বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর যুব বিভাগের কেন্দ্রীয় সম্মেলনে মিয়া গোলাম পরওয়ার

যার অন্তরে সাহস, উদ্যম ও ত্যাগের মানসিকতা রয়েছে, সেই প্রকৃত যুবক

সোনার বাংলা অনলাইন
২২ মে ২০২৬ ২২:০৪

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর যুব বিভাগের কেন্দ্রীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর যুব ও ক্রীড়া বিভাগের কেন্দ্রীয় সম্মেলন-২০২৬ আজ ২২ মে বৃহস্পতিবার রাজধানীর আল ফালাহ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দিনব্যাপী এ সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত যুব প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন যুব ও ক্রীড়া বিভাগের সভাপতি এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এবং অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বিভাগের সদস্য সচিব জনাব মঞ্জুরুল ইসলাম ভূঁইয়া।

প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার। বিশেষ অতিথি হিসেবে দারসে কুরআন পেশ করেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম।

সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া বিভাগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ডা. মো. ফখরুদ্দিন মানিক, কামাল হোসেন এমপি, মুহাম্মদ ইয়াসিন আরাফাত, ড. মোবারক হোসাইন।

আরও উপস্থিত ছিলেন শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাত এমপি এবং ইফসুর সেক্রেটারি জেনারেল ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজসহ নেতৃবৃন্দ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, যুব সমাজের মাঝে দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছে দিতে এ ধরনের সম্মেলন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তিনি হাদিসে বর্ণিত আরশের ছায়াপ্রাপ্ত সাত শ্রেণীর মানুষের প্রসঙ্গ তুলে ধরে যুবকদের আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বার্ধক্য আসার আগেই যৌবনকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে হবে। আমাদের আল্লাহর ভয়ে ভীত হয়ে অশ্রু ফেলতে হবে। নিজের যৌবনের হেফাজত করতে হবে এবং তাকওয়া, আত্মশুদ্ধি ও নৈতিকতার মাধ্যমে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।

রাসূলুল্লাহ (সা.) একবার তরুণ যুবকদের নিয়ে বলেছিলেন, ভয়হীন ও ঈমানদীপ্ত তরুণরাই সত্য প্রতিষ্ঠার অগ্রসৈনিক। রাসূলুল্লাহ (সা.) এর আহ্বানে তাঁর তরুণ সাহাবারা দ্বীনের জন্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জিহাদের ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, ইসলামের প্রতিটি জাগরণে যুবকরাই ছিল সবচেয়ে সাহসী ও অগ্রণী ভূমিকার অধিকারী।

তিনি আরও বলেন, যুব বিভাগ কোনো নির্দিষ্ট বয়সের ফ্রেমে সীমাবদ্ধ নয়; বরং যার অন্তরে সাহস, উদ্যম ও ত্যাগের মানসিকতা রয়েছে, সেই প্রকৃত যুবক।

তারুণ্য মানেই শক্তি, সাহস ও সম্ভাবনা। যুবকরাই পারে একটি সমাজকে ধ্বংসের দিক থেকে ফিরিয়ে এনে নির্মাণ ও উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিতে। তাই আসুন, টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া পর্যন্ত দেশের প্রতিটি তরুণের মাঝে আদর্শ, নৈতিকতা ও মানবিকতার জাগরণ সৃষ্টি করি এবং ঐক্যবদ্ধ শক্তিতে যুব বিভাগকে একটি সুসংগঠিত ও কার্যকর শক্তিতে পরিণত করি।

সভাপতির বক্তব্যে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, আল-হামদুলিল্লাহ, জামায়াতের কেন্দ্রীয় যুব ও ক্রীড়া বিভাগের কার্যক্রম দিন দিন বিস্তৃত হচ্ছে। যুব সমাজের সর্বোচ্চ শক্তি ও সামর্থ্যকে মানবিক, সামাজিক ও কল্যাণমূলক কাজে সম্পৃক্ত করতে হবে। তিনি জাতীয় বিভিন্ন দিবস ও সামাজিক ইস্যুকে কেন্দ্র করে যুবকদের নিয়ে বহুমুখী কর্মসূচি গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি আরও বলেন, মাদক, সন্ত্রাস ও রাহাজানির বিরুদ্ধে যুবকদের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। সুসংগঠিত ও আদর্শবান যুবসমাজ গড়ে উঠলে দেশ ও জাতির জন্য যোগ্য নেতৃত্ব তৈরি হবে ইনশাআল্লাহ।- প্রেস বিজ্ঞপ্তি  তারিখ: ২২ মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

 

 

 

মিয়া গোলাম পরওয়ার

সম্পর্কিত খবর