জ্বালানিসংকটে জনরোষ বাড়ছে, পরিস্থিতির দায় সরকারের : জামায়াত
১৩ আগস্ট ২০২৬ ১৮:১৩
দেশে জ্বালানিসংকট বেড়ে যাওয়ায় ক্রমান্বয়ে জনরোষ বাড়ছে এবং উদ্ভুত যেকোনা পরিস্থিতির দায় সরকারকে নিতে হবে বলে হুঁশিয়ার করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার ১৩ আগস্ট বৃহস্পতিবার এক বিবৃতি এই হুঁশিয়ারি দেন।
তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতে সরকারের ব্যবস্থাপনায় দেশে ব্যাপকহারে গ্যাস ও বিদ্যুৎ ঘাটতিতে নাগরিকদের চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ ঘাটতিতে জনদুর্ভোগ বেড়েছে। গত ৯ আগস্ট রোববার থেকে এই ব্যাপক লোডশেডিংয়ে কবলে পড়ে দেশ। তথ্যমতে, ৯ আগস্ট ৩৬৭১ মেগাওয়াট, ১০ আগস্ট ৩৭৫৭ মেগাওয়াট ১১ আগস্ট ৩৪৬৫ মেগাওয়াট এবং ১২ আগস্ট লোডশেডিং ছিল ৩ হাজার ৩৮২ মেগাওয়াট। এতে দেখা যায় গত কয়েকদিনে গড়ে প্রায় সাড়ে তিনহাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি রয়েছে। যার ভুক্তভোগী হয়েছে দেশের মানুষ ও শিল্পখাত।
তিনি আরও বলেন, গত ১২ আগস্ট বুধবার ৩৮০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল ২০৩ কোটি ঘনফুট। সরকারের অব্যবস্থাপনা, অদক্ষতা, অদূরদর্শিতা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক দুর্নীতি ও দলীয়করণের কারণে দেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট চরমে উঠেছে। সরকারের এমন অব্যবস্থাপনায় নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবন বিপর্যস্ত হওয়ায় আমরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি ও সরকারের ব্যর্থতার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দেশে জ্বালানিসংকট বেড়ে যাওয়ায় ক্রমান্বয়ে জনরোষ বাড়ছে। ইতোমধ্যে দেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে নিরাপত্তা জোরদার করতে পুলিশ সদর দপ্তরে বুধবার চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশন। এটি সরকারের বিদ্যুৎ ব্যবস্থপনায় ব্যর্থতার চিত্রকে তুলে ধরে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলা নীলফামারীতে ৮০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ পাচ্ছেন ৪৫ থেকে ৫৫ মেগাওয়াট, কুষ্টিয়ার ১৫৫ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ৮৫ থেকে ৯৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দেয়া হচ্ছে- এমন চিত্র দেশের সর্বত্র। এমতাবস্থায় নিরাপত্তা চেয়ে চিঠি দিয়েছে বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্টরা।
তিনি আরও বলেন, সরকার বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় সুদূরপ্রসারী সিদ্ধান্ত না নেয়ায় এমন অবস্থার তৈরি হয়েছে। দেশের শিল্প-কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, নাগরিকরা বাসা বাড়িতে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটে নিয়মিত রান্নাবান্নাসহ নিত্যকর্ম পরিচালনা করতে পারছে না, শিক্ষার্থীদের অধ্যয়নে ব্যাঘাত ঘটছে। সর্বোপরি নাগরিক জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠছে। এমতাবস্থায় সরকার সংকট নিরসনে কার্যকর কোনো উদ্যোগ না নেয়া জনগণের প্রতি সরকারের দায়িত্বহীনতার পরিচয়।
গোলাম পরওয়ার বলেন, জ্বালানি খাত বেসরকারিকরণের নামে পুরোনো অলিগার্কদের নতুন করে সুবিধা দিয়ে সরকার এ সংকটকে আরও গভীর করবে বলে আশঙ্কা রয়েছে। এমতাবস্থায় দুর্ভোগ লাঘবে সরকারকে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো, শিল্পের গ্যাস চুরি বন্ধ, লিকেজ ও সিস্টেম লস কমিয়ে আনা, এনার্জি কনভার্শনের যাবতীয় পলিসি ও যন্ত্রপাতি আমদানি সহজ করা, তেল পাচার রোধের ব্যবস্থাসহ সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে অপরিশোধিত তেল আমদানির ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণের সাথে সংশ্লিষ্টদের দক্ষতা উন্নয়নে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের বিদ্যমান সংকট নিরসনে ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে অভ্যন্তরীণ গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য স্থলভাগের রিজার্ভার ম্যানেজমেন্ট (নতুন প্রযুক্তিসহ), নতুন এক্সপ্লোরেশন কূপ খনন ও ডেভেলপমেন্ট কূপ খননে সক্ষম বিদেশি পার্টনার আনার ব্যবস্থা করা জরুরি বলে আমরা মনে করি। এমতাবস্থায় জনগণের মৌলিক ও দৈনন্দিন চাহিদা পূরণে সরকার উদ্যোগ নিতে যদি ব্যর্থ হয় তাহলে যেকোনো উদ্ভুত পরিস্থিতির দায় সরকারকেই নিতে হবে।