২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে আমাদের সীমান্তকে অরক্ষিত করা হয়েছে— কসবায় আতাউর রহমান সরকার
৩০ মে ২০২৬ ১৪:২৮
শুক্রবার (২৯ মে) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা সীমান্তে নিহত বাংলাদেশি যুবক মুরসালিন ও নবির হোসেনের পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য আতাউর রহমান সরকার
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা সীমান্তে নিহত বাংলাদেশি যুবক মুরসালিন ও নবির হোসেনের পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নিতে তাদের বাড়িতে গেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য আতাউর রহমান সরকার। শুক্রবার (২৯ মে) বিকেলে তিনি নিহতদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। এ সময় তিনি পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন এবং সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা জামায়াতের যুব ও আইন বিষয়ক সম্পাদক কাজী সিরাজুল ইসলাম, উপজেলা নায়েবে আমীর পীরজাদা শিবলী নোমানী, পৌর জামায়াতের আমীর হারুন অর রশিদ, গোপীনাথপুর ইউনিয়নের আমীর ডা.গোলাম মুর্তজা, কসবা পশ্চিম ইউনিয়নের আমীর সালাহউদ্দিন আইয়ুবী,সাবেক শিবির নেতা আমির হোসাইন সাঈদী, উসমান গনি সাঈদী, উপজেলা শিবির সভাপতি জাহিদ হাসান মোল্লা, ডা. আফজাল হোসেন, শেখ সাদী নোমানী।
সাক্ষাৎকালে মিডিয়ার মুখোমুখিতে আতাউর রহমান সরকার বলেন, সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। তিনি নিহতদের পরিবারের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
আতাউর রহমান সরকার বলেন, “আমাদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ধ্বংসের পেছনে ভারত দায়ী, রাষ্ট্রীয় কাঠামো ধ্বংসের পেছনে ভারত দায়ী। ভারত দাবি করে তারা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, অথচ আমাদের দেশে যত অগণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় এসেছে এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের যতগুলো হত্যাকাণ্ড হয়েছে, সবগুলোর জন্য ভারত দায়ী।
এমনকি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর যে শীর্ষস্থানীয় পাঁচজন নেতাকে কারাগারে বিচারের নামে প্রহসন করে হত্যা করা হয়েছে, এটাও ভারতের প্ররোচনায় করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “২০০৯ সালে পিলখানায় যে নারকীয় হত্যাকাণ্ড হয়েছে, ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করা হয়েছে এবং শত শত বিডিআর সদস্যকে ষড়যন্ত্র করে কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়েছে। অনেক বিডিআর সদস্য কারাগারে থেকেই মৃত্যুবরণ করেছেন।
বিডিআরকে তারা ধ্বংস করে দিয়েছে। বিডিআর ধ্বংসের মধ্য দিয়ে আমাদের সীমান্তকে অরক্ষিত করে ফেলা হয়েছে।”
আতাউর রহমান সরকার বলেন, “ভারত আমাদের পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র। তারা আমাদের সঙ্গে বন্ধুসুলভ আচরণ করবে— এটাই আমরা আশা করেছিলাম। আমরা আমাদের মতো চলবো, তারা তাদের মতো চলবে। আমরা একে অপরের সহযোগী হবো, বন্ধু হিসেবে ভূমিকা রাখবো। কিন্তু আমরা বন্ধুত্বের পরীক্ষা অনেক দিয়েছি। বিগত সময়ে যারা ক্ষমতায় ছিল তারা ইলিশ মাছ পাঠিয়ে, আম পাঠিয়ে বিভিন্নভাবে বন্ধুত্বের পরিচয় দিয়েছে। বিপরীতে আমরা পেয়েছি ফেলানীর লাশ, মুরসালিন ও নবির হোসেনের মতো অনেক মানুষের লাশ। তারা আমাদের মানুষকে পাখির মতো গুলি করে হত্যা করেছে।”
পরে তিনি মুরসালিন ও নবির হোসেনের পরিবারের হাতে নগদ অর্থ সহায়তা তুলে দেন। এ সময় স্থানীয় জামায়াত ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি কসবা সীমান্ত এলাকায় মুরসালিন ও নবির হোসেন নিহত হওয়ার ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। ঘটনার পর থেকেই স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।