ছোট গল্প

একটি কাগজের গল্প


১৫ অক্টোবর ২০২৬ ১২:১৩

॥ আবু জায়েদ আনসারী ॥

‘ভাই, ফিরনি খাবেন না? গম্ভীর জবাবে আমি খাব না। আপনি চাইলে খেতে পারেন।’ মিলন সাহেবের কথার ভেতর এমন কিছু ছিল, যা কথার চেয়ে বেশি কিছু বলে দিচ্ছিল।
আমি তার দিকে বিস্মিত নয়নে তাকিয়ে রইলাম।
সাধারণত সহকর্মীদের মধ্যে যে ধরনের হাসি-ঠাট্টা চলে, আজ সেখানে মিলন সাহেব একেবারেই অনুপস্থিত। মুখটা কেমন শুকনো, চোখের নিচে ক্লান্তির ছাপ। প্রশ্ন করেও কোনো উত্তর পেলাম না।
কিছুক্ষণ পর সহকর্মী রাসেলকে সঙ্গে নিয়ে বাইরে বেরিয়ে গেলেন তিনি।
বললেন, ‘একটু কাজ আছে।’
সেদিন আর তার সঙ্গে কথা হলো না। কিন্তু তার মলিন মুখটা থেকে গেল চোখের সামনে।
এক
মিলন সাহেবকে আমি যতটা চিনি, তার জীবনটা ততটা সহজ নয়। প্রায় দেড় দশকের চাকরিজীবন। অথচ সেই জীবনটা কোনো স্বাভাবিক চাকরিজীবনের মতো নয়। কখনো আদালতের বারান্দায় ঘুরেছেন, কখনো পরিচয় গোপন করে পেশায় টিকে থেকেছেন। কখনো এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন, যেখানে অপরাধ না করেও অপরাধীর মতো বেঁচে থাকতে হয়েছে।
তার জীবনের গল্পে বারবার ফিরে আসে ভয়, অনিশ্চয়তা আর টিকে থাকার সংগ্রাম।
তবু আশ্চর্য, এসব নিয়ে তার মধ্যে কোনো তিক্ততা দৃশ্যমান হয়নি। সহকর্মীদের সামনে বরং নিজেকে সুখী মানুষ হিসেবেই উপস্থাপন করতেন। স্ত্রী, সন্তান, সংসার এসবের কথা উঠলেই মুখে প্রশান্তির হাসি ফুটত। বলতেন আমি সুখী মানুষ।
বিশেষ করে আয়েশী স্ত্রীকে নিয়ে তার গর্বের শেষ ছিল না। বলতেন, আমার বউ সংসারটা খুব ভালো সামলায়।
‘ও না থাকলে আমি এত কিছু সামলাতে পারতাম না।’ কথাগুলো বলার সময় তার চোখে সত্যিকারের মুগ্ধতা দেখতাম। তাই সেদিনের চাহনিটা আমাকে অস্বস্তিতে ফেলেছিল। মনে হচ্ছিল, চোখের আড়ালে অন্য কোনো গল্প আছে।
দুই
দুই দিন পরও অফিসে এলেন না মিলন সাহেব। তার অনুপস্থিতি নিয়ে সহকর্মীদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হলো। কেউ ফোন করেও পরিষ্কার কিছু জানতে পারেনি। কেউ বলল, হয়তো অসুস্থ। কেউ বলল, পারিবারিক কোনো সমস্যা হয়েছে। আমিও ভাবতে শুরু করলাম, কি হলো?
মানুষকে কাছ থেকে দেখলে তার জীবনের কিছু অভ্যাস চোখে পড়ে। মিলন সাহেবের ক্ষেত্রেও পড়েছিল। তিনি সমস্যার কথা সহজে বলতেন না। নিজের কষ্টকে হাসির আড়ালে রেখে দেওয়ার এক অদ্ভুত ক্ষমতা ছিল তার। কিন্তু এবার যেন সেই আড়ালটাও ভেঙে গেছে। অবশেষে খবর এলো তিনি অফিসে আসবেন। অপেক্ষার সময়টুকু অস্বাভাবিক দীর্ঘ মনে হচ্ছিল। কী হয়েছে? কেন এমন হলো? প্রশ্ন দুটি মাথার ভেতর ঘুরছিল।
তিন
ঢাকা জজকোর্টের ভেতরে চা খাওয়ার সেই আড্ডাগুলোর কথা মনে পড়ল। সাদা-কালো চুল, কাঁচা-পাকা খোঁচা খোঁচা দাড়ি, হাতে চায়ের কাপ নিয়ে কাজের ফাঁকে মিলন সাহেব গল্পে মজতেন। তার গল্প কখনো শেষ হতো না।
সেই গল্পের মধ্যে থাকত একটি সময়ের ইতিহাস। গল্পে উঠে আসতো ফ্যাসিবাদী আমলে মানুষের দুর্দশা। সত্যপন্থী মানুষের ফেরারি জীবন। ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনা নিয়ে সত্য তুলে ধরার চেষ্টা। সেই সত্য তুলে ধরতে গিয়ে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর কর্মহীন জীবনের দহন। পরিচয় সংকট। অনিশ্চিত চাকরি। আর নিজের অস্তিত্বকে আড়াল করে বেঁচে থাকার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা।
মিলন সাহেব এসব বলতেন কোনো নাটকীয়তা ছাড়াই। মনে হতো, তিনি নিজের জীবনের গল্প বলছেন না একটি সময়ের সাক্ষ্য দিচ্ছেন। কখনো নিজের ভুক্তভোগী হওয়ার কথা তুলতেন। তারপর দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলতেন, ওই সময়টা পার করা সহজ ছিল না ভাই। কিন্তু সেই মানুষটিই সবসময় শেষে একটা হাসি দিতেন।
‘যা হয়েছে, হয়েছে। এখন তো ভালো আছি।’ আজ মনে হচ্ছিল, সেই ‘ভালো থাকা’র ভেতরেও হয়তো অনেক অন্ধকার জমে ছিল। সে অন্ধকার কেটে যাওয়ার স্বপ্ন দেখলেও তা আবার নতুন মলিনতায় রূপ নিয়েছে অবয়বে।
চার
দুই দিন পর তিনি অফিসে ফিরলেন। তাকে দেখে আমি প্রথমে চিনতেই পারিনি। চেহারা বিধ্বস্ত। কণ্ঠে কোনো জোর নেই। মনে হচ্ছিল, কয়েক রাত ধরে ঘুম হয়নি। চোখের নিচে কালো দাগ। মুখ শুকিয়ে গেছে।
আমার মনে হলো, কয়েকদিন ধরে হয়তো ঠিকমতো খাওয়াও হয়নি। কী হয়েছে জানতে ইচ্ছে করছিল।
তবু সরাসরি প্রশ্ন করলাম না। কারণ এর কিছুদিন আগেই তিনি মাইনর স্ট্রোক করে কাকরাইলের ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। তখন হাসপাতালেই তার পরিবার এবং স্ত্রী সম্পর্কে সহকর্মীদের মাধ্যমে জেনেছি। সংসার সামলানো, স্বামীকে হাসপাতালে দেখাশুনা করা, আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ— সবকিছু তিনি খুব দক্ষতার সঙ্গে সামলাচ্ছিলেন।
মিলন সাহেবও স্ত্রীর প্রশংসা করতেন। বলতেন, আমার বউ খুব শক্ত মনের মানুষ। স্ত্রীর চাকরির কথাও বলতেন। নতুন করে প্রায় সোয়া লাখ টাকা বেতনে একটি সরকারি প্রকল্পে চাকরি হয়েছে তার।
এর আগেও তিনি এমন প্রকল্পে কাজ করেছেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচয়ও পুরোনো। আর কয়েকদিন পরই নতুন প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার কথা। সবকিছু যেন ঠিকঠাকই চলছিল। তাহলে কী এমন ঘটল?
পাঁচ
অবশেষে মিলন সাহেব নিজেই বললেন, ‘আমার সব শেষ হয়ে গেছে।’ আমি চুপ করে থাকলাম। আর ভাবতে লাগলাম এমন একটা বাক্য মানুষ কখন বলে? যখন তার হারানোর মতো আর কিছু থাকে না। তিনি চেয়ারটায় হেলান দিয়ে বসে ছিলেন। কিছুক্ষণ পর তার চোখ থেকে অশ্রু গড়িয়ে পড়ল।
স্মার্টফোনটা হাতে নিয়ে স্ক্রিন খুললেন। এগিয়ে দিলেন আমার দিকে। বললেন, ‘এই দুইটা ছবি দেখেন।’ আমি ফোনের দিকে তাকালাম। দেখলাম, ছবি দুটি কোনো মানুষের নয়, কাগজের। একটি তার স্ত্রীর চাকরির কাগজপত্র। সরকারি দপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তার স্বাক্ষর আছে তাতে। সুপারিশ আছে। সবকিছু যথাযথ বলেই মনে হচ্ছে।
আমি বললাম, ‘তাহলে সমস্যা কোথায়?’ তিনি এবার আমার দিকে তাকালেন। সেই দৃষ্টিতে এমন এক অসহায়ত্ব ছিল, যার কোনো ভাষা হয় না।
ছয়
তারপর ধীরে ধীরে গল্পটা খুলতে শুরু করলেন তিনি। স্ত্রীর চাকরির জন্য যে কাগজপত্র তৈরি হয়েছিল, তার আসল কপি ছিল তার কাছেই। কাগজে সরকারি কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর ছিল। সুপারিশও ছিল। সবকিছু ছিল নিয়মমাফিকই।
কিন্তু পরে সেই একই কাগজকে অন্যভাবে ব্যাখ্যা করা হলো। অভিযোগ উঠল নথি জাল। তারপর শুরু হলো দৌড়ঝাঁপ। প্রভাবশালী মহলের চাপ। সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যবহার। পুলিশ। আর শেষ পর্যন্ত গ্রেফতার। কারাগার। এসব বলতে যেন আসমান ভেঙে পড়ছিল মিলন সাহেবের মাথায়।
তিনি কথা বলতে বলতে থেমে গেলেন। আমি কোনো প্রশ্ন করলাম না। কিছু গল্পে প্রশ্ন করার প্রয়োজন হয় না। চুপ করে থাকাই যথেষ্ট।
সাত
সবচেয়ে কষ্টের জায়গাটা তখনো বলা হয়নি মিলন সাহেবের। স্ত্রীকে গ্রেফতার করার পর মিলন সাহেব যখন তাকে রেখে ফিরছিলেন, তখনো এ খবর জানে না বাসায় থাকা আট বছরের খুকুমনি। অপেক্ষায় আছে মা ফিরবেন। গোসল ও খাইয়ে দেবেন। কিন্তু ফিরলেন না। অবশ্য মায়ের বাসায় না ফেরার এমন অভিজ্ঞতা আগেও ছিল ছোট্ট এ খুকির। কারণ মায়ের চাকরিজীবনে এমন অনেক দিনই কেটেছে তার। তবে আজকের না ফেরাটা যে ভিন্ন- তা জানা ছিল না কয়েকদিন। মিলন সাহেব স্ত্রীর কারাবরণের এ কথা আদুরে খুকিকে কীভাবে বলবেন, তাও ভেবে পাচ্ছিলেন না। চোখ গড়িয়ে পানি ঝরছে মেয়ের কথা ভাবতেই।
তবে সত্য তো আর বেশিদিন চাপা থাকে না। মেয়েটি বাবাকে জিজ্ঞেস করেছিল, ‘আম্মু কখন আসবে?’ নিরত্তর থেকেছেন মিলন সাহেব। আট বছরের একটা শিশু তো জানে না কারাগার কী। সে জানে না, কাগজ কীভাবে মানুষের ভাগ্য বদলে দেয়। সে জানে না, ক্ষমতা কী। সে শুধু বাবার কাছে জানতে পেরেছে তার মা ভেতরে চলে গেছে।
মিলন সাহেব মনকে শক্ত করে শুধু বলছিলেন, ‘কাঁদিস না মা। আম্মু আসবে।’ কিন্তু কথাটা বলার সময় তার নিজের গলাতেই কাঁপন ছিল। তবে ছোট্ট খুকুর দৃঢ়তায় ঠায় দাঁড়িয়ে গেলেন মিলন সাহেব। খুকুমনি বলছিল বাবা আজ একটা মাইন্ডসেট হলো মা আসতে দেরি হবে।
আট
ঘটনার শুরুটা কৌতূহল থেকে। পরে ভোগান্তি। জীবনের গল্পের সবচেয়ে অদ্ভুত অংশও হয়ে যায় এটি। কৌতূহল থেকেই আধুনিক প্রযুক্তি চ্যাটজিপিটির সহায়তায় নিজের চাকরির আসল কাগজের একটি স্ক্যান কপি তৈরি করেছিলেন মিলন সাহেবের স্ত্রী। কিন্তু আসল কাগজের মতো দেখতে হলেও তাতে অনেক তথ্যগত ভুল ছিল। যদিও আসল কাগজটি সাথে থাকলেও কৌতূহলি মন তাড়িত করেছিল চ্যাটজিপিটির তৈরি করা কাগজটি এক সহকর্মীকে দেখাতে। অতঃপর দেখান। এতেই ঘটে বিপত্তি। শুরু হয় ষড়যন্ত্র। পরিণাম কারাগার, সন্তান ও স্বামীর অনিশ্চয়তার যাত্রা।
একবারও ভাবনায় আসেনি তার একদিন বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াবে কৌতূহলের কাগজ তৈরি? মিলন সাহেব জানতেন না, তার চতুর স্ত্রী এমন বোকামি করে মীর বংশের শত্রুদের কবলে পড়েছেন। মিলন সাহেবের স্ত্রীও জানত না মীরের অদৃশ্য ব্যবস্থার ভেতর দিয়ে সেই কাগজই একসময় তাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যাবে।
আসল কাগজ তার হাতে। সত্য তার জানা। তবু সত্য যেন তার কোনো কাজে আসছে না। কারণ কাগজের সত্য আর ক্ষমতার সত্য এক নয়।
নয়
আমি মিলন সাহেবের দিকে তাকিয়ে ছিলাম। মনে পড়ছিল তার পুরোনো কথা। তিনি একদিন বলেছিলেন, ‘ভাই, মানুষের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো সত্য।’ আজ সেই কথাটাই মনে পড়ে অস্বস্তি হচ্ছিল। সত্য কি সত্যিই মানুষের সবচেয়ে বড় শক্তি? নাকি সত্যকে শক্তি বানানোর জন্যও ক্ষমতা দরকার?
মিলন সাহেব কোনো উত্তর দিলেন না। তিনি শুধু ফোনের স্ক্রিনে আবার সেই কাগজের ছবিটা খুললেন।
স্মার্টফোনে থাকা সেই ছবিটা জুম করলেন। কয়েকটি স্বাক্ষর দেখা গেল। কিছু সিল। কিছু শব্দ। কাগজের ওপর সবকিছুই পরিষ্কার। কিন্তু তার জীবন? সেটাই যেন সবচেয়ে অস্পষ্ট। চোখে অঝরধারা।
দশ
দেশে ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে। ফ্যাসিবাদের বিদায় হয়েছে বলে অনেকে। সময়ও নাকি বদলেছে।
চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের পর নতুন বাংলাদেশের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে মানুষের মনে। কিন্তু পুরোনো কাঠামোর ছায়া কি এত সহজে মুছে যায়? হয়তো যায় বক্তব্যে, বিবৃতিতে, কিন্তু বাস্তবে মিলন সাহেবের জীবনে যেন সেই পুরোনো ছায়াই আবার ফিরে এসেছে। ভর করছে। নতুন অনিশ্চয়তায় আছন্ন তার জীবন-সংসার।
একসময় তিনি অন্যায়ের ভয়ে পরিচয় লুকিয়ে বেঁচেছেন। আজ নিজের পরিচয় নিয়েই দাঁড়িয়ে আছেন।
একসময় তিনি অন্যের জন্য সত্য খুঁজেছেন। ভাগ্যের ফেরে আজ নিজের পরিবারের সত্য প্রমাণ করতে ছুটছেন। আহ! কী নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি জীবন?
একসময় আদালতের বারান্দায় ঘুরেছেন। অন্যের জীবন-সংসার দেখেছেন। জুলুম-নির্যাতনের ফ্রেম একেছেন ক্যামেরায়। আজও ঘুরছেন। তবে এবার আদালতের দরজার ওপারে তার নিজের সংসার ফ্রেম হয়েছে। আগে ভাবতেন ভুক্তভোগীদের শিশু সন্তান পরিবার পরিজনদের কথা, আজ ঘরের ভেতর অপেক্ষা করছে নিজেরই আট বছরের শিশু।
এগারো
সেদিন অফিস থেকে বের হওয়ার সময় মিলন সাহেব আমাকে বললেন, ‘ভাই, জানেন, সবচেয়ে বড় কষ্টটা কী?’ আমি তাকালাম। তিনি বললেন, আমি এত বছর ধরে মানুষের জন্য সত্য খুঁজেছি। আজ আমার নিজের ঘরে সত্য আছে। আসল কাগজ আছে। সাক্ষী আছে। তবু আমার সংসার জেলে। কথাটা বলে তিনি কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন। তারপর খুব নিচু স্বরে বললেন, ‘তাহলে বলেন, সত্যটা কোথায়?’ আমি কোনো উত্তর দিতে পারলাম না। আমার কাছে কোনো উত্তর ছিল না।
শুধু মনে হলো, একটি কাগজেরও কখনো কখনো ভাগ্য থাকে। কখনো সেই কাগজ চাকরি এনে দেয়। কখনো নিরাপত্তা দেয়। কখনো পরিচয় দেয়। আবার কোনো এক অদৃশ্য মুহূর্তে সেই কাগজই হয়ে ওঠে অভিযোগের প্রমাণ। একই কাগজ। একই স্বাক্ষর। একই নাম। শুধু বদলে যায় সময়। বদলে যায় ক্ষমতার অবস্থান। আর বদলে যায় কাগজটির অর্থ।
ক্ষমতার কাছে একটি কাগজের মূল্য শূন্য হতে পারে। কিন্তু সেই শূন্যের ভেতরেই কখনো কখনো একটি পরিবারের পুরো জীবন আটকে থাকে।