রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল অলি আহমদের পক্ষে মনোনয়নপত্র দাখিল

সোনার বাংলা অনলাইন
১৩ আগস্ট ২০২৬ ১৯:৩৩

আসন্ন বাংলাদেশের ২৩মত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম-এর পক্ষে মনোনয়নপত্র দাখিল করা হয়ের্ছে।

বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট বেলা ১১টায় শেরে বাংলা নগরে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে এ মনোনয়নপত্র দাখিল করা হয়।

মনোনয়নপত্র দাখিল শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ১১ দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ড. কর্নেল অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করা হয়েছে। তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, ৩ বারের সাবেক মন্ত্রী ও ৬ বারের সাবেক সংসদ সদস্য হিসেবে দেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

তিনি জানান, মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবক হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান এবং সমর্থক হিসেবে রয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আল আমিন। প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত ও নথিপত্র যথাযথভাবে পূরণ করে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পর অলি আহমদের প্রার্থিতা বৈধ হবে বলে তাঁরা আশাবাদী।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, তাঁদের কাছে জয়-পরাজয়ের চেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন নিশ্চিত করাই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়া কোনো নির্বাচন তাঁরা চান না; গণতন্ত্রের সৌন্দর্যই হলো জনগণের সামনে একাধিক বিকল্প থাকা।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ছিল একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধী দল থেকে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী দেখা যায়নি। এবার ১১ দলীয় ঐক্য সেই ধারায় পরিবর্তন আনতে চায়।

হামিদুর রহমান আযাদ আরও বলেন, ১১ দলীয় ঐক্য গণতন্ত্র চর্চায় নতুন ধারা সৃষ্টি করতে চায়। তাঁদের লক্ষ্য শুধু রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয়লাভ নয়; বরং প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করা।

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ নিয়ে তিনি বলেন, সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ ও ভোট দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। গণভোটে সংস্কারের পক্ষে রায় পাওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট সংস্কার বাস্তবায়নে বিলম্ব হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। সংসদ সদস্যরা যদি দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে দেশের স্বার্থে স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ পান, তাহলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও প্রকৃত প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হতে পারে। এ ক্ষেত্রে কর্নেল অলি আহমদ সংসদ সদস্যদের কাছে একজন সর্বজন গ্রহণযোগ্য প্রার্থী হতে পারেন বলেও তিনি দাবি করেন।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির সমালোচনা করে ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান বলেন, গণতান্ত্রিক সংস্কার বাস্তবায়নে সরকারের আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংসদ দ্রুত গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংস্কার করবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ও অর্থবহ করার জন্য সব রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

বিকেলে আরেকটি মনোনয়নপত্র জমা

আজ বিকেল ৩টায় ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম-এর পক্ষে আরেকটি মনোনয়ন দাখিল করা হয়েছে। এই মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবক হিসেবে রয়েছেন কর্নেল (অব.) আব্দুল বাতেন এমপি এবং সমর্থক হিসেবে রয়েছেন ডা. মাহমুদা মিতু এমপি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা তোফাজ্জল হোসেন মিয়াজী, নেজামে ইসলাম পার্টির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা সাইফুর ইসলাম ফরিদী।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক জনাব নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন আহমেদ, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য জনাব নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, জাগপার সহসভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি মাওলানা ফখরুল ইসলাম, নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমীর মওলানা আবদুল মাজেদ আতহারী, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. ওমর ফারুক, এবি পার্টির যুগ্ম মহাসচিব এডভোকেট আবদুল্লাহ আল মামুন রানা, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির জেনারেল সেক্রেটারি নিজামুল হক নাঈম, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন এমপি, ঢাকা-৫ আসনের এমপি কামাল হোসেন, ঢাকা-৪ আসনের এমপি সৈয়দ জয়নাল আবেদিন চৌধুরী, ঢাকা-১৬ আসনের এমপি কর্নেল (অব.) আবদুল বাতেন, শেরপুর সদর আসনের এমপি হাফেজ রাশেদুল ইসলাম, নাজমুন নাহার নিলু এমপি, মারদিয়া মমতাজ এমপি, এনসিপির নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি আল আমীন, ডা. মাহমুদা মিতু এমপি প্রমুখ।