জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারকে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে
২ জুলাই ২০২৬ ২১:২০
স্টাফ রিপোর্টার : মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ভিসি ড. মোহাম্মদ আব্দুর রব বলেছেন, বাংলাদেশসহ সারা বিশ্ব পরিবেশ পারিবেশিক এক জটিল পরিস্থিতিতে পৌঁছেছে। উন্নত বিশ্বের দেশগুলো যেখানে শব্দদূষণ নেই, সেখানে হাসপাতাল, স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ করে। কিন্তু আমাদের দেশে হাসপাতাল, স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণে শব্দদূষণের বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হয় না। রাস্তার পাশে নয়তো রাস্তার মাঝখানে আমাদের হাসপাতাল, স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে শব্দদূষণের কারণে মানুষকে মানসিক ভারসাম্যহীন করে তোলে।
গত ২৮ জুন রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবের মাওলানা আকরম খাঁ হলে সোসাইটি ফর ন্যাশনাল চ্যারিটির (এসএনসি) উদ্যোগে ‘পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন : বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষিত’ সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. আব্দুর রব আরও বলেন, মায়ের গর্ভে থাকা শিশুটিও নিরাপদ নয়। পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে জীববৈচিত্র্য নষ্ট হচ্ছে। জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারেনি। ফলে পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এই ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারকে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। জাতিসংঘের উদ্যোগে পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব থেকে বিশ্বকে রক্ষা করতে প্রয়োজনী উদ্যোগ নিতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে এসএনসি চেয়ারম্যান ড. খন্দকার রাশেদুল হক ১৯৬৮ সালে নিজের বাল্যকালে দেখা বুড়িগঙ্গার স্মৃতিচারণ করে বলেন, সেই সময় বুড়িগঙ্গার পানি এত বেশি স্বচ্ছ ও পরিষ্কার ছিল, যা দেখেই মনে হতো নদীতে নেমে গোসল করতে। কিন্তু বর্তমানে বুড়িগঙ্গার পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়াও কষ্টকর। বুড়িগঙ্গার পানিতে ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে পানি পঁচে গন্ধ ছড়াচ্ছে! এই পানি ব্রিটিশ-আমেরিকা থেকে কেউ এসে নষ্ট করেনি। এই পানি আমরা নিজেরাই নষ্ট করেছি। একদিকে জনগণের অসচেতনতা; অপরদিকে রাষ্ট্রের নীরবতা। দুটিই পরিবেশের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। ফলে পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনের যেই ক্ষতিকর দিক সেটি থেকে রক্ষা পাওয়া কঠিন। তিনি বলেন, শুধু বুড়িগঙ্গা নয়, বরং প্রতিটি নদনদী রক্ষা করতে হবে। সুন্দরবনসহ প্রকৃতির বুকে বিদ্যমান সকল বন রক্ষা করতে হবে। পশুপাখি হত্যা বন্ধ করতে হবে। এজন্য জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে তিনি আহ্বান জানান।
এসএনসি চেয়ারম্যান সাবেক অতিরিক্ত সচিব ড. খন্দকার রাশেদুল হকের সভাপতিত্বে এবং বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোবারক হোসাইনের পরিচালনায় সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাবেক অতিরিক্ত সচিব জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ড. ফজলে রাব্বি সাদিক আহমেদ।
সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও সাবেক ভিসি (আরবি বিশ্ববিদ্যালয়) প্রফেসর ড. সামছুল আলম, সোসাইটি ফর ন্যাশনাল সোসাইটির (এসএনসি) উপদেষ্টা পরিবেশবিদ ড. এডভোকেট হেলাল উদ্দিন, আমেরিকান ওয়েলফেয়ার সেন্টারের চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক, সিটি ইউনিভার্সিটির ব্যবসা প্রশাসন বিভাগের ডিন প্রফেসর ড. জুলফিকার হাসান, সাবেক সচিব ড. জাহেদুল ইসলাম, সাবেক আতিরিক্ত সচিব আবদুল হালিম, প্রফেসর জাহিদুর রহমান, এনজিও বিশ্লেষক ও টেইনার খন্দকার জাকারিয়া প্রমুখ। বক্তরা বলেন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশ মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারকে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।