লক্ষ্য ন্যায়ভিত্তিক সমাজ : অন্তরায়গুলো চিহ্নিতকরণ জরুরি
২৯ অক্টোবর ২০২৬ ১৬:২৭
॥ মাহবুবুল হক ॥
গণতন্ত্র একটি পূর্ণাঙ্গ শাসনব্যবস্থার নাম না হলেও বর্তমান জগতের একটি অতি প্রচলিত শাসনব্যবস্থায় পৌঁছাতে হলে মোটাদাগে যেই পদ্ধতির মাধ্যমে পৌঁছাতে হয়, তার নাম গণতন্ত্র। এটি মানুষের মর্যাদা, কর্তব্য, অধিকার, স্বাধীনতা ও বৈষম্যহীনতার ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার একটি আধুনিক ব্যবস্থা। জনগণের সম্মতি, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, আইনের শাসন, জবাবদিহি এবং ন্যায়বিচার— এসবই গণতন্ত্রের মৌলিক স্তম্ভ। কিন্তু গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য যতটা মহৎ, সেই লক্ষ্যে পৌঁছানোর পথ ততটাই জটিল। নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয় না; বরং নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করা, রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর রাখা এবং নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করার মধ্য দিয়েই গণতন্ত্রের প্রকৃত সাফল্য নির্ধারিত হয়। এ পথে নানা পদ্ধতিগত, প্রাতিষ্ঠানিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক অন্তরায় গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করে। তাই গণতন্ত্রকে একটি কার্যকর ও টেকসই রাষ্ট্রব্যবস্থায় পরিণত করতে হলে এসব অন্তরায় চিহ্নিত করা এবং সেগুলো দূর করার বাস্তবসম্মত উপায় নির্ধারণ করা জরুরি।
গণতন্ত্রের লক্ষ্য ও বাস্তবতার ব্যবধান : গণতন্ত্রের মূল দর্শন হলো জনগণই রাষ্ট্রক্ষমতার উৎস। জনগণ তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করবে, নির্বাচিত প্রতিনিধিরা জনগণের স্বার্থে রাষ্ট্র পরিচালনা করবেন এবং তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য জনগণের কাছে জবাবদিহি করবেন। কিন্তু বাস্তবে অনেক সময় গণতন্ত্রের কাঠামো বিদ্যমান থাকলেও তার অন্তর্নিহিত চেতনা দুর্বল হয়ে পড়ে। সংবিধান, সংসদ, নির্বাচন কমিশন, বিচার বিভাগ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান কার্যকর থাকলেই যে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। এসব প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা, নিরপেক্ষতা ও কার্যকারিতাই গণতন্ত্রের গুণগতমান নির্ধারণ করে।
এখানেই গণতন্ত্রের লক্ষ্য ও বাস্তবতার মধ্যে ব্যবধান তৈরি হয়। একদিকে থাকে জনগণের প্রত্যাশা— সুশাসন, ন্যায়বিচার, নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সুযোগ ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণ; অন্যদিকে থাকে ক্ষমতাকেন্দ্রিকতা, প্রশাসনিক জটিলতা, দুর্নীতি, রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা এবং দুর্বল জবাবদিহির বাস্তবতা। ফলে গণতন্ত্র কখনো কখনো জনগণের ক্ষমতায়নের পরিবর্তে ক্ষমতাবান গোষ্ঠীর স্বার্থরক্ষার মাধ্যম হয়ে ওঠার ঝুঁকিতে পড়ে। এই ব্যবধান দূর করাই গণতান্ত্রিক সংস্কারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
নির্বাচনী ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা : গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান পদ্ধতি হলো নির্বাচন। অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ তাদের প্রতিনিধি বেছে নেয় এবং প্রয়োজনে ক্ষমতাসীনদের পরিবর্তন করে। কিন্তু নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রতি আস্থা নষ্ট হলে গণতন্ত্রের ভিত্তিই দুর্বল হয়ে পড়ে। নির্বাচনে সবার সমান অংশগ্রহণের সুযোগ না থাকা, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন, রাজনৈতিক সহিংসতা, অর্থ ও পেশিশক্তির প্রভাব কিংবা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার ঘাটতি জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ন করতে পারে।
এছাড়া নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা যদি নীতিনির্ভর বিতর্কের পরিবর্তে ব্যক্তিগত আক্রমণ, ভীতি প্রদর্শন ও বিভাজনের রূপ নেয়, তবে গণতন্ত্রের প্রকৃত উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়। ভোটাধিকার কেবল একটি আনুষ্ঠানিক অধিকার নয়; এটি নাগরিকের রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রকাশ। তাই নির্বাচনী ব্যবস্থাকে বিশ্বাসযোগ্য করতে নির্বাচন পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের পেশাগত দক্ষতা, নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা অপরিহার্য। একইসঙ্গে প্রার্থীদের অর্থায়নে স্বচ্ছতা, নির্বাচনী আচরণবিধির কার্যকর প্রয়োগ এবং ভোটারদের নিরাপদ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
তবে মনে রাখা দরকার, নির্বাচন গণতন্ত্রের অপরিহার্য শর্ত হলেও একমাত্র শর্ত নয়। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে নির্বাচিত সরকার কীভাবে ক্ষমতা প্রয়োগ করছে, বিরোধী মতকে কতটা সম্মান করছে এবং নাগরিক অধিকার রক্ষা করছে— সেসব বিষয়ও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা ও ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ : গণতন্ত্রের প্রাণশক্তি হলো বহুমতের সহাবস্থান। একটি গণতান্ত্রিক সমাজে সরকার ও বিরোধীদল, সংখ্যাগরিষ্ঠ ও সংখ্যালঘু, ভিন্ন মতাদর্শের মানুষ— সবারই মতপ্রকাশ ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণের অধিকার রয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা গণতন্ত্রের অন্যতম বড় অন্তরায়। বিরোধী মতকে শত্রু হিসেবে বিবেচনা করা, সমালোচনাকে রাষ্ট্রবিরোধিতা বলে আখ্যায়িত করা কিংবা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করার প্রবণতা গণতান্ত্রিক পরিবেশকে সংকুচিত করে।
গণতন্ত্রে বিরোধীদল কেবল ক্ষমতার বিকল্প নয়; এটি সরকারের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, নীতির সমালোচনা এবং জনস্বার্থের প্রশ্ন উত্থাপনের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। বিরোধীদলের গঠনমূলক ভূমিকা বাধাগ্রস্ত হলে সংসদীয় বিতর্ক দুর্বল হয় এবং সরকারের জবাবদিহি কমে যাওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়। একইভাবে বিরোধীদল যদি কেবল বিরোধিতার স্বার্থে সব নীতিকে প্রত্যাখ্যান করে, সংসদীয় কার্যক্রম বর্জন করে বা সহিংস পথ অনুসরণ করে, তাহলেও গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
অন্যদিকে রাষ্ট্রক্ষমতা যখন ক্রমাগত একটি ব্যক্তি, দল বা প্রতিষ্ঠানের হাতে কেন্দ্রীভূত হয়, তখন ক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট হয়। গণতন্ত্রের জন্য তাই রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার পাশাপাশি রাজনৈতিক সহনশীলতা, সংলাপ এবং সাংবিধানিক সীমাসহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি শ্রদ্ধা অপরিহার্য। ক্ষমতায় যাওয়া যেমন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ, তেমনি ক্ষমতায় থেকে নিয়মের অধীন থাকা তার অবিচ্ছেদ্য শর্ত।
প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা ও জবাবদিহির সংকট : গণতন্ত্রের স্থায়িত্ব নির্ভর করে শক্তিশালী, দক্ষ ও স্বাধীন প্রতিষ্ঠানের ওপর। সংসদ, বিচার বিভাগ, নির্বাচন পরিচালনাকারী সংস্থা, সরকারি প্রশাসন, নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং দুর্নীতি দমনকারী সংস্থার নিজ নিজ দায়িত্ব স্বাধীনভাবে পালনের সক্ষমতা থাকা দরকার। কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম রাজনৈতিক প্রভাব, প্রশাসনিক অদক্ষতা, সম্পদের ঘাটতি কিংবা জবাবদিহির দুর্বলতার কারণে বাধাগ্রস্ত হলে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা কার্যকারিতা হারায়।
আইনের শাসন গণতন্ত্রের অন্যতম মৌলিক ভিত্তি। আইনের চোখে সবাই সমান— এই নীতি বাস্তবে কার্যকর না হলে সাধারণ নাগরিকের মনে রাষ্ট্র সম্পর্কে বৈষম্য ও অবিশ্বাস জন্মায়। প্রভাবশালী ব্যক্তিরা আইনের ঊর্ধ্বে থেকে গেলে এবং সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার পেতে দীর্ঘসূত্রতা বা জটিলতার মুখোমুখি হলে গণতন্ত্রের নৈতিক ভিত্তি দুর্বল হয়।
এক্ষেত্রে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, বিচারপ্রাপ্তির সহজলভ্যতা, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং সরকারি সিদ্ধান্তের কার্যকর পর্যালোচনা নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে স্বাধীন তদারকি, তথ্য প্রকাশ এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে হবে। প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা মানে জবাবদিহিহীনতা নয়; বরং আইনসম্মত সীমার মধ্যে থেকে স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন এবং নিজ নিজ কর্মকাণ্ডের জন্য জবাবদিহি করা।
দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের প্রভাব : দুর্নীতি গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোকে ভেতর থেকে দুর্বল করে দেয়। সরকারি সেবা, উন্নয়ন প্রকল্প, নিয়োগ, ক্রয় এবং নীতিনির্ধারণে অনিয়ম ও ব্যক্তিস্বার্থ প্রাধান্য পেলে রাষ্ট্রের সম্পদ জনগণের কল্যাণের পরিবর্তে সীমিত গোষ্ঠীর স্বার্থে ব্যবহৃত হয়। এতে জনসেবার মান কমে, নাগরিকের অধিকার ক্ষুণ্ন হয় এবং রাষ্ট্রের প্রতি আস্থা হ্রাস পায়।
গণতন্ত্রের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অন্তরায় অর্থনৈতিক বৈষম্য। কাগজে-কলমে সব নাগরিকের রাজনৈতিক অধিকার সমান হলেও অর্থনৈতিক ক্ষমতার অসম বণ্টন রাজনৈতিক অংশগ্রহণে বৈষম্য সৃষ্টি করতে পারে। সম্পদশালী ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যখন প্রচার, যোগাযোগ ও প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সুবিধা ভোগ করে, তখন সাধারণ নাগরিকের কণ্ঠস্বর তুলনামূলকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। দারিদ্র্য, বেকারত্ব এবং শিক্ষার সীমিত সুযোগও নাগরিকের রাজনৈতিক সচেতনতা ও অংশগ্রহণকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
তাই গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার জন্য শুধু রাজনৈতিক সংস্কার যথেষ্ট নয়; অর্থনৈতিক ন্যায়বিচারও গুরুত্বপূর্ণ। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মানসম্মত শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক সুরক্ষা, করব্যবস্থায় ন্যায্যতা এবং সরকারি সম্পদের সুষম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। উন্নয়নের সুফল যখন সমাজের বৃহত্তর অংশের কাছে পৌঁছায়, তখন গণতন্ত্রের প্রতি মানুষের আস্থা ও অংশগ্রহণের আগ্রহ বাড়ে।
গণমাধ্যম, তথ্যপ্রবাহ ও নাগরিক সচেতনতা : স্বাধীন গণমাধ্যম গণতন্ত্রের একটি অপরিহার্য প্রহরী। গণমাধ্যম রাষ্ট্রের কর্মকাণ্ড, দুর্নীতি, জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট অনিয়ম এবং নীতিগত ব্যর্থতা সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করে। একইসঙ্গে এটি বিভিন্ন মত ও দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশের সুযোগ সৃষ্টি করে। কিন্তু সংবাদ প্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত হলে, সাংবাদিকরা হয়রানি বা চাপের মুখে পড়লে কিংবা গণমাধ্যমের মালিকানা ও অর্থায়ন অস্বচ্ছ হলে জনপরিসরে তথ্যের বৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বর্তমান ডিজিটাল যুগে ভুল তথ্য, গুজব, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদ্বেষ ছড়ানোর প্রবণতাও গণতন্ত্রের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। তথ্যের অবাধ প্রবাহ যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং দায়িত্বশীল ব্যবহারও জরুরি। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষার নামে ইচ্ছাকৃত অপতথ্য ছড়ানোকে উপেক্ষা করা যায় না; আবার অপতথ্য প্রতিরোধের অজুহাতে বৈধ সমালোচনা ও স্বাধীন মতপ্রকাশ দমন করাও গ্রহণযোগ্য নয়।
এজন্য গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, তথ্য অধিকার, সাংবাদিকতার নৈতিকতা এবং নাগরিকদের গণমাধ্যম-সাক্ষরতা বাড়াতে হবে। শিক্ষাব্যবস্থায় যুক্তিবোধ, তথ্য যাচাই, সহনশীলতা ও নাগরিক দায়িত্বের চর্চা জোরদার করা প্রয়োজন। কারণ সচেতন নাগরিক ছাড়া গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান কার্যকর থাকলেও তার সুফল পুরোপুরি অর্জন করা কঠিন।
ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ ও দুর্বল জবাবদিহি : গণতন্ত্রের অন্যতম মৌলিক শর্ত হলো— ক্ষমতার ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ। সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলেও তার ক্ষমতা অসীম হতে পারে না। সংসদ, বিচার বিভাগ, স্বাধীন তদারকি প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম এবং নাগরিক সমাজের ভূমিকা হলো রাষ্ট্রক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করা।
যখন নির্বাহী বিভাগের হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হয়, সংসদীয় তদারকি দুর্বল হয়ে পড়ে এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো রাজনৈতিক প্রভাবের অধীন হয়, তখন গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক ভারসাম্য নষ্ট হয়। ক্ষমতার এই কেন্দ্রীকরণ প্রথমে প্রশাসনিক দক্ষতার নামে বৈধতা পেতে পারে; কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা সমালোচনা উপেক্ষা, নীতিগত স্বেচ্ছাচার এবং জবাবদিহির সংকট সৃষ্টি করতে পারে।
বাংলাদেশের সংস্কার-আলোচনায় প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করা এবং সাংবিধানিক অধিকার কার্যকর করার বিষয়গুলো তাই বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। তবে সংস্কারের সাফল্য নির্ভর করবে শুধু নতুন বিধান প্রণয়নের ওপর নয়, বরং সেগুলোর বাস্তব প্রয়োগের ওপরও। কোনো প্রতিষ্ঠান কাগজে স্বাধীন হলেও যদি নিয়োগ, পদোন্নতি, অর্থায়ন কিংবা সিদ্ধান্ত গ্রহণে অযৌক্তিক রাজনৈতিক প্রভাব থাকে, তবে তার স্বাধীনতা কার্যত সীমিত হয়ে পড়ে।
দক্ষিণ কোরিয়ার অভিজ্ঞতা এক্ষেত্রে একটি তুলনামূলক শিক্ষা দেয়। দেশটির গণতান্ত্রিক কাঠামোয় আইনসভা, নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগের পারস্পরিক নিয়ন্ত্রণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তবে গবেষণায় এটিও উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রাতিষ্ঠানিক ভারসাম্যের আইনগত কাঠামো থাকলেই বাস্তবে জবাবদিহি নিশ্চিত হয় না; প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রকৃত কার্যকারিতাও গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশের জন্য শিক্ষাটি স্পষ্ট : ক্ষমতার ভারসাম্যকে সাংবিধানিক ভাষ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক চর্চায় রূপ দিতে হবে।
রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার সংকট : গণতন্ত্রে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ রাষ্ট্রের শত্রু নয়; বরং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অপরিহার্য অংশ। বিরোধীদলের কাজ সরকারের নীতি পর্যালোচনা করা, বিকল্প প্রস্তাব দেওয়া এবং জনস্বার্থের প্রশ্নে জবাবদিহি দাবি করা। একইভাবে ক্ষমতাসীন দলেরও দায়িত্ব বিরোধী মতের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা করা।
কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা যখন পারস্পরিক অবিশ্বাস, প্রতিহিংসা ও দমনমূলক আচরণে পর্যবসিত হয়, তখন গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যকারিতা হারায়। বিরোধীদলকে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার বাইরে ঠেলে দেওয়া যেমন ক্ষতিকর, তেমনি বিরোধিতার নামে সহিংসতা, ভীতি প্রদর্শন ও রাজনৈতিক অচলাবস্থা সৃষ্টিও গণতন্ত্রের পরিপন্থী।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নির্বাচনকেন্দ্রিক সংঘাত এবং প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আস্থার ঘাটতি দীর্ঘদিনের সমস্যা। এর সমাধান কোনো একক দলের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করতে পারে না। প্রয়োজন এমন একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতি, যেখানে নির্বাচন নিয়ে মতবিরোধ সাংবিধানিক পদ্ধতিতে নিষ্পত্তি হবে, সংসদীয় বিতর্ককে গুরুত্ব দেওয়া হবে এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের অধিকারকে দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়া হবে।
গণতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হলো— কোনো দল ক্ষমতায় থাকলে যেমন নিয়ম মেনে চলে, ক্ষমতার বাইরে থাকলেও তেমনই নিয়ম ও প্রতিষ্ঠানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকে কি না। এই দ্বিমুখী দায়বদ্ধতা প্রতিষ্ঠা করা না গেলে গণতন্ত্র বারবার সংকটে পড়বে।
আইনের শাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা : আইনের শাসনের অর্থ কেবল আইন থাকা নয়; বরং আইন সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়া। সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী কিংবা সাধারণ নাগরিক— কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নন। বিচারপ্রাপ্তির সুযোগ, নিরপেক্ষ তদন্ত, ন্যায্য বিচার এবং আদালতের স্বাধীনতা নিশ্চিত না হলে নাগরিকের অধিকার কার্যকর থাকে না।
বিচার বিভাগ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত না থাকলে ক্ষমতাবানদের জবাবদিহি দুর্বল হয় এবং সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার সুযোগ সংকুচিত হয়। একইভাবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পক্ষপাতমূলক আচরণ কিংবা অভিযোগের ভিত্তিতে দীর্ঘদিন বিচারবহির্ভূত হয়রানির আশঙ্কা নাগরিক স্বাধীনতার জন্য ক্ষতিকর।
অন্যদিকে বিচার বিভাগকে স্বাধীন করার নামে তাকে জবাবদিহির বাইরে রাখাও গ্রহণযোগ্য নয়। বিচারকদের নিয়োগ, পদোন্নতি, আচরণবিধি এবং শৃঙ্খলা সংক্রান্ত ব্যবস্থায় এমন ভারসাম্য দরকার, যাতে বিচারিক স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন থাকে এবং অসদাচরণের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়।
বাংলাদেশে বিচারিক সংস্কারের লক্ষ্য হওয়া উচিত দ্রুত ও সাশ্রয়ী বিচার, আদালতের প্রশাসনিক স্বায়ত্তশাসন, তদন্তের পেশাদারত্ব এবং নাগরিকের আইনি সহায়তা নিশ্চিত করা। একইসঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে অভিযুক্ত ব্যক্তির ন্যায্য বিচারের অধিকার রক্ষা করতে হবে। গণতন্ত্রে অপরাধের বিচার হবে প্রমাণের ভিত্তিতে, রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়।
আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা : কী শেখার আছে?
বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে যে, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কোনো একক মডেল নেই। তবে কিছু সাধারণ নীতি প্রায় সব সফল গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে: প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন, কার্যকর প্রতিষ্ঠান, আইনের শাসন এবং ক্ষমতার শান্তিপূর্ণ হস্তান্তর।
ঘানার অভিজ্ঞতা বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। দেশটি ১৯৯০-এর দশকে বহুদলীয় গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তনের পর বিভিন্ন সময়ে প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলের মধ্যে শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের নজির স্থাপন করেছে। মার্কিন কংগ্রেসের গবেষণা বিভাগও দেশটির প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন ও শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের ধারাকে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তবে ঘানায়ও দুর্নীতি, বিচারিক স্বাধীনতা এবং সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
এই অভিজ্ঞতা থেকে বোঝা যায়, নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের সুযোগ থাকা গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেটিই গণতন্ত্রের পূর্ণতা নয়। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা স্বাধীনভাবে কাজ করে এবং ক্ষমতাসীনরা কতটা জবাবদিহির মধ্যে থাকে, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
আন্তর্জাতিক ওউঊঅ-এর ২০২৫ সালের বৈশ্বিক গণতন্ত্রবিষয়ক প্রতিবেদনে প্রতিনিধিত্ব, অধিকার, আইনের শাসন ও অংশগ্রহণকে গণতন্ত্র মূল্যায়নের চারটি কেন্দ্রীয় মাত্রা হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাপী গণতান্ত্রিক কর্মক্ষমতার অবনতির পাশাপাশি আইনের শাসনের দুর্বলতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ গণতন্ত্রের অগ্রগতি পরিমাপ করতে শুধু ভোটের হিসাব যথেষ্ট নয়; নাগরিক অধিকার, বিচারিক স্বাধীনতা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে জনগণের অংশগ্রহণও বিবেচনায় নিতে হবে।
বাংলাদেশের জন্য তাই অন্য দেশের প্রতিষ্ঠান হুবহু অনুকরণ করার চেয়ে তাদের অভিজ্ঞতা থেকে উপযোগী নীতি গ্রহণ করাই যুক্তিযুক্ত। দেশের সংবিধান, রাজনৈতিক ইতিহাস, সামাজিক বৈচিত্র্য ও প্রশাসনিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংস্কার করতে হবে।
উত্তরণের পথ : সংস্কার হতে হবে কার্যকর ও টেকসই : গণতন্ত্রের পথে পদ্ধতিগত অন্তরায় দূর করার জন্য প্রথমেই নির্বাচনী প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা ও সক্ষমতা নিশ্চিত করতে হবে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, রাজনৈতিক পক্ষগুলোর সঙ্গে অর্থবহ পরামর্শ, নিরপেক্ষ প্রশাসন এবং নির্বাচনী অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি নির্বাচনের প্রতি আস্থা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
দ্বিতীয়ত, ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করতে সংসদীয় কমিটি, বিচার বিভাগ, নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান ও দুর্নীতি দমনকারী সংস্থার কার্যকারিতা বাড়াতে হবে। সরকারি সিদ্ধান্ত ও ব্যয়ের তথ্য নাগরিকের জন্য সহজলভ্য করতে হবে। তথ্য অধিকার এবং স্বাধীন অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাকে কার্যকরভাবে সুরক্ষিত করা জরুরি।
তৃতীয়ত, রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। নেতৃত্ব নির্বাচন, প্রার্থী মনোনয়ন, অর্থায়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতা না থাকলে জাতীয় পর্যায়েও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি বিকশিত হওয়া কঠিন। রাজনৈতিক দলগুলোকে সহনশীলতা, যুক্তিনির্ভর বিতর্ক এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিযোগিতার চর্চা করতে হবে।
চতুর্থত, স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করে নাগরিকের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। স্থানীয় পর্যায়ে জনশুনানি, অংশগ্রহণমূলক বাজেট, উন্মুক্ত তথ্যপ্রকাশ এবং নাগরিক অভিযোগ নিষ্পত্তির কার্যকর ব্যবস্থা থাকলে রাষ্ট্র ও জনগণের মধ্যে দূরত্ব কমে।
পঞ্চমত, সংস্কারের অগ্রগতি নিয়মিত মূল্যায়ন করতে হবে। আইন প্রণয়নের পাশাপাশি তার বাস্তব ফলাফল— যেমন বিচার পেতে সময়, সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা, নির্বাচনী অভিযোগের নিষ্পত্তি এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ পরিমাপ করা প্রয়োজন। সংস্কার যেন কেবল রাজনৈতিক স্লোগানে সীমাবদ্ধ না থাকে, সেজন্য সময়সীমা, দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান এবং প্রকাশ্য অগ্রগতি প্রতিবেদন থাকা দরকার।
সব শেষে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার পরিবর্তে আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগকে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে অতীতের অন্যায়ের বিচার জরুরি, কিন্তু সেই বিচারও হতে হবে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ও প্রমাণের ভিত্তিতে। প্রতিপক্ষকে বাদ দিয়ে স্থায়ী গণতন্ত্র গড়ে তোলা যায় না; বরং অধিকার, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহির অভিন্ন নীতির অধীনেই সব রাজনৈতিক পক্ষকে থাকতে হবে।
গণতন্ত্র কোনো একদিনে অর্জিত চূড়ান্ত সাফল্য নয়; এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া, যার প্রতিটি পর্যায়ে আত্মসমালোচনা, সংস্কার ও উন্নয়নের সুযোগ থাকে। নির্বাচনী ত্রুটি, রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা, দুর্নীতি, অর্থনৈতিক বৈষম্য, তথ্যবিকৃতি এবং সামাজিক বঞ্চনা—এসব অন্তরায় গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। কিন্তু এসব সমস্যাকে অনিবার্য বাস্তবতা হিসেবে মেনে নেওয়ার কোনো কারণ নেই। রাজনৈতিক সদিচ্ছা, আইনের শাসন, স্বাধীন প্রতিষ্ঠান, জবাবদিহি এবং সচেতন নাগরিকের সম্মিলিত উদ্যোগে এগুলো মোকাবিলা করা সম্ভব।
মনে রাখতে হবে— গণতন্ত্রের প্রকৃত শক্তি কেবল ক্ষমতাসীনদের হাতে নয়; তা নিহিত রয়েছে জনগণের অধিকার, প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা এবং ক্ষমতাকে প্রশ্ন করার স্বাধীনতার মধ্যে। যে রাষ্ট্রে নাগরিক নির্ভয়ে মতপ্রকাশ করতে পারেন, আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হয়, সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহি করে এবং দুর্বলতম মানুষের অধিকারও সুরক্ষিত থাকে, সেই রাষ্ট্রই গণতন্ত্রের লক্ষ্যের কাছাকাছি পৌঁছায়।
অতএব গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম শুধু নির্বাচনকেন্দ্রিক নয়; এটি ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা, সমান সুযোগ ও জবাবদিহিমূলক শাসন প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। গণতন্ত্রের লক্ষ্য অর্জনে পদ্ধতিগত অন্তরায় দূর করা তাই কোনো ঐচ্ছিক সংস্কার নয়, বরং একটি ন্যায়ভিত্তিক, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠনের অপরিহার্য শর্ত। গণতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখতে হলে কেবল জনগণের নামে শাসন করলেই চলবে না— জনগণের জন্য, জনগণের অংশগ্রহণে এবং জনগণের কাছে জবাবদিহির ভিত্তিতেই রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হবে।
গণতন্ত্রের নামে প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রসমূহ, পরিবর্তিত বিশ্বব্যবস্থা, আঞ্চলিক বিধিব্যবস্থা, সত্যিকার অর্থে উন্নত গণতান্ত্রিক ভূরাজনীতি এবং তার সাথে প্রতিবেশী রাষ্ট্রসমূহের উন্নত গণতান্ত্রিক আচরণ যদি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে না পারে, তাহলে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নকামী একটি দেশের পক্ষে গণতন্ত্রের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ একটি রাষ্ট্র গঠন করা একটি বিরাট চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা অবশ্যই আমাদের করতে হবে।
লেখক : সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও সংগঠক।