সংস্কার ছাড়া ঋণ নয়
৬ মে ২০২৬ ১৮:৩১
॥ উসমান ফারুক ॥
চলমান আর্থিক খাতের সংস্কার অব্যাহত না রাখলে ঋণের পরের কিস্তিগুলো ছাড় করতে রাজি হচ্ছে না আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। উল্টো হুমকি দিয়েছে, আগে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে- সরকার সংস্কারের পক্ষে না বিপক্ষে। সংস্কারে না থাকলে চলমান ঋণ কার্যক্রম বন্ধ করে দেবে আইএমএফ। চলমান ঋণ বন্ধ করলে পরে আর বাংলাদেশের সঙ্গে কোনো নতুন ঋণ কর্মসূচিতে যাবে না আইএমএফ। আগের তিন বছরের সংস্কারের ধারাবাহিকতা কীভাবে রক্ষা করা হবে ও সরকারের মেয়াদ পর্যন্ত দেশের আর্থিক খাত নিয়ে বিএনপির পরিকল্পনা জানতে চেয়ে সংস্থাটি। সেই পরিকল্পনা দেখেই পরের কিস্তি ছাড় করতে সংস্থাটি বাংলাদেশে রিভিউ মিশন পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেবে। অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ মুহূর্তে ঋণের পঞ্চম কিস্তি ছাড় না করে ষষ্ঠ কিস্তির সঙ্গে মিলিয়ে দিতে চেয়েছিল আইএমএফ। কিন্তু ব্যাংক রেজ্যুলেশন আইনে বিতর্কিত ১৮(ক) ধারা যুক্ত করা ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভেঙে দুটি ভাগে বিভক্ত করার উদ্যোগ বাতিল করায় ঋণ কিস্তি ছাড় করতে বেঁকে বসেছে সংস্থাটি। এখন বিএনপি সরকারের কাছ থেকে সংস্থাটি রাজনৈতিক ওয়াদা চায় সংস্কারের ধারা অব্যাহত রাখা হবে কি না। সেই পরিকল্পনা না দেওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশে রিভিউ মিশন পাঠাবে না সংস্থাটি। এতে আশঙ্কা জন্মেছে ঋণের দুই কিস্তি পেতে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, আইএমএফের ঋণের কিস্তি না পাওয়া মানেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ক্রেডিট রেটিং কমে যাবে। অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগী সংস্থাসহ (জাইকা) বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশকে ঋণ দেবে না। সংস্থাগুলোর সঙ্গে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের ঋণ আলোচনা চলমান রয়েছে। একইসঙ্গে মধপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট সংকটে দেশের জ্বালানি খাতে বর্ধিত ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে সরকার। সেই চাপ সামাল দিতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ধরে রেখে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আনতে আইএমএফের কাছে নতুন করে ২ বিলিয়ন (২০০০ কোটি ডলার) ডলারের অতিরিক্ত সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ। সেই ঋণও পাওয়া যাবে না বলে মনে করছেন বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।
সূত্র অনুযায়ী, প্রতিটি কিস্তি ছাড়ের পর শর্তানুযায়ী বাস্তবায়ন দেখতে রিভিউ মিশন পাঠায় আইএমএফ। অগ্রগতি ও অর্থনৈতিক পদক্ষেপে সন্তুষ্ট হলে পরের কিস্তি ছাড় করতে মিশনের কর্মকর্তারা সুপারিশ পাঠায় প্রধান কার্যালয়ে। সেখান থেকে আইএমএফ বোর্ড অনুমোদন করে।
পঞ্চম ও ষষ্ঠ কিস্তি একসঙ্গে ছাড় করতে হলেও আগের ঋণের অর্থের ব্যবহার দেখতে মে মাসেই রিভিউ মিশন আসার কথা। আগামী জুন মাসের বোর্ড মিটিংয়ে প্রস্তাব পাস করতে হলে মে মাসের মধ্যেই রিভিউ মিশনের মূল্যায়ণ প্রতিবেদন জমা হওয়ার কথা। গত বছরে এপ্রিল মাসেই রিভিউ মিশন বাংলাদেশে এসেছিল। কিন্তু আর্থিক খাতের সংস্কারের ধারাবাহিকতা রক্ষা না করায় আইএমএফ এখনো মিশন পাঠানোর কথা জানায়নি বাংলাদেশকে।
গত মাসের প্রথম সপ্তাহে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত আইএমএফ-বিশ্বব্যাংকের বসন্তকালীন বৈঠক চলাকালীন সাইডলাইনের সভায় সর্বপ্রথম ব্যাংক রেজ্যুলেশন আইনে ১৮(ক) ধারা যুক্ত করার সমালোচনার বিষয়টি আলোচনা হয়। সেখানে উঠে আসে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর জ¦ালানি তেলের দাম যথা নিয়মে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় না করা, ব্যাংক রেজ্যুলেশন আইনে ১৮(ক) ধারা যুক্ত করা ও এনবিআর ভেঙে নীতি ও বাস্তবায়ন বিভাগ আলাদা উইং তৈরির প্রস্তাব বাতিল করে। এর মাধ্যমে আটকে যায় অনেক সংস্কার কার্যক্রম।
ঋণ চুক্তিতে যাওয়ার পর থেকে গত তিন বছর ধরে চলমান আর্থিক খাতের সংস্কারের ধারাবাহিকতা রক্ষা হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আইএমএফ। সরকারের অর্থমন্ত্রী ও গভর্নরের কাছ থেকে তেমন সদুত্তর না পেয়ে আলোচনা পণ্ড হয়ে যায়। অনিশ্চিত হয়ে যায় ঋণের পরবর্তী দুই কিস্তি পাওয়া নিয়ে।
সেখানে পরের কিস্তির কোনো সমাধান না হওয়ায় সরকার আরো সময় চায়। বাংলাদেশে এসে আলোচনা করার পর তাদের জানানোর কথা। সেই আলোচনা চলমান থাকলেও এখনো কোনো সুরাহা হয়নি। এতে আইএমএফের ঋণে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ঋণের কিস্তি না পেলে অর্থনীতি ফের তিমিরে চলে যেতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
যে অবস্থায় আসে আইএমএফ
নেতা-কর্মী ও মন্ত্রীদের লাখকোটি টাকা পাচার, অনিয়ম ও জনগণের করের টাকা আত্মসাতের ঘটনায় অর্থনৈতিক অবস্থা ইতিহাসের সবচেয়ে চরম সংকটে পড়লে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) দ্বারস্থ হয় ছাত্র-জনতার বিপ্লবে পালিয়ে যাওয়া আওয়ামী লীগ সরকার। তখন আর্থিক খাতের লুটপাট বন্ধ ও সংস্কারের শর্তে ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের ঋণ মঞ্জুর করে আইএমএফ।
আইমএফের বসন্তকালীন সভা থেকে দেশে ফেরার পর ঋণের বাকি অংশ পাওয়া যাবে কি না, তা নিশ্চিত করে বলছেন না অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তবে এখনো আশা আছে বলেছেন তিনি। আর যুক্তরাষ্ট্রে বসন্তকালীন সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে ফের বাংলাদেশের রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি না হওয়া, বিনিময় হার পুরোটা বাজারভিত্তিক না করা ও মূল্যস্ফীতির নিয়ন্ত্রণ এখনো আশানুরূপ না হওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বলেছেন আইএমএফ এর এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণা শ্রীনিবাসন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বিএনপি সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলমান রয়েছে। কোনো সমাধান হলে সবাইকে জানানো হবে।
ঋণের বাকি অংশ পেতে ঋণ চুক্তির শর্তানুযায়ী, ব্যাংক ও সরকারি পর্যায়ে জলবায়ু সংক্রান্ত নীতিমালা জারি, সরকারি সম্পদের একটি কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডার সংরক্ষণ ও সবুজ অর্থায়নে বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা প্রণয়ন প্রয়োজন। কিন্তু বাস্তবতা হচেছ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কাক্সিক্ষত হারে নিয়ে যাওয়া ছাড়া মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির তুলনায় রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি, ভতুর্কি কমিয়ে আনা, বিনিময় হার পুরোটা বাজারভিত্তিক করা, খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনার মতো শর্তগুলো পূরণ না হওয়ায় বিভিন্ন সময়ে এর মেয়াদ বাড়িয়ে আনা হয়।
শেষ ধাপে এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ব্যাংক খাতের সংস্কারের ধারাবাহিকতা রক্ষার বিশ্বাসযোগ্য কর্মসূচি না দিতে পারার মতো বিষয়। এখন আইএমএফের ঋণ পাওয়াটা যতটা না আর্থিক, তার চেয়ে বেশি রাজনৈতিক ওয়াদার বিশ্বাসযোগ্যতা প্রমাণ করা বলে মনে করছেন বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, সমস্যা এখন একটি নয়, বহুমাত্রিক হয়ে দেখা দিয়েছে। সবচেয়ে বড় ইস্যু হচ্ছে চুক্তির শর্তের বাস্তবায়নের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে।
সুশাসন ও আর্থিক খাতের সংস্কার করতে গিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার, ব্যাংক কোম্পানি আইনের সংস্কার, অর্থ পাচার ঠেকানো ও খেলাপি ঋণের লাগাম টানতে নানামুখী প্রতিশ্রুতি রয়েছে পুরো ঋণ প্যাকেজে। বিশ্ব ব্যাংক বাংলাদেশ কার্যালয়ের সাবেক প্রধান ড. জাহিদ হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে শুরু হয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও নেওয়া সংস্কার কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা ছিল। চলতি বছরের শুরুতে রাজনৈতিক দলীয় সরকার ক্ষমতায় আসার পরই ব্যাংক রেজ্যুলেশন আইনে নতুন একটি ধারা যুক্ত হলো। যখন অধ্যাদেশটি তৈরি হয়, তখন তো এই ধারা ছিল না। সরকার এসে বিতর্কিত ধারাটি যুক্ত করে। এটি সংস্কারের ধারাবাহিকতা রক্ষা না।
তিনি বলেন, সরকার আসার পরে সর্বশেষ গভর্নরের বিদায় নিয়ে সব মহলেই প্রশ্ন রয়েছে। এখন নতুন গভর্নর ও ডেপুটি গর্ভনর নিয়োগ ও বাতিল করার প্রক্রিয়া যে পুরোটা রাজনৈতিক বিবেচনায় চলে গিয়েছে, তা এখন সকলের কাছে স্পষ্ট। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশ ব্যাংক আইন সংস্কার করে গভর্নরের ক্ষমতা বাড়িয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার স্বায়ত্তশাসন দিতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় একটি প্রস্তাবনা তৈরি হয়। সেটিও এখনো অনুমোদন হয়নি।
অন্যদিকে আর্থিকভাবে ভেঙে পড়া ৫ ব্যাংক একীভূত করে নতুন একটি ব্যাংক পদক্ষেপটি ছিল আর্থিক সংস্কারের বড় ধরনের উদ্যোগ। একীভূত হওয়ার পর ব্যাংক রেজ্যুলেশন অধ্যাদেশ-২০২৫ পাসের সময়ে তাতে ১৮(ক) ধারা যুক্ত করে বিএনপি সরকার। তাতে পুরনো শেয়ারধারকদের ফের ব্যাংকে আসার সুযোগ তৈরি হয়। তাতে সংস্কারের সুফল আগামীতেও থাকবে কি না, সেই বিশ্বাসে চিড় ধরতে পারে আইএমএফের বলে মন্তব্য করে জাহিদ হোসেন বলেন, মোটকথা হচ্ছে বাংলাদেশের সরকারের প্রতি কতটুকু বিশ্বাস করা যায়, তাও সামনে আনতে পারে সংস্থাটি। তারা এসব বিষয় বিবেচায় নেয়ার মতো যুক্তি রয়েছে। এমন সময়ে আন্তর্জাতিক সংস্থাটি চাইবে সংস্কারের পর নেওয়া সিদ্ধান্তের ধারবাহিকতা থাকবে কি না, আগের সরকারের সিদ্ধান্ত নতুন সরকার বদলে দেয়া শুরু করায়, অন্যান্য সংস্কারও অব্যাহত যে থাকবে তার তার নিশ্চয়তা কী?
তিনি বলেন, এখানে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের চেয়ে অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে কি না, তা হয়তো দেখতে চাচ্ছে আইএমএফ। সংস্কার থেকে পিছু হটা ও সংস্কার প্রক্রিয়ার ধীরগতি দুটিই বিশ্লেষণ করবে তারা। এতে আইএমএফ ঋণ এক ধরনের অনিশ্চয়তা দেখা দিতে পারে বলে জানিয়ে জাহিদ হোসেন বলেন, ঋণ চুক্তির একটি ছিল বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার বাজারমুখী করা। বাংলাদেশ এখনো ডলারের বিপরীতে টাকার মান নিয়ন্ত্রণের খবর পাওয়া যাচ্ছে। বাজারে পর্যাপ্ত ডলার থাকলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তো বেশি দামে কেনার কথা না। হয়, বাজারে ডলার ছাড়বে নয়তো, নিষ্ক্রিয় থাকবে। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক বেশি দামে ডলার কিনছে।
ঋণ চুক্তির পর প্রথম কিস্তি ছাড়ের আগে ২০২৩ সালে জ্বালানি তেলের দাম নিয়মিত আন্তর্জাতিক বাজার দরের সঙ্গে সমন্বয় করার শর্ত দেয় আইএমএফ। সেই শর্ত বাস্তবায়ন করতে প্রতি তিন মাস পরপর তেলের দর সমন্বয় করা হয়। আওয়ামী লীগ সরকার প্রতিবার তেলের দাম বাড়ালেও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তেলের দাম সমন্বয় করে বেশিরভাগ সময়ই কমিয়ে দেয় বাজার দরের তুলনায়। গত তিন বছর ধরে দুটি সরকারের সময়ে তা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় চলতি এপ্রিল বছরের গত এপ্রিল মাসের শুরুতে সমন্বয় করার কথা ছিল।
কিন্তু বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেই প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করে। আন্তর্জাতিক দরের সঙ্গে সমন্বয় না করে সিদ্ধান্ত আটকে দেয়। কমিটিকে কাজ করতে দেওয়া হয়নি। এতে গত তিন বছর ধরে চলে আসা সংস্কারের একটি পদক্ষেপ কোনো কারণে ছাড়াই হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে যায়। আগামীতেও অন্যান্য সংস্কার প্রক্রিয়া যে বন্ধ করা হবে না, তার একটি প্রতিশ্রুতি চাইছে আইএমএফ এবং অন্যান্য সংস্কার প্রক্রিয়ায় সরকারের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করতে বলেছে তারা।
ঋণ না এলে ক্ষতি কী?
আইএমএফের ঋণ চুক্তির পরবর্তী কিস্তি না পেলে বাংলাদেশের নতুন করে চাওয়া অবশিষ্ট এক দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার আর পাবে না। তার চেয়ে বড় সমস্যা হবে যে, সরকার আগামী জুলাইতে বাজেট সহায়তা হিসেবে বিশ্বব্যাংক, এডিবি ও এআইআইবিসহ বিভিন্ন সংস্থার কাছ থেকে সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলার ঋণের প্রতিশ্রুতি পেয়েছে, তাও আটকে যাবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, আইএমএফ ঋণ না দিলে তারাও বাংলাদেশের সঙ্গে থাকবে না। তারা দেখবে, আইএমএফ নাই মানে অর্থনীতির অবস্থা ভালো না ও সরকার সুশাসনে বিশ্বাস করছে না।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এর পেছনের যুক্তি হলো বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতি নিয়ে আইএমএফ কাজ করে। অন্যান্য সংস্থাগুলোর কাছে বাংলাদেশ নিয়ে পর্যাপ্ত তথ্য নেই। তাই তারাও ঝুঁকিতে যাবে না। সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিবে তা হলো, বিশ্বের কাছে বাংলাদেশ সম্পর্কে একটি নেতিবাচক বার্তা যাবে যে, বাংলাদেশ সরকার সুশাসন ও সংস্কারের চর্চায় নেই। এতে বাংলাদেশের ক্রেডিট রেটিং কমে যাবে, অর্থাৎ আর্থিক লেনেদেনে বাংলাদেশের বিশ্বাসযোগ্যতা কমে যাবে। তখন কেউ সহজে বাংলাদেশের সঙ্গে লেনদেন করতে যাবে না। আমদানিতে তৃতীয় কোনো দেশের ব্যাংকের গ্যারান্টি লাগবে। তাতে সব ধরনের খরচ বেড়ে যাবে। পাশাপাশি প্রাকৃতিক বা অন্য কোনো কারণে দুর্যোগ দেখা দিলে তা সামাল দেওয়ার মতো সক্ষমতা থাকবে না বাংলাদেশের।