গীবত : অদৃশ্য পাপ, দৃশ্যমান ধ্বংস


১ জুলাই ২০২৬ ২১:২২

॥ এস এম মাহমুদ হাসান ॥
একটি ছুরি দিয়ে মানুষের শরীর কাটা গেলে, সেই ক্ষত দেখা যায়, রক্ত বের হয়, যার চিকিৎসা করা সম্ভব। কিন্তু জিহ্বার আঘাত? সেই ক্ষত অদৃশ্য অথচ সারা জীবনের জন্য গভীর। এই অদৃশ্য অস্ত্রের নামই হলো গীবত। বর্তমান সমাজে গীবত বা পরনিন্দা এতটাই স্বাভাবিক হয়ে গেছে যে, এটি আর কোনো অপরাধ বলেই মনে হয় না। চায়ের কাপে ঝড় তোলা, অফিসের করিডোরে ফিসফিসানি, পরিবারের আড্ডায় অনুপস্থিত কাউকে নিয়ে রসালো আলোচনা- এই দৃশ্যগুলো আমাদের দৈনন্দিন জীবনের যেন এক নিয়মিত অংশ হয়ে উঠেছে। তার ওপর ডিজিটাল যুগের ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটকের রমরমায় পরনিন্দার ক্ষেত্র এখন কয়েক কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে মুহূর্তেই। অথচ মনস্তত্ত্ব, সমাজবিজ্ঞান এবং পৃথিবীর প্রতিটি প্রধান ধর্ম ও নৈতিক দর্শন একবাক্যে গীবতকে চিহ্নিত করেছে একটি ধ্বংসাত্মক সামাজিক ব্যাধি হিসেবে। যে সমাজ পারস্পরিক বিশ্বাস ও শ্রদ্ধার ওপর দাঁড়িয়ে থাকার কথা, গীবত নামক এই অদৃশ্য ক্যানসার প্রতিনিয়ত সেই ভিত্তিমূলেই কুঠারাঘাত করছে।
‘গীবত’ আরবি শব্দ, অর্থ পেছনে কারো দোষ-ত্রুটি অন্যের সামনে প্রকাশ করা। ইসলামী পরিভাষায় এর সংজ্ঞা সুনির্দিষ্ট: কোনো ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে এমন কোনো সত্য বিষয় উল্লেখ করা, যা শুনলে সে মনে কষ্ট পাবে বা লজ্জিত হবে। তা তার শারীরিক গঠন, পোশাক, বংশ, স্বভাব কিংবা পেশা যাই হোক না কেন। অনেকে যুক্তি দেন, ‘আমি তো মিথ্যা বলছি না।’ কিন্তু এখানেই মূল ফাঁদ। ইমাম গাজালী (র.) তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ এহয়াউ উলুমিদ্দীন-এ লিখেছেন, ‘তুমি তোমার ভাইয়ের এমন কথা বলা বন্ধ করো, যা সে জানলে কষ্ট পাবে। মনে রেখো সত্য কথাটি আড়ালে বলাই গীবত, আর মিথ্যা বানিয়ে বলা হলো অপবাদ।’ অর্থাৎ কথাটি মিথ্যা হলে তা আর গীবত থাকে না, তখন তা হয়ে যায় ‘অপবাদ (বুহতান) যা আরও বহুগুণ বড় অপরাধ।’
মহান আল্লাহ তায়ালা সূরা আল-হুজুরাতের ১২ নম্বর আয়াতে একটি ভয়াবহ উপমা দিয়ে মানবজাতিকে সতর্ক করেছেন, ‘তোমাদের কেউ কি তার মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে পছন্দ করবে? বস্তুত তোমরা তা অপছন্দই করো।’ উপমাটি কেবল কাব্যিক নয়, গভীরভাবে মনস্তাত্ত্বিক। মৃত মানুষ আত্মরক্ষা করতে পারে না। অনুপস্থিত মানুষটিও পারে না। সে জানে না তার পেছনে কী বলা হচ্ছে, সে প্রতিবাদ করতে পারছে না ঠিক মৃতের মতোই অপারগ। রাসূলুলাহ (সা.) একবার সাহাবীদের জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘তোমরা কি জানো গীবত কী?’ সাহাবীরা বললেন, ‘আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন।’ তিনি বললেন, ‘তোমার কোনো ভাই সম্পর্কে এমন কথা বলা, যা সে অপছন্দ করে।’ জিজ্ঞেস করা হলো, ‘সেই দোষ যদি সত্যিই তার মধ্যে থাকে?’ রাসূল (সা.) বললেন, ‘তাহলেই তুমি গীবত করলে। আর যদি না থাকে, তুমি অপবাদ দিলে।’ (সহীহ মুসলিম)। মিরাজের রাতে রাসূলুল্লাহ (সা.) এক ভয়াবহ দৃশ্য দেখেছিলেন। কিছু মানুষ তামার নখ দিয়ে নিজেদের মুখমণ্ডল ও বুক আঁচড়াচ্ছিল। জিবরাইল (আ.) জানালেন, এরাই তারা যারা দুনিয়ায় মানুষের গীবত করত এবং তাদের ইজ্জত নষ্ট করত। (সুনানে আবু দাউদ)।
যুগে যুগে জ্ঞানী-গুণীরা এই বিষয়ে মানবজাতিকে সতর্ক করে গেছেন। হযরত হাসান বসরী (রহ.) বলেছিলেন, ‘গীবত ঈমানকে ধ্বংস করে শরীরের ভেতর ছড়িয়ে পড়া জীবাণুর চেয়েও দ্রুত গতিতে।’ তিনি আরও বলতেন যদি কেউ তোমার সামনে অন্যের গীবত করে, নিশ্চিত থাকো, সে অন্য মজলিসে গিয়ে তোমার নামেও তাই করবে।
শেখ সাদী (রহ.) তাঁর গুলিস্তাঁয় লিখেছেন এক অসাধারণ স্মৃতির কথা। ছোটবেলায় গভীর রাতে পিতার পাশে বসে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করতে করতে তিনি বললেন, ‘বাবা দেখো, সবাই ঘুমাচ্ছে, কেউ ইবাদত করছে না।’ পিতা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, ‘হে পুত্র! অন্যের নিন্দা করার চেয়ে তোমার ঘুমিয়ে থাকা অনেক ভালো ছিল। তুমি নামাজ পড়ে যে সওয়াব পেলে, অন্যের দোষ ধরে মুহূর্তেই তা শেষ করে দিলে।’
সক্রেটিস দিয়েছিলেন বিখ্যাত তিনটি ছাঁকনির পরীক্ষা। একবার এক ব্যক্তি তাঁর কাছে এসে বলল, ‘আপনার এক বন্ধু সম্পর্কে একটি কথা শুনেছি।’ সক্রেটিস থামিয়ে দিয়ে বললেন, ‘তিনটি প্রশ্নের উত্তর দাও আগে।’
প্রথম ছাঁকনি: সত্য: ‘কথাটি কি শতভাগ সত্য?’ লোকটি বলল, ‘না, শুনেছি।’
দ্বিতীয় ছাঁকনি: কল্যাণ: ‘কথাটিতে কি কারো কোনো ভালো হবে?’ লোকটি বলল, ‘না’।
তৃতীয় ছাঁকনি: প্রয়োজনীয়তা: ‘এই কথাটি কি বলা জরুরি?’ লোকটি মাথা নিচু করল।
সক্রেটিস হাসলেন: ‘যে কথা সত্য নয়, কল্যাণকর নয়, এবং প্রয়োজনীয়ও নয় তা বলে নিজের ও অন্যের সময় নষ্ট করার কোনো মানে হয় না।’
এলিনর রুজভেল্ট মানুষের আলোচনার মান নিয়ে বলেছিলেন এক কালজয়ী উক্তি, ‘উচ্চমানের মন সবসময় আইডিয়া নিয়ে কথা বলে; সাধারণ মন ঘটনা নিয়ে; আর নিচুমানের মন মানুষকে নিয়ে।’ এই একটি বাক্যই বলে দেয়, পরনিন্দায় আসক্ত মানুষ আসলে নিজের বৌদ্ধিক দেউলিয়াত্বই প্রকাশ করছে।
গীবতের সামাজিক ক্ষত ও মনস্তাাত্ত্বিক প্রভাব
গীবত কেবল আধ্যাত্মিক পাপ নয়, এটি একটি সামাজিক ক্যানসার, যার ক্ষতি দৃশ্যমান ও বাস্তব।
সম্পর্কের ভাঙন, একটি কথা এক কান থেকে দুই কান হতে হতে যখন মূল মানুষের কাছে পৌঁছায়, তখন ভেঙে পড়ে বছরের পর বছরের বন্ধুত্ব, পারিবারিক বন্ধন, সামাজিক সম্প্রীতি। যা গড়তে লেগেছিল এক যুগ, তা ধ্বংস হয় একটি বিষাক্ত বাক্যে।
কর্মক্ষেত্রের বিষবা®প: অফিসে বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যখন সহকর্মীরা কাজের বদলে একে অপরের পেছনে কথা বলায় ব্যস্ত থাকে, তখন সেখানে তৈরি হয় এক বিষাক্ত পরিবেশ। পারস্পরিক সহযোগিতার জায়গায় দাঁড়ায় ঈর্ষা ও সন্দেহ, যা গোটা প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনশীলতাকে গ্রাস করে।
মনস্তাত্ত্বিক হীনম্মন্যতা: মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, যারা নিয়মিত পরনিন্দায় মগ্ন থাকে, তারা মূলত এক গভীর হীনম্মন্যতায় ভোগে। নিজের যোগ্যতায় যারা ওপরে উঠতে পারে না, তারা অন্যকে টেনে নামানোর মাধ্যমে সাময়িক স্বস্তি খোঁজে। এটি একটি মানসিক দুর্বলতার লক্ষণ, শক্তির নয়।
ডিজিটাল গীবত : একবিংশ শতাব্দীর নতুন মহামারি : অতীতে গীবত সীমাবদ্ধ ছিল চার-পাঁচজনের আড্ডায়। আজ একটি ফেসবুক পোস্ট কয়েক ঘণ্টায় পৌঁছে যায় লাখো মানুষের কাছে।
ট্রোলিং, রোস্টিং ভিডিও, স্ক্রিনশট ছড়ানো, ব্যক্তিগত স্ক্যান্ডাল নিয়ে রসালো কমেন্ট-এসব আধুনিক গীবতের নতুন মোড়ক মাত্র। স্ক্রিনের ওপাশে যে মানুষটি আছে, সেও রক্ত-মাংসের মানুষ। তারও পরিবার আছে, আবেগ আছে, সম্মান আছে। ডিজিটাল পরনিন্দার শিকার হয়ে অনেক মানুষ আজ মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে, এমনকি আত্মহত্যার পথ পর্যন্ত বেছে নিচ্ছে। লাইক ও শেয়ারের উত্তেজনায় আমরা ভুলে যাই যে প্রতিটি ক্লিকে আমরা কারও সম্মানের এক টুকরো নষ্ট করছি এবং সেই পাপের বোঝা প্রতিদিন আমাদের কাঁধেই ভারী হচ্ছে।
ডিজিটাল গীবত কীভাবে হয়?
সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ও কমেন্ট: ফেসবুক, এক্স (টুইটার), বা অন্য কোনো প্ল্যাটফর্মে কারো নাম উল্লেখ করে বা ইঙ্গিত দিয়ে তার দোষত্রুটি নিয়ে পোস্ট বা কমেন্ট করা।
ইনবক্স বা চ্যাট গ্রুপ : মেসেঞ্জার, হোয়াটসআপ বা ভাইবার গ্রুপে কয়েকজন মিলে অন্য কোন ব্যক্তির ব্যক্তিগত বিষয়, ছবি বা স্ক্রিনশট নিয়ে হাসাহাসি বা সমালোচনা করা।
ট্রল ও মিমস: কারো কোনো ভুল বা অসাবধানতাবশত ঘটে যাওয়া ঘটনাকে কেন্দ্র করে ট্রল বা মিম বানিয়ে অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া।
অডিও/ভিডিও ফাঁস: কারো অনুমতি ছাড়া তার ব্যক্তিগত কল রেকর্ড বা ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়া এবং এর মাধ্যমে তাঁকে সামাজিকভাবে হেয় করা।
কেন এটি সাধারণ গীবতের চেয়েও মারাত্মক?
ডিজিটাল গীবত সাধারণ গীবতের চেয়েও দ্রুত এবং বেশি মানুষের কাছে পৌঁছায়, তাই এর ভয়াবহতা অনেক বেশি :
১. দ্রুত বিস্তার ও স্থায়ী রেকর্ড: মুখে বলা কথা অল্প কয়েকজন শোনে এবং একসময় মানুষ তা ভুলে যায়। কিন্তু ডিজিটালি কোনো কিছু শেয়ার করলে তা মুহূর্তের মধ্যে লাখো মানুষের কাছে পৌঁছে যেতে পারে এবং ইন্টারনেটে তার একটি স্থায়ী রেকর্ড থেকে যায়।
২. ক্ষমা চাওয়ার সুযোগ কম: সাধারণ গীবতের ক্ষেত্রে যার গীবত করা হয়েছে, তার কাছে গিয়ে ক্ষমা নেওয়া সম্ভব। কিন্তু ডিজিটাল গীবত যখন ভাইরাল হয়ে যায়, তখন কার কার কাছে সেই তথ্য পৌঁছেছে তা জানা অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে প্রকৃত ভুক্তভোগীর কাছে ক্ষমা পাওয়ার পথ কঠিন বা অসম্ভব হয়ে যায়।
ডিজিটাল গীবত থেকে বাঁচার উপায়
টাইপ করার আগে ভাবুন: কোনো মন্তব্য বা পোস্ট করার আগে নিজেকে প্রশ্ন করতে হবে ‘এই কথাটা আমি ওই ব্যক্তির সামনে বলতে পারতাম কি না?’
স্ক্রিনশট শেয়ারে সতর্কতা: কারো গোপন মেসেজ বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও শেয়ার করা থেকে বিরত থাকুন।
গ্রুপ চ্যাটে সংযম: কোনো গ্রুপ চ্যাটে যখন কারো পরনিন্দা শুরু হয়, তখন সেখানে অংশ না নিয়ে আলোচনা থামানোর চেষ্টা করুন অথবা নিজেকে সরিয়ে নিন।
প্রযুক্তির সঠিক ও নৈতিক ব্যবহারই পারে আমাদের এই আধুনিক মানসিক ব্যাধি থেকে মুক্ত রাখতে।
ইসলামে গীবতের ব্যতিক্রম
ইসলাম একটি ভারসাম্যপূর্ণ জীবনব্যবস্থা। সমাজকে বড় ক্ষতি থেকে বাঁচাতে সুনির্দিষ্ট ছয়টি ক্ষেত্রে অনুপস্থিত ব্যক্তির ত্রুটি প্রকাশ বৈধ :
১. মজলুমের ন্যায়বিচার: অত্যাচারীর বিরুদ্ধে বিচারকের কাছে সত্য বলা। ২. অন্যায় প্রতিরোধ : কাউকে অপরাধ থেকে বাঁচাতে সাহায্য চাওয়া। ৩. ফতোয়া বা আইনি সমাধান: সমস্যার সমাধানে আইনজীবী বা মুফতির কাছে সত্য বলা। ৪. সমাজকে প্রতারণা থেকে রক্ষা: বিয়ে বা ব্যবসার ক্ষেত্রে প্রতারকের আসল রূপ প্রকাশ। ৫. প্রকাশ্য পাপাচারী: যে নিজেই সর্বসমক্ষে পাপ করে বেড়ায়, তার সেই নির্দিষ্ট পাপের সমালোচনা। ৬. পরিচয় নির্ধারণ: অবমাননার উদ্দেশ্য ছাড়া কাউকে চেনানোর জন্য পরিচিত বৈশিষ্ট্য উল্লেখ।
গীবত থেকে মুক্তির পথ
আত্মসচেতনতা : কোনো কথা মুখ থেকে বের করার আগে সক্রেটিসের তিনটি ছাঁকনি মনে করুন, সত্য কী? কল্যাণকর কী? প্রয়োজনীয় কী? মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যে আল্লাহ ও শেষ দিবসে বিশ্বাস রাখে, সে ভালো কথা বলুক অথবা চুপ থাকুক।’ (সহীহ বুখারী)।
নিজের দিকে তাকানো: জালালুদ্দিন রুমি বলেছিলেন, ‘তুমি যদি অন্যের দোষ দেখতে পাও, জানবে তোমার চোখের আয়নায় ধুলো জমেছে।’ অন্যকে নিয়ে ব্যস্ত থাকার বদলে নিজের ভেতরের সংশোধনে সময় দিলে পরনিন্দার অবকাশই থাকবে না।
বিষাক্ত আড্ডা বর্জন: যেখানে কারো অনুপস্থিতিতে সমালোচনা শুরু হয়, বিষয় পাল্টান। না পারলে প্রতিবাদ করুন। তাও না পারলে সেই আড্ডা ছেড়ে উঠে আসুন। নীরব থাকাও এক ধরনের অংশগ্রহণ।
তওবা ও ক্ষমা: অতীতে কারও গীবত করে থাকলে আলাহর কাছে খাঁটি মনে তওবা করুন। সম্ভব হলে সরাসরি ক্ষমা চান। না হলে তার জন্য দোয়া ও ইস্তেগফার করুন।
একটি পাথর ছুড়ে দিলে পানিতে যে ঢেউ ওঠে, তা বৃত্তাকারে ছড়িয়ে পড়ে সুদূর তীর পর্যন্ত। গীবতও ঠিক তেমনি একটি বিষাক্ত কথা বলা মাত্র তার ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে সম্পর্কের পর সম্পর্ক, পরিবার থেকে পরিবার, সমাজ থেকে সমাজে। আমাদের জিহ্বা যেন কারো সম্মানে ছুরি না হয়, আমাদের কি-বোর্ড যেন কারও চোখের পানির কারণ না হয়। অন্যের পেছনে কথা বলার অভ্যাস ছেড়ে দিয়ে যদি আমরা একে অপরের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের চর্চা করতে পারিÑ তবেই এই সমাজ হবে প্রকৃত অর্থে মানুষের বাসযোগ্য। গীবতের মতো এই আত্মঘাতী ব্যাধি থেকে নিজে বাঁচুন, আগামী প্রজন্মকে বাঁচান। কারণ যে মানুষ অন্যকে সম্মান দিতে শেখে, সে মানুষই আসলে সবচেয়ে বেশি সম্মান পায়।