দুর্নীতির থাবা সেবা খাতেও আঘাত হেনেছে
১ জুলাই ২০২৬ ২১:৩০
॥ একেএম রফিকুন্নবী ॥
বাংলাদেশে দুর্নীতির থাবা একে একে সব ক্ষেত্রেই বিরাজ করছে। কয়েকদিন পূর্বে টিআইবির এক রিপোর্টে এর বিশ্লেষণ এসেছে। যা প্রমাণ করেছে, আমাদের দুর্নীতির থাবা রন্ধ্রে রন্ধ্রে পৌঁছানোর এক ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। আমি আগেও লিখেছি আবার বলতে চাই, আমাদের জন্মভূমি বাংলাদেশ জনবহুল দেশ। কিন্তু এর মাটি, পানি, সমুদ্র জলবায়ু সবই বসবাসের উপযোগী। তারপরও আমাদের শাসকগোষ্ঠী জনবান্ধব পাইনি।
পাকিস্তানের শাসকদের বৈষম্যের ফাঁদে পড়ে আমাদের যুদ্ধ করে পূর্ব পাকিস্তানকে বাংলাদেশ বানাতে হয়েছে। কিন্তু যাদের নেতৃত্বে স্বাধীনতা যুদ্ধ হলো, সেই আওয়ামী লীগ মরহুম শেখ মুজিবের নেতৃত্বে বৈষম্য দূর করা দূরে থাক, তিনি সব দল নিষিদ্ধ করে একদলীয় শাসন ‘বাকশাল’ কায়েম করে লাল ঘোড়া দাবড়ানোর শাসন কায়েম করলেন। তিনি সংসদ ভবনে দাঁড়িয়ে ভারতীয় আধিপত্যবাদ বিরোধী নেতা সিরাজ সিকদারকে অবৈধভাবে হত্যা করে বললেন ,‘সিরাজ সিকদার আজ কোথায়?’
মহান আল্লাহ অহঙ্কারীকে পছন্দ করেন না। ৩ বছর যেতে না যেতেই তার সরকার ও দলের অসৎ দুর্নীতির হলিখেলা শুরু হয়ে গেল। মুজিবের কনিষ্ঠ সহযোগী তৎকালীন ঢাকা শহর আ’লীগের সভাপতি রেডক্রস সোসাইটির চেয়ারম্যান গাজী গোলাম মোস্তফা কম্বল চোর হিসেবে আখ্যায়িত হলো। শেখ মুজিবুর রহমানও বিধিবহির্ভূত তার ছেলের কুকীর্তির কারণে সেনা অফিসার ডালিমের স্ত্রীর সাথে অসৌজন্য ব্যবহারের ফলে মেজর ডালিম ও তার সহযোদ্ধারা মিলে শেখ মুজিবের গোষ্ঠীসহ হত্যার শিকার হলো। তখন কিন্তু আওয়ামী লীগের দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাকর্মী কেউ লাশ দেখতে আসেনি। মাত্র ১৭ জনের গ্রামবাসী টঙ্গিপাড়া গ্রামে তাকে জানাজা দিয়ে কবর দেয়া হয়। আমরা সচেতন মানুষরা আর কারো এ পরিণতি দেখতে চাই না।
বাংলাদেশের ৫৫ বছরের শাসনে কোনো সরকারই দুর্নীতির ঊর্ধ্বে উঠতে পারেনি। কয়েকবার দেশকে দুর্নীতির শীর্ষে উঠতে হয়েছে, যা আমাদের জন্য লজ্জাজনক। বাংলাদেশের ইতিহাসে জোট সরকারের আমলে জামায়াতের তদানীন্তন আমীর শহীদ মতিউর রহমান নিজামী ও সেক্রেটারি জেনারেল শহীদ আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ৩টি মন্ত্রণালয় ৫ বছর চালিয়ে দুর্নীতির ঊর্ধ্বে উঠে এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন। তাদের জুডিশিয়াল কিলিং করে ফাঁসি দেয়া হয়েছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত তাদের ৩টি মন্ত্রণালয়ে ঐ সময়ে কোনো দুর্নীতি আবিষ্কার করতে পারেনি। তাই তো আমাদের এই দুই নেতাসহ শহীদ আবদুল কাদের মোল্লা, শহীদ কামারুজ্জামান, শহীদ মীর কাসেম আলীকে একইভাবে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসির দড়িতে ঝোলানো হয়, যা মহান আল্লাহ তায়ালা পছন্দ করেননি।
তাই তো কয়েক বছরের ব্যবধানে আজকের জুলাই বিপ্লবের ফসল সংসদে ৬৮টি আসনের সার্থক বিরোধীদল জামায়াতে ইসলামী গঠনমূলক ভূমিকা রেখে যাচ্ছে। ১১ দলের মোট ৭৭টি সংসদীয় এলাকায় ইতোমধ্যে দুর্নীতিমুক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আরো উল্লেখ করতে চাই, জুলাই বিপ্লবের অন্যতম সংগঠক ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতৃত্বে ডাকসু, চাকসু, রাকসু, জকসু, জাকসু নির্বাচনে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে তাদের প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে। মূলত দুর্নীতিমুক্ত নেতা তৈরি করতে জামায়াত-শিবিরের ভূমিকা দেশের ছাত্র-জনতা প্রত্যক্ষ করতে পেরেছে। তাই তো প্রফেসর ও বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরীর মতো আধুনিক মহিলা প্রকাশ্যে সেমিনারে বলেছেন, আমি বিএনপির সমর্থক ছিলাম, এখন আমি জামায়াতকে ভালোবাসি। কিন্তু জুলাই বিপ্লবের ফসল সংসদে যেভাবেই হোক ২/৩ অংশ সিট নিয়ে বিএনপি আবার আগের সরকারগুলোর মতোই একদলীয় শাসন চালানোর চেষ্টা করছে। সব ক্ষেত্রেই দলীয় লোক নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সব বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি দলীয় লোক অন্যায়ভাবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ইউজিসির চেয়ারম্যানসহ সবই দলীয় লোক।
অন্যদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন না দিয়ে সিটি করপোরশনের মেয়র, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানদেরও দলীয় লোক নিয়োগ দিয়ে দুর্নীতির পথ খুলে দিয়েছে। আমরা এর প্রতিকার চাই। কারণ জুলাই যুদ্ধে ১৪০০ ছাত্র-জনতা প্রাণ দিয়ে শহীদের কাতারে নাম লিখিয়েছে। প্রায় ৩০ হাজার ছাত্র-জনতা আহত হয়েছে। কেউ হাত হারিয়েছে, কেউ পা হারিয়েছে, কেউবা চোখ হারিয়ে বিছানায় বা হাসপাতালে কাতরাচ্ছে। এদের মূল্যায়ন না করলে আগের স্বৈরাচারদের পথে তাদের পরিণতি ভোগ করতে হবে, যা আমরা সচেতন নাগরিকরা চাই না।
ফিরে আসি টিআইবির দুর্নীতির কঠিন নামের দিকে। তারা বলেছে, দুর্নীতির সবচেয়ে বড় খাত হলো পাসপোর্ট অফিস। পাসপোর্ট পাওয়া প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক অধিকার। সেখানেই যদি দুর্নীতির আখড়া হয়, তবে জনগণের চাহিদা মিটবে কীভাবে?
টিআইবি জরিপ করে বলেছে, সারা দেশে পাসপোর্ট অফিসগুলোয় দুর্নীতির হার সবচেয়ে বেশি। শহরে ৭৬.০৬ ভাগ দুর্নীতির সাথে জড়িত। আর মফস্বলে এ হার ৭৯ শতাংশে ছাড়িয়েছে, যা খুবই মারাত্মক ব্যাধি হিসেবে উল্লেখ করার মতো। পাসপোর্ট পাওয়া প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক অধিকারের মধ্যে পড়ে, তাই এক্ষেত্রে নির্বাচিত সরকারি ও বিরোধীদলের সদস্যসহ কমিটি করে জরুরি পদক্ষেপ নেয়া দরকার। উল্লেখ থাকে যে, জ¦ালানির ব্যাপারে সরকারি ও বিরোধীদলের সমন্বয়ে কমিটি করার সাথে সাথে ম্যাজিকের মতো জ¦ালানি তেলের ক্রাইসিস শেষ হয়ে গেছে।
টিআইবি ১৮ খাতে দুর্নীতির জরিপ করেছে। তার মধ্যে বিআরটিএ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ভূমি ও কৃষি খাত অন্যতম। জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে, বিআরটিএ অর্থাৎ জনগণের যানবাহন সংক্রান্ত ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ির কাগজপত্র বৈধ লাইসেন্স করাতে গিয়ে ৬৩.৫ শতাংশ মানুষ হয়রানির শিকার হয়েছে, ঘুষ-দুর্নীতিতে আটকে পড়ছে; যা খুবই আশঙ্কাজনক।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দুর্নীতির কথা জরিপে উঠে এসেছে। থানা থেকে শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দুর্নীতি অনেকটা ওপেন সিক্রেট। কারণ আইনশৃঙ্খলার সাথে জড়িতরা আগের স্বৈরাচার হাসিনার আমলের নেয়া। তাদের বর্তমান সরকারের আমলে নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জনবান্ধব করে গড়ে তুলতে হবে। জনগণ যাতে করে পুলিশকে তাদের বন্ধু হিসেবে গণ্য করে।
টিআইবি দেশের বিচার বিভাগের দুর্নীতিরও ফিরিস্তি উল্লেখ করেছে। বিচার বিলম্ব হওয়া, বিচারের নথি গায়েব হওয়া। ঠিকমতো সাক্ষী হাজির করতে না পারা। বিশেষ করে জমিজমা সংক্রান্ত বিচার বছরের পর বছর লেগে যাওয়া। দীঘ ২০ বছরেও অনেক মামলা ঝুলে আছে। এর প্রতিকার করা। এ সরকার বিচার বিভাগ সম্পর্কিত অধ্যাদেশ বাতিল করে দিয়েছে, যা মোটেও ঠিক হয়নি। আশা করা যায়, বিচারিক আদালতে বিচার কমিশন পুনর্বহাল হবে।
টিআইবি শিক্ষা খাতের দুর্নীতির জরিপ করেছে, সেখানেও দুর্নীতির পরিমাণ কম নয়। শিক্ষক নিয়োগ, প্রশিক্ষণ দেয়া, বেতন ভাতা, অবসর ভাতা যথাসময়ে না পাওয়া সম্পর্কে জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিকার জরুরি। শিক্ষা যেহেতু জাতির মেরুদণ্ড বলা হয়, তাই মেরুদণ্ডের দুর্নীতি কমাতে পারলে দেশ ভালো হবে।
টিআইবি স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন বিভাগের কথা উল্লেখ করেছে। যেহেতু বর্তমানে নির্বাচিত স্থানীয় প্রতিনিধি নাই, তাই জনগণের সেবা পেতে কষ্ট হচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে স্থানীয় সরকারের সুষ্ঠু নির্বাচন দেয়া দরকার। সৎ, যোগ্য, জনদরদি লোক নেতৃত্বে এলে দুর্নীতি দমন করা সম্ভব হবে। কৃষি খাতের ওপরও টিআইবি জরিপ চালিয়েছে। সেখানেও দুর্নীতি কম নয়। কৃষি বিভাগ আমাদের উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করে। কৃষকের হাত মজবুত করতে পারলে দেশের খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন সম্ভব হবে। শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকাকালে এ বিভাগ অনেক দূর এগিয়ে এসেছিল। এ বিভাগের দুর্নীতিমুক্ত করতে পারলে দেশের চাল, ডাল, ফল-ফলাদি উৎপাদনে দেশর চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে। অনেক বিদেশি ফলও এখন আমাদের দেশে উৎপাদিত হয়। খেজুর অন্যতম। আমি তো একবার লিখেছিলাম, দেশি ফল খান, বৈদেশিক মুদ্রা বাঁচান। আমাদের দেশে এখন আম, জাম, কাঁঠাল, কলা, লিচুসহ প্রায় ১০০ প্রকার ফল বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত হচ্ছে। আবার বিদেশেও রফতানি হচ্ছে। তাই কৃষিতে জনগণকে আকৃষ্ট করতে পারলে দেশের অর্থনীতিতে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হবে।
টিআইবির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের প্রত্যেক বিভাগে কাজের জবাবদিহি মানসম্পন্ন করতে পারলে দুর্নীতি অনেকাংশে কমে আসবে। জরিপে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, সর্বক্ষেত্রে দোষীদের বিচার সঠিকভাবে করা- যাতে সঠিক লোকেরা আরো ভালো করতে পারে আর দোষীরা সাজা পেয়ে প্রায়শ্চিত্ত করতে পারে। সরকারি ক্রয়ের ক্ষেত্রে শতকোটি টাকা গচ্চা যায়। এ সংক্রান্ত সরকারি ও বিরোধীদলের সদস্য নিয়ে ক্রয় কমিটি তদারকি করতে পারলে দুর্নীতি অনেকাংশে কমে যাবে।
আমাদের বড় একটি সেবা খাত পানি সরবরাহ ও নিষ্কাশন। এক্ষেত্রে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়কে এ্যাকটিভ ভূমিকা নিয়ে বর্তমান বিপ্লবোত্তর সরকারের দায়িত্ব অনেক। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী শহর-গ্রামে নিরাপদ পানি সরবরাহ এবং পানি নিষ্কাশনের সঠিক ব্যবস্থা নিতে পারলে জনগণের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অনেক পরিবর্তন আসবে।
দেশের স্বাস্থ্য খাত সম্পর্কিত টিআইবি জরিপ চালিয়ছে। স্বাস্থ্য খাত জনগণের সেবা পাওয়ার বড় খাত। এ খাতে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকগুলোকে কার্যকরী ভূমিকা রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। প্রয়োজনীয় ডাক্তার, নার্স, আয়া থেকে শুরু করে প্রশাসনের ভূমিকা নিশ্চিত করতে হবে। সেবা খাতের উন্নয়নে সরকারকে পরিদর্শকের ভূমিকা জোরদার করতে হবে। ৬ জন শিশুর মারা যাওয়ার কারণে আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করাটা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। হামে এ পর্যন্ত ৭০০-এর বেশি শিশু মারা গেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে কী ভূমিকা নিয়েছে, জাতি জানতে চায়। সরকারকে টিআইবির জরিপের আলোকে দুর্নীতি দমনের লোকদের দ্বারা তদন্ত করে বিচারের আওতায় জড়িতদের আনতে হবে। ভালো লোকের প্রশংসা করতে হবে। মন্দ লোকের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। মনে রাখতে হবে, সেই যে কাজ করে তার জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। আমরা যারা আল্লাহকে বিশ্বাস করি, তাদের মনে রাখতে হবে, দুনিয়ায় জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হবে, আর আখিরাতে আল্লাহর কাছেও জবাবদিহি করতে হবে। কোনে ছাড় পাওয়া যাবে না। ভালো কাজের অণুপরিমাণ আমাদের খাতায় লেখা থাকছে, আবার মন্দ কাজের অণুপরিমাণও লেখা থাকছে। ভালো পরিমাণ বেশি হলে মন্দ থেকে ছাড় পাওয়া যাবে, ইনশাআল্লাহ।
আমাদের নির্বাচিত ও মনোনীত ৩৫০ জন সংসদ সদস্য যদি শপথ নেন, আমাদের বিভাগে এবং এলাকায় কোনো দুর্নীতি বা চাঁদাবাজির প্রশ্রয় দেব না, তবে দেশ থেকে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির কালচার শেষ হয়ে যাবে। তার প্রমাণ প্রতি জেলায়ই জামায়াতের লোকদের গড়া স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মাদরাসা, ব্যাংক-বীমা, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ঠিকই দুর্নীতিমুক্ত, চাঁদাবাজিমুক্ত থেকে ভালোভাবে চলছে। আমি নিজেও ঢাকা শহরে এবং আমার এলাকায় যে সমস্ত প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত আছি, দীর্ঘ ৫০ বছরে সেগুলো দুর্নীতিমুক্ত অবস্থায় চলছে। তাই তো এবার ৬৪ জেলায় জামায়াতের ভোটের পরিমাণ প্রায় ৪০ শতাংশে পৌঁছেছে।
এবারের বাজেট বক্তৃতায় আমীরে জামায়াত ও সংসদের বিরোধীদলের নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, পাচার হওয়া টাকা আংশিক ফিরিয়ে আনতে পারলে বাজেটের ঘাটতি মেটানো সম্ভব হবে।
আরেকটি দিকের প্রতি আকর্ষণ করতে চাই, তাহলোÑ দুর্নীতিমুক্ত ব্যক্তিদের নিয়ে দুদক গঠন জরুরি। দলীয়করণ না করে সমাজে যারা সততার সাথে এবং দুর্নীতিমুক্তভাবে কাজ করেছে তাদের নিয়েই দুর্নীতি দমন কমিশন করতে হবে। এক্ষেত্রে কোনো আপস করা যাবে না। বাজেট পাস হওয়ার সাথে সাথেই প্রত্যেক এমপি-মন্ত্রীরা দুর্নীতিমুক্ত থেকে এলাকায় কাজ পরিচালনা করবেন এটাই আমাদের প্রত্যাশা। আগামীতে দুর্নীতিমুক্ত সমাজের প্রত্যাশায় শেষ করলাম।
লেখক : সাবেক সিনেট সদস্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
ই-মেইল : rnabi1954@gmail.com