জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর, ফিরে দেখা : বিপ্লব, রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক বাস্তবতা

রূপান্তরের সন্ধিক্ষণে রাজনীতি


২ জুলাই ২০২৬ ২১:১৫

॥ ফারাহ মাসুম ॥
২০২৬ সালে এসে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের রাজনীতির প্রকৃতি ও গতিপথ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দেশ এখনো একটি গভীর রাজনৈতিক রূপান্তর প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী ঘটনা হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। দীর্ঘদিনের কেন্দ্রীভূত শাসনব্যবস্থা, রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, প্রশাসনিক দলীয়করণ এবং গণতান্ত্রিক সংকটের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা এই আন্দোলন শেষ পর্যন্ত দেশের রাজনৈতিক ক্ষমতার কাঠামোয় মৌলিক পরিবর্তনের পথ তৈরি করে।
এই জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো একক রাজনৈতিক দলের আন্দোলন ছিল না; বরং এটি ছিল রাষ্ট্র, সমাজ ও রাজনীতির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা অসন্তোষ, বঞ্চনা ও পরিবর্তনের আকাক্সক্ষার সম্মিলিত বিস্ফোরণ। এ অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে কেবল একটি সরকারের পতন ঘটেনি, বরং বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় বৈধতা, রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব এবং ক্ষমতার কাঠামো নিয়েও নতুন বিতর্কের সূচনা হয়েছে।
নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের সন্ধান : বাংলাদেশের স্বাধীনতা-উত্তর রাজনৈতিক ইতিহাসে দীর্ঘসময় ধরে ক্ষমতা আবর্তিত হয়েছে কয়েকটি প্রধান রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে। কিন্তু জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর সেই ঐতিহ্যগত রাজনৈতিক কাঠামো প্রথমবারের মতো বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস, রাষ্ট্র পরিচালনার পদ্ধতি এবং জনগণের অংশগ্রহণের ধরন নিয়ে নতুন প্রশ্ন সামনে আসে।
বর্তমানে বাংলাদেশের রাজনীতি তিনটি প্রধান প্রবণতার মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে। প্রথমত, প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলোর পুনর্বিন্যাস; দ্বিতীয়ত, নতুন রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তির উত্থান এবং তৃতীয়ত, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের প্রচেষ্টা। এই তিনটি প্রবণতার পারস্পরিক সম্পর্কই আগামী দিনের রাজনৈতিক বাস্তবতা নির্ধারণ করবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ এখন একটি ‘পোস্ট-হেজেমনিক’ পর্যায়ে অবস্থান করছে, যেখানে কোনো একক রাজনৈতিক শক্তি পুরো রাজনৈতিক পরিসর নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। এর ফলে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে অনিশ্চয়তাও।
জুলাই সনদ ও রাষ্ট্র সংস্কার : প্রত্যাশা বনাম বাস্তবতা : জুলাই গণঅভ্যুত্থান সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক উত্তরাধিকার হলো রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নকে জাতীয় রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসা। বিচার বিভাগ, নির্বাচন ব্যবস্থা, জনপ্রশাসন, পুলিশ, দুর্নীতি দমন ব্যবস্থা এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনর্গঠন নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে।
জুলাই সনদে অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন সংস্কার প্রস্তাব দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি নতুন সামাজিক চুক্তির ভিত্তি তৈরির প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নানা সীমাবদ্ধতা সামনে এসেছে।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মতে, গণঅভ্যুত্থানের পর সবচেয়ে কঠিন কাজ হলো ‘প্রাতিষ্ঠানিক রূপান্তর’। কারণ কোনো রাজনৈতিক আন্দোলন ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটাতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক ঐকমত্য ও প্রশাসনিক সক্ষমতা ছাড়া সম্ভব নয়।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও দেখা যাচ্ছে, রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনিক জড়তা, রাজনৈতিক স্বার্থের দ্বন্দ্ব এবং ঐকমত্যের ঘাটতি সংস্কার প্রক্রিয়াকে ধীর করে দিয়েছে। ফলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অনেক প্রত্যাশা এখনো বাস্তব রূপ পায়নি।
নতুন প্রজন্মের রাজনীতি : আন্দোলন থেকে প্রতিষ্ঠানের পথে : জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তন হলো তরুণ প্রজন্মের রাজনৈতিক আত্মপ্রকাশ। স্বাধীনতার পর বিভিন্ন ছাত্র আন্দোলন রাজনৈতিক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখলেও ২০২৪ সালের আন্দোলন নতুন প্রজন্মকে একটি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক সত্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে।
এই প্রজন্মের রাজনৈতিক বৈশিষ্ট্য কয়েকটি ক্ষেত্রে আলাদা- তারা দলীয় আনুগত্যের চেয়ে নীতিনির্ভর রাজনীতিকে বেশি গুরুত্ব দেয়; ডিজিটাল যোগাযোগ ও সামাজিকমাধ্যমকে রাজনৈতিক সংগঠনের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে; জাতীয় সার্বভৌমত্ব, দুর্নীতিবিরোধিতা এবং জবাবদিহিকে রাজনৈতিক বৈধতার প্রধান শর্ত হিসেবে বিবেচনা করে; আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা সম্পর্কে আগের প্রজন্মের তুলনায় বেশি সচেতন।
তবে আন্দোলনভিত্তিক রাজনৈতিক শক্তিকে দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করাই এখন তাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ইতিহাসে বহু বিপ্লবী আন্দোলন এই রূপান্তরে ব্যর্থ হয়ে রাজনৈতিকভাবে প্রান্তিক হয়ে গেছে।
পুরোনো রাজনীতির প্রত্যাবর্তনের ঝুঁকি
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে- বাংলাদেশ কি সত্যিই নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির দিকে এগোচ্ছে, নাকি পুরোনো রাজনৈতিক আচরণ আবার ফিরে আসছে?
বাস্তবতা হলো, ব্যক্তিকেন্দ্রিক নেতৃত্ব, রাজনৈতিক মেরুকরণ, ক্ষমতার প্রতিযোগিতা এবং প্রতিপক্ষকে রাজনৈতিকভাবে অকার্যকর করার প্রবণতা এখনো পুরোপুরি দূর হয়নি। বরং কিছু ক্ষেত্রে পুরোনো রাজনৈতিক আচরণের পুনরাবৃত্তিও লক্ষ করা যাচ্ছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কেবল নতুন সরকার প্রতিষ্ঠা নয়; বরং নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা। কারণ রাজনৈতিক সংস্কৃতি অপরিবর্তিত থাকলে প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তনের সুফলও দীর্ঘস্থায়ী হয় না।
অর্থনীতি ও রাজনীতির নতুন সমীকরণ
জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় অর্থনৈতিক প্রশ্ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক বৈধতা এখন অনেকাংশে অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও সুশাসনের সঙ্গে সম্পর্কিত।
দেশের অর্থনীতি বর্তমানে কয়েকটি বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি- ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের উচ্চহার; বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ স্থবিরতা; কর্মসংস্থানের চাপ; মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চ্যালেঞ্জ; বৈদেশিক ঋণ ও রাজস্ব ব্যবস্থার কাঠামোগত দুর্বলতা।
অন্যদিকে রেমিট্যান্সপ্রবাহ, রপ্তানি আয় এবং কিছু সামষ্টিক অর্থনৈতিক সূচকে ইতিবাচক প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে। ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে একটি দ্বৈত বাস্তবতার মধ্যে অবস্থান করছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ছাড়া অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়, আবার অর্থনৈতিক সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে রাজনৈতিক অস্থিরতাও বাড়তে পারে। ফলে রাজনীতি ও অর্থনীতি এখন পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল।
ভূরাজনীতির নতুন বাস্তবতায় বাংলাদেশ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতেও নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়া ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক পরিবেশে বাংলাদেশকে এখন আরও সতর্ক ও ভারসাম্যপূর্ণ কৌশল অনুসরণ করতে হচ্ছে।
ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখন ‘ব্যালান্সিং স্ট্র্যাটেজি’ অনুসরণ করার চেষ্টা করছে। জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের প্রশ্ন এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অনেকাংশে নির্ভর করবে দেশটি কতটা সফলভাবে অভ্যন্তরীণ সংস্কার এবং বহির্বিশ্বের কৌশলগত সম্পর্কের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে পারে তার ওপর।
নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক বৈধতার প্রশ্ন
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে বাংলাদেশের রাজনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলোÑ নতুন রাজনৈতিক বৈধতার ভিত্তি কী হবে?
একদিকে রয়েছে দ্রুত নির্বাচনের দাবি; অন্যদিকে রয়েছে কাঠামোগত সংস্কার সম্পন্ন করে টেকসই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার দাবি। এই দুই প্রবণতার মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করাই বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
বিশ্লেষকদের মতে, কেবল নির্বাচনই গণতন্ত্রের নিশ্চয়তা নয়; আবার নির্বাচন ছাড়া গণতান্ত্রিক বৈধতাও পূর্ণতা পায় না। ফলে বাংলাদেশের সামনে চ্যালেঞ্জ হলো এমন একটি রাজনৈতিক বন্দোবস্ত তৈরি করা, যেখানে নির্বাচন, জবাবদিহি এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার পরস্পরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে।
সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ : বাংলাদেশের সামনে তিনটি দৃশ্যপট
বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় বাংলাদেশের সামনে তিনটি সম্ভাব্য দৃশ্যপট দেখা যাচ্ছে। প্রথম দৃশ্যপট : সংস্কারভিত্তিক গণতান্ত্রিক রূপান্তর : এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক দলগুলো সংস্কারের প্রশ্নে ঐকমত্যে পৌঁছাবে এবং একটি নতুন গণতান্ত্রিক বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠিত হবে। এটি হবে সবচেয়ে ইতিবাচক ও স্থিতিশীল পথ।
দ্বিতীয় দৃশ্যপট : সীমিত সংস্কার ও নিয়ন্ত্রিত রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা : এক্ষেত্রে কিছু সংস্কার বাস্তবায়িত হলেও রাজনৈতিক ব্যবস্থার মৌলিক কাঠামো অনেকাংশে অপরিবর্তিত থাকবে। এটি স্বল্পমেয়াদে স্থিতিশীলতা আনতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে নতুন সংকট তৈরি করতে পারে।
তৃতীয় দৃশ্যপট : রাজনৈতিক মেরুকরণের পুনরুত্থান : যদি রাজনৈতিক সমঝোতা ব্যর্থ হয় এবং অর্থনৈতিক সংকট তীব্র হয়, তবে দেশ আবারও তীব্র রাজনৈতিক মেরুকরণ ও অস্থিরতার দিকে ফিরে যেতে পারে।
গণঅভ্যুত্থনের দ্বিতীয় বছর, পরীক্ষার সময় এখনো শেষ হয়নি
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে এসে বলা যায়, বাংলাদেশের রাজনৈতিক রূপান্তরের যাত্রা এখনো অসম্পূর্ণ। গত দুই বছরে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কাঠামো, রাজনৈতিক বৈধতা এবং নাগরিক অংশগ্রহণের প্রশ্নে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটলেও নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থা এখনো পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
বাংলাদেশ বর্তমানে ইতিহাসের এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে অতীতের রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং ভবিষ্যতের গণতান্ত্রিক আকাক্সক্ষার মধ্যে এক গভীর প্রতিযোগিতা চলছে। এই প্রতিযোগিতার ফলাফলই নির্ধারণ করবে আগামী কয়েক দশকে বাংলাদেশের রাষ্ট্র, রাজনীতি এবং গণতন্ত্রের চরিত্র কী হবে।
সুতরাং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী কেবল স্মৃতিচারণের উপলক্ষ্য নয়; বরং এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্মাণের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার মুহূর্ত। এই পরীক্ষায় রাষ্ট্র, রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ এবং নতুন প্রজন্ম কতটা সফল হবে, তার ওপরই নির্ভর করছে বাংলাদেশের আগামী অধ্যায়ের ইতিহাস।