রাজধানীতে জামায়াতের বিশাল সমাবেশ ও মিছিল

শেখ হাসিনা খুনি ও মানবতাবিরোধী অপরাধী : রফিকুল ইসলাম খান এমপি


২৮ অক্টোবর ২০২৬ ২০:১৩

২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর সংঘটিত হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের অবিলম্বে বিচারের আওতায় আনার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর। বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় রাজধানীর মহাখালীতে কলেরা হাসপাতালের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি বলেন, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধান শেখ হাসিনার নির্দেশে সন্ত্রাসী বাহিনী লগি বৈঠা নিয়ে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। ওই ঘটনায় তাঁদের ছয়জন নেতাকর্মী নিহত হন এবং তাতেই ক্ষান্ত হয়নি তারা বরং হামলাকারীরা লাশের ওপর নৃত্য করে গোটা বাংলাদেশকে দুনিয়ার সামনে কলঙ্কিত করেছে। বাংলাদেশের ইতিহাসকে কলঙ্কিত করেছে। তারা যে খুনি ও মানবতাবিরোধী অপরাধী তারা ২৮ অক্টোবরেই প্রমাণ করেছে।

তিনি বলেন, সেদিন তাদের পরিকল্পনা ছিলো জামায়াতের অফিসে হামলা করে জামায়াতের মিটিং বানচাল করার। তবে জামায়াতের তৎকালীন আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর নেতৃত্বে মিটিং সম্পন্ন হয়। নেতাকর্মীরা সেদিন পল্টন এলাকায় মানবপ্রাচীর গড়ে তুলেছিলো, এবং প্রতিহত করা হয়। তাই তাদের পরিকল্পনা সফল হয়নি৷ তারা রাস্তায় রাস্তায় যাকে পেয়েছে তাদের উপরে হামলা করেছে।

রফিকুল ইসলাম খান অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে ওই মামলার কার্যক্রম বন্ধ করার পাশাপাশি মামলা সংক্রান্ত নথিপত্র গায়েব করে দেন। তিনি শেখ হাসিনাসহ এই মামলার চার্জশিট সব আসামির বিচার বিশেষ ট্রাইব্যুনালে নিশ্চিত করার দাবি জানান।

তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে এবং গণভোটে জনগণের দেওয়া রায় কার্যকর করতে হবে। বাতিল করা অধ্যাদেশগুলো পুনরায় পাস করারও দাবি জানান তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় এনে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হবে।

২৮ অক্টোবর বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও তিনি অভিযোগ করেন। সেদিন জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীরা বুক চিতিয়ে দিয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছিলো। তারই ধারাবাহিকতায় দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় চব্বিশের পাঁচ আগষ্ট স্বৈরাচার হাসিনাকে দেশ থেকে পালাতে হয়েছিলো।

তিনি বলেন, এই দেশে আর বিভাজন খুন, হত্যা ও চাঁদাবাজের রাজনীতি আর চলবে না। জামায়াত যতদিন আছে জনগনকে সাথে নিয়ে এসব অন্যায়, অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে৷

সেলিম উদ্দিন বলেন, বর্তমান সরকারের কাছে আমরা দাবি করছি, আগামী ছয় মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিশেষ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে। ২৮শে অক্টোবরে খুনের সাথে জড়িতদের বিচার করতে হবে।

সমাবেশ থেকে বক্তারা ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের হত্যাকাণ্ডের বিচার, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিশেষ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দাবি জানান।

সংগঠনের কেন্দ্রীয় নির্বাহি পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড.মুহাম্মদ রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান,কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি নাজিম উদ্দীন মোল্লা, ডা.ফখরুদ্দিন মানিক ও ইয়াসিন আরাফাত,উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য আতাউর রহমান সরকার ও জামাল উদ্দিন প্রমুখ।