চীন, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সাহায্যে বাংলাদেশের সামরিক শক্তি বৃদ্ধির উদ্যোগ
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:০৩
॥ জামশেদ মেহদী ॥
বাংলাদেশ চীনের নিকট থেকে ২০টি, মতান্তরে ২৪টি জে-১০সি জঙ্গিবিমান কিনছে, এই খবরে বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী মহল যেমন উল্লসিত হয়েছেন, তেমনি বাংলাদেশের ভারতপ্রেমী মহল ও খোদ ভারতের কপালে অসংখ্য ভাঁজ পড়েছে। ড. ইউনূসের আমলে যখন খবর বেরিয়েছিলো যে, লালমনিরহাটে একটি বিরাট এবং আধুনিক বিমানবন্দর নির্মাণ করা হবে। তখন ভারতীয় গণমাধ্যম শুধুমাত্র হইচই করেনি, বরং তারা বাংলাদেশকে সামরিকভাবে হুমকিও দিয়েছে। তারা নিজেরাই আবিষ্কার করেছিলো যে, লালমনিরহাটের ঐ প্রস্তাবিত বিমানবন্দরটি নাকি আসলে হবে একটি বিমানঘাঁটি। চীনের সাহায্যে সেই বিমানঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। তারা বলে যে, এই বিমানঘাঁটি নির্মাণের টার্গেট নাকি ভারতের শিলিগুড়ি করিডোর, যেটাকে বলা হয় চিকেন নেক। অর্থাৎ মুরগির গলা। লালমনিরহাটে যে বিমানবন্দর নির্মাণের কথা শোনা গিয়েছিলো, সেটি আসলে সম্পূর্ণ নতুন নির্মাণ হবে না। এখানে ব্রিটিশ আমলে একটি বিমানবন্দর ছিলো। তাই অনেকে বলতে চান যে, লালমনিরহাট বিমানবন্দর নির্মাণ নয়, পুনরুজ্জীবন করা হবে। বলা হয় যে, এটি হবে দেশের বৃহত্তম বিমানবন্দর। এর একটি অংশ সামরিক পারপাসে ব্যবহার করা যাবে।
প্রস্তাবিত লালমনিরহাট বিমানবন্দর ভারতের শিলিগুড়ি করিডোর বা চিকেন নেক থেকে আনুমানিক ১৩৫ কিলোমিটার দূরে। ভারতীয়রা এই মর্মে অপপ্রচার করছে যে, শিলিগুড়ি করিডোরকে টার্গেট করে লালমনিরহাটে বিমানবন্দর নির্মাণের নামে চীনাদের আনা হচ্ছে। উল্লেখ করা যেতে পারে যে, এই শিলিগুড়ি করিডোরটি বাংলাদেশ ও ভারতের মাঝখানে অবস্থিত অসাধারণ স্ট্র্যাটেজিক গুরুত্ব সম্পন্ন একখণ্ড জমি। এর দৈর্ঘ্য ৫২ কিলোমিটার। প্রস্থ সবচেয়ে সরু জায়গায় ২২ কিলোমিটার। শিলিগুড়ি করিডোর যদি কোনো বিদেশির দখলে চলে যায়, তাহলে ভারত ২ ভাগে বিভক্ত হবে। একভাগ থাকবে পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের পশ্চিমাঞ্চল। আরেক ভাগে থাকবে সেভেন সিস্টার্স নামে পরিচিত উত্তর-পূর্ব ভারতের ৭টি রাজ্য।
ভারতের গণমাধ্যম এবং বিজেপির পশ্চিমবঙ্গীয় নেতারা হুমকি দিয়েছেন যে, চিকেন নেকের দিকে যদি আপনারা কুনজর দেন, তাহলে জেনে রাখুন, আপনাদেরও ২টি চিকেন নেক আছে। একটি হলো ফেনী, আরেকটি হলো রংপুর বিভাগ। ওরা হুমকি দিয়েছে যে, বাংলাদেশের এই দুটি চিকেন নেক দখল করতে ভারতের সময় লাগবে মাত্র ২০+২০=৪০ মিনিট।
তবে শিলিগুড়ি করিডোর নিয়ে ওরা যে সত্যিই আতঙ্কিত, সেটি জানা যায় লন্ডনের ‘দি টেলিগ্রাফ’ অনলাইনের একটি রিপোর্টে। গত ৩ সেপ্টেম্বর টেলিগ্রাফে প্রকাশিত ঐ রিপোর্টে বলা হয় যে, শিলিগুড়ি করিডোরের প্রতিরক্ষাকে মজবুত করার জন্য সরকার সেখানে ৪ লেনবিশিষ্ট ৩১ কিলোমিটার মহাসড়ক নির্মাণের জন্য ২০৭৭ কোটি ভারতীয় রুপি বরাদ্দ করেছে। এই নতুন মহাসড়কটির নাম হবে ৩২৭ মহাসড়ক। এই মহাসড়কটি পশ্চিমবঙ্গে বিমানঘাঁটি বাগডোগড়া থেকে পানিটাঙ্কি এবং খারিবাড়ী হয়ে বিহাররাজ্যের গলগলিয়াকে সংযুক্ত করবে। উল্লেখ্য, বাগডোগড়া শিলিগুড়ি করিডোরের দক্ষিণ পশ্চিমপ্রান্তে অবস্থিত। আর গলগলিয়া লালমনিরহাটের বিপরীতে ভারত নেপাল সীমান্তে অবস্থিত।
জুলাই বিপ্লবের পর ড. ইউনূসের সরকার দেশের দায়িত্ব গ্রহণ করার পর থেকেই ভারত শিলিগুড়ি করিডোরের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষাকে অব্যাহত ভাবে জোরদার করে চলেছে। এখানে এই বিষয়টি সবিশেষ গুরুত্বের দাবি রাখে যে, তাদের বাগডোগড়া বিমানঘাঁটিতে তাদের অন্যতম আধুনিক যুদ্ধ বিমানবহর রাফালের স্কোয়াড্রন গুলি মজুদ করা আছে। এছাড়া তারা বাংলাদেশের তেঁতুলিয়া সীমান্তের অত্যন্ত কাছে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ায় একটি সামরিক গ্যারিসন প্রতিষ্ঠা করেছে। এছাড়া শিলিগুড়ি করিডোরের পূর্ব দিকে বিহারের কিশনগঞ্জে একটি এবং আরেকটি আসামের ধুবড়ির কাছে- মোট ৩টি সামরিক গ্যারিসন বা ক্যান্টনমেন্ট স্থাপন করেছে।
আরো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এই যে, ভারত শিলিগুড়ি করিডোরের সুরক্ষার জন্য এর আশপাশে ৫টি বিমানঘাঁটি পুনরুজ্জীবিত করেছে। এগুলো হলো আমবাড়ি, পাঙ্গা, বালুরঘাট, ঝলঝলিয়া এবং ধুবড়ি। শিলিগুড়ি করিডোরের ব্যাপক সামরিকীকরণের পর ভারতীয় হুমকি ঠেকাবার জন্য লালমনিরহাটে সর্বাধুনিক বিমানঘাঁটি নির্মাণ বাংলাদেশের জন্য অত্যাবশ্যকীয় হয়ে পড়েছে।
ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যমের অবাঞ্ছিত হুমকি-ধমকির প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের সামরিক শক্তিকে একটি নিম্নতম ডেটারেন্ট ফোর্স (Deterrent force) বা প্রতিরোধ বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ প্রসঙ্গে আমরা যদি ভারত, পাকিস্তান, মিয়ানমার ও বাংলাদেশের সামগ্রিক সামরিক শক্তির দিকে নজর বুলাই, তাহলে এক্ষেত্রে আমাদের অসহায়ত্ব পরিষ্কার ফুটে উঠবে। দেখা যাবে যে, প্রতিবেশী মিয়ানমারের সামরিক শক্তিও বাংলাদেশের চেয়ে বেশি।
কোনো দেশের সামরিক শক্তি জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয় না। তবে ‘গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার’, লন্ডনের স্ট্র্যাটেজিক স্টাডির সামরিক ম্যাগাজিন ‘দি মিলিটারি ব্যালান্স’সহ অন্যান্য বিদেশি সূত্র মাঝে মাঝে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সামরিক শক্তি প্রকাশ করে। এসব সূত্র থেকে দক্ষিণ এশিয়ার চারটি দেশের সর্বশেষ সামরিক শক্তি সংক্ষেপে নিচে বর্ণনা করছি।
ভারত : ভারতের সেনাবাহিনীতে সক্রিয় জনবল ১৪ লাখ ৩১ হাজার। রিজার্ভ ১০ লাখ। বিমানবাহিনীর জনবল ২ লাখ ৮৯ হাজার। নৌবাহিনীর জনবল ১ লাখ ৪৯ হাজার।
তাদের ট্যাঙ্কের সংখ্যা ৩ হাজার ৯১৩, যুদ্ধবিমান ৪৭৬, যুদ্ধ হেলিকপ্টার ৫৯৪, বিমানবাহী জাহাজ (এয়ারক্র্যাফট ক্যারিয়ার)-২, ডেস্ট্রয়ার ১৩, ফ্রিগেট ১৮, সাবমেরিন ১৮।
ভারতের প্রধান যুদ্ধ বিমানগুলোর মধ্যে রয়েছে রুশ এসইউ-৩০টি, ফরাসি রাফাল ৩৬টি, ফরাসি মিরাজ-২০০০ ৪৫টি, মিগ-২৯ ৬০টি। এছাড়া তাদের নিজেদের তৈরি তেজাস, জাগুয়ার, মিগ-২১ ইত্যাদি সেকেলে বলে সেগুলোর উল্লেখ করলাম না।
উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, ভারতের সামরিক শক্তি পৃথিবীর ৪র্থ বৃহত্তম। তার ওপরে রয়েছে আমেরিকা, চীন ও রাশিয়া। ভারত যে একটি পারমাণবিক শক্তিধর দেশ সেটি উল্লেখের প্রয়োজন নাই।
পাকিস্তান : পাকিস্তানের সক্রিয় সামরিক বাহিনীর জনবল ৬ লাখ ৬০ হাজার। এর মধ্যে সেনাবাহিনী ৫ লাখ ৬০ হাজার। রিজার্ভ সৈন্য সংখ্যা ৫ লাখ ৫০ হাজার। বিমানবাহিনীর জনবল ৭০ হাজার এবং নৌবাহিনীর জনবল ৩০ হাজার। পাকিস্তানে ট্যাংকের সংখ্যা ২ হাজার ৬৭৭। তাদের যুদ্ধবিমান ৩৩১। তবে কতগুলো বিমানকে রিসার্ভিস করে দ্রুততম সময়ে জঙ্গিবিমানের সংখ্যা ৪২০-তে উন্নীত করার সক্ষমতা রয়েছে তাদের। নৌবাহিনীতে কোনো বিমানবাহী জাহাজ নাই, নাই কোনো ডেস্ট্রয়ার। তাদের ফ্রিগেটের সংখ্যা ৯। সাবমেরিন ৮। পাকিস্তান যে একটি পারমাণবিক শক্তিধর দেশ, সেকথা উল্লেখ করার প্রয়োজন নাই।
মিয়ানমার : সামরিক বাহিনীতে মিয়ানমারের সক্রিয় জনবল ২ লাখ ২৮ হাজার। রিজার্ভ ১৯ হাজার। ট্যাংক ১ হাজার ৪০। যুদ্ধবিমান ৭০। যুদ্ধ হেলিকপ্টার ২০। নৌবাহিনীতে ফ্রিগেট ৩ এবং সাবমেরিন ২।
বাংলাদেশ : বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর সক্রিয় জনবল ২ লাখ ১৫ হাজার। রিজার্ভ শূন্য। ট্যাংক ৩২০টি, জঙ্গিবিমান ৪১টি। এর মধ্যে মিগ-২৯ ৮টি। কিন্তু এগুলো সব গ্রাউন্ডেড বলা হয়েছে। অবশিষ্ট জঙ্গিবিমানের মধ্যে রয়েছে চীনা এফ-৬ এবং এফ-৭। এগুলো সেকেলে। নৌবাহিনীতে রয়েছে ২টি সাবমেরিন এবং ৭টি ফ্রিগেট।
ওপরে আমরা অতি সংক্ষেপে দক্ষিণ এশিয়ার ৪টি দেশের সামরিক শক্তির বর্ণনা দিলাম। ভারত এবং পাকিস্তানের সাথে বাংলাদেশের সামরিক শক্তির তুলনার কোনো সুযোগ নাই। কিন্তু অবাক লাগে যে ৫৫ বছর হলো বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। কিন্তু এই ৫৫ বছর পরেও বাংলাদেশ সামরিক শক্তির দিক দিয়ে মিয়ানমারেরও পেছনে রয়েছে। উল্লেখ করা যেতে পারে যে, বাংলাদেশের জনসংখ্যা ১৮ কোটি। আর মিয়ানমারের জনসংখ্যা ৬ কোটি। অর্থাৎ মিয়ানমারের চেয়ে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ৩ গুণ বেশি। অথচ সেই মিয়ানমারের অ্যাকটিভ সৈন্য ২ লাখ ২৮ হাজার। আর বাংলাদেশের ২ লাখ ২৫ হাজার। মিয়ানমারের ট্যাংক যেখানে ১ হাজার ৪০, সেখানে বাংলাদেশের ট্যাংক মাত্র ৩২০টি। জঙ্গিবিমান মিয়ানমারের ৭০, আর বাংলাদেশের ৪১, এ্যাটাক হেলিকপ্টার মিয়ানমারের ৮৬, আর বাংলাদেশের ৬৭।
শেখ হাসিনার সময় পর্যন্ত এমন করুণ ছিলো বাংলাদেশের সামরিক সক্ষমতা। সুখের বিষয়, জুলাই বিপ্লবের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার এই বিষয়টিতে নজর দিয়েছিলেন। এই মুহূর্তে ৫ম জেনারেশন তো দূরের কথা, ৪র্থ জেনারেশনেরও কোনো জঙ্গিবিমান বাংলাদেশের নাই। উল্লেখ করা যেতে পারে যে, যে জঙ্গিবিমান যত লেটেস্ট জেনারেশনের, সেটি তত বেশি আধুনিক এবং কার্যক্ষম। সেই দিকেই নজর দিয়েছিলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং তার সরকার।
চীন থেকে ২০টি মতান্তরে ২৪টি জে-১০ সি যুদ্ধবিমান কেনার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। কিন্তু ডেলিভারি সিডিউল এখনো ঘোষণা করা হয়নি। এই জঙ্গিবিমানে সজ্জিত থাকবে ৩০০ কিলোমিটার পাল্লার পিএল-১৫ ক্ষেপণাস্ত্র। চীন থেকে আরো সংগ্রহ করা হচ্ছে এসএ রাডার। এই রাডার শত্রুর বিমান যখন ৩০০ কিলোমিটার দূরে থাকে তখনই তাকে শনাক্ত করতে পারে। পক্ষান্তরে এই বিমানে এমন জ্যামিং ডিভাইস থাকে যে ৩০০ কিলোমিটার তো দূরের কথা, ১৫০ কিলোমিটার দূরে থাকলেও শত্রুর বিমান বা শত্রুর রাডার এই বিমানের অবস্থান চিহ্নিত করতে পারে না। ইউনূসের আমলে ২০২৫ সালে বিমানবাহিনীর ৭১ স্কোয়াড্রন এবং বগুড়া রাডার ইউনিটে আধুনিক জিএম-৪০৩ আকাশ প্রতিরক্ষা রাডার স্থাপন করা হয়েছে।
চীনা জে-১০সি ৪র্থ ও ৫ম জেনারেশনের মাঝামাঝি ৪ দশমিক ৫ জেনারেশনের জঙ্গিবিমান। এই বিমানের সাথে থাকবে পূর্ণ মিশন সিমুলেটর।
চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ পাকিস্তান সফরের সময় চীন পাকিস্তান যৌথ উদ্যোগে নির্মিত জে-১৭ থান্ডার জঙ্গিবিমান ক্রয় সম্পর্কে আলোচনা করেন এবং এখনো সেই আলোচনা চলমান। জে-১৭ থান্ডার ৪র্থ প্রজন্মের বিমান। ২৪টি বিমান ক্রয় করা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু জে-১০ সি সংগ্রহ নিয়ে আলোচনা যেমন মোটামুটি চূড়ান্ত পর্যায়ে গিয়েছে জে-১৭ থান্ডার সংগ্রহের আলোচনা ঠিক ততদূর এগিয়ে যায়নি। তবে নির্ভরযোগ্য মহল বলেন, জে-১৭ থান্ডার বিমানও বাংলাদেশ সংগ্রহ করবে। তবে হয়তো আরো কিছুটা সময় নেবে। উল্লেখ করা যেতে পারে যে, মিয়ানমারের কাছেও জে-১৭ থান্ডার জঙ্গিবিমান রয়েছে।
মক্কা চুক্তি : বাংলাদেশ অবশ্যই কোনো দেশের সাথে যুদ্ধ করার জন্য সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করবে না। এ কথা অস্বীকার করার উপায় নাই যে, ভারত কোনো সময় চায়নি যে বাংলাদেশ অর্থনীতি এবং সামরিক ক্ষেত্রে উন্নত ও শক্তিশালী হোক। ভারতের সাথে যুদ্ধের প্রশ্ন ওঠে না। কিন্তু নিজের শক্তি না থাকলেও ঘনিষ্ঠ মিত্র থাকলেও সেটা পরোক্ষ ডেটারেন্ট হয়। মক্কা চুক্তি তেমনই একটি ডেটারেন্ট ফ্যাক্টর হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে বাংলাদেশকে। এই চুক্তিতে যোগ দিলে বাংলাদেশ পাবে সৌদি আরবের নিকট থেকে অধিকতর অর্থনৈতিক সাহায্য এবং অধিকতর জ্বালানি নিরাপত্তা। তুরস্ক থেকে পাবে সর্বাধুনিক সামরিক প্রযুক্তি। খবরে প্রকাশ, বগুড়ায় ড্রোন নির্মাণ কারখানা স্থাপন করা হবে। তুরস্ক বাংলাদেশকে সর্বাধুনিক ড্রোন এবং সেইসাথে প্রযুক্তি দিতে পারে। আর পাকিস্তান বাংলাদেশের সামরিক আপদ বিপদে দৃঢ়ভাবে বাংলাদেশের পাশে এসে দাঁড়াবে। এর ফলে বাংলাদেশের দিকে রক্তচক্ষু নিয়ে তাকানোর পূর্বে ভারত ১০ বার করে চিন্তা করতে বাধ্য হবে।
E-mail : jamshedmehdi15@gmail.com