনের মানুষ হয়ে আইনের উপর হস্তক্ষেপ করতে পারেন না।