সংক্ষিপ্ত বিশ্ব সংবাদ


১ জুলাই ২০২৬ ২১:৩৫

ফিলিস্তিনে স্থায়ী শান্তির একমাত্র পথ দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান : এরদোগান
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা ও সংকটের মূলে রয়েছে ফিলিস্তিন ইস্যু এবং স্বাধীন দ্বি-রাষ্ট্র ব্যবস্থাপনাই কেবল সেখানে স্থায়ী শান্তি ফিরিয়ে আনতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগান। ইস্তাম্বুলে আয়োজিত ন্যাটোর এক বৈঠকে দেওয়া ভাষণে তুর্কি প্রেসিডেন্ট এই আহ্বান জানান। ইসরাইলের আগ্রাসী নীতির সমালোচনা করে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘ইসরাইলের ক্রমাগত ভূমি দখল বন্ধ না করে এই অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। ফিলিস্তিনে স্থায়ী শান্তির একমাত্র পথ হলো দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান বাস্তবায়ন করা।’ গাজা ও অধিকৃত পশ্চিমতীরে ইসরাইলি বাহিনীর রক্তক্ষয়ী হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই আন্তর্জাতিক মঞ্চে সোচ্চার ভূমিকা পালন করছেন এরদোগান। ২০২৪ সালে গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসন থামাতে তুরস্ক সামরিক হস্তক্ষেপ করতে পারেÑ এমন হুঁশিয়ারির পর দুই দেশের মধ্যে তীব্র কূটনৈতিক বাদানুবাদ তৈরি হয়েছিল। ন্যাটোর মঞ্চে দেওয়া এই সর্বশেষ বক্তব্যে তিনি আবারও ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষা এবং ইসরাইলি দখলদারিত্ব বন্ধের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করলেন। আনাদোলু এজেন্সি।

রিপাবলিকানদের ঘৃণাভাষ্যের জেরে টেক্সাসে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও হেনস্তার শিকার মুসলিমরা
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে মুসলিমদের লক্ষ্য করে তীব্র হচ্ছে বর্ণবাদ এবং ইসলামভীতি (ইসলামোফোবিয়া)। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টির রাজনীতিবিদদের উসকানিমূলক বক্তব্য ও ঘৃণাভাষ্যের (হেট স্পিচ) জেরে সাধারণ মুসলিমদের দৈনন্দিন জীবন হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ। স্কুল, শপিংমল, পার্ক কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়- সবখানেই প্রতিনিয়ত হেনস্তা ও হুমকির শিকার হতে হচ্ছে তাদের। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি টেক্সাসের রিপাবলিকান প্রাইমারি রান-অব নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইসলামভীতি চরম আকার ধারণ করে। রাজনীতিবিদদের দেওয়া এসব উসকানিমূলক বক্তব্য এখন সমাজের সাধারণ স্তরে ছড়িয়ে পড়েছে। হিউস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল মুসলিম শিক্ষার্থী যখন ক্যাম্পাসে নামাজ পড়ছিলেন, তখন এক ব্যক্তি তাদের সামনে গিয়ে পবিত্র কুরআন পুড়িয়ে দেয়। এছাড়া হিজাব বা ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরার কারণে নারীদের প্রকাশ্যে মৌখিকভাবে আক্রমণ করার একাধিক ঘটনা ঘটেছে। ডালাসের বাসিন্দা এবং ‘ইসলামিক সেন্টার অব নর্থ আমেরিকা কাউন্সিল ফর সোশ্যাল জাস্টিসে’র সদস্য নাইলা সৈয়দ জানান, স্কুলে তার দুই ছোট মেয়েকে ইসলামবিরোধী নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। সহপাঠীরা তাদের মুখস্থ বুলি আউড়ে জিজ্ঞেস করছে- ইসলামে নারীদের ওপর নির্যাতন করা হয় কি না। একজন মা হিসেবে এই পরিস্থিতি তাকে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। সম্প্রতি টেক্সাসে রিপাবলিকান পার্টির (এঙচ) অফিসিয়াল কনভেনশনে যোগ দেওয়া মুসলিম প্রতিনিধিদেরও চরম হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে। তাদের সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়, হয় খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করো, না হয় দেশ ছাড়ো। এমনকি রিপাবলিকানদের দলীয় ইশতেহারে ‘ডোন্ট শরিয়াহ আওয়ার টেক্সাস’ নামে একটি নীতি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যার লক্ষ্য মূলত শরিয়াহ আইনকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা। যদিও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টেক্সাসে শরিয়াহ আইন চালুর কোনো দূরবর্তী চেষ্টাও কেউ কখনো করেনি। এদিকে টেক্সাসের উগ্র ডানপন্থী কর্মকাণ্ডকে উসকে দিচ্ছেন খোদ আইনপ্রণেতারা। রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য ন্যান্সি মেস এবং ব্র্যান্ডন গিল সোমালিয়া বা মুসলিম প্রধান দেশগুলো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন বন্ধের জন্য আইন আনার প্রস্তাব করেছেন। ব্র্যান্ডন গিল তার ভোটারদের কাছে পাঠানো এক ইমেইলের শিরোনাম দিয়েছেন- ‘এখনই ইসলামিক অভিবাসন বন্ধ করুন, অন্যথায় আমাদের সন্তানদের মাশুল দিতে হবে।’ ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, এখনই এটি না থামালে তার মেয়েসহ আমেরিকান শিশুদের বোরকা পরে স্কুলে যেতে হবে। এই তীব্র বিদ্বেষের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে টেক্সাসের শিক্ষাব্যবস্থায়ও। টেক্সাস স্টেট বোর্ড অব এডুকেশন সম্প্রতি ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান পাঠ্যক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব এনেছে। যেখানে আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্ব ও জুডিও-খ্রিস্টান সংস্কৃতির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে এবং বিশ্ব সংস্কৃতি ও ইতিহাসে মুসলিম সভ্যতার অবদান সম্পর্কিত অধ্যায়গুলো বাদ বা সংকুচিত করা হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টেক্সাসের একমাত্র দুই মুসলিম আইনপ্রণেতার একজন ডা. সুলেমান লালানি হাউসে একটি ‘আন্তঃধর্মীয় ককাস’ গঠন করেছেন। তিনি বলেন, ‘অজ্ঞতা থেকে ভয়ের জন্ম হয়, আর ভয় থেকে আসে ঘৃণা। আমাদের নিজেদের মধ্যে সংলাপ বাড়াতে হবে।’ তবে অধিকার কর্মীদের মতে, কেবল মুসলিমদের ওপর এই বর্ণবাদ মোকাবিলার দায় চাপিয়ে দিলে চলবে না, সমাজ ও রাষ্ট্রের সব স্তর থেকে এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। দ্য গার্ডিয়ান।

ভারতে চলন্ত ট্রেনে মুসলিম যুবককে পিটিয়ে অজ্ঞান
ভারতের উত্তরপ্রদেশে আবারও উগ্র হিন্দুত্ববাদী সন্ত্রাসীদের নৃশংস শিকার হয়েছেন এক নিরীহ মুসলিম যুবক। কেবল ধর্মীয় পরিচয়- দাড়ি ও মাথায় টুপি থাকায় চলন্ত ট্রেনের ভেতর এক মুসলিম ট্রাভেল এজেন্টকে পিটিয়ে রক্তাক্ত ও অচেতন করার অভিযোগ উঠেছে। গা শিউরে ওঠা এই বর্বরোচিত ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের মুঘলসরাই এলাকার কাছে, বারাণসী-আসানসোল মেমু (এমইএমইউ) এক্সপ্রেসে। গুরুতর আহত ওই যুবকের নাম মোহাম্মদ মাজহার হুসাইন, যিনি বিহারের ভাগলপুর জেলার বাসিন্দা। এই ঘটনায় যোগীরাজ্যে মুসলিমদের জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে আবারও তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী মাজহার হুসাইন পেশায় একজন ট্রাভেল এজেন্ট, যিনি মূলত পবিত্র হজ ও ওমরাহ পালনে ইচ্ছুক মুসলমানদের জন্য বুকিংয়ের কাজ করেন। গত ২৪ জুন তিনি উত্তরপ্রদেশের আম্বেদকর নগরের বিখ্যাত সুফি দরগাহ ‘কাছৌছা শরিফ’ জিয়ারত করতে গিয়েছিলেন। জিয়ারত শেষে গত ২৬ জুন ভোরে তিনি ট্রেনে করে বাড়ি ফিরছিলেন। মাজহার জানান, ভোর আনুমানিক ৪টা ১৫ মিনিট নাগাদ ট্রেনটি যখন মুঘলসরাই স্টেশনের কাছাকাছি, তখন তিনি বগির বেসিনে মুখ ধুচ্ছিলেন। এ সময় হঠাৎ ৪-৫ জন উগ্র হিন্দুত্ববাদী যুবক চরমপন্থী ধর্মীয় স্লোগান দিতে দিতে কামরায় প্রবেশ করে। কোনো কথা নেই, কোনো পূর্বশত্রুতা বা তর্কাতর্কি নেই কেবল মাজহারের দাড়ি ও টুপি দেখেই হিংস্র পশুর মতো তারা তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। উগ্রবাদীদের অতর্কিত হামলায় মাজহার নিজেকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। সন্ত্রাসীদের একজন ভারী কোনো বস্তু বা পাথর দিয়ে তাঁর মাথায় সজোরে আঘাত করে। মুহূর্তে মাথা ফেটে ফিনকি দিয়ে রক্ত ছুটতে থাকে এবং তিনি ট্রেনের মেঝেতেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। ভোরবেলা হওয়ায় বগিতে যাত্রী সংখ্যা কম ছিল, যার সুযোগ নিয়ে উগ্রবাদীরা নির্বিঘ্নে এই তাণ্ডব চালিয়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে রেলওয়ে পুলিশ (জিআরপি) ও রেল কর্মীরা বগির ভেতর থেকে রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় মাজহারকে উদ্ধার করে একটি সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করায়। সেখানে জ্ঞান ফেরার পর পুলিশ তাঁর জবানবন্দি নেয়। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে ক্ষোভ ও আতঙ্কে মাজহার হুসাইন বলেন, ‘আমার অপরাধ ছিল আমি মুসলমান, আমার মুখে দাড়ি আর মাথায় টুপি ছিল। কোনো ঝগড়া বা বিবাদ ছাড়াই তারা আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করেছে। ভারতের মাটিতে আজ আমাদের ধর্মীয় পরিচয়ই সবচেয়ে বড় অপরাধ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারতে বিশেষ করে উত্তরপ্রদেশে ট্রেনে মুসলিম যাত্রীদের ওপর উগ্রবাদীদের চড়াও হওয়া এখন নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত এপ্রিল মাসেই বিহারের কিষাণগঞ্জের এক প্রখ্যাত মাদরাসা শিক্ষক মাওলানা তৌসিফ রেজাকে ট্রেন থেকে নিখোঁজ হওয়ার পর বেরেলির রেললাইনের পাশে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে এই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এক হিন্দুত্ববাদীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই চলন্ত ট্রেনে মাজহার হুসাইনের ওপর এই প্রাণঘাতী হামলা প্রমাণ করে যে, ভারতের গণপরিবহনগুলোয়ও এখন মুসলিমদের জীবন চরম ঝুঁকিপূর্ণ। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভারতের মানবাধিকার কর্মী ও মুসলিম নেতৃত্ব। সিয়াসত ডেইলি।

ইরাকে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে সংসদ সদস্যসহ ৪৭ কর্মকর্তা গ্রেপ্তার
দুর্নীতিবিরোধী বৃহৎ অভিযানের অংশ হিসেবে ইরাকে একজন সংসদ সদস্যসহ অন্তত ৪৭ কর্মকর্তা ও সরকারি কর্মচারীকে গ্রেফতার করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, রাজধানী বাগদাদসহ বিভিন্ন এলাকায় একযোগে পরিচালিত অভিযানে এসব গ্রেফতার করা হয়। সম্প্রতি দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ এবং রাষ্ট্রের বাইরে থাকা অস্ত্রের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তার সরকারের এই অভিযানকে সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার তথ্যানুযায়ী, গ্রেফতার ব্যক্তিদের মধ্যে একজন সংসদ সদস্য, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা এবং তেল মন্ত্রণালয়ের অন্তত একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে। গত রোববার (২৮ জুন) ভোরে সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিটের সহায়তায় নিরাপত্তা বাহিনী রাজধানীর সুরক্ষিত গ্রিন জোন এবং শহরের আরও কয়েকটি এলাকায় অভিযান চালায়। গ্রিন জোনে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান, কূটনৈতিক মিশন ও আন্তর্জাতিক সংস্থার কার্যালয় অবস্থিত। স্থানীয় গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে সাঁজোয়া যানসহ নিরাপত্তা বাহিনীকে বিভিন্ন ভবন ও আবাসিক কম্পাউন্ডে অভিযান চালাতে দেখা যায়। অভিযানের সময় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নথি ও আর্থিক লেনদেনের তথ্যও জব্দ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, আগামী মাসে ওয়াশিংটন সফরের আগে সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান তুলে ধরতেই এই অভিযান জোরদার করা হয়েছে। একইসঙ্গে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অর্থায়ন, ডলার পাচার এবং অবৈধ তেল বাণিজ্যের বিরুদ্ধেও সরকার কঠোর অবস্থান নিতে চায়। একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এটি আরও বড় একটি অভিযানের সূচনা মাত্র। তার ভাষায়, ভবিষ্যতে দুর্নীতি ও অবৈধ অর্থায়নের সঙ্গে জড়িত আরও ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইরাকের দুর্নীতি দমন কমিশন জানিয়েছে, সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতের জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানাগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে জব্দ করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ সম্পদ ও অর্থ। সরকারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চলা দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা দেশের অর্থনীতি ও বিনিয়োগ পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তাই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে অভিযান অব্যাহত থাকবে। আল-জাজিরা।

যৌন নির্যাতন মামলায় হেরে গেলেন ট্রাম্প
যৌন নির্যাতনের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলে হেরে গেলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সে দেশের সুপ্রিম কোর্ট তার আপিল গ্রহণ না করায় ট্রাম্প নারী সাংবাদিক ই জিন ক্যারলকে ৫০ লাখ (৫ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের করা আপিল আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট। এর ফলে নারী সাংবাদিক পাঁচ মিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬১ কোটি ৬২ লাখ টাকা) ক্ষতিপূরণ দিতে হবে তাকে। গত সোমবার (২৯ জুন) সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের সেই আবেদন শুনতে অস্বীকৃতি জানায়, যেখানে তিনি যৌন নিপীড়ন ও মানহানির অভিযোগে ক্যারলের পক্ষে দেওয়া নিম্ন আদালতের রায় চ্যালেঞ্জ করেছিলেন। এর ফলে ২০২৩ সালে দেওয়া পাঁচ মিলিয়ন ডলারের রায় কার্যকর থাকছে। ক্যারল ২০১৯ সালে প্রথম ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেন। পরে ২০২২ সালে নিউইয়র্কে একটি নতুন আইন কার্যকর হওয়ার পর তিনি আবার মামলা করেন। ওই আইনের মাধ্যমে যৌন নিপীড়নের শিকার ব্যক্তিরা পুরোনো ঘটনার জন্যও দেওয়ানি মামলা করার সুযোগ পান। অদ্ভুত আইনি পরিস্থিতির কারণে ২০২২ সালের মামলাটিই আগে আদালতে যায়। সেই মামলায় জুরি বোর্ড ক্যারলের পক্ষে রায় দিয়ে ট্রাম্পকে পাঁচ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। পরবর্তীতে ২০১৯ সালের মানহানির মামলার বিচার হয় এবং সেই মামলায় ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ৮৩ মিলিয়ন ডলারের রায় দেওয়া হয়। সুদসহ ক্যারলকে ট্রাম্পের মোট পাওনা ১০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি বলে জানানো হয়েছে। ক্যারলের ২০২২ সালের মামলায় অভিযোগ ছিল, ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি নিউইয়র্কের একটি ডিপার্টমেন্ট স্টোরে ট্রাম্প তাকে যৌন নিপীড়ন করেন এবং পরে ঘটনাটি অস্বীকার করে তার মানহানি করেন। ট্রাম্প শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তিনি দাবি করেছেন, মামলার বিচারক যুক্তরাষ্ট্রের জেলা বিচারক লুইস কাপলান বিচারপ্রক্রিয়ায় একাধিক ভুল করেছেন। ট্রাম্পের আইনজীবীদের অভিযোগ ছিল, বিচারক এমন দুই নারীর সাক্ষ্যগ্রহণের অনুমতি দিয়েছেন যারা অতীতে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করেছিলেন। পাশাপাশি ২০০৫ সালের ‘অ্যাকসেস হলিউড’ টেপ জুরিদের দেখানোর অনুমতিকেও তারা প্রশ্নবিদ্ধ করেন। ওই অডিও রেকর্ডিংয়ে ট্রাম্পকে নারীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করতে শোনা যায়, যা মামলায় প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় সার্কিট কোর্ট অব আপিলস জুরির দেওয়া পাঁচ মিলিয়ন ডলারের রায় বহাল রাখে। আদালত জানায়, বিচারক এমন কোনো ভুল করেননি যার কারণে নতুন করে বিচার প্রয়োজন। ২০২৫ সালের জুনে ট্রাম্প পূর্ণ বেঞ্চে মামলাটি পুনর্বিবেচনার আবেদন করেও ব্যর্থ হন। এরপর তিনি সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেন। ট্রাম্পের আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্টে যুক্তি দেন, একজন দায়িত্বরত প্রেসিডেন্টকে পুরোনো অভিযোগের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব থেকে মনোযোগ সরাতে বাধ্য করা হচ্ছে এবং এটি প্রেসিডেন্ট পদের প্রতি ক্ষতিকর। তবে ক্যারলের আইনজীবীরা যুক্তি দেন, দ্বিতীয় সার্কিট আদালতের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল এবং জুরি যথেষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতেই রায় দিয়েছে। এদিকে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে দেওয়া ৮৩ মিলিয়ন ডলারের রায়ের বিষয়টি এখনো সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ রয়েছে। ট্রাম্পের আইনজীবীরা শিগগিরই ওই রায়ের বিরুদ্ধেও আপিল করতে পারেন বলে জানা গেছে। সিএনএন।

ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরি করে বিশ্বকে চমকে দিলো চীন
সামরিক প্রযুক্তির দুনিয়ায় এক অভাবনীয় মাইলফলক স্পর্শ করল চীন। ষষ্ঠ প্রজন্মের (Sixth Generation) যুদ্ধবিমান তৈরির দৌড়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ফেলে এক বড় প্রযুক্তিগত বাধা পার করেছে তারা। সম্প্রতি চীনের তৈরি একটি ‘টেললেস’ বা লেজবিহীন ভারী যুদ্ধবিমানের আকাশে ওড়ার নতুন ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে, যা সামরিক বিশেষজ্ঞদের রীতিমতো চমকে দিয়েছে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, লেজবিহীন বিমানটি আকাশে অত্যন্ত তীব্র গতিতে বাঁক নিয়ে খাড়া ওপরের দিকে উঠে যাচ্ছে (Sharp turn-climb)। এর মাধ্যমে বিমানটির উচ্চ মাত্রার চালচলন বা কৌশলী সক্ষমতা (High manoeuvrability) প্রমাণিত হয়েছে, যা এতদিন এই ধরনের বিমানের ক্ষেত্রে অসম্ভব বলে মনে করতেন আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকরা। চেংদু এয়ারক্রাফট কর্পোরেশন (Chengdu Aircraft Corporation) কর্তৃক উদ্ভাবিত এই ষষ্ঠ প্রজন্মের বিমানটি তিনটি ইঞ্জিনবিশিষ্ট এবং এটিই বিশ্বের প্রথম ষষ্ঠ প্রজন্মের বিমান যা ২০২৪ সালের ২৬ ডিসেম্বরের দিকে প্রথম পরীক্ষামূলক ফ্লাইটে অংশ নেয়। ইতোমধ্যে এই ধরনের চারটি প্রোটোটাইপ বা পরীক্ষামূলক সংস্করণ তৈরি করা হয়েছে। সাধারণ যুদ্ধবিমানগুলো আকাশে ভারসাম্য রক্ষা, গতিপথ পরিবর্তন ও ক্ষিপ্রতার জন্য পেছনের অনুভূমিক লেজের অংশ (Horizontal tailplanes) ব্যবহার করে। কিন্তু লেজবিহীন যুদ্ধবিমানে এই অংশটি না থাকায় একে নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত কঠিন। তবে চীন এই বাধা দূর করতে ব্যবহার করেছে অত্যন্ত উন্নত মানের ‘ফ্লাইট-কন্ট্রোল সফটওয়্যার’ এবং ডানার সাথে যুক্ত বিশেষ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। এর ফলে লেজ না থাকলেও বিমানটি যেকোনো আগ্রাসী মোড় বা অবস্থান পরিবর্তন সহজেই করতে পারছে। বর্তমানে চীনই বিশ্বের একমাত্র দেশ যারা এই প্রযুক্তির সফল উড্ডয়ন করতে সক্ষম হয়েছে। সামরিক বিজ্ঞানীদের মতে, যুদ্ধবিমানকে রাডারের চোখ থেকে সম্পূর্ণ আড়াল বা ‘স্টিলথ’ (Stealth) করার জন্য লেজবিহীন নকশাকে সেরা ধরা হয়। লেজ না থাকায় রাডার তরঙ্গ প্রতিফলিত হওয়ার সুযোগ কমে যায়, যার ফলে বিমানটির ‘রাডার ক্রস সেকশন’ অনেকটাই হ্রাস পায়। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ২০৫০ সালের আগে কেবল চীন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই এই লেজবিহীন ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরি করতে পারবে। তবে চীন এ ক্ষেত্রে বেশ এগিয়ে রয়েছে। চীনের এই বিমানগুলো ২০৩০-এর দশকের শুরুতেই সামরিক বাহিনীতে যুক্ত হতে পারে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রযুক্তির বিমান (ঋ-৪৭) ২০৪০-এর দশকের আগে সার্ভিসে আসার সম্ভাবনা খুবই কম। মিলিটারি টাইমস।

ওয়াশিংটনে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি লেবাননের সুন্নি গোষ্ঠীগুলোর প্রত্যাখ্যান
ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার এবং হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণকে এক সুতোয় বেঁধে ওয়াশিংটনে সই হওয়া ত্রিপক্ষীয় রূপরেখা চুক্তিটি প্রত্যাখ্যান করেছে লেবাননের দুটি প্রভাবশালী সুন্নি গোষ্ঠী। এই চুক্তিকে ইসরাইল ও আমেরিকার শর্তের কাছে লেবাননের নিরাপত্তাকে সমর্পণ করার একটি ‘মলিন ও বিদ্বেষপূর্ণ প্রচেষ্টা’ বলে আখ্যায়িত করেছে তারা। বৈরুতে এক জরুরি বৈঠক শেষে ‘আল-উম্মা মুভমেন্ট’ এবং ‘সুন্নি অথরিটি ফর সাপোর্টিং দ্য রেজিস্ট্যান্স’ যৌথভাবে এই বিবৃতি প্রকাশ করে। বিবৃতিতে সুন্নি দল দুটি জানায়, অধিকৃত অঞ্চল থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের শর্ত হিসেবে হিজবুল্লাহর মতো প্রতিরোধ যোদ্ধাদের নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টি জুড়ে দেওয়া সব ধরনের ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমার চরম লঙ্ঘন। প্রস্তাবিত চুক্তিতে ইসরাইলকে একটি সরাসরি তদারকির ভূমিকা দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে গোষ্ঠীগুলো। তাদের দাবি, এই চুক্তি কার্যকর হলে লেবানন সেনাবাহিনীর কর্মক্ষমতা মূল্যায়ন এবং নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের নামে লেবাননের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ করার সুযোগ পাবে ইসরাইল। এই চুক্তিকে কেন্দ্র করে বর্তমানে লেবাননের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তীব্র বিভাজন দেখা দিয়েছে। চুক্তির সমর্থকরা এটিকে চিরস্থায়ী যুদ্ধাবস্থা থেকে মুক্তির একটি সম্ভাব্য উপায় হিসেবে দেখলেও, সমালোচকরা এটিকে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের শর্তের কাছে সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ হিসেবেই গণ্য করছেন। এপি।

ইউক্রেনে মার্কিন গোপন ‘বায়োল্যাব’ নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস
ইউক্রেনের মাটিতে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদরদপ্তর পেন্টাগনের অর্থায়নে পরিচালিত গোপন ‘জৈব কর্মসূচির’ পেছনে থাকা অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুতর কিছু তথ্য ফাঁসের দাবি করেছেন ভিক্টর মেদভেদচুক। ইউক্রেনের সাবেক বিরোধীদলীয় নেতা এবং ‘আদার ইউক্রেন’ আন্দোলনের বর্তমান প্রধান মেদভেদচুক অভিযোগ করেছেন, এই গবেষণাগারগুলো কেবল বৈজ্ঞানিক গবেষণাকেন্দ্র ছিল না, বরং এগুলোকে জৈব অস্ত্র তৈরির গোপন আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। তার আন্দোলনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি নিবন্ধে মেদভেদচুক দাবি করেন, ইউক্রেনের সাধারণ মানুষকে লক্ষ করে এবং সেনাদের ওপর মারাত্মক সব সামরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাতেই এই প্রকল্প পরিচালনা করা হচ্ছিল। এর আগে ১২ জুন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক তুলসি গ্যাবার্ড দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ৩০টিরও বেশি দেশে ১২০টির বেশি জৈব গবেষণাগারে অর্থায়ন করেছে এবং এ কর্মসূচির তথ্য দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন জনগণের কাছ থেকে গোপন রাখা হয়েছে। এক বিবৃতিতে গ্যাবার্ড বলেন, তার কার্যালয় এমন একটি বৈশ্বিক জৈব গবেষণাগার নেটওয়ার্কের তথ্য পেয়েছে, যেখানে বিপজ্জনক ও অত্যন্ত সংক্রামক রোগজীবাণু নিয়ে গবেষণা হয়েছে। এসব গবেষণাগারের অবস্থান, ইতিহাস ও অর্থায়ন সংক্রান্ত তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন করা হয়েছিল। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের এসব তৎপরতার সমালোচকদের অনেক সময় বিদেশি অ্যাজেন্ট বা বিশ্বাসঘাতক বলে চিহ্নিত করাও হয়েছে। মেদভেদচুকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউক্রেনে এই কর্মসূচির সূচনা হয়েছিল আরও দুই দশক আগে। তৎকালীন ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভিক্টর ইউশচেঙ্কো এবং প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া টিমোশেঙ্কোর আমলে একটি দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা চুক্তির মাধ্যমে এই কার্যক্রমের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়। শুরুতে কিয়েভ, ওডেসা এবং লভিভ শহরে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ ল্যাব আধুনিকীকরণের কাজ শুরু হয়। তবে এই কর্মসূচির সবচেয়ে বড় বিস্তার ঘটে সাবেক প্রেসিডেন্ট ভিক্টর ইয়ানুকোভিচের আমলে। এ সময় ইউক্রেনজুড়ে প্রায় ২৮টি নতুন ল্যাব তৈরি ও আধুনিকায়ন করা হয়, যার মধ্যে ওডেসার একটি কেন্দ্রীয় রেফারেন্স ল্যাব এবং খেরসনের আঞ্চলিক ল্যাবগুলো অন্যতম। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, এই ল্যাবগুলোর বিস্তৃতির সাথে সাথে ইউক্রেনের জনস্বাস্থ্যের অবনতি ঘটতে শুরু করে। উদাহরণস্বরূপ, ২০১১ সালে যেখানে মাত্র ৩৩ জন কলেরায় আক্রান্ত হয়েছিল, তার পরবর্তী তিন বছরে সেই সংখ্যা বেড়ে ৮০০ ছাড়িয়ে যায়। মেদভেদচুকের অভিযোগ, তৎকালীন ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ এই ঝুঁকির কথা জানলেও যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অসন্তোষের ভয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছিল।
মেদভেদচুকের করা সবচেয়ে বিস্ফোরক অভিযোগটি ছিল বর্তমান প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির আমলকে কেন্দ্র করে। তিনি দাবি করেন, ২০১৯ সালের পর ইউক্রেনে মানুষের ওপর এই জৈব পরীক্ষা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়। তার দাবি অনুযায়ী, ৪,০০০-এরও বেশি ইউক্রেনীয় সেনার ওপর অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরীক্ষা চালানো হয়েছে। তাদের রক্তরস এবং হেমোরেজিক ফিভারের মতো মারাত্মক ভাইরাস নিয়ে পরীক্ষা করা হয়, যার ফলে বেশকিছু সেনার প্রাণহানিও ঘটেছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, মানুষের জাতিগত উৎপত্তির ওপর ভিত্তি করে নির্দিষ্ট ভাইরাসের কার্যকারিতা কেমন হয়, সেই সংক্রান্ত অত্যন্ত গোপন ডেটা সরাসরি মার্কিন কর্তৃপক্ষের কাছে পাচার করা হতো। মেদভেদচুকের এই চাঞ্চল্যকর দাবি এমন একসময়ে সামনে এলো যখন রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্প্রতি ডিক্লাসিফাইড বা অবমুক্ত করা বেশ কিছু গোয়েন্দা নথির বরাত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ এনেছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্রের খবর অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মে মাসে মার্কিন ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের ডিরেক্টর তুলসি গ্যাবার্ড নিজেই একটি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ববর্তী প্রশাসনের অর্থায়নে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পরিচালিত ১২০টিরও বেশি বায়োলজিক্যাল ল্যাবের কার্যক্রম খতিয়ে দেখতে এই তদন্ত শুরু হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৪০টি ল্যাব কেবল ইউক্রেনেই অবস্থিত। অন্যদিকে গ্যাবার্ডের কার্যালয়ের তথ্যানুযায়ী, এসব গবেষণাগারের কিছু ইউক্রেনে রয়েছে। রাশিয়ার সাথে চলমান যুদ্ধের কারণে সেগুলো ঝুঁকির মধ্যে আছে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এর আগে সতর্ক করেছিল, ইউক্রেনের কমপক্ষে একটি স্থাপনায় বিপজ্জনক রোগজীবাণু রয়েছে, যা হামলা বা দখলের শিকার হতে পারে। মেদভেদচুক এই পুরো বিষয়টির একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একইসাথে দেশের ব্যাকটেরিওলজিক্যাল নিরাপত্তা নিয়ে জেলেনস্কি সরকারের উদাসীনতার তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। উল্লেখ্য, ২০২২ সাল থেকেই রাশিয়া গণবিধ্বংসী অস্ত্র (ডাব্লিউএমডি) তৈরির অভিযোগে এই ল্যাবগুলোর সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা শুরু করে রেখেছে। এপি।

ইসরাইলি হামলায় শিশুসহ ৪ ফিলিস্তিনি নিহত
ফিলিস্তিনি অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় গত রোববার (২৮ জুন) নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। এতে এক শিশুসহ চার ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরো পাঁচজন আহত হয়েছেন। একটি চিকিৎসা সূত্র জানিয়েছে, বেইত লাহিয়া শহরে একটি ড্রোন হামলায় দুই যুবক নিহত এবং একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ড্রোনটি বেইত লাহিয়ার উম্ম আল-ফাহম স্কুলের কাছে একদল বেসামরিক নাগরিকের ওপর হামলা চালায়, যেখানে শত শত বাস্তুচ্যুত মানুষ আশ্রয় নিয়েছিল। একই শহরের আল-আমৌদি এলাকায় ইসরাইলি গুলিতে এক ফিলিস্তিনি নারী আহত হয়েছেন। এদিকে দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে ইসরাইলি কামানের গোলার আঘাতে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরী নিহত হয়েছে। অন্যদিকে খান ইউনিসের আল-মাওয়াসি এলাকায় বেসামরিক নাগরিকদের ওপর ইসরাইলি হামলায় আরো একজন ফিলিস্তিনি নিহত এবং তিনজন আহত হয়েছেন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরাইলি হামলায় কমপক্ষে এক হাজার ৪১ জন নিহত এবং তিন হাজার ৩৭২ জন আহত হয়েছেন। ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর ইসরাইল কর্তৃক শুরু হওয়া দুই বছরের গণহত্যা যুদ্ধের পর এই যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানো হয়। এই অভিযানে ৭৩ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং এক লাখ ৭৩ হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হন। এছাড়া অভিযানে গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে। জাতিসঙ্ঘের অনুমান অনুযায়ী, এর পুনর্গঠন খরচ প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলার। আনাদোলু এজেন্সি।

জাপানের ২০ প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করল চীন
দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য (সামরিক ও বেসামরিক উভয় কাজে ব্যবহারযোগ্য) পণ্যের রফতানি বন্ধ করার উদ্দেশ্যে গত সোমবার (২৯ জুন) ২০টি জাপানি প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকায় যুক্ত করেছে চীন। এই তালিকার মধ্যে জাপানের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর ডিফেন্স স্টাডিজও রয়েছে। সোমবার চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানায়। মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষা এবং অস্ত্র বিস্তার রোধসহ আন্তর্জাতিক দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যে জাপানের ২০টি প্রতিষ্ঠানকে রফতানি নিয়ন্ত্রণ কালো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান জাপানের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করে চীন।’ বাসস।

ইউক্রেনে রাশিয়ার ভয়াবহ ড্রোন হামলায় নিহত ১০
ইউক্রেনজুড়ে আবারও ব্যাপক ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। গত সোমবার (২৯ জুন) দিনভর বিভিন্ন অঞ্চলে দফায় দফায় চালানো এসব হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ। স্থানীয় প্রশাসনের আশঙ্কা, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা লোকজনের কারণে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর দিনিপ্রোতে বড় ধরনের একটি মিসাইল হামলা চালানো হয়। হামলার পর শহরের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র সামনে আসে। দিনিপ্রো অঞ্চলের গভর্নর ওলেকজান্ডার হাঞ্জা জানিয়েছেন, ওই হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ২৯ জন। হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয় একটি স্কুল, কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, সাধারণ মানুষের বসতবাড়ি এবং ব্যক্তিগত যানবাহন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন, রাশিয়া বেসামরিক স্থাপনা ও সাধারণ মানুষের ব্যবহৃত অবকাঠামোয় আঘাত হেনেছে। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোয় উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর উচিত নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও জোরদার করা। অন্যদিকে জাপোরিঝিয়া শহরে একটি যাত্রীবাহী মিনিবাসকে লক্ষ করে ড্রোন হামলা চালানো হয়। এতে দুই পুরুষ ও এক নারী নিহত হন। আহতদের মধ্যে সাত বছর বয়সী এক শিশুও রয়েছে। হামলার পর রক্তাক্ত মিনিবাসটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন অঞ্চলের গভর্নর ইভান ফেডোরভ। স্থানীয় কর্মকর্তাদের তথ্যানুযায়ী, একই শহরে বিকেলের দিকে আরও একটি ভ্যান লক্ষ করে হামলা চালানো হলেও সেখানে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শহর খারকিভও এদিন রুশ হামলার শিকার হয়। সেখানে বোমা হামলায় ২৩ বছর বয়সী এক নারী নিহত হন এবং আহত হন অন্তত ১০ জন। শহরের মেয়র ইহর তেরেখভ জানান, হামলায় একটি ট্রাম এবং ১৫টির বেশি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরে একই এলাকায় আরও একটি বোমা নিক্ষেপ করা হলেও সেটি বিস্ফোরিত হয়নি। ঘটনাস্থল ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এখন পঞ্চম বছরে প্রবেশ করেছে। খারকিভ, দিনিপ্রো এবং জাপোরিঝিয়ার মতো বড় শহরগুলোয় প্রায়ই হামলার ঘটনা ঘটছে। তবে সর্বশেষ হামলার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি মস্কো। যুদ্ধের শুরু থেকেই উভয় পক্ষ সাধারণ মানুষের ওপর হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। আল-জাজিরা।

উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেম মাওলানা সালমান নদভীর ইন্তেকাল
উপমহাদেশের বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ, খ্যাতিমান আলেম, লেখক, গবেষক ও ভারতের দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামার লখনৌর দাওয়াহ অনুষদের সাবেক ডিন মাওলানা সাইয়্যিদ সালমান নদভী ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। গত সোমবার (২৯ জুন) ভোরে মাওলানা সাইয়্যিদ সালমান নদভীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে তার ইন্তেকালের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। তার ইন্তেকালের খবরে ভারতসহ উপমহাদেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ধর্মীয় ও একাডেমিক অঙ্গনে তার মৃত্যু অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে দেখছেন আলেম-ওলামা ও শিক্ষাবিদরা। ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবর লখনৌতে ইন্তেকাল করেন সাইয়্যিদ সালমান নদভী। আজ আসর নামাজের পর জামিয়া সৈয়দ আহমদ শহীদ কাটোলিতে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে সেখানেই তাকে দাফন করা হবে। জানাজায় দেশ-বিদেশের আলেম, ছাত্র, অনুসারী ও শুভানুধ্যায়ীদের বিপুল উপস্থিতি থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মাওলানা সালমান নদভী ছিলেন বর্তমান সময়ের অন্যতম প্রভাবশালী ইসলামী ব্যক্তিত্ব। তিনি একজন প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ, বিশিষ্ট লেখক, কুরআনের মুফাসসির এবং প্রভাবশালী বক্তা হিসেবে মুসলিম বিশ্বে বিশেষ পরিচিতি লাভ করেছিলেন। তার বয়ান ও আলোচনা শুধু ভারতেই নয়, বরং বিশ্বজুড়ে মুসলিম সমাজে ব্যাপকভাবে সমাদৃত ছিল। ডন।
গ্রন্থনা ও সম্পাদনা : আবদুল কাইউম খান