শহীদ আবদুল মালেক : ইসলামী আন্দোলনের পথিকৃত
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:৩৪
॥ আবু জায়েদ আনসারী ॥
শহীদ আবদুল মালেক বাংলাদেশের ইসলামী আন্দোলনের পথিকৃৎ। এ ভূখণ্ডে নিজের রক্ত ঢেলে ইসলামী আন্দোলনের শিকড়কে গভীরে প্রোথিত করেছেন তিনি। তার পথ ধরে ইসলামী আন্দোলনের এ কাফেলার আরও শত শত সাথী শহীদের অমৃত সুধা পান করেছেন। বর্তমান সময়ে শহীদ আবদুল মালেককে নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টির চেষ্টা করছে ইসলামী আন্দোলনের বিরুদ্ধবাদী শক্তি। তবে ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মী ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির এবং জামায়াতে ইসলামী তার অবদান শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে।
একটি কুচক্রী গোষ্ঠী শহীদ আবদুল মালেককে নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সংগ্রহশালায় তার ছবি টাঙানো নিয়ে। বামপন্থী সংগঠনসহ গণমাধ্যমের একটি অংশ শহীদ আবদুল মালেককে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে ইতিহাস বিকৃতির মাধ্যমে। এমনকি প্রকৃত ঘটনাকে আড়াল করে ফ্রেমিং করে সত্য লুকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে ডাকসুর জিএস এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এসএম ফরহাদ এ বিতর্কের স্পষ্ট ব্যাখ্যাও দিয়েছেন। তার মতে, অতীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব শিক্ষার্থী অন্যায়ভাবে ভুক্তভোগী হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন, তাদের তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে ডাকসুর সংগ্রহশালায়। শহীদ আবদুল মালেক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শিক্ষার্থী, যিনি অন্যায়ভাবে ছাত্রলীগ ও বামপন্থীদের হামলায় আহত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন ১৯৬৯ সালের ১৫ আগস্ট।
ইতিহাস বিকৃতি ও ফ্রেমিং
লাল-সবুজের ভূখণ্ডে নতুন করে শহীদ আবদুল মালেককে নিয়ে ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টা করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে এ তৎপরতা বেশ চোখে পড়ার মতো। আর এটি শুরু হয়েছে বামপন্থী ও ইসলামী আন্দোলনের বিরুদ্ধবাদী শক্তি তথা প্রেতাত্মা গণমাধ্যমের একটি সংঘবদ্ধ অংশ দ্বারা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস অনুযায়ী প্রথম শহীদ ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের নেতা শহীদ আবদুল মালেক। কিন্তু তার হত্যাকাণ্ডকে নতুন করে ফ্রেমিং করার চেষ্টা করা হয়েছে যে তিনি হামলা করতে গিয়ে নিহত হয়েছেন। অথচ বিষয়টি অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে ইতিহাসে স্পষ্ট যে, তিনি বামপন্থীদের হামলায় আহত হয়ে শহীদ হন। আরেকটি আশ্চর্যের বিষয় হলো দেশের প্রভাবশালী দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকাটি তাকে ভিলেন বানানোর চেষ্টা করেছে ১৯৭১ সালের সাথে মিলিয়ে। এটি জাতির জন্য দুর্ভাগ্য যে, ১৯৬৯ সালে মারা যাওয়া ব্যক্তিকে ১৯৭১ সালের সাথে মিলিয়ে ভিলেন বানানোর চেষ্টাকে পড়তে হচ্ছে। এটি আসলে চর্বিতচর্বণ, যাই ঘটুক তাকে একাত্তরের সাথে মেলাতে হবে— বিষয়টি এমন। বর্তমান ইসলামী আন্দোলনের অগ্রযাত্রাকে রুখতে শহীদ আবদুল মালেকের অবদানকে খাটো করতে ফ্রেমিং করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
শহীদ আবদুল মালেকের হত্যাকাণ্ড নিয়ে আরেকটি অসত্য বয়ান দাঁড় করানোর অপপ্রয়াস চালানো হয়েছে প্রথম আলোর ১৬ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে— ১৯৬৯ সালের ১২ আগস্ট টিএসসিতে শিক্ষা সেমিনার নিয়ে। এদিন মূলত আবদুল মালেককে বক্তব্য দিতে বাধা দেয়া হয়। পরে ইসলামী শিক্ষাকে নিয়ে কটাক্ষ করে বামপন্থীদের দেয়া বক্তব্যের প্রতিবাদ করে ছাত্র সংঘের নেতাকর্মীরা। কিন্তু বিরুদ্ধবাদীরা নতুন বয়ানে বলার চেষ্টা করছে যে, ‘সেদিন কোনো কোনো ছাত্র সংগঠনের নেতারা বাগযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিলেন, সেখানে ছাত্র সংঘের নেতারা এসে হট্টগোল করেন। তারপর তারা বিশৃঙ্খলা করেন। তারপর একপর্যায়ে ধাওয়া খেয়ে তৎকালীন রেসকোর্স দিয়ে পালিয়ে যান। সেখানে সংঘর্ষেই আবদুল মালেক নিহত হন।’
প্রথম আলোর প্রতিবেদনের এ বয়ানটি দাঁড় করানোর চেষ্টা করা হয়েছে ড. মোহাম্মদ হাননানের ‘লেখা বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাস (১৮৩০-১৯৭১) বই থেকে তথ্য নিয়ে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, শহীদ আবদুল মালেকের কাফেলা বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য ব্যবহার করলেও তা বিকৃত করা হয়েছে প্রথম আলোর ওই প্রতিবেদনে।
মনে রাখা দরকার, তৎকালীন ছাত্রলীগ নেতা এবং আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ও বামপন্থী সংগঠনের নেতারা সরাসরি আবদুল মালেক হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত। অথচ সেই অংশটি আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং তার হত্যাকাণ্ডের সাথে কারা জড়িত, তা কোনোভাবেই তুলে ধরা হয়নি। কারণ বর্তমান যে বয়ানটি দাঁড় করানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, সেটির সোর্স ড. মোহাম্মদ হান্নানের লেখা বই। যিনি ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের লেসপেনসার এবং চাটুকার। ২০২২ সালের একটি লেখায় ড. মোহাম্মদ হান্নান লিখেছেন, ‘ছাত্রলীগের ইতিহাসটা বাংলাদেশেরই ইতিহাস’ এবং ১৯৪৮ সালে ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠার পর বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে ছাত্রলীগকে অগ্রগামী শক্তি হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
শহীদ আবদুল মালেক যে কারণে হত্যাকাণ্ডের শিকার
শহীদ আবদুল মালেক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। তৎকালীন পাকিস্তানে ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থার পক্ষে জনমত গঠনের জন্য পরিচিত। তিনি ছাত্ররাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। তৎকালীন ইসলামী ছাত্রসংঘের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন। ১৯৬৯ সালে শহীদ আবদুল মালেকসহ ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল পাকিস্তানের তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী এয়ার মার্শাল নুর খানের সাথে সাক্ষাৎ করে দেশে সর্বজনীন ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থা চালুর দাবি করেন। শহীদ আবদুল মালেকের প্রতিনিধিদলের পর দেশের অন্যান্য আরও সংগঠনও একই দাবি তোলে। সবার দাবির মুখে অল্প কিছুদিনের মধ্যে সরকার নতুন শিক্ষানীতি প্রণয়নের লক্ষ্যে একটি শিক্ষা কমিশন গঠন করে। বামপন্থীরা এ শিক্ষানীতি বাতিলের দাবি জানায়। এমনই প্রেক্ষাপটে শিক্ষাব্যবস্থার আদর্শিক ভিত্তি কী হবে, তা নিয়ে জনমত জরিপের আয়োজন করা হয়। জনমত জরিপের অংশ হিসেবে ১৯৬৯ সালের ২ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (নিপা) ভবনে (বর্তমান ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ) এ শিক্ষানীতির ওপর একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই আলোচনা সভায় বামপন্থীদের বিরোধিতামূলক বক্তব্যের মধ্যে শহীদ আবদুল মালেক মাত্র ৫ মিনিট বক্তব্য রাখার সুযোগ পান। অসাধারণ মেধাবী বাগ্মী শহীদ আবদুল মালেকের সেই ৫ মিনিটের যৌক্তিক বক্তব্যে উপস্থিত সবার চিন্তার রাজ্যে এক বিপ্লবী ঝড় সৃষ্টি করে। ফলে সভার মোটিভ পুরোপুরি পরিবর্তন হয়ে যায়। জাতির শিক্ষাব্যবস্থার আদর্শিক ভিত্তির বিষয়ে তিনি সেদিন স্পষ্ট করে বলেছিলেন, ‘ÔPakistan must aim at ideological unity, not at ideological vacuum, it must impart a unique and integrated system of education which can impart a common set of cultural values based on the precepts of Islam. We need common set of cultural values, not one set of cultural values.’
অর্থাৎ ‘পাকিস্তানের লক্ষ্য হওয়া উচিত আদর্শিক ঐক্য, আদর্শিক শূন্যতা নয়। এমন একটি স্বতন্ত্র ও সমন্বিত শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তন করতে হবে, যা ইসলামের আদর্শের ভিত্তিতে একটি অভিন্ন সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে পারে। আমাদের প্রয়োজন সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের অভিন্ন সমন্বয়-সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের একক কাঠামো নয়।’
তার বক্তব্যের এ ধারণাটিকে তিনি যুক্তিসহকারে খুব সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছিলেন। উপস্থিত শ্রোতা, সুধীমণ্ডলী এবং নীতিনির্ধারকরা শহীদ আবদুল মালেকের বক্তব্যের সাথে ঐকমত্য পোষণ করে একটি সর্বজনীন ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থার পক্ষে মত দেন। নিপার আলোচনা সভায় বাম ও ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীরা ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষাব্যবস্থার পক্ষে জনমত তৈরিতে ব্যর্থ হওয়ার পর তাদের হীনউদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে ডাকসুর নামে ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষার পক্ষে প্রস্তাব পাস করানোর উদ্দেশ্যে দশ দিনের ব্যবধানে অর্থাৎ ১২ আগস্ট ঢাবির ছাত্র-শিক্ষক মিলনায়তনে (টিএসসি) এক আলোচনা সভার আয়োজন করে। এদিন আবদুল মালেক ও তার কয়েকজন সঙ্গীর ওপর টিএসসির মোড়ে সেকুলারপন্থীরা হামলা করে এবং রেসকোর্সে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) এনে তার মাথার নিচে ইট দিয়ে ওপরে ইট ও লোহার রড দিয়ে আঘাত করে মারাত্মকভাবে জখম করে এবং অর্ধমৃত অবস্থায় ফেলে চলে যায়। ছাত্রলীগ ও ছাত্র ইউনিয়ন যৌথভাবে এ পরিকল্পিত হামলার নেতৃত্ব দেয়। কিন্তু বাতিল শক্তি এটি সহ্য করতে পারেনি। পরে ছাত্রলীগ নেতা ও তৎকালীন ডাকসু ভিপি তোফায়েল আহমেদের নেতৃত্বে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের শহীদ আবদুল মালেককে সেমিনার স্থল টিএসসি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ইট দিয়ে মাথা থেঁতলে দেয়। তাকে গুরুতর আহতাবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং পরে ১৫ আগস্ট ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মৃত্যুবরণ করেন।
ফ্যাক্ট চেক : ছবি কথা বলে
আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করে অতীতের যেকোনো ঘটনার সত্যতা তুলে আনার অনেক সুযোগ রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে তার প্রয়োগও রয়েছে। অসত্য তথ্য উৎপাদন করে একপক্ষীয় পক্ষপাতদুষ্ট বয়ান তৈরির সুযোগ কম। বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য আলী আহমাদ মাবরুর শহীদ আবদুল মালেককে নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে ইতিহাস বিকৃতির অপচেষ্টার প্রতিবাদ জানিয়েছেন। ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘শহীদ আবদুল মালেকের রেসকোর্সে হত্যার ছবিটি তো বহুল প্রচলিত এবং পরিচিত। প্রথম আলো চাইলেই তার উন্নত টেকনোলোজি ব্যবহার করে সেখানে দৃশ্যমান হামলাকারীদের জুম করে তাদের পরিচয় বের করে অনেক কিছু পরিষ্কার করতে পারতো। শিবির কী বললো না বললো- এর বাইরে তারাই ইতিহাসের একটি অধ্যায়কে পাঠকের সামনে তুলে ধরে একটি ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করতে পারতো। তাহলে এত বয়ান দাঁড় করানোরও প্রয়োজন পড়তো না।’
শহীদ আবদুল মালেকের পরিচয়
আবদুল মালেক ১৯৪৭ সালের মে মাসে ব্রিটিশ ভারতের বঙ্গ প্রদেশের বগুড়া জেলার খোকশাবাড়ী গ্রামে (বর্তমানে বাংলাদেশের ধুনট উপজেলার স্থানীয়ভাবে বোঘা গ্রামে) জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মৌলভি মুন্সি মোহাম্মদ আলী এবং মাতা মোছাম্মত সাবিরুন নেছা। ছয় ভাই-বোনের পরিবারে তিনি ছিলেন ভাইদের মধ্যে কনিষ্ঠ।
তিনি প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত তিনি খোকশাবাড়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত গোঁসাইবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন, যা তার গ্রামের প্রায় চার মাইল দূরে অবস্থিত। ১৯৬৩ সালে তিনি বগুড়া জিলা স্কুল থেকে রাজশাহী বোর্ডে এসএসসি পরীক্ষায় ১১তম স্থান অধিকার করেন। ১৯৬৬ সালে রাজশাহী কলেজ থেকে রাজশাহী বোর্ডে ৪র্থ স্থান অধিকার করেন। ১৯৬৬ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগে ভর্তি হন।
বিদ্যালয় জীবনে শহীদ আবদুল মালেক যুক্তফ্রন্ট ও পরবর্তীতে মুসলিম লীগের সমর্থক ছিলেন। কলেজ জীবনেও তিনি ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। পরে তিনি ইসলামী ছাত্র সংঘে যোগ দেন। ১৯৬৭ সালে তিনি ছাত্র সংঘের ঢাকা মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং একই বছর জুলাই মাসে ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৬৭-৬৮ সেশনে তিনি পাকিস্তান ইসলামী ছাত্র সংঘের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।