সংক্ষিপ্ত বিশ্ব সংবাদ


২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:৪৬

ইসলামোফোবিয়া কাটাতে ব্রিটেনে শতাধিক মসজিদ উন্মুক্ত
ব্রিটেনে মুসলিমদের প্রতি বিদ্বেষ ও মসজিদে হামলার ঘটনা বাড়তে থাকায় মানুষকে ইসলাম ও ব্রিটিশ মুসলিমদের সম্পর্কে সরাসরি জানার সুযোগ দিতে একশর বেশি মসজিদ সাধারণ মানুষের জন্য তাদের দরজা খুলে দিয়েছে। ‘ভিজিট মাই মসজিদ’ কর্মসূচির আওতায় লন্ডন, বার্মিংহাম, শেফিল্ড, ম্যানচেস্টার, গ্লাসগো, সাউথেন্ড ও কার্ডিফসহ বিভিন্ন শহরের মসজিদে এই আয়োজন করা হয়। মুসলিম কাউন্সিল অব ব্রিটেন আয়োজিত ‘ভিজিট মাই মসজিদ’ কর্মসূচিটি এবার ১১ বছরে পড়েছে। মসজিদগুলোয় দর্শনার্থীদের জন্য চা, বিভিন্ন সংস্কৃতির খাবার, আলোচনা, আন্তঃধর্মীয় কার্যক্রম, শিল্প প্রদর্শনী এবং মতবিনিময়ের আয়োজন করা হয়। আয়োজকদের মতে, মুসলিমদের প্রতি বিদ্বেষ বাড়ার প্রেক্ষাপটে এবার এই উদ্যোগের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। উত্তর লন্ডনের লন্ডন ইসলামিক কালচারাল সোসাইটিও এই কর্মসূচিতে অংশ নেয়। গত তিন বছরে মসজিদটি একাধিক হামলা ও হয়রানির মুখে পড়েছে। এক ঘটনায় এক নারী মুসল্লিদের উদ্দেশে তাদের সন্তানদের হত্যার কথা বলেন। অন্য একটি ঘটনায় ভবনের গ্যাসের পাইপ খুলে এমনভাবে পরিবর্তন করা হয়, যাতে গ্যাস জমে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হয়। এসব ঘটনার পরও মসজিদটি নিজেদের আরো বেশি মানুষের জন্য উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়। মুসলিম কাউন্সিল অব ব্রিটেনের মহাসচিব ড. ওয়াজিদ আখতার বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্রিটিশ মুসলিম ও তাদের প্রতিবেশীদের সম্পর্কে অনেক মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদম এবং অনলাইন প্রচারণার মাধ্যমে তথ্য পাচ্ছেন। এতে ধর্মীয় সম্প্রদায়গুলোর বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন। ইস্ট লন্ডন মসজিদ ও লন্ডন মুসলিম সেন্টারের মরিয়ম সেন্টারের প্রধান সুফিয়া আলম বলেন, বন্ধুত্ব ও সংহতি যে ঘৃণার চেয়ে শক্তিশালী— এটি দেখাতেই তাদের মসজিদ এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছে। তার মতে, মানুষ যখন মসজিদে এসে মুসলিম পরিবার, স্বেচ্ছাসেবী ও মুসল্লিদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পান, তখন অনেক প্রচলিত ধারণা ও ভয় দূর হতে শুরু করে। মসজিদের নিরাপত্তা নিয়েও মুসলিমদের উদ্বেগ বাড়ছে। ব্রিটিশ মুসলিম ট্রাস্টের হিসেবে, যুক্তরাজ্যে প্রতি পাঁচ দিনে একটি মসজিদ হামলার শিকার হচ্ছে। এসব ঘটনার মধ্যে ভয় দেখানো, সহিংসতা, সম্পত্তির ক্ষতি, হয়রানি, মুসলিমবিদ্বেষী বক্তব্য, অনলাইনে নির্যাতন ও ভাঙচুর রয়েছে। গ্রেটার ম্যানচেস্টারের চেডল মসজিদের ফারুক রফিক ‘ভিজিট মাই মসজিদ’ কর্মসূচিকে এমন একটি জায়গা হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যেখানে মানুষ ভুল বোঝাবুঝির শিকার একটি ধর্ম ও তার অনুসারীদের সম্পর্কে সরাসরি জানার সুযোগ পান। ফিন্সবারি পার্ক মসজিদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ কোজবারও মুসলিমবিদ্বেষ মোকাবিলায় উন্মুক্ততা, সংলাপ ও সংহতির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। লন্ডন ইসলামিক কালচারাল সোসাইটির মসজিদটি পরিচালনা করেন বিবি খান। তিনি যুক্তরাজ্যের কোনো মসজিদের সভাপতি হওয়া প্রথম নারী। তার মতে, গণমাধ্যমে অনেক সময় স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের বাস্তব চিত্র উঠে আসে না। তাই নিজেদের বিশ্বাস, কাজ ও মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক সম্পর্কে সরাসরি কথা বলার সুযোগ তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ। বিবি খান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো মিথ্যা তথ্য নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার মতে, এ ধরনের গুজব ও ষড়যন্ত্রতত্ত্ব মানুষের মধ্যে আরো ভয় ও সন্দেহ তৈরি করতে পারে। এ কারণে মুসলিম ও অন্য ধর্মের মানুষের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ ও পারস্পরিক বোঝাপড়াকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। দ্য গার্ডিয়ান।

ন্যাটোর বিরুদ্ধে বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে রাশিয়া
ন্যাটোর বিরুদ্ধে রাশিয়া শিগগিরই বড় কোনো পদক্ষেপ নিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন ইউরোপের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী দোনালদ তুস্ক পার্লামেন্টে জানান, গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ন্যাটোভুক্ত কোনো এলাকায় হামলা চালিয়ে ন্যাটোর আর্টিকেল ৫-এর দৃঢ়তা পরীক্ষা করতে পারে রাশিয়া। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাখোঁ এই সতর্কবার্তাকে ‘যৌক্তিক এবং তথ্যভিত্তিক’ বলে অভিহিত করে জরুরি বৈঠক ডাকেন। গার্ডিয়ানকে দেওয়া পৃথক সাক্ষাৎকারে ইউরোপের তিন গোয়েন্দা প্রধান নিজেদের মূল্যায়ন তুলে ধরেন। চেক নিরাপত্তা সংস্থা বিআইএস প্রধান মিহাল কোউদেলকা বলেন, সীমান্তবর্তী কোনো ন্যাটো এলাকায় সীমিত অনুপ্রবেশও রাশিয়ার পরিকল্পনার অংশ হতে পারে। তার ভাষায়, ‘এটা সম্ভব। এর মধ্যে সীমিত অনুপ্রবেশ, ফ্ল্যাগড উস্কানি, বা ব্যাপক প্রভাব বিস্তারকারী প্রচারণা থাকতে পারে।’ তিনি জানান, এমন পরিস্থিতি ‘বছরের মধ্যে নয়, মাসের মধ্যেই’ তৈরি হতে পারে, তবে যোগ করেন, ‘এটা যাতে না ঘটে সে জন্য অনেকেই সাধ্যমতো চেষ্টা করছেন।’ তবে বাল্টিক দেশগুলোর কর্মকর্তারা বরং সতর্ক অবস্থানে আছেন। লাটভিয়ার ভিডিডি প্রধান নরমুন্দস মেঝভিয়েতস বলেন, ‘আসন্ন কোনো হামলার লক্ষণ আমরা দেখছি না’! যদিও মস্কোর কঠোর পদক্ষেপের প্রস্তুতির আলামত স্বীকার করেন। এস্তোনিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাসচিব ইয়োনাতান ভেসেভিওভ সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো আতঙ্ক নিয়ে অসন্তোষ জানিয়ে লেখেন, ‘হামলার আশঙ্কা করার মতো কোনো কারণ থাকলে নিশ্চিত থাকুন, আমরা তা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেব। ততক্ষণ পর্যন্ত শান্ত থাকুন।’ ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ হামলার গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে বলেন, ‘এর সঙ্গে বাস্তবতার কোনো সম্পর্ক নেই।’ এদিকে ইউক্রেন যুদ্ধ পঞ্চম শীতের দিকে এগোচ্ছে, শান্তি প্রচেষ্টায় সফলতার লক্ষণ নেই। ট্রাম্প প্রশাসনের দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার মস্কো ও কিয়েভ সফর করলেও সুইডেনের সামরিক গোয়েন্দা প্রধান টমাস নিলসন বলেন, ‘প্রকৃত আলোচনা নিয়ে মস্কোতে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে, এমন কোনো লক্ষণ আমি দেখিনি… তারা কেবল আলোচনার নাটক করছে।’ রয়টার্স।

ইতালির স্কুলে নিষিদ্ধ হতে যাচ্ছে বোরকা-নিকাব
ইতালির স্কুলগুলোয় বোরকা ও নিকাব নিষিদ্ধ এবং প্রতিটি শ্রেণিতে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা সীমিত করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। একইসঙ্গে স্কুলে মানিয়ে নিতে গুরুতর সমস্যায় থাকা বিদেশি শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের ইতালীয় ভাষা শেখা বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবও আনা হবে। তবে এসব পদক্ষেপ এখনো আইনে পরিণত হয়নি। গত রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রোমে নিজের দল ব্রাদার্স অব ইতালির যুব শাখার এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব পরিকল্পনার কথা জানান মেলোনি। তিনি বলেন, ইতালির কোনো শ্রেণিকক্ষে স্থানীয় শিশুরা যেন নিজেদের সংখ্যালঘু মনে না করে, সেটি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। মেলোনি বলেন, কোনো শ্রেণিতে একজন শিশু ইতালীয় ভাষা না বুঝলে সহপাঠী ও শিক্ষকদের সহায়তায় তার ভাষা শেখা এবং দ্রুত সমাজ ও শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সম্ভব। কিন্তু ভাষা না জানা শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক বেড়ে গেলে বা তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে গেলে সেটি আর একীভূতকরণ নয়, বরং অবহেলায় পরিণত হয়। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় প্রতি শ্রেণিতে বিদেশি শিক্ষার্থীর সর্বোচ্চ সংখ্যা নির্ধারণ করা হবে। তবে নতুন সীমা কত হবে, তা মেলোনি জানাননি। ইতালির একটি গবেষণা সংস্থার হিসাবে, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে দেশটির স্কুলগুলোয় ইতালীয় নাগরিকত্ব নেই এমন শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৯ লাখ ৩০ হাজারের বেশি ছিল। মোট শিক্ষার্থীর মধ্যে তাদের অংশ ছিল প্রায় ১১ দশমিক ৬ শতাংশ। এই হিসাবের মধ্যে ইতালিতে জন্ম নেওয়া এমন শিক্ষার্থীরাও রয়েছেন, যাদের এখনো ইতালীয় নাগরিকত্ব নেই। মুখঢাকা পোশাকের ক্ষেত্রেও ইতালিতে বর্তমানে বোরকা বা নিকাব নিষিদ্ধ করার কোনো পৃথক জাতীয় আইন নেই। তবে ১৯৭৫ সালের একটি আইনে যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া এমন পোশাক বা সরঞ্জাম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, যাতে একজন ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। ২০০৮ সালে দেশটির সর্বোচ্চ প্রশাসনিক আদালতের এক রায়ে ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক কারণে মুখঢাকা পোশাক ব্যবহারের বিষয়েও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। তবে পরিচয় যাচাইয়ের প্রয়োজন হলে মুখ দেখাতে হয়। মেলোনি বলেন, স্কুলে মুখ খোলা রেখে যেতে হবে এবং ইতালিতে কোনো তরুণীকে কোনো বাস্তব বা কথিত ঐতিহ্যের নামে মুখ ঢেকে রাখতে বাধ্য করা উচিত নয়। তার সরকারের প্রস্তাবগুলো এখন মন্ত্রিসভা এবং পরবর্তী আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। ফলে বিদেশি শিক্ষার্থীর নতুন সীমা, স্কুলে মুখঢাকা পোশাক নিষেধাজ্ঞার পরিধি এবং অভিভাবকদের ভাষা শেখার নিয়ম চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত এগুলোকে প্রস্তাব হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে। দ্য গার্ডিয়ান, এপি।

১৪০০ মুসলিম পরিবারকে উচ্ছেদ করা জমিতে আদানি বিদ্যুৎ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর
আসামের ধুবড়ি জেলায় আদানি পাওয়ার লিমিটেডের একটি ৩,২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। ভারতীয় গণমাধ্যম ‘স্ক্রোল’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে প্রায় ১,৪০০টি বাঙালি বংশোদ্ভূত মুসলিম পরিবারের ঘরবাড়ি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া জমিতেই এই প্রকল্পের সূচনা করা হলো। প্রকল্পটির আওতায় পড়েছে চাপর রাজস্ব চক্রের অধীনস্থ চারুয়াবাখরা, চিরাকুটা ১ ও ২ এবং সন্তোষপুর গ্রাম। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে আসাম সরকার ওই এলাকার প্রায় ১,১৫৭ একর সরকারি জমিতে বসবাসকারী ১,৪০০টিরও বেশি বাঙালি বংশোদ্ভূত মুসলিম পরিবারের বসতভিটা উচ্ছেদ করে। এর ফলে প্রায় ১০,০০০ মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েন, যাদের অনেকেই সেখানে তিন থেকে চার দশক ধরে বসবাস করছিলেন। জমিটি প্রথমে রাজ্য পরিচালিত ‘আসাম পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড’-কে বরাদ্দ করা হয়, যা পরবর্তীতে প্রস্তাবিত প্রকল্পের জন্য আদানি পাওয়ারকে হস্তান্তর করা হয়। তবে উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠে এসেছে। পরিবেশগত ছাড়পত্রের জন্য আবেদনে আদানি পাওয়ার কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছিল যে, প্রকল্প এলাকায় কোনো জনবসতি নেই এবং সেখানে পুনর্বাসন বা ক্ষতিপূরণের কোনো দাবিও নেই। প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে ৩,৫০০ বিঘা সরকারি জমি জোরপূর্বক দখল করা হয়। এর পাশাপাশি আরও ১,৭০৩ বিঘা জমি নেওয়া হয় যেখানে জমির মালিকানা স্বত্ব বা পাট্টা থাকা সাধারণ মানুষ বসবাস করতেন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়া সত্ত্বেও তাদের অর্ধেকেরও বেশি মানুষ এখনো ক্ষতিপূরণ পাননি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের জন্য জেলা প্রশাসন বাইজার আলগা গ্রামে ৩০০ বিঘা জমি বরাদ্দ করে এবং আসবাবপত্র স্থানান্তরের জন্য এককালীন ৫০,০০০ টাকা সহায়তার কথা ঘোষণা করে। তবে বাসিন্দারা সেখানে যেতে রাজি হননি। কারণ এলাকাটি ব্রহ্মপুত্র নদ পরিবেষ্টিত অত্যন্ত নিচু চর এলাকা। ২০১৬ সালে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে আসামের বাঙালিভাষী মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলোয় যে ধারাবাহিক উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে, এই ঘটনাটি তারই অংশ। ২০১৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযান চলাকালীন পুলিশের গুলিতে অন্তত ৮ জন মুসলিম নিহত হয়েছেন। গত ৭ সেপ্টেম্বর আসামের গোয়ালপাড়া জেলায় মুসলিম পরিবারগুলোকে লক্ষ করে পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযানে মাত্র ২৪ ঘণ্টার নোটিশে ৫টি গ্রামের ৭৩টি পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়। এই পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা একটি পিটিশনের শুনানিতে গৌহাটি হাইকোর্ট এই উচ্ছেদের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং মন্তব্য করেন যে এটি প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারের মূল নীতির লঙ্ঘন। মাকতুব মিডিয়া।

ধ্বংসস্তূপ পেরিয়ে ক্লাসরুমে গাজার শিশুরা
যুদ্ধের কারণে দীর্ঘদিন শ্রেণিকক্ষের বাইরে থাকা গাজার শিশুরা প্রায় তিন বছর পর আবার সরাসরি ক্লাসে ফিরেছে। গত ১৯ সেপ্টেম্বর শনিবার থেকে ধ্বংসপ্রাপ্ত বা ক্ষতিগ্রস্ত ভবন, তাঁবু ও অস্থায়ী স্থাপনায় শুরু হয়েছে নতুন শিক্ষাবর্ষের পাঠদান। তবে স্কুলে ফেরার আনন্দের মধ্যেও অধিকাংশ পরিবারের সামর্থ্য নেই ইউনিফর্ম, খাতা, কলমসহ প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ কেনার। জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফের তথ্যানুযায়ী, গাজার প্রায় ৯৮ শতাংশ স্কুল ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যুদ্ধের কারণে প্রায় ৬ লাখ ৬০ হাজার শিশু নিয়মিত সরাসরি শিক্ষা থেকে বঞ্চিত ছিল। অনেক স্কুল এখন আর পাঠদানের উপযোগী নেই, আবার কিছু স্কুল বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে। খান ইউনিসের শিক্ষা বিভাগের পরিচালক ইব্রাহিম রমজান জানান, দীর্ঘ সংঘাতে প্রায় ২২ হাজার শিক্ষার্থী এবং ৭৭০ জনের বেশি শিক্ষা কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। নিহত শিক্ষা কর্মকর্তাদের মধ্যে ৫৩২ জন শিক্ষক ছিলেন। গাজার শিক্ষার্থী মুয়াইয়াদ আবু মুস্তাফা বলেন, তিন বছর আগে শেষবার স্কুলে গিয়েছিল সে। এবার নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ায় ক্লাসে ফিরতে পেরে আনন্দিত হলেও আগের মতো পরিবেশ নেই। তাঁবুর মেঝেতে বসে ক্লাস করতে হচ্ছে, পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থাও নেই। স্কুলে যাওয়ার জন্য ভালো জুতা, খাতা বা কলমও তার পরিবারের পক্ষে কেনা সম্ভব হয়নি। যুদ্ধের মধ্যে সে কয়েকজন বন্ধুকেও হারিয়েছে। ধ্বংসস্তূপের মধ্যেই গাজার শিক্ষা কর্তৃপক্ষ আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বিভিন্ন সংস্থার সহায়তায় ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের কার্যক্রম শুরু করেছে। কোথাও তাঁবু, কোথাও ত্রিপল, টিন বা কাঠ দিয়ে তৈরি অস্থায়ী শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলছে। কোনো কোনো এলাকায় খোলা বালুময় জায়গায় শুধু কয়েকটি গদি ও একটি ব্ল্যাকবোর্ড দিয়েই ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। আবার কিছু স্কুল ভবন এখনো বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ১৪ বছর বয়সী ইয়ামেন আবু সামরা বলেছে, আগে স্কুলে যাওয়ার সময় তার মধ্যে আনন্দ কাজ করত। এখন গুলির শব্দ, রকেট হামলা ও বিমান হামলার ভয় নিয়েই তাকে স্কুলে যেতে হয়। শিক্ষা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইউনিসেফের সহায়তায় প্রায় ৫ লাখ ৪০ হাজার শিক্ষার্থী অস্থায়ী বেসরকারি বিদ্যালয়ে সরাসরি পাঠদানের আওতায় আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। যারা সরাসরি ক্লাসে অংশ নিতে পারবে না বা গাজা ছেড়ে গেছে, তাদের জন্য অনলাইন শিক্ষার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। রয়টার্স।

বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পেল ‘সৌদি ব্যাসাল্ট’ শিলা
সৌদি আরবের ‘হাররাত’ অঞ্চল থেকে সংগৃহীত ব্যাসাল্ট শিলা আন্তর্জাতিক ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান সংস্থা (আইইউজিএস) কর্তৃক ‘গ্লোবাল হেরিটেজ স্টোন’ তথা বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী পাথর হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। সৌদি আরবের ইতিহাসে এটি এ ধরনের প্রথম বৈশ্বিক সাফল্য। সৌদি গেজেটের প্রতিবেদনে বলা হয়, এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি সৌদি আরবের সমৃদ্ধ ভূতাত্ত্বিক ঐতিহ্যের বিষয়টি বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছে। ব্যাসাল্ট শিলার ভূতাত্ত্বিক, ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক মূল্য বৈজ্ঞানিকভাবে নথিভুক্ত করার ক্ষেত্রে সৌদি ভূতাত্ত্বিক জরিপ (এসজিএস)-এর নিরলস প্রচেষ্টার ফলেই এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। হাজার বছর ধরে এই ব্যাসাল্ট শিলা সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলের প্রাকৃতিক ভূদৃশ্য ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে অবস্থান করছে। এর বৈজ্ঞানিক ও গবেষণাগত মূল্যের পাশাপাশি ঐতিহ্যগতভাবে এটি আবাসন নির্মাণ, মানব বসতি স্থাপন এবং নানা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। উচ্চ স্থায়িত্ব, দীর্ঘস্থায়িত্ব এবং তাপ ও ক্ষয় প্রতিরোধ ক্ষমতার কারণে ব্যাসাল্ট শিলা অবকাঠামোগত নির্মাণসামগ্রী ও এগ্রিগেটের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। এছাড়া আধুনিক প্রযুক্তিতে ফাইবার, কম্পোজিট সামগ্রী এবং তাপ-অন্তরক (ইনসুলেশন) হিসেবেও এর উন্নত ব্যবহার রয়েছে। কিছু ব্যাসাল্ট কোয়ারি সড়ক ও রেলপথের খুব কাছে হওয়ায় পরিবহন ব্যবস্থার সুবিধা তৈরি হয়েছে, যা নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ বহুলাংশে কমিয়ে এনে এর অর্থনৈতিক গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সৌদি ভূতাত্ত্বিক জরিপ (এসজিএস) জানিয়েছে, এই বৈশ্বিক স্বীকৃতি আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে এবং ভূতাত্ত্বিক ঐতিহ্য রক্ষায় আন্তর্জাতিক উদ্যোগে সৌদি আরবের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে। সংস্থাটি আরও উল্লেখ করে যে, এই অর্জন সৌদির প্রাকৃতিক সম্পদকে সঠিকভাবে নথিবদ্ধ করার এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এর বৈজ্ঞানিক, উন্নয়নমূলক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব ফুটিয়ে তোলার ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের নিরলস প্রচেষ্টারই প্রতিফলন। সৌদি গেজেট।

নতুন ধরনের অস্ত্রের সফল পরীক্ষা উত্তর কোরিয়ার
নতুন ধরনের একটি অস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালানোর দাবি করেছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র প্রশাসন গত ২০ সেপ্টেম্বর রোববার অস্ত্রটির পরীক্ষা চালায় এবং এতে সরাসরি নেতৃত্ব দেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। গত মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) এ তথ্য জানিয়েছে। কেসিএনএর প্রতিবেদনে বলা হয়, পরীক্ষাটি অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির সক্ষমতা এবং উত্তর কোরিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে অগ্রগতির প্রমাণ। কিম জং উন বলেন, নতুন প্রযুক্তি অর্জন দেশের যুদ্ধ প্রস্তুতি ও ভবিষ্যতে সশস্ত্র বাহিনীর উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে নতুন অস্ত্রটির ধরন বা কারিগরি বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি পিয়ংইয়ং। কেসিএনএ দাবি করেছে, পরীক্ষাটি প্রতিবেশী দেশগুলোর নিরাপত্তার ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলেনি। কিম বলেন, এই প্রযুক্তিগত অগ্রগতির গুরুত্ব শত্রুপক্ষ কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই বুঝতে পারবে। কেসিএনএর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি আরও বলেন, এ ধরনের অগ্রগতি শত্রুর জন্য বড় ধরনের মাথাব্যথা এবং এড়ানো কঠিন আঘাতের কারণ হবে। উত্তর কোরিয়ার এই ঘোষণার দুই দিন আগে দেশটির পূর্ব উপকূল থেকে দুটি স্বল্পপাল্লার ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের কথা জানিয়েছিল দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী। কেসিএনএ প্রকাশিত ছবিতে কিম জং উনের সঙ্গে তার মেয়ে কিম জু এ-কে একটি পরীক্ষার দৃশ্য পর্যবেক্ষণ করতে দেখা যায়। ছবিতে প্রদর্শিত একটি স্ক্রিনে ‘হোয়াসংফো-১১এমএ-১’ (ঐধিংড়হমঢ়যড়-১১গধ-১)-এর উড্ডয়নপথের উল্লেখ দেখা গেছে। এ কারণে অস্ত্রটি উন্নত বা হাইপারসনিক সক্ষমতার ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয় এবং উত্তর কোরিয়াও অস্ত্রটির প্রকৃতি স্পষ্ট করেনি। তাস, রয়টার্স।

বিজেপি নেতার ‘ল্যান্ড জিহাদ’ অভিযোগের পর মসজিদের পানির সংযোগ বিচ্ছিন্নের নির্দেশ
বিজেপি নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য কিরিট সোমাইয়ার ‘ল্যান্ড জিহাদ’ অভিযোগের পর মুম্বাই বিমানবন্দরের টার্মিনাল-২ সংলগ্ন একটি মসজিদের পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশ দিয়েছে মুম্বাই মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন (বিএমসি)। ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষকে এ নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বিএমসি জানিয়েছে, মসজিদের পানির সংযোগের অনুমোদন সংক্রান্ত নথি সাত দিনের মধ্যে জমা দিতে হবে। তা না হলে পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে হবে। নির্দেশ অমান্য করলে মুম্বাই মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন আইনের আওতায় পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে বলেও জানানো হয়েছে। এর কয়েকদিন আগে মুম্বাই মেট্রোপলিটন রিজিয়ন ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (এমএমআরডিএ) মসজিদটিকে ‘অবৈধ’ ধর্মীয় স্থাপনা হিসেবে উল্লেখ করে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে এটি সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দেয়। এমএমআরডিএর দাবি, বিমানবন্দর এলাকার অন্তর্বর্তী উন্নয়ন পরিকল্পনায় (আইডিপি) জনসাধারণের উপাসনালয়ের কোনো ব্যবস্থা নেই। গত ৮ সেপ্টেম্বর বিজেপি নেতা কিরিট সোমাইয়া টার্মিনাল-২-এর কাছে থাকা মসজিদটি সরিয়ে দেয়ার দাবি জানান। তার অভিযোগ, আন্তর্জাতিক টার্মিনালের ট্যাক্সি স্ট্যান্ড এলাকায় প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই মসজিদটি পরিচালিত হচ্ছে। সোমাইয়া আরো অভিযোগ করেন, মুম্বাই ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট লিমিটেডের (এমআইএএল) কার্গো বিভাগের কর্মকর্তা মোহাম্মদ সরওয়ার এবং আরেক কর্মকর্তা এন, আর, শ্রীনিবাসন বিমানবন্দরের জমিতে অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ ও জমি দখলের সঙ্গে জড়িত। তিনি ঘটনাটিকে ‘অবৈধ নির্মাণ’ ও ‘জমি দখল’ হিসেবে দাবি করেন এবং এ ঘটনায় ‘ল্যান্ড জিহাদ’ শব্দটি ব্যবহার করেন। এর আগে মুম্বাইয়ের গোভান্দিতে তাহজিব ইসলামিক ইংলিশ স্কুলকে ‘অননুমোদিত মাদরাসা’ আখ্যা দিয়ে সোমাইয়া ‘স্কুল জিহাদ’ শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন। পরে বিএমসি ভবনটির একটি অংশ ভাঙার কাজ শুরু করে। তবে পরবর্তীতে বোম্বে হাইকোর্ট বিএমসিকে ওই স্থাপনায় আরো ভাঙার কাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেয়। এছাড়া মুসলিম-অধ্যুষিত আসনে জনসংখ্যা ও ভোটের পরিবর্তনের অভিযোগ তুলতে সোমাইয়া আগে ‘ভোট জিহাদ’ শব্দটিও ব্যবহার করেছেন। ২০২৬ সালে কথিত বাংলাদেশি অভিবাসী ও অবৈধ দখলের বিরুদ্ধেও তার প্রচার জোরদার হয়। মুম্বাইয়ের কথিত জমি দখলকে তিনি ‘ল্যান্ড জিহাদ’ হিসেবে উল্লেখ করে বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের কথিত অবৈধ বসতির বিরুদ্ধেও প্রচার চালান। মাকতুব মিডিয়া।

আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলায় একই পরিবারের ৩ জনসহ নিহত ২৮
আফগানিস্তানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সীমান্তঘেঁষা এলাকাগুলোয় পাকিস্তানের বিমান হামলায় একই পরিবারের ৩ জনসহ অন্তত ২৮ জন নিহত হয়েছেন। আফগান তালেবান সরকারের কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আল-জাজিরা। আফগান কর্মকর্তাদের তথ্যানুযায়ী, গত সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় ভোর ৪টার দিকে কুনার প্রদেশের নূরগাল জেলায় এ হামলা চালানো হয়। তালেবান সরকারের উপ-মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ জানান, কুনার প্রদেশে হামলায় একই পরিবারের তিন সদস্য নিহত এবং চারজন আহত হন। পাশাপাশি পাক্তিকা প্রদেশের বারমাল জেলায় দুটি স্থানে বোমাবর্ষণ করা হয়। এতে একটি দোকান এবং একটি খালি বাড়ি বিধ্বস্ত হলেও কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। সাম্প্রতিক মাসগুলোয় কিছুটা শান্ত থাকলেও এই হামলার ঘটনায় প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে ফের নতুন করে উত্তেজনা তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে দুই দেশের সীমান্তে সাম্প্রতিক বছরের সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘাতের পর থেকেই ইসলামাবাদ ও কাবুলের সম্পর্ক টানাপড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। পাকিস্তানের দাবি, আফগানিস্তানের ভেতর ঘাঁটি গেড়ে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো তাদের দেশে সীমান্তপার থেকে হামলা চালাচ্ছে। তবে তালেবান সরকার এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। সম্প্রতি উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তানের কোহাটে একটি পুলিশ ক্যাম্পের মসজিদে বোমা হামলায় অন্তত ২১ জন নিহত হন। সেই হামলার দায় স্বীকার করে পাকিস্তান তালেবানের (টিটিপি) একটি গোষ্ঠী। এর পরই পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় হুঁশিয়ারি দিয়ে জানায়, সন্ত্রাসী হামলার জবাবে আফগানিস্তানের ভেতরের আস্তানায় আঘাত হানতে পারে পাকিস্তান। ওই হুঁশিয়ারির পরপরই কুনার ও পাক্তিকায় এ বিমান হামলার ঘটনা ঘটলো। এর আগে আফগানিস্তানে গত সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতভর বিমান হামলা চালানোর দাবি করেছে পাকিস্তানের বাহিনী। এতে অন্তত ২৮ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে বলে পাকিস্তানের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা দাবি করেছেন। তবে কাবুলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পাক বাহিনীর হামলায় তিনজন নিহত হয়েছে। আল-জাজিরা।

ভারতে বুলডোজার রাজনীতির শিকার শত বছরের প্রাচীন কবরস্থান
ভারতের উত্তরপ্রদেশের কানপুর ডেভেলপমেন্ট অথরিটির (কেডিএ) একটি উচ্ছেদ অভিযানের সময় প্রায় ১০০ বছরের পুরোনো একটি কবরস্থান ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা এবং কবরস্থান কমিটির সদস্যদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। কবরস্থান কমিটির মতে, এই গোরস্থানটি প্রায় এক শতাব্দী ধরে বিদ্যমান এবং বেশ কয়েক দশক আগের ঐতিহাসিক নথিপত্রও এর আইনি সত্যতা নিশ্চিত করে। কমিটির অভিযোগ, কবরস্থান সংক্রান্ত যাবতীয় বৈধ কাগজপত্র জমা দেওয়া সত্ত্বেও কেডিএ এই ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই অভিযানে ভারী বুলডোজার ব্যবহার করা হয়, যার ফলে কবরস্থানের সীমানা প্রাচীরসহ একটি বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই পদক্ষেপের প্রতিবাদ জানানোর চেষ্টা করলেও ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক পুলিশ কর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল। অন্যদিকে কেডিএ কর্মকর্তাদের দাবি— জমিটি অবৈধভাবে দখল করে রাখা হয়েছিল এবং কর্তৃপক্ষের নিয়ম মাফিক উচ্ছেদ অভিযানের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কবরস্থান কমিটি অবশ্য কর্তৃপক্ষের এই দাবি সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছে এবং বিষয়টি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথা জানিয়েছে। কমিটির সদস্যরা জানান, কবরস্থানের মালিকানা ও নিবন্ধনের যাবতীয় নথি তাদের কাছে থাকা সত্ত্বেও এবং তাদের তীব্র আপত্তিকে উপেক্ষা করে কেন এই ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। পুরোনো সমাধিক্ষেত্র সুরক্ষা এবং ধর্মীয় ও সামাজিক সম্পত্তি উচ্ছেদের আগে প্রশাসনিক নিয়মকানুন সঠিকভাবে মানা হচ্ছে কি না— তা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কবরস্থান কমিটি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, তারা উপযুক্ত আদালতে তাদের আইনি লড়াই চালিয়ে যাবে এবং কবরস্থানের অবশিষ্ট জমি রক্ষার জন্য সব ধরনের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করবে। সিয়াসত ডেইলি।

মসজিদুল হারামের মুয়াজ্জিন শেখ ইব্রাহিম আল মাদানির ইন্তেকাল
মক্কার মসজিদুল হারামের মুয়াজ্জিন শেখ ইব্রাহিম আল মাদানি ইন্তেকাল করেছেন। গত সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে ইন্তেকাল করেন তিনি। সোমবার ফজরের আজানটিই ছিল মসজিদুল হারামে তার দেওয়া সর্বশেষ আজান। মৃত্যুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে সোমবার ভোররাতে শেখ ইব্রাহিম আল মাদানির আজান দেওয়ার একটি ভিডিও ফুটেজ ‘ইনসাইড দ্য হারামাইন’ প্রকাশ করেছে। সোমবার আসরের নামাজের পর মসজিদুল হারামে শেখ ইব্রাহিম আল মাদানির জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তাকে আল-মুয়াল্লা কবরস্থানে সমাহিত করা হবে। ১৯৭৬ সালে মদিনায় জন্মগ্রহণকারী শেখ ইব্রাহিম আল মাদানি ধর্মীয় পরিবেশে বেড়ে ওঠেন। শেখ ইব্রাহিমের ওপর তার দাদার প্রভাব খুব গভীর। তার দাদা ছিলেন একজন হাফেজ। পরবর্তীতে তিনি কুরআন বিষয়ক অধ্যয়নে প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতা অর্জন করেন। মাত্র ১৫ বছর বয়সে মদিনার একটি স্থানীয় মসজিদে আজান দেওয়ার মধ্য দিয়ে মুয়াজ্জিন হিসেবে তার যাত্রা শুরু হয়। কলেজজীবন শেষ হওয়া পর্যন্ত তিনি স্থানীয় আরো তিনজন প্রতিবেশীর সঙ্গে পালাক্রমে মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর মদিনার বাইরে শিক্ষকতার দায়িত্ব পালনের কারণে তিনি কিছু সময়ের জন্য এ কাজ থেকে বিরত ছিলেন। ১৪২৮ হিজরি সালে তাকে ‘মসজিদ আল-মাদদাহ’তে পুনরায় আজান দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। সেখানে তিনি মক্কার গ্র্যান্ড মসজিদে মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাওয়ার আগ পর্যন্ত আজান দিয়েছেন। ১৪৩৯ হিজরি তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। মদিনায় বেড়ে ওঠার কারণে শেখ ইব্রাহিম আজান দেওয়ার ক্ষেত্রে মদিনার ঐতিহ্য ও শৈলী দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন। পাশাপাশি বাবার সঙ্গে মক্কা সফরের সময় তিনি মক্কার স্বতন্ত্র আজানশৈলীর সঙ্গেও পরিচিত হন। খালিজ টাইমস।

ফিজিতে ৬০ জনে একজন এইচআইভি আক্রান্ত
এইচআইভি সংক্রমণ দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র ফিজি। দেশটিতে গত কয়েক বছরে নতুন সংক্রমণ ব্যাপকভাবে বেড়েছে। জাতিসংঘের এইডসবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইডসের হিসাবে, ২০২৫ সালে ফিজিতে প্রায় ৯ হাজার ১০০ মানুষ এইচআইভি নিয়ে বসবাস করছিলেন। এর মধ্যে মাত্র ৩৯ শতাংশ নিজেদের সংক্রমণের কথা জানতেন এবং মাত্র ২২ শতাংশ অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। ফিজির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের জাতীয় পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ওই বছর দেশে নতুন করে ২ হাজার ১৬ জনের এইচআইভি শনাক্ত হয়। ২০২৪ সালে নতুন শনাক্তের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৫৮৩। অর্থাৎ এক বছরে নতুন শনাক্তের সংখ্যা ২৭ শতাংশ বেড়েছে। মন্ত্রণালয় বলছে, সংক্রমণ বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশজুড়ে পরীক্ষার সুযোগ বাড়ায় আগে শনাক্ত না হওয়া অনেক রোগীও চিহ্নিত হয়েছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে ফিজিতে প্রতি ৬০ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে একজন এইচআইভি নিয়ে বসবাস করছেন বলে ইউএনএইডসের হিসাব। পাঁচ বছর আগে এই অনুপাত ছিল প্রায় প্রতি ১৬৭ জন প্রাপ্তবয়স্কে একজন। ২০১০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ফিজিতে নতুন এইচআইভি সংক্রমণ প্রায় ১২ গুণ বেড়েছে বলেও জানিয়েছে ইউএনএইডস। ফিজির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সংক্রমণের প্রকৃতি বোঝার জন্য পরীক্ষা বাড়ানো হয়েছে। তবে নতুন শনাক্তের সংখ্যা বাড়ার পেছনে শুধু সংক্রমণ বৃদ্ধি নয়, উন্নত শনাক্তকরণ ব্যবস্থাও ভূমিকা রাখছে। ২০২৫ সালে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ২ হাজার ১৬ জনে পৌঁছানোকে দেশটির স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য বড় সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংক্রমণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণের বিষয়টি উঠে এসেছে। ইউএনএইডস জানিয়েছে, যেসব ক্ষেত্রে সংক্রমণের মাধ্যম শনাক্ত করা গেছে, সেখানে অর্ধেকের বেশি যৌন সংক্রমণের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং ৪২ শতাংশের বেশি ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণের সঙ্গে যুক্ত। বিশেষ করে ব্যবহৃত সুচ বা সিরিঞ্জ ভাগাভাগি করার ঝুঁকি সংক্রমণ বাড়াচ্ছে বলে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। তবে সংক্রমণ শুধু মাদক গ্রহণকারীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ফিজির স্বাস্থ্য পরিস্থিতির আরেকটি উদ্বেগজনক দিক হলো মা থেকে শিশুর মধ্যে সংক্রমণ। ২০২৫ সালে ৫৯টি শিশু এইচআইভি নিয়ে জন্ম নেয় এবং তাদের মধ্যে ১৮ জন প্রথম জন্মদিনের আগেই মারা যায়। গর্ভবতী নারীদের মধ্যেও সংক্রমণের হার বেড়েছে। ফিজির সরকার জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করলেও পরিস্থিতিকে আতঙ্কের বিষয় হিসেবে না দেখে দ্রুত সমন্বিত স্বাস্থ্য উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো। পরীক্ষা ও চিকিৎসার সুযোগ বাড়ানো, মাদক ব্যবহারজনিত সংক্রমণ কমানো, মা ও শিশুর সুরক্ষা এবং সামাজিক বৈষম্য কমানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। ফিজির অভিজ্ঞতা দেখাচ্ছে, এইচআইভি নিয়ন্ত্রণে শুধু চিকিৎসা নয়, প্রতিরোধ, জনসচেতনতা ও স্বাস্থ্যসেবায় সহজ প্রবেশাধিকার— সবগুলো ব্যবস্থাই একসঙ্গে প্রয়োজন। দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট ইউএনএইডস, ফিজি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

গ্রন্থনা ও সম্পাদনা : আবদুল কাইউম খান