গুছিয়ে নেবার গল্প
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:১৮
বাবার হুকুম ছিলো- সবকিছু ঠিকঠাক গুছিয়ে নেবে
ভোর হলে চোখ থেকে ঘুমগুলো গুছিয়ে নিতাম
স্বপ্নগুলো গুছিয়ে রাত রেখে দিতাম মশারির ভাঁজে
রাতের সমস্ত দাগ ঝেড়ে বিছিয়ে দিতাম দিনের তরিকা
মক্তব-শিক্ষক বলতেন চুলগুলো গুছিয়ে নাও
চুল গোছগাছ করে গুছিয়ে নিতাম মুখও
কেননা উস্তাদ মুখে দেবেন খোদার কালাম
এত কণ্ঠ, ডানে বাঁয়ে, এত যে শব্দের ধ্বনি
শিক্ষক একাই ধ্বনিগুলো গুছিয়ে নিতেন
বলতেন মনটি গুছিয়ে রেখো বুকের ভেতর
কেননা মনই বেসামাল হয় আজীবন
কৈশোরের সেই সকালগুলো আজো জ্বলজ্বলে স্মৃতির জেহেনে
উঠোনের রোদগুলো গুছিয়ে নিতাম নাশতার টেবিলে
মা বলতেন, টেবিলের ছায়াগুলো ঝেড়ে
রোদগুলো রেখে দাও
আমরা ছায়া ঝেড়ে রেখে দিতাম রোদের রং
তারই ঝোল ঢেলে নাশতায় জুড়িয়ে নিতাম ঝাল
শরীর গুছিয়ে নিতে গোগ্রাসে গিলতাম রোদের শরবত
দর্পিত দুপুর চারদিক থেকে ছায়াগুলো গুছিয়ে
রেখে দিতো গাছের নিচে
গাছও গুছিয়ে নিতো ছায়ার শরীর
ভাবি আলো তীর্যক হলেই কেনো ছায়াগুলো ছোট হয়ে যায়
তবে কি ছায়ারও আছে অনন্য জীবন!
পাখির ফিরতি সুর মিশে বাঁশবন থেকে নামতো সন্ধ্যা
সন্ধ্যার মৌনতা গুছিয়ে রাখতাম বইয়ের ভাঁজে
গভীর হলেও মশারিতেই থেকে যেতো রাত
কেবল জীবন গুছিয়ে নেবার তৃষ্ণায় জাবর কেটেছি বইয়ের পাতায়
সবাই জীবন গুছিয়ে নেবার কথাই বলে
জীবন গোছাতে গোছাতে দেখি-
মৃত্যুই গুছিয়ে রাখে মানুষ!