ডাকসুর ‘সিনো-বাংলা ডে’ চাকরি মেলা

চার শতাধিক শিক্ষার্থীর কর্মসংস্থান


২০ আগস্ট ২০২৬ ১০:১২

স্টাফ রিপোর্টার : চীনা প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুযোগ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) গত ১৭ আগস্ট সোমবার অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘সিনো-বাংলা ডে ২০২৬’। দিনব্যাপী এ আয়োজনে অংশ নিয়েছে প্রায় ৩০ থেকে ৪০টি চীনা প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের জন্য ছিল ৪৩০টি চাকরির সুযোগ। গত ১৭ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) প্রাঙ্গণে এ আয়োজন চলে। বাংলাদেশে চীনা দূতাবাস ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যৌথভাবে ‘সিনো-বাংলা ডে’ আয়োজনের উদ্যোগ নেয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট এর আয়োজক। আয়োজনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন ডাকসুর আন্তর্জাতিক সম্পাদক জসিম উদ্দীন খান (খান জসিম)। মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এতে চীনের ঐতিহ্যবাহী লায়ন ড্যান্স, শান-হাই চাইনিজ কোয়ারের ‘সেম সং’ এবং সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠীর বাংলা গান পরিবেশন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম, জিএস এসএম ফরহাদ, ওভারসিজ চাইনিজ অ্যাসোসিয়েশন ইন বাংলাদেশের সহ-সভাপতি রেন ওয়াং, আপন ফ্রেন্ডশিপ এক্সচেঞ্জ সেন্টারের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর রানা, বাংলাদেশ চাইনিজ এন্টারপ্রাইজেস অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি ঝু গুয়াংলেই এবং ঢাকাস্থ চীন দূতাবাসের সাংস্কৃতিক কাউন্সিলর লি শাওপেং প্রমুখ।
ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু), চীনা দূতাবাস ও কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের যৌথ উদ্যোগে এবং চীনের ঐতিহ্যবাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতায় টিএসসিতে সিনো-বাংলা ডে ও ঐতিহাসিক জব ফেয়ার আয়োজন করা হয়েছে।
ডাকসুর জিএস এসএম ফরহাদ বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫ বছরের ইতিহাসে শিক্ষার্থীদের জন্য এত বড় আকারের চাকরি মেলার সুযোগ সৃষ্টিতেও নানামুখী প্রশাসনিক বাধা ও প্রতিকূলতা ছিল। বাধা সত্ত্বেও ডাকসুর উদ্যোগে; বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক খান জসিমের প্রচেষ্টায় এবং চীনা দূতাবাস ও কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের সহায়তায় ৪৩০ জনের কর্মসংস্থানের এ ঐতিহাসিক আয়োজন সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি বলেন, অনাকাক্সিক্ষত বাধা দূর করে শিক্ষার্থীদের কল্যাণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অভিভাবকের মতো দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানাচ্ছি।
ডাকসুর আন্তর্জাতিক সম্পাদক জসিম উদ্দীন খান বলেন, জুলাই বিপ্লবে রক্ত ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে পাওয়া নতুন বাংলাদেশে আমাদের প্রধান লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা। সাম্প্রতিক চীন সফরে শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় ও নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনার ফসল হিসেবেই আজকের এই জব ফেয়ার ও প্রযুক্তিভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নানা প্রতিকূলতার মাঝেও চীনা দূতাবাস, কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট এবং সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় এ আয়োজন সফল করতে পেরে আমরা আনন্দিত। ঢাবির শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক মঞ্চে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে ডাকসুর আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে আমার এ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
আগ্রহী চাকরিপ্রার্থীরা অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের কাছে সরাসরি এবং অনলাইনে জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) জমা দিয়েছেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পদে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা, কাজের ধরন ও নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হয়েছে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, জমা দেওয়া সিভির ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে প্রার্থী বাছাইও করা হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি দেশের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও এ চাকরির মেলায় অংশ নিয়েছেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের পরিচালক ইয়ান হুয়ি বলেন, ‘এই আয়োজন দুই দেশের সম্পর্কে নতুন দ্বার উন্মোচন করবে। অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে চীন-বাংলাদেশের সম্পর্ক সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বাংলাদেশে শুধু বিনিয়োগ না, তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানেরও ব্যবস্থা করতে কাজ করছে চীনের প্রতিষ্ঠানগুলো।’
চাকরি মেলায় আগত ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইশতিয়াক সৌরভ বলেন, ‘চীনের প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আমাদের আগ্রহ বাড়ছে। তবে ভাষা একটি বড় বাধা মনে হয়। তাই আগ্রহের জায়গা থেকেই এসেছি, চীনের প্রতিষ্ঠান এবং সুযোগ সম্পর্কে জানতে। এখান থেকে হয়তো চাকরি হবে না, তবে নতুন কিছু জানতে পারব, যা পরবর্তী সময়ে কাজে লাগবে।’ অনুষ্ঠানটির সহ-আয়োজক ছিলবাংলাদেশ চায়নিজ এন্টারপ্রাইজেস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশে ওভারসিজ চায়নিজ অ্যাসোসিয়েশন এবং আপন ফ্রেন্ডশিপ এক্সচেঞ্জ সেন্টার।