সংক্ষিপ্ত বিশ্ব সংবাদ
১৪ মে ২০২৬ ১০:৪১
ইসরাইলে বন্দি ফিলিস্তিনি নারীদের ওপর চলছে নীরব গণহত্যা
ইসরাইলি কারাগারে ফিলিস্তিনি নারী বন্দিদের ওপর নির্যাতন আর কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; ফিলিস্তিনি বন্দি সমিতির দাবি, এটি এখন একটি পরিকল্পিত নীতিতে পরিণত হয়েছে। সমিতিটির দেওয়া সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী, গত মার্চ ও এপ্রিল মাসে কেবল দামোন কারাগারের নারী ব্লকেই অন্তত ১০টি পৃথক অভিযান চালিয়েছে ইসরাইলি কারা বাহিনী। এই অভিযানগুলোয় নারী বন্দিদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের চরম সীমালঙ্ঘন করার অভিযোগ উঠেছে। ফিলিস্তিনি ও ইসরাইলি মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, বর্তমানে ৯ হাজার ৪০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি ইসরাইলি কারাগারে বন্দি রয়েছেন। এর মধ্যে ৮৮ জন নারী বন্দির অধিকাংশকে দামোন কারাগারে। বাকিরা আটক ও জিজ্ঞাসাবাদ কেন্দ্রে রয়েছে। ফিলিস্তিনি বন্দি সমিতি বলছে, বেশিরভাগ নারী বন্দিকে কথিত ‘উসকানি’ অথবা ‘গোপন ফাইলের’ ভিত্তিতে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই প্রশাসনিক আটকাদেশে কারাবন্দি করা হয়েছে। সম্প্রতি দামোন কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া নারীদের বেশ কয়েকজনের শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। তারা জানিয়েছেন, অভিযানের সময় পুরুষ ও নারী কারারক্ষীরা বন্দিদেও ওপর নির্যাতন চালায়। তাদের মারধর করে মাটিতে শুইয়ে রাখা এবং পিঠের পেছনে হাতকড়া পরিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফেলে রাখা হয়। সবচেয়ে উদ্বেগজনক হলো, ২০২৩ সাল থেকে ‘নগ্ন তল্লাশি’ একটি নিয়মিত ও বাধ্যতামূলক নিয়মে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে হাশারোন থেকে দামোন কারাগারে স্থানান্তরের সময় নারীদের চরম অপমানজনক ও যৌন নিপীড়নমূলক তল্লাশির শিকার হতে হয়। এক বিবৃতিতে বন্দি সমিতি জানায়, ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ বন্দিদের বিরুদ্ধে অনাহার নীতি কার্যকর করছে। খাবারের অভাবে একজন বন্দি মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে প্রায় ৩০ কেজি ওজন হারিয়েছেন। বিশেষ করে ইসরাইলি ছুটির দিনগুলোয় এই খাদ্য সংকট আরও তীব্র করা হয়। এছাড়া সেলের ভেতর মারাত্মক ভিড় থাকায় একটি ছোট ঘরে ১০ জনেরও বেশি নারীকে রাখা হচ্ছে, যার ফলে অনেককে স্যাঁতসেঁতে মেঝেতে ঘুমাতে হচ্ছে। বন্দিদের মধ্যে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে এবং তিনজন গর্ভবতী নারীও আছেন। এমনকি ক্যানসারে আক্রান্ত দুজন নারীকেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে না। পিএলওর বন্দিবিষয়ক কমিশনের প্রধান রায়েদ আবু আল-হুমুস এই পরিস্থিতিকে একটি ‘নীরব গণহত্যা’ বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, পরিকল্পিতভাবে চিকিৎসা সেবা বন্ধ রাখা, নির্জন কারাবাস এবং নিয়মিত মারধর করে বন্দিদের মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ৯,৪০০ ফিলিস্তিনি ইসরাইলি কারাগারে বন্দি রয়েছেন, যাদের জীবন এখন চরম ঝুঁকির মুখে। ফিলিস্তিনি বন্দি গোষ্ঠীগুলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে অবিলম্বে এই ‘সংগঠিত অপরাধ’ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে অসুস্থ, গর্ভবতী ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের মুক্তি দেওয়ার দাবি করেছে। মিডল ইস্ট মনিটর, আনাদোলু এজেন্সি।
আফগানিস্তানকে ভয়াবহ পরিণতির হুঁশিয়ারি পাকিস্তানের
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়ার বান্নু জেলায় পুলিশ ফাঁড়িতে বিস্ফোরণে প্রাণহানির ঘটনায় দেশটির সরকার গত সোমবার (১১ মে) আফগান চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে তলব করেছে। সেই সঙ্গে তালেবান সরকারের কাছে তীব্র প্রতিবাদপত্র পেশ করে বলেছে, পাকিস্তান দায়ীদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেয়ার অধিকার রাখে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ফিতনা আল-খাওয়ারিজ সংগঠনের সন্ত্রাসীরা গত ৯ মে শনিবার ফাতেহ খেল পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা চালালে ১৫ জন পুলিশ নিহত হয়েছে। এছাড়া হামলায় এক বেসামরিক নাগরিকসহ আরও চারজন আহত হয়েছে। পাক মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ইসলামাবাদের তদন্তে সংগৃহীত প্রমাণ ও প্রযুক্তিগত গোয়েন্দা তথ্য থেকে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে আফগানিস্তানে বসবাসকারী সন্ত্রাসীরাই এই হামলার মূল পরিকল্পনাকারী। পাকিস্তান সতর্ক করেছে, সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো যদি সীমান্তের ওপারে নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে নিতে থাকে, তবে ইসলামাবাদ তার জাতীয় নিরাপত্তা বা নাগরিকদের সুরক্ষার বিষয়ে কোনো আপস করবে না। সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো যেন পাকিস্তানে হামলা চালানোর জন্য আফগানিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে না পারে, তা নিয়ে ইসলামাবাদ কাবুলকে বারবার আহ্বান জানিয়ে আসছে। তবে আফগান সরকার পাকিস্তানের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এনিয়ে সাম্প্রতিক মাসগুলোয় উভয় দেশের কয়ক দফায় সংঘাত হয়েছে এবং সর্বশেষ পাকিস্তানে এই হামলার ঘটনায় দেশ দুইটির মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়লো। ডন।
গোপনে ইরানে হামলা চালিয়েছিল আমিরাত, দাবি ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের
ইরানের লাভান দ্বীপের একটি তেল শোধনাগারে গত মাসে গোপনে হামলা চালিয়েছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত এমন দাবি করেছে মার্কিন সংবাদপত্র ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই হামলার মাধ্যমে ইরান সংঘাতে উপসাগরীয় দেশটির সরাসরি সম্পৃক্ততার তথ্য প্রথমবার সামনে এলো। বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, গত ১১ মে সোমবার প্রকাশিত ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের হামলার লক্ষ্য ছিল ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত লাভান দ্বীপের একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগার। তবে হামলার নির্দিষ্ট সময় বা তারিখ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, কয়েক সপ্তাহের বিমান হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিচ্ছিলেন, ঠিক সেই সময় এই গোপন হামলা চালানো হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্রের বরাত দিয়ে পত্রিকাটি আরও দাবি করে, যুক্তরাষ্ট্র আমিরাতের এই পদক্ষেপকে নীরবে সমর্থন জানিয়েছিল। পাশাপাশি সংঘাতে অংশ নিতে আগ্রহী অন্য উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রতিও ওয়াশিংটনের নীরব সমর্থন ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি এএফপি। সংযুক্ত আরব আমিরাত কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এর আগে ৮ এপ্রিল সকালে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছিল, লাভান দ্বীপের তেল স্থাপনায় হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আরব আমিরাত ও কুয়েতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়। ইরানি গণমাধ্যমের ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সকাল ১০টার দিকে লাভান দ্বীপের স্থাপনাটি একটি ‘কাপুরুষোচিত হামলার’ শিকার হয়। একই দিনে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর সংযুক্ত আরব আমিরাত দাবি করে, তাদের ভূখণ্ডে ইরানের ছোড়া ১৭টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ৩৫টি ড্রোন আঘাত হেনেছে। কুয়েতের সেনাবাহিনীও জানিয়েছিল, দেশটির বিদ্যুৎ ও পানি শোধনকেন্দ্র এবং তেল স্থাপনাগুলোর ওপর ধারাবাহিক হামলা হচ্ছিল। বিশ্লেষকদের মতে, যদি আমিরাতের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে এর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে উপসাগরীয় দেশগুলোর সরাসরি সামরিক সম্পৃক্ততা অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। এএফপি।
শিক্ষার্থী সংকটে স্থবির যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি স্কুল ব্যবস্থা
যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি স্কুলব্যবস্থা বর্তমানে বড় ধরনের সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দেশজুড়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দ্রুত কমে যাওয়ায় অনেক স্কুলে শ্রেণিকক্ষ ফাঁকা পড়ে থাকছে। এর ফলে কমছে সরকারি তহবিল, বাড়ছে বাজেট ঘাটতি এবং বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে স্কুল বন্ধ কিংবা একীভূত করার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত এক দশকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৩০টি অঙ্গরাজ্যে কিন্ডারগার্টেন থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। লস অ্যাঞ্জেলেস, শিকাগো ও নিউইয়র্কের মতো বড় শহরের পাশাপাশি শহরতলি এলাকাগুলোতেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকট এখন আর বিচ্ছিন্ন কোনো সমস্যা নয়, বরং এটি পুরো মার্কিন শিক্ষাব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জন্মহার কমে যাওয়াই এই পরিস্থিতির প্রধান কারণ। যুক্তরাষ্ট্রে ২০০৭ সালের পর থেকে জন্মহার ধারাবাহিকভাবে কমেছে এবং বর্তমানে তা প্রায় ২৪ শতাংশ নিচে নেমে এসেছে। এর প্রভাব এখন সরাসরি স্কুলগুলোয় পড়ছে। নতুন শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় অনেক স্কুলে ভর্তি আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পেয়েছে। শুধু জন্মহার নয়, অর্থনৈতিক বাস্তবতাও এই সংকটকে আরও গভীর করেছে। বড় শহরগুলোয় বাড়িভাড়া ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বহু পরিবার কম খরচের এলাকায় চলে যাচ্ছে। একই সঙ্গে অভিবাসন নীতিতে কড়াকড়ির কারণে বিদেশি পরিবার ও শিশুদের আগমনও কমে গেছে। আগে এই অভিবাসী শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ সরকারি স্কুলে ভর্তি হতো। করোনা মহামারির পর শিক্ষাব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন এসেছে। অনেক অভিভাবক এখন সরকারি স্কুলের পরিবর্তে হোম-স্কুলিং বা বেসরকারি স্কুলকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। ফলে সরকারি স্কুলগুলোয় শিক্ষার্থী হারানোর প্রবণতা আরও বেড়েছে। শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার কারণে স্কুল পরিচালনার ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমলেও শিক্ষক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও অন্যান্য কর্মীদের বেতন একই থাকছে। ফলে শিক্ষার্থীপ্রতি ব্যয় দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং শিক্ষা জেলাগুলো বড় ধরনের আর্থিক চাপের মুখে পড়ছে। ওরেগনের পোর্টল্যান্ডে গত এক দশকে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৯ শতাংশ কমেছে। স্থানীয় শিক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, ২০২৭ সালের মধ্যে তারা প্রায় ৫ কোটি ডলারের বাজেট ঘাটতির মুখে পড়তে পারে। একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে ডেনভারসহ আরও কয়েকটি বড় শহরে। কয়েক বছর আগে অভিবাসীদের আগমনে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও বর্তমানে কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে সেই প্রবাহ আবার কমে গেছে। এই পরিস্থিতিতে অনেক এলাকায় স্কুল একীভূত করা কিংবা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। যদিও এটি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়, তবুও অনেক প্রশাসক বলছেন বাস্তবতার কারণে তাদের হাতে খুব বেশি বিকল্প নেই। পিটসবার্গ স্কুল বোর্ডের প্রেসিডেন্ট জিন ওয়াকার জানিয়েছেন, কিছু স্কুলে শিক্ষার্থী এত কমে গেছে যে উন্নত গণিত বা বিজ্ঞানের কোর্স চালু রাখাও কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে গবেষকরা সতর্ক করছেন, অতিরিক্ত স্কুল বন্ধ হলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের পরিবার ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীরা এতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির এডুনোমিক ল্যাবের পরিচালক ড. মারগুরাইট রোজা এই পরিস্থিতিকে ‘হিমশৈলের চূড়া’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, সামনের বছরগুলোয় মার্কিন শিক্ষাব্যবস্থায় আরও বড় ধরনের পরিবর্তন ও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। তাসনিম নিউজ।
ভারতের ঘুম হারাম করে দিতে পারে পাকিস্তানের ‘আর্মি রকেট ফোর্স’
দক্ষিণ এশিয়ার সামরিক ভারসাম্যে এক অভাবনীয় পরিবর্তনের সংকেত দিচ্ছে পাকিস্তানের নবগঠিত ‘আর্মি রকেট ফোর্স কমান্ড’। সম্প্রতি দেশটির রহস্যময় ‘ফাতাহ-৫’ প্রোগ্রামের খবর প্রকাশ্যে আসার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার কৌশলগত উত্তাপ নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। এটি একটি ১,০০০ কিলোমিটার পাল্লার স্টিলথ সক্ষমতাসম্পন্ন প্রিসিশন স্ট্রাইক রকেট সিস্টেম, যা পারমাণবিক যুদ্ধ ছাড়াই ভারতের অনেক গভীরে নিখুঁত আঘাত হানতে সক্ষম। ফাতাহ-৫ এর সবচেয়ে আলোচিত দিক হলো এর ১,০০০ কিলোমিটার পাল্লা। পাকিস্তানের গভীর অভ্যন্তর থেকে উৎক্ষেপণ করেও এটি ভারতের বিমানঘাঁটি, লজিস্টিক হাব, কমান্ড সেন্টার এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় আঘাত হানতে পারবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সিস্টেমটি মূলত ভারতের বিশাল প্রথাগত সামরিক শক্তির বিপরীতে পাকিস্তানের একটি প্রযুক্তিগত সমতাবিধানকারী হিসেবে কাজ করবে। এটি পাকিস্তানের অ-পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার একটি মূল স্তম্ভ। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘ফাতাহ-৫’-এর বৈশিষ্ট্যগুলো একে সাধারণ রকেট এবং ক্রুজ মিসাইলের মাঝামাঝি একটি অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে। এটি অত্যন্ত নিচু দিয়ে উড়ে যেতে সক্ষম এবং এর ‘টেরেইন-হাগিং’ বা ভূখণ্ড ঘেঁষে চলার ক্ষমতা একে ভারতীয় রাডার ব্যবস্থার নজর থেকে আড়ালে রাখে। একে ‘লো-অবজারভেবল’ বা রাডার-ফাঁকি দিতে সক্ষম অস্ত্র হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে, যা ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। বিশেষ করে এই রকেটের ‘স্যালভো ফায়ার’ (একই সাথে অনেকগুলো রকেট ছোড়া) করার ক্ষমতা উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকেও অকেজো করে দিতে পারে। সস্তা দরের এই রকেটগুলো ধ্বংস করতে ভারতকে অনেক দামী ইন্টার সেপ্টর মিসাইল ব্যবহার করতে হবে, যা ভারতের ওপর একটি বড় অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ সৃষ্টি করবে। ২০২৫ সালের আগস্টে গঠিত হওয়া পাকিস্তানের ‘আর্মি রকেট ফোর্স কমান্ড’ এই আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি। আগে রকেট সিস্টেমগুলো মূলত যুদ্ধক্ষেত্রে আর্টিলারি হিসেবে ব্যবহৃত হতো, কিন্তু এখন একে কৌশলগত গভীর আঘাত হানার অস্ত্র হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। মজার বিষয় হলো, পাকিস্তান এই কমান্ডকে তাদের ‘স্ট্র্যাটেজিক ফোর্সেস কমান্ড’ (যা পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ করে) থেকে আলাদা রেখেছে। এর অর্থ হলো, পাকিস্তান এখন পারমাণবিক যুদ্ধ শুরু না করেই ভারতের যেকোনো আগ্রাসনের কঠোর জবাব দেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করতে চায়। ‘ফাতাহ-৫’-এর উত্থান ভারতের প্রতিরক্ষা পরিকল্পনাকারীদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ভারত সম্ভবত তার নিজস্ব ‘প্রলয়’ মিসাইল সিস্টেম, দীর্ঘপাল্লার ‘পিনাকা’ রকেট এবং ‘ব্রহ্মোস’ মিসাইলের উন্নয়ন ও মোতায়েন ত্বরান্বিত করবে। এছাড়া এস-৪০০ এবং আকাশ-এনজি এর মতো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পাবে। একই সাথে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাগুলোকে আরও সুরক্ষিত করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেবে। ‘ফাতাহ-৫’ প্রোগ্রামের তাৎপর্য কেবল ভারত-পাকিস্তানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি এশিয়ায় ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিযোগিতার এক নতুন অধ্যায় শুরু করতে পারে। যদিও পাকিস্তান একে সম্পূর্ণ নিজস্ব প্রযুক্তি বলে দাবি করছে, তবে বিশ্লেষকরা এতে চীন-পাকিস্তান প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ছায়া দেখছেন। চীনের জন্য এটি একটি কৌশলগত সুবিধা। কারণ পাকিস্তান শক্তিশালী হওয়া মানেই ভারতের মনোযোগ উত্তর সীমান্ত থেকে পশ্চিমে সরে আসা। ‘ফাতাহ-৫’ এখনো পরীক্ষা ও আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণের অপেক্ষায় থাকলেও এর সম্পর্কিত আলোচনা দক্ষিণ এশিয়ায় যুদ্ধের ব্যাকরণ বদলে দিচ্ছে। এটি প্রথাগত যুদ্ধের খরচ কমিয়ে দিয়ে ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। শেষ পর্যন্ত এই রকেট সিস্টেমটি দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি বজায় রাখবে নাকি একটি নতুন অস্ত্র প্রতিযোগিতার জন্ম দেবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে এটি নিশ্চিত যে, পাকিস্তানের এই ‘শোকওয়েভ’ দিল্লির প্রতিরক্ষা সদর দপ্তরে গভীর চিন্তার উদ্রেক করেছে। ডিফেন্স সিকিউরিটি এশিয়া।
লেবার পার্টির ভেতর থেকেই স্টারমারের পদত্যাগ দাবি
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের বিরুদ্ধে নিজ দল লেবার পার্টির ভেতরেই চাপ আরও বেড়েছে। তাঁর পদত্যাগের দাবিতে চারজন পার্লামেন্টারি প্রাইভেট সেক্রেটারি বা পিপিএস পদত্যাগ করেছেন। একই সঙ্গে হাউস অব কমন্সে লেবার পার্টির প্রায় ৭০ জন এমপিও নেতৃত্ব পরিবর্তনের দাবি তুলেছেন। দলের ভেতরের এই সংকট এমন সময়ে সামনে এলো, যখন স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির বড় ধরনের পরাজয়ের পর স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন বাড়তে শুরু করেছে। অর্থনৈতিক সংকট, জনসন্তুষ্টির অভাব এবং সরকারের নীতিগত দুর্বলতা নিয়েও দলের ভেতরে অসন্তোষ জমেছে বলে ব্রিটিশ গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। গত সোমবার (১১ মে) লন্ডনে দলীয় সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে কিয়ার স্টারমার নিজেকে সংশোধনের জন্য সময় দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে নেতৃত্ব পরিবর্তনের লড়াই শুরু হলে তা শুধু বিশৃঙ্খলা তৈরি করবে। একই সঙ্গে তিনি ভবিষ্যতে আরও দৃঢ় ও সাহসী নেতৃত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন। তবে তাঁর এই আহ্বানে দলের ভেতরের ক্ষোভ খুব একটা কমেনি বলেই মনে হচ্ছে। পদত্যাগকারী চার পিপিএস হলেন উপপ্রধানমন্ত্রী ডেভিড ল্যামির সহযোগী মেলানি ওয়ার্ড, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সহযোগী জো মরিস, পরিবেশমন্ত্রীর সহযোগী টম রুটল্যান্ড এবং ক্যাবিনেট অফিসের সহযোগী নওশাবাহ খান। এই চারজনের মতে, ৬৩ বছর বয়সী স্টারমার আগামী ২০২৯ সালের জাতীয় নির্বাচনে লেবার পার্টিকে সফলভাবে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য উপযুক্ত ব্যক্তি নন। তাঁরা নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরুর প্রত্যাশা করছেন। দলীয় সূত্রগুলো বলছে, এমন একটি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। পিপিএস বা পার্লামেন্টারি প্রাইভেট সেক্রেটারিরা মূলত কোনো মন্ত্রীর রাজনৈতিক সহযোগী হিসেবে কাজ করেন। যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের তথ্যানুযায়ী, হাউস অব কমন্সে মন্ত্রীর ‘চোখ-কান’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করার জন্য জুনিয়র এমপিদের মধ্য থেকে তাদের বেছে নেওয়া হয়। এটি বেতনবিহীন পদ হলেও সরকারের ভেতরের কাজ শেখার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হয়। পদত্যাগপত্রে টম রুটল্যান্ড লিখেছেন, ‘এটি এখন স্পষ্ট যে প্রধানমন্ত্রী শুধু লেবার পার্টির সংসদ সদস্যদের মধ্যেই নয়, পুরো দেশেই তার কর্তৃত্ব হারিয়েছেন এবং তিনি তা আর ফিরে পাবেন না।’ অন্যদিকে মেলানি ওয়ার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, কিয়ার স্টারমার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাজ করেছেন। তবে স্থানীয় নির্বাচনের ফলাফল স্পষ্টভাবে দেখিয়েছে যে ভোটারদের বড় অংশ বর্তমান নেতৃত্বে আস্থা হারাচ্ছে। বিবিসি, রয়টার্স।
গ্রন্থনা ও সম্পাদনা : আবদুল কাইউম খান