মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের গ্রেপ্তার : গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত
৭ অক্টোবর ২০২৬ ১৯:২৯
॥ মতিউর রহমান আকন্দ ॥
মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে বিএনপি কি আবারও ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থার দিকে প্রত্যাবর্তনের প্রথম পদক্ষেপ গ্রহণ করল? সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ ও সরকারের ভূমিকা বিশ্লেষণ করলে এ ধরনের আশঙ্কা একেবারে অমূলক বলে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। একজন নাগরিকের স্বাভাবিক প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে গ্রেপ্তার, মামলা ও রিমান্ডের মতো পদক্ষেপ শুধু একজন ব্যক্তির অধিকার ক্ষুণ্ন করার বিষয় নয়; বরং এটি দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ, নাগরিক স্বাধীনতা এবং ভিন্নমত প্রকাশের অধিকারের ভবিষ্যৎ নিয়েও গুরুতর প্রশ্নের অবতারণা করে।
বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনা ও যাত্রীদের ক্ষোভ
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও ও প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ১ অক্টোবর বিমানবন্দরে যাত্রীদের লাগেজ সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। যাত্রীরা যথাসময়ে লাগেজ পাননি, পর্যাপ্ত ট্রলির অভাব দেখা দেয় এবং ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফেরা অনেক যাত্রী তাদের জমজমের পানিও যথাসময়ে বুঝে পাননি বলে অভিযোগ ওঠে।
দীর্ঘসময় অপেক্ষা করেও প্রয়োজনীয় লাগেজ ও অন্যান্য সামগ্রী না পাওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়। বিমানবন্দরের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বারে এ ধরনের অব্যবস্থাপনা কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়। বিশেষত দীর্ঘ ভ্রমণ শেষে দেশে ফেরা যাত্রীদের জন্য লাগেজ পেতে অস্বাভাবিক বিলম্ব এবং ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতা নিঃসন্দেহে দুর্ভোগের কারণ।
এমন পরিস্থিতিতে একজন নাগরিক ও যাত্রী হিসেবে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদ জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, তিনি বিমানবন্দরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সামনে দাঁড়িয়ে উচ্চকণ্ঠে ও দৃঢ়তার সঙ্গে অব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরছেন এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।
তার বক্তব্যের ধরন বা প্রতিবাদের ভাষা নিয়ে কারো ভিন্নমত থাকতে পারে। কিন্তু কোনো সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে একজন নাগরিকের প্রতিবাদ জানানোর অধিকার একটি গণতান্ত্রিক সমাজের স্বীকৃত অধিকার। সেই প্রতিবাদকে নাগরিক সচেতনতা এবং জনগণের অধিকার হিসেবে নেওয়ার পরিবর্তে যদি দমনমূলক পন্থা অবলম্বন করা হয়, তাহলে তা রাষ্ট্রের আসল মালিক জনগণের জন্য উদ্বেগজনক দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।
প্রতিবাদের পর গ্রেপ্তার, মামলা ও রিমান্ড
ঘটনার পরদিন মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে একটি সাজানো মামলায় গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) গ্রেপ্তার করে। পরবর্তী সময়ে তাকে বিমানবন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয় এবং আদালতে হাজির করা হয়। এছাড়া তাকে রিমান্ডে নেওয়ার বিষয়টিও সামনে এসেছে।
এখানে স্বাভাবিকভাবেই কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন দেখা দেয়। বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোর পরপরই একজন নাগরিককে গ্রেপ্তার করার প্রয়োজনীয়তা কতটুকু ছিল? তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের প্রকৃত ভিত্তি কী? অভিযোগের সঙ্গে প্রকাশ্যে প্রচারিত ভিডিও ফুটেজের সামঞ্জস্য কতটুকু? এসব প্রশ্নের নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য উত্তর পাওয়া জরুরি।
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার অন্যতম শর্ত হচ্ছে— অপরাধের অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ তদন্ত ও ন্যায়বিচারের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা। একইসঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তিরও আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার রয়েছে। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপিত হলেই তাকে অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।
অভিযোগ ও ভিডিও ফুটেজের মধ্যে অসংগতি নিয়ে প্রশ্ন
মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে একজন কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে বলে জানা গেছে। অথচ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিও ফুটেজে তাকে বিমানবন্দরের কর্মকর্তাদের সামনে দাঁড়িয়ে উচ্চকণ্ঠে প্রতিবাদ জানাতে দেখা গেলেও ওই ফুটেজে কাউকে মারধরের দৃশ্য দৃশ্যমান নয়।
এখানে প্রশ্ন হচ্ছে— তার বিরুদ্ধে মারধরের যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তার সমর্থনে কোনো নির্ভরযোগ্য ভিডিও ফুটেজ বা প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য জনসমক্ষে উপস্থাপন করা হয়েছে কি না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, কথিত হামলার স্থানটিতে সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল না— এমন দাবি করা হয়ে থাকলে সেটিও যথাযথভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
ঘটনাটি যেখানে ঘটেছে, সেখানে সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল। সেখানে মারধরের ঘটনা দেখা যাচ্ছে না। তিনি কি মারধরের জন্য যেখানে সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল না, সেখানে গিয়েছিলেন? এ অভিযোগটি নিতান্তই হাস্যকর।
কেবল অভিযোগের ভিত্তিতেও কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা যায় না। বিমানবন্দরের অন্যান্য ক্যামেরার ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, ঘটনার সময়রেখা এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক আলামত পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করা সম্ভব।
সুতরাং অভিযোগের সত্যতা নিরূপণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত প্রমাণভিত্তিক তদন্ত নিশ্চিত করা এবং আইনগত সীমাবদ্ধতা না থাকলে তদন্তের ফলাফল জনসমক্ষে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা। অন্যথায় অভিযোগের সঙ্গে দৃশ্যমান তথ্যের অসামঞ্জস্য জনমনে সন্দেহ ও অবিশ্বাস সৃষ্টি করতে পারে।
সরকারের পদক্ষেপে কী বার্তা যাচ্ছে?
একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নাগরিকের প্রতিবাদ, সরকারের সমালোচনা এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের অনিয়মের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার অধিকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনগণই রাষ্ট্রের মালিক। আর রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান জনগণের সেবা নিশ্চিত করার জন্য প্রতিষ্ঠিত।
কোনো নাগরিক সরকারি প্রতিষ্ঠানের অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানালে রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে তার অভিযোগের যথার্থতা যাচাই করা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা। কিন্তু প্রতিবাদের পরপরই যদি তাকে গ্রেপ্তার, মামলা ও রিমান্ডের মুখোমুখি হতে হয়, তাহলে জনমনে এমন ধারণা সৃষ্টি হতে পারে যে সরকারের সমালোচনা করলেই হয়রানির শিকার হতে হবে।
মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের ঘটনায় এমন আশঙ্কাই ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের যথার্থতা এখনো নিরপেক্ষ বিচারিক প্রক্রিয়ায় চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত না হলেও ঘটনাপ্রবাহের সময়ক্রম ও দৃশ্যমান তথ্যের সঙ্গে অভিযোগের সম্পর্ক নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
সরকারের উচিত এসব প্রশ্নের উত্তর দেওয়া। কারণ গণতন্ত্রের সৌন্দর্য শুধু নির্বাচনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং ভিন্নমত, সমালোচনা ও প্রতিবাদের প্রতি রাষ্ট্রের সহনশীলতার মধ্য দিয়েই গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রকৃত প্রতিফলন ঘটে।
ফ্যাসিবাদী প্রবণতায় প্রত্যাবর্তনের আশঙ্কা
বাংলাদেশের জনগণ দীর্ঘদিন ধরে কর্তৃত্ববাদ, রাজনৈতিক দমন-পীড়ন এবং নাগরিক অধিকার সংকোচনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছে। এদেশের মানুষ গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশায় বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর জনগণের প্রত্যাশা ছিল, দেশে এমন একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হবে, যেখানে ক্ষমতাসীনদের সমালোচনা করা যাবে, অন্যায়ের প্রতিবাদ জানানো যাবে এবং কোনো নাগরিককে রাজনৈতিক পরিচয় বা মতাদর্শের কারণে হয়রানির শিকার হতে হবে না।
এমন প্রেক্ষাপটে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের গ্রেপ্তার গভীরভাবে পর্যালোচনার দাবি রাখে। যদি প্রমাণিত হয় যে তার বিরুদ্ধে আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য কোনো ভিত্তি ছাড়াই কেবল প্রতিবাদ করার কারণে দমনমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তাহলে তা হবে গণতান্ত্রিক অধিকার ও আইনের শাসনের পরিপন্থী।
বিএনপি অতীতে কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে ভূমিকা পালন করেছে। ফলে দলটির কাছে জনগণের প্রত্যাশাও অনেক বেশি। কিন্তু ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় যদি বিরোধী মত, নাগরিক প্রতিবাদ কিংবা সরকারের সমালোচনাকে দমনের প্রবণতা দেখা দেয়, তাহলে তা দলটির ঘোষিত গণতান্ত্রিক অঙ্গীকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে।
কোনো একটি ঘটনা দিয়ে একটি রাজনৈতিক দলের সামগ্রিক চরিত্র সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যুক্তিসংগত নয়। তবে এ ধরনের ঘটনা যদি ধারাবাহিক দমনমূলক আচরণের সূচনা করে, তাহলে তা অবশ্যই ফ্যাসিবাদী প্রবণতায় প্রত্যাবর্তনের অশনিসংকেত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
প্রতিবাদী কণ্ঠ রুদ্ধ করার পরিণতি
ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, যে রাষ্ট্রে নাগরিকের ন্যায়সংগত প্রতিবাদকে স্বাগত জানানো হয়, সেখানে জবাবদিহি ও সুশাসনের পথ সুগম হয়। বিপরীতে যেখানে প্রতিবাদকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং সমালোচনাকারীদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে নীরব রাখার চেষ্টা করা হয়, সেখানে প্রশাসনিক অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহার ক্রমেই বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের ঘটনাটি তাই কেবল একজন ব্যক্তির গ্রেপ্তারের ঘটনা নয়; বরং এটি নাগরিক অধিকার, প্রশাসনিক জবাবদিহি এবং সরকারের গণতান্ত্রিক মানসিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাও বটে।
ভিডিও ফুটেজে তাকে দৃঢ় কণ্ঠে প্রতিবাদ জানাতে দেখা গেছে। গ্রেপ্তার ও আদালতে হাজির হওয়ার সময়ও তিনি প্রতিবাদী অবস্থানে ছিলেন বলে প্রচারিত দৃশ্য থেকে প্রতীয়মান হয়। তার এই অবস্থানকে কেউ সমর্থন করতে পারেন, কেউ তার প্রতিবাদের ধরন নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন। কিন্তু কোনো ব্যক্তির প্রতিবাদী অবস্থানকে কেন্দ্র করে তার আইনগত অধিকার যেন ক্ষুণ্ন না হয়, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
গ্রেফতারের পর কোর্টে নেয়া, রিমান্ড আবেদন হেলমেট পড়ানোর দৃশ্য ফ্যাসিস্ট শাসনের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ জামিন অযোগ্য নয়। তার জামিন মাঞ্জুর আদালতের বিষয় হলেও স্বৈরাচারী আমলের আদালতের চিত্রই ফুটে উঠেছে।
গণতন্ত্রের স্বার্থে সরকারের করণীয়
মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রাসঙ্গিক ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য আলামত পর্যালোচনা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এখন অত্যন্ত জরুরি। একইসঙ্গে বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের ভূমিকা নিরূপণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
সরকারের মনে রাখতে হবে, জনগণের সমালোচনা কোনো সরকারের জন্য হুমকি নয়; বরং তা প্রশাসনিক দুর্বলতা চিহ্নিত করা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার একটি কার্যকর মাধ্যম। জনগণের প্রতিবাদকে সম্মান জানানো এবং সমালোচনার জবাব যুক্তি ও কর্মের মাধ্যমে দেওয়াই গণতান্ত্রিক সরকারের বৈশিষ্ট্য।
মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের ঘটনায় সরকারের ভূমিকা যদি স্বচ্ছ ও আইনসম্মত না হয়, তাহলে তা সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ন করতে পারে। আর যদি তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অপরাধের বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ থাকে, তাহলে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় তা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই প্রতিবাদের অধিকার ও অপরাধের অভিযোগকে এক করে দেখা সমীচীন নয়।
গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক
মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের গ্রেপ্তার বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবনার অবকাশ সৃষ্টি করেছে। বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে একজন নাগরিকের প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে যে মামলা, গ্রেপ্তার ও রিমান্ডের ঘটনা ঘটেছে, তার প্রতিটি দিক স্বচ্ছভাবে পর্যালোচনা করা জরুরি।
বিএনপির সামনে এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। তারা কি জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও আইনের শাসন সমুন্নত রাখবে, নাকি সমালোচনা ও প্রতিবাদ মোকাবিলায় দমনমূলক পন্থা অবলম্বন করবে?
মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের ঘটনা যদি কেবল বিচ্ছিন্ন কোনো আইনগত পদক্ষেপ হয়ে থাকে, তাহলে নিরপেক্ষ তদন্ত ও স্বচ্ছ বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা স্পষ্ট হওয়া উচিত। আর যদি এর পেছনে প্রতিবাদী কণ্ঠকে স্তব্ধ করার কোনো উদ্দেশ্য থেকে থাকে, তাহলে তা হবে গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক।
দেশের জনগণ আর কোনো কর্তৃত্ববাদী রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ফিরে যেতে চায় না। তারা এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রত্যাশা করে, যেখানে নাগরিকের কণ্ঠস্বরের মূল্য থাকবে, অন্যায়ের প্রতিবাদ করার স্বাধীনতা থাকবে এবং ক্ষমতাসীনদেরও জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। গণতন্ত্রের প্রতি প্রকৃত অঙ্গীকারের প্রমাণ দিতে হলে সরকারকে অবশ্যই এই প্রত্যাশার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।
লেখক : আইনজীবী, কলামিস্ট।