বিএনপি এখনো দুই নৌকায় পা দিয়ে আছে
১২ আগস্ট ২০২৬ ১৯:২৯
॥ মাহবুবুল হক ॥
জুলাই বিপ্লবের ২য় বর্ষপূর্তি সম্পন্ন হয়ে গেল। দেশবাসী খুশি হতে পারেনি। ১ম বর্ষপূর্তি যে ঐকান্তিক আন্তরিকতার সাথে উদযাপিত হয়েছিল, নিঃসন্দেহে বলা যায় এবার সেভাবে উদযাপিত হয়নি। বড়জোর বলা যায়, কোনোরকমভাবে পালিত হয়েছে। নীরবে-নিঃস্পন্দনে পালিত হলেও কথা বলার কিছু ছিল না। অনেক সময় অনেক কারণে আমাদের রাষ্ট্রে অনেক বিষয় উদযাপনের জায়গায় নীরবে পালিত হয়। সেসব আমরা সবাই জানি। সেই ফিরিস্তি বা খতিয়ান এখন যদি এখানে তুলে ধরি, তাহলে নানা খিস্তিখেউর শুরু হয়ে যাবে। নতুন করে বাদানুবাদ শুরু হবে।
বিপ্লবকালীন সময় থেকে খুব পরিষ্কারভাবে অনুধাবন করা গিয়েছিল যে, বিএনপি এই মহাবিপ্লবকে ‘ওন’ করছে না। তারা আজ এ কথা, কাল সে কথা বলে বিষয়টিকে গুরুত্বহীন ও তাৎপর্যহীন করার চেষ্টা করছে। যেহেতু তারা এ মহান বিপ্লবের স্টেকহোল্ডার ছিল না, সেহেতু তাদের ভূমিকা ছিল ‘ধরি মাছ না ছুঁই পানির মতো’। তাদের স্পষ্ট প্ল্যান ছিল এই মহাবিপ্লবকে বিপ্লব না বলে কীভাবে ‘ব্যর্থ আন্দোলন’ বলা যায়, সেভাবে এগিয়ে যাওয়া। এ বিষয়ে তাদের সুবিধাও ছিল অনেক। কারণ রাজনৈতিক দলগুলো গুপ্তভাবে এই বিপ্লবকে দারুণভাবে পৃষ্ঠপোষকতা করলেও সামনে না থাকায় বলতে অসুবিধা হয়নি যে, ‘এটা তো বড় কিছু ছিল না। এটা ছিল ‘শিক্ষার্থীদের ন্যায্য-অন্যায্য দাবির আন্দোলন। এ ধরনের আন্দোলন তো সবসময় হয়ে থাকে। শ্রেণিভেদে সর্বযুগে, সর্বকালে এ ধরনের আন্দোলন তো চলেই আসছে; যেমন কৃষক আন্দোলন, শ্রমিক আন্দোলন, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে আন্দোলন, বিদ্যুৎ-গ্যাস-পানির দাম বৃদ্ধিতে এলাকা থেকে শুরু করে দেশব্যাপী আন্দোলন, শিক্ষাকেন্দ্রিক আন্দোলন। ইত্যাদি ইত্যাদি। বিপ্লবের রেজাল্ট হিসেবে বিপ্লবী সরকার গঠিত না হয়ে সাংবিধানিক সরকার গঠিত হওয়ায় প্লেব্যাক সিঙ্গারও ছিল বিএনপি। তারা বিরাজমান প্রেসিডেন্টের হাত দিয়েই একটা অন্তর্বর্তী সরকারের ফর্মুলা দেন, যা ছিল অনেকটা অতীতের প্রবর্তিত নির্বাচনের জন্য সাময়িকভাবে প্রতিষ্ঠিত অরাজনৈতিক সরকারের মতো। বাংলাদেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের চেহারা, ছবি, প্রকৃতি এসব সম্পর্কে জনগণের অভিজ্ঞতা ভালোমন্দ মিলিয়ে এক ধরনের ছিল। তারা এ ধরনের সরকারের বিরোধিতা করেনি।
যেহেতু বহু বছর ধরে বিএনপি ছিল প্রধান বিরোধীদল এবং স্বৈরাচারী সরকারের পলায়নের পর দেশ ও রাষ্ট্রের ক্ষমতা অটোমেটিক্যালি বিএনপির হাতে চলে যায়। এই চলে যাওয়াটা তখনকার বিবেচনায় একেবারে অমূলক ছিল না। বলতে গেলে, অনেকটা স্বাভাবিক ছিল। আর ছাত্র বা শিক্ষার্থীদের এই বিষয়টি কখনো মনেও আসেনি যে, তাদেরই ক্ষমতা ধরে রাখতে হবে। তাদের দাবি ছিল ‘এক দফা’ সরকার পতন। কারণ তারা উপলব্ধি করেছিল বিরাজিত জুলুমবাজ সরকার কোনো অবস্থায় আর জুলুম থেকে নিজেদের হাত ও মাথা গুটাতে পারবে না। থাকলেই তারা জুলুমের পর জুলুম চালিয়ে যাবে। ইতোমধ্যে শিক্ষার্থীরাও ভালোভাবে জেনে গিয়েছিল যে, স্বৈরাচারী ও জুলুমবাজ সরকার দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে অধিকাংশ সম্পদ ও অর্থ বিদেশে পাচার করে দিয়েছে। সরকারের সাথে সম্পৃক্ত হাজার হাজার চোর-ডাকাত তথাকথিত উন্নত দেশে বাড়িঘর ও সম্পদ জমা করেছে। উন্নয়নের নামে বিদেশ থেকে আনা অর্থ ও ঋণ সবকিছু লোপাট করে দেশ-বিদেশের বড় বড় সম্পদশালী হয়ে গেছে। দুর্ভিক্ষ আসন্ন হয়ে পড়েছে। এসব খুঁটিনাটি জেনে ফেলার পর তারা আর লুটেরাদের এবং অর্থ পাচারকারীদের ছাড় দিতে চায়নি। এছাড়া পূর্ববর্তী জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচন সম্পূর্ণ করেছে। যে নির্বাচনে তরুণরা অংশগ্রহণ করারও সুযোগ পায়নি। চারদিক থেকে এ ধরনের ইনফরমেশন বলিষ্ঠভাবে অর্জন করায় তারা জীবনবাজি রেখে লেখাপড়া বাদ দিয়ে, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে দিয়ে নিজেদের ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন ও পিতা-মাতাকে বিপ্লবের অংশীদার বানিয়ে নতুন এক ইতিহাসের সৃষ্টি করেছে। যেটা বিপ্লবের স্টেকহোল্ডারাসহ কারো ভাবনা ও চিন্তার মধ্যেও ছিল না। ঘটনাটা ঘটেছিল হঠাৎ করেই; মহান আল্লাহর তরফ থেকেই।
অবশ্য কেউ কেউ বলেছেন, এটা প্রকৃতির প্রতিশোধ। কিন্তু আলেমগণ বলেছেন, প্রকৃতি তো আল্লাহর নির্দেশ ছাড়া নিজে কিছু করতে পারে না। মহান আল্লাহ কর্তৃক প্রদত্ত শক্তি প্রয়োগ করা ছাড়া তাদের পৃথক কোনো সাধ্য, সামর্থ্য, শপথ, অঙ্গীকার করতে পারে না। মহান আল্লাহ যখন চান, তখন প্রকৃতির মাধ্যমে ঝড়-ঝঞ্ঝা, তুফান, সামদ্রিক জলোচ্ছ্বাস, পাহাড়-পর্বতের পতন, ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরি, দাবানল, একের পর এক সভ্যতার ধ্বংস, মহামারির মাধ্যমে দেশের পর দেশ মনুষ্যশূন্য হওয়া, জীব-জন্তুশূন্য হওয়া, বরফে ঢেকে যাওয়া, অতীত থেকে একাল পর্যন্ত মানবজাতি এসব অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছে। যারা সৃষ্টিকর্তাকে বিশ্বাস করে না, তারাই বলে এসেছে যে, এসবই হলো প্রকৃতির প্রতিশোধ। বাস্তবে এসব হলো মহান আল্লাহর গজব এবং মানুষের জন্য আজাব। কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, যখন কোনো এলাকার আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা যুগের পর যুগ ধরে অত্যাচারিত ও জুলুম-সীতমে অসহ্য হয়ে ওঠে এবং যখন তারা সৃষ্টিকর্তার কাছে আকাশের দিকে তাকিয়ে চিৎকার করে বলে, ‘মা’তা নাসরুল্লাহ’ অর্থাৎ আল্লাহর সাহায্য কবে আসবে, তখন রাহমানির রাহীম আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আলা ইন্না নাসরুল্লাহিল কারিম’, অবশ্যই আমার সাহায্য পৌঁছাবে অতি নিকটে।
২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের আগে এই হতভাগ্য দেশের মানুষ যে নিষ্ঠুর, নৃশংস জুলুম-অত্যাচারে দিন কাটিয়েছে, তার ফলে মহান আল্লাহ তায়ালা নেয়ামত ও রহমতের মতো আবাবিল পাখির ভূমিকায় নবীন ও তরুণদের হঠাৎ করে পাঠিয়ে জুলুমবাজ ও নিষ্ঠুর শাসকদের উৎখাত করে দিয়েছিলেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস. যারা জুলুমের শিকার হয়েছিল, তাদের মধ্যে আবাবিল পাখির মতো একক শৃঙ্খলা বিরাজমান ছিল না। থাকলে পাখিরা যেমন বিজয় লাভ করেছিল, বাংলাদেশে নবীন ও তরুণ পাখিরাও বিজয় লাভ করতে পারতো। পাখিরা যেমন মহান আল্লাহর কথা সর্বতোভাবে মান্য করেছিল, আমাদের বিপ্লবী পাখিরা সেভাবে বিষয়টি অনুধাবনও করতে পারেনি, উপলব্ধিও করতে পারেনি। তারা নানা গোষ্ঠীতে বিভক্ত হয়ে গেল, ফল যা হবার তাই হলো। সেই যে পেয়ে হারানোর বেদনা শুরু হলো, আজও তা শুধু অব্যাহত আছে তাই নয়, তা আরও নানারকম দুঃখ ও যন্ত্রণার আবহে বিচ্ছিন্ন ও বিস্তীর্ণ হয়ে গেল। সূরা ফীলে মহান আল্লাহ তায়ালা যে বিজয় দেখিয়েছেন, সে বিজয় আর এখানে প্রতিষ্ঠিত হলো না।
অন্তর্বর্তী সরকার আন্তরিকভাবেই চেয়েছিল কিছু সময় নিয়ে দেশ-জাতি ও রাষ্ট্রের এলোমেলো অবস্থাকে কিছুটা সুসংহত করে জাতীয় নির্বাচন দিয়ে প্রাথমিকভাবে দেশকে রাষ্ট্রে পরিণত করে যারা নির্বাচনে বিজয়ী হবে, তাদের হাতে রাষ্ট্র তুলে দিয়ে তারা তাদের মতো নিজ নিজ জগতে ফিরে যাবেন।
বিএনপি যেহেতু বিপ্লবের পর থেকে দুই নৌকায় পা দিয়েছিল, সে কারণে তারা অন্তর্বর্তী সরকারর সকল আকাক্সক্ষা ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কৌশলে বাধা সৃষ্টি করেছিল। তারা পরিষ্কারভাবে কোনো সংস্কার চায়নি। অপরাধীদের শাস্তি চায়নি। তারা সেক্যুলার বিশ্ব প্রতিবেশী রাষ্ট্র ও পরাজিত জুলুমবাজ সরকারের উপদেশ ও পরামর্শে অন্তর্বর্তী সরকারকে কোনো কাজ করতে দেয়নি। বিপ্লবের অব্যবহিত পর থেকেই তারা নির্বাচন নির্বাচন করে সেই যে চিৎকার শুরু করেছিল, যা অবশেষে থেমে ছিল ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারিতে এসে। অন্তর্বর্তী সরকার বিপ্লবের সাথে সম্পৃক্ত ছিল না। সুতরাং তাদেরও গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং রুল অব ল-এর প্রতি কোনো কমিটমেন্ট বা ইনভলমেন্ট ছিল না। ড. ইউনূসসহ হয়তো ৪-৫ জন উপদেষ্টার কিছুটা কমিটমেন্ট থাকলেও বিএনপির শক্তি-সামর্থ্যরে কাছে সেটা ভণ্ডুল হয়ে গিয়েছিল। বিএনপি বরং শুধু জাতীয় নির্বাচনই চায়নি, চেয়েছিল বিজয়। সার্বিক বিজয়। অর্থাৎ সরকার গঠনের বিজয়। অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে তাদের আবদার উপেক্ষা বা অবহেলা করার মতো পরিস্থিতি ছিল না। ততক্ষণে বিএনপি গডফাদার হয়ে গেছে। বিপ্লবের স্টেকহোল্ডারসহ অন্তর্বর্তী সরকারের দেশপ্রেমিক অংশটি ইনভলমেন্টের জায়গা থেকে ছিটকে পড়েছিল।
সবাই জানে ইনভলমেন্টের জায়গা থেকে সরে গেলে কমিটমেন্টের অবস্থান দুর্বল হয়ে যায়। জাতীয় নির্বাচনের পর থেকে বাধ্য হয়ে দেশ, জাতি ও রাষ্ট্র পজিটিভ অবস্থানে দৃঢ় থাকার চেষ্টা করছে। কিন্তু পেরে উঠছে না। বিএনপির শত্রু এখন তাদের পুরোনো শত্রু আওয়ামী লীগ নয়। আওয়ামী লীগ এখন তাদের পরম বন্ধু। তারা এখন একসাথে মিলেমিশে বিশ্ব সেক্যুলার আন্দোলনে তেল দিচ্ছে।
চলতি বছরের জুলাই মাস আসার পর থেকেই বাংলাদেশের জাতি ও রাষ্ট্রকে আমরা বিভিন্নরূপে দেখছি। ১১ দলীয় ঐক্যকে দেখছি, নানারকম এ্যাডজাস্টমেন্ট ও কম্প্রোমাইজের মাঝে হাঁটতে। ভয় বা কাতরতার জন্য নয়। নির্বাচনে হেরে যাওয়ার জন্য নয়। ভারতের ভয়ে নয়। সেক্যুলার বিশ্বের হুমকি-ধমকির জন্য নয়। মুসলিম বিশ্বের বেঈমানীর জন্য নয়। সবকিছু মিলে ১১ দলীয় ঐক্য চাচ্ছিল না, বিএনপির শত্রু হতে। যেভাবে একসময় বিএনপির শত্রু ছিল আওয়ামী লীগ। ১১ দলীয় ঐক্য নির্বাচনে হেরে না গিয়েও হেরে যাওয়াকে মেনে নিয়েছে জাতীয় ঐক্যের জন্য। কারণ ভারতের লোকসভা নির্বাচনে পুনরায় বিজেপি সরকার গঠন করার পর সারা ভারতে মুসলিমবিদ্বেষী যে নিষ্ঠুর ও নৃশংস আচরণ করছে, তা সর্বকালের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। তারা শুধু মুসলিম আবাল-বৃদ্ধ-বণিতার ওপর নিষ্ঠুর আচরণ করছে না। মসজিদ-মাদরাসা-এতিমখানা-ওয়াকফ সম্পত্তি সব একে একে ধ্বংস করে ফেলছে। কুরবানির ঈদে সামান্য ব্যতিক্রম ছাড়া গোটা ভারতে গরু জবাই নিষিদ্ধ করেছে। এসব কারণে উপমহাদেশে যে ক্ষোভ-প্রতিবাদ ও উষ্মা বিকশিত হচ্ছিল, তাতে সংযম আনার জন্য ১১ দলীয় ঐক্য শান্ত-সমাহিত পরিবেশ বজায় রাখার অবিরাম চেষ্টা করে যাচ্ছিল।
বাংলাদেশে সনাতন ধর্মের লোকেরাও ভারতের অমানবিক ও নিষ্ঠুর আচরণের কারণে শঙ্কিত ও পেরেশানির মধ্যে ছিল। বাংলাদেশের চিন্তাশীল হিন্দু সম্প্রদায় জানে, ভারত অযৌক্তিকভাবে উত্তেজনা ছড়িয়ে দিলেও বাংলাদেশের মুসলিমরা উত্তেজনায় আবর্তিত হবে না। তাদের মধ্যে যৌক্তিক দেশপ্রেমও অবারিতভাবে রয়েছে। এ দেশে হিন্দুবিদ্বেষী সাম্প্রদায়িক কোনো অপকর্ম ঘটে থাকলে বা ঘটার প্রস্তুতি বা প্রারম্ভ থাকলে তা অবশ্যই হবে ভারত তথা হিন্দুস্তান থেকে। বাংলাদেশের হিন্দু-মুসলিম জ্ঞানত কেউ সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়াবে না। এতে উভয় সম্প্রদায়ের এবং উভয় দেশের যথেষ্ট ক্ষতি হবে এবং সেই ক্ষতি দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়বে এবং বিরাজিত থাকবে বহুকাল। এসব কারণেই সরকারি ঐক্যজোটের চেয়ে বেসরকারি ঐক্যজোট এবার অনেক বেশি সতর্ক ও সাবধানী ভূমিকা পালন করেছে। সংসদে তারা অনেক যৌক্তিক ও মানবিক আচরণ করেছে। যার ভূয়সী প্রশংসা করেছে দুজন স্পিকারসহ দেশ-বিদেশের মানবপ্রেমিক চিন্তাশীল ব্যক্তিগণ। সবাই ভেবেছে বিরোধী ঐক্যজোট তো নির্বাচনের কারণেই প্রতিবাদমুখর হতে পারতো। মামলা-মোকদ্দমা করতে পারতো। নির্বাচনের ফলাফল অস্বীকার করতে পারতো। কিন্তু তা তারা করেনি। খুব শান্তভাবে বিষয়টিকে তারা শান্তির দিকে, সহিষ্ণুতার দিকে, শোকর ও সবরের দিকে এগিয়ে নিয়ে গেছে।
শেষমেশ বিএনপিও বিরোধী জোটের কিছু আবেদন, নিবেদন ও প্রতিবাদের অশনিসংকেতকে মেনে নিতে বাধ্য হয়ে ‘জুলাই মিউজিয়াম’ উদ্বোধন করেছে। কিন্তু এটা করতে গিয়ে যে বয়ান তারা বিভিন্নভাবে প্রকাশ করেছে, তাতে বাংলাদেশের মানুষ পরিপূর্ণভাবে ভরসা খুঁজে পায়নি। সেদিনকার সর্বশ্রেষ্ঠ বয়ান হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের।
দ্বিতীয় শ্রেষ্ঠ বয়ান উপহার দিয়েছেন রাষ্ট্রের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ এবং তার সাথে তুল্যমূল্য বক্তব্য রেখেছেন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রধান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান ও এনসিপির নেতৃবৃন্দ। এদের প্রত্যেককে আমরা আন্তরিক অভিনন্দন, শ্রদ্ধা, শুভেচ্ছা, ভালোবাসা ও অবারিত দোয়া জানাচ্ছি।
বিএনপির শীর্ষ নেতারা এখনো দুই নৌকায় পা দিয়ে আছেন। ৩৬ জুলাইতে তিনি শুধু বিএনপিকেই উচ্চকিত ও মহিমান্বিত করার চেষ্টা করেছেন। বিরোধীদলসহ বিপ্লবের স্টেকহোল্ডারদের জন্য একটু প্রাণ ঠাণ্ডা করার মতো কোনো বয়ান উপহার দিতে পারেননি। সরি ফর দ্যাট।