প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে ১১ দলীয় ঐক্যের বৈঠক, ঠাকুরগাঁওয়ে সেনা মোতায়েনের দাবি


২৮ অক্টোবর ২০২৬ ১৯:১০

আজ ২৮ অক্টোবর (বুধবার) দুপুর ১২টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করেছে ১১ দলীয় ঐক্যের একটি প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি এবং ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের আসন্ন উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী পরিবেশ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, ভোটারদের নিরাপত্তা এবং নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, এর আগে ঠাকুরগাঁওয়ে নির্বাচনী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে বিভিন্ন অভিযোগ জানানো হয়েছিল। সেসব অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হলেও গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ে আজ পর্যন্ত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে এক প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে বিরত রাখার কথা কমিশন জানিয়েছে। তবে তাঁকে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক পদে বহাল রাখায় তাঁর প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। এ কারণে আমরা ওই কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার এবং তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।

নির্বাচনী প্রচারে হামলা, সন্ত্রাস, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রচারকাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু ভোটারসহ সব ভোটারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে তাঁরা নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।

তিনি আরও বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের উপনির্বাচনে ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানানো হয়েছে। সাধারণ ভোটারগণ মনে করেন, সেনাবাহিনীর উপস্থিতি তাদের মধ্যে আস্থা বাড়াতে এবং নির্বিঘ্নে ভোট দেওয়ার পরিবেশ তৈরিতে সহায়ক হতে পারে।

তিনি বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানাচ্ছি। পাশাপাশি ভোটগ্রহণ, ভোট গণনা ও ফলাফল প্রকাশের প্রতিটি পর্যায়ে নির্বাচন কমিশনকে কঠোর নজরদারি রাখার আহ্বান জানাচ্ছি। কোনো অনিয়ম দেখা দিলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে আমরা কমিশনকে অবহিত করেছি।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময়সূচি এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সরকারের প্রভাবমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা নিয়ে কমিশনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আমরা মনে করি, এ বিষয়ে আরও আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের আশ্বাস ইতিবাচক হলেও মাঠপর্যায়ে তার বাস্তব প্রতিফলন ঘটতে হবে। আগামীকালের নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা, নিরপেক্ষতা ও সক্ষমতার বাস্তব পরীক্ষা। ভোটারদের নিরাপত্তা ও ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে কমিশন ব্যর্থ হলে ১১ দলীয় ঐক্য পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করবে।

উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, ঢাকা-১৬ আসনের মাননীয় এমপি জামায়াত নেতা কর্নেল (অব.) আবদুল বাতেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা তোফাজ্জল হোসেন মিয়াজী, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুল মাজেদ আতহারী, বাংলাদেশ লেবার পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব খন্দকার মিরাজুল ইসলাম, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মো. বিল্লাহ হোসেন মিয়াজী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইকবাল হোসেন, আমার বাংলাদেশ পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এড. আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন মহাসচিব মুফতী ফখরুল ইসলাম প্রমুখ।