সংসদে চরমভাবে উপেক্ষিত জুলাই বিপ্লবের জনআকাক্সক্ষা


৩০ এপ্রিল ২০২৬ ১৪:০৯

॥ জামশেদ মেহদী ॥
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ বা পার্লামেন্ট গঠিত হয়। গত ১২ মার্চ থেকে সংসদ অধিবেশন শুরু হয় এবং ৩০ এপ্রিল বৃহস্পতিবার এই অধিবেশন শেষ হয়েছে। পরবর্তী অধিবেশন বসবে সম্ভবত মে মাসের শেষে অথবা জুন মাসের প্রথম দিকে। সেটি হবে বাজেট অধিবেশন। সত্যি কথা বলতে কী, শেখ হাসিনার ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী স্বৈরাচারী শাসনামলে যে ৩টি নির্বাচন হয়েছে সেগুলো ছিলো নির্বাচনের নামে তামাশা। তাই দীর্ঘ ১৫ বছর পর জনগণের ভোটে নির্বাচিত পার্লামেন্ট নিয়ে জনগণের মধ্যে ছিলো বিপুল প্রত্যাশা। কিন্তু প্রথম অধিবেশন শেষে সেই প্রত্যাশায় ছাই পড়েছে।
প্রথমত, জাতীয় সংসদে জনগণ ভোট দিয়েছেন ঠিকই। কিন্তু কতগুলো আসনে, অন্তত ৪৫টি আসনে গণনার সময় নয়ছয় করা হয়েছে। ফলে বিরোধীদল মনে করে যে, শাসকদল বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেলেও গণনায় যদি কারচুপি না হতো, তাহলে তারা দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেত না। বর্তমানে তাদের ২১১টি আসন। সেখান থেকে অন্তত ৪০টি আসন কম হতো। সেক্ষেত্রে তারা পেত ১৭১টি আসন। ফলে সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা তারা পেত ঠিকই, কিন্তু দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেত না। পক্ষান্তরে ১১ দলীয় বিরোধী জোট ৭৭টি আসনের পরিবর্তে অন্তত ১১০ বা তার বেশি আসন পেত।
এ ব্যাপারে সংসদীয় বিরোধীদলের নেতা আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন যে, তারা ঐ ৪০ বা ৪৫টি আসন নিয়ে আইনি লড়াই করতে যাননি এই কারণে যে, ১৫ বছর পর দেশে অন্তত একটি স্থিতিশীলতা আসুক। মানুষের আশা ভঙ্গের আরেকটি কারণ হলো, একশ্রেণির মনোনয়ন প্রার্থীর ক্ষেত্রে সংবিধান স্পষ্ট লঙ্ঘন করা হয়েছে। সংবিধানে সুস্পষ্ট অনুচ্ছেদ রয়েছে যে, যারা দ্বৈত নাগরিক, অর্থাৎ যারা বাংলাদেশ ছাড়াও আমেরিকা, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড প্রভৃতি দেশের নাগরিক তারা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্রে অযোগ্য হবেন। বিএনপির এরকম প্রায় ২৫ জন প্রার্থী রয়েছেন, যাদের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন সংবিধানের ঐ অনুচ্ছেদটি এড়িয়ে গেছেন।
এছাড়া দেশে প্রচলিত আইনে আরো একটি বিধান রয়েছে যে, যারা ঋণখেলাপি, তারা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা থেকে অযোগ্য হবেন। বিএনপিতে অন্তত ২৩ জন প্রার্থী ছিলেন, যারা ঋণখেলাপি। এদের ব্যাপারটিও নির্বাচন কমিশন দেখেও দেখেনি।
তারপরও মানুষ ভেবেছিলেন যে বিপুল রক্তপাতের পর, বহু কুরবানির পর ১৫ বছর পর ভোট দেওয়ার সুযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এবার যারা পার্লামেন্ট আসবে, তারা জনগণের আশা এবং প্রত্যাশা নিয়ে আলোচনা করবে এবং জনগণের দুঃখ-কষ্ট লাঘবে বাস্তব কর্মসূচি গ্রহণ করবে।
কিন্তু জনগণ গভীর পরিতাপের সাথে লক্ষ করছেন যে, সরকার প্রথমেই তেল সঙ্কট সমাধানে নিদারুণভাবে ব্যর্থ হয়েছে। পরিষ্কারভাবে বোঝা গেছে যে, জ¦ালানি তেল সঙ্কটে বিএনপি সরকার একটি সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে। অনেক উবারচালক বা প্রাইভেট কারের চালকরা বলছেন যে, এ ব্যাপারে সরকারের চালাকি অথবা অসহায়ত্ব নগ্নভাবে ধরা পড়েছে। দিনের পর দিন তেলের জন্য মোটরসাইকেল এবং প্রাইভেট কারের অকল্পনীয় সুদীর্ঘ লাইন। ক্ষেত্রবিশেষে ঐ লাইন দেড়-দুই কিলোমিটার ছাড়িয়ে গেছে। সংবাদপত্রে ছবি ছাপা হয়েছে যে, রাত ১২টার সময় তেল নিতে গিয়ে যখন গাড়ির চালক দেখেছেন মাইলব্যাপী লম্বা লাইন, তখন তারা ঐ পেট্রোলপাম্পের সামনেই বিছানা পেতে রাত কাটিয়েছেন। অনেককে ২ লিটার তেলের জন্য ১৫ ঘণ্টাও অপেক্ষা করতে হয়েছে। আবার তারা চোখের সামনে দেখেছেন বড় সাহেবদের গাড়ি লাইন না মেনে সবার আগেই ট্যাংক ভরে তেল নিয়ে চলে গেছেন। কিন্তু যেদিন তেলের দাম বাড়ানো হয়, তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই লাইন ছোট হয়ে যায়। একজন মোটরবাইক চালক এবং একজন প্রাইভেট কারচালক আমাকে সরাসরি বলেছেন যে, বিএনপি সরকার তেল নিয়ে তেলেসমাতি করেছে। আমরা সব বুঝে ফেলেছি।
মাত্র ২ মাস ৯ দিন হলো বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসেছে। এ সময়ের মধ্যেই নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের মূল্য হু-হু করে বেড়েছে। অথচ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে সংসদে এক দিনও আলোচনা হয়নি। সবচেয়ে দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো এই যে, কোনো জনদুর্ভোগের এজেন্ডা আলোচনার পরিবর্তে সরকারি দলের সদস্যরা তাদের নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চাটুকারিতায় অনেক সময় ব্যয় করেছেন। স্বয়ং চিফ হুইপ, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী, স্বাস্থ্যমন্ত্রীসহ অনেক ট্রেজারি বেঞ্চ মেম্বার এই চাটুকারিতায় লিপ্ত হন।
এ সংসদের প্রথম অধিবেশন জুলাই বিপ্লবের প্রতি শাসকদলের নিদারুণ শৈথিল্যের স্বাক্ষর হিসেবে চিহ্নিত থাকবে। বাংলাদেশের জাতীয় জীবনে ৩টি বছর অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে। এই তিনটি বছর হলো- ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগ এবং পাকিস্তান হাসিল। দ্বিতীয়টি হলো ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীন বাংলদেশের অভ্যুদ্বয়। তৃতীয়টি হলো, ২০২৪ সালে জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে ১৫ বছরের স্বৈরাচারের জগদ্দল পাথর অপসারণ। মানুষ প্রত্যাশা করেছিলেন যে, ১৯৪৭ সালের স্বাধীনতা এবং একাত্তর সালের দ্বিতীয় স্বাধীনতার প্রতি সমস্ত জনগণ যেমন শ্রদ্ধা দেখিয়েছেন, তেমনি ২৪ সালে শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী স্বৈরশাসন বিতাড়নে দেড় হাজার মানুষের শাহাদাতবরণ এবং ২৬ হাজার মানুষের বুলেটবিদ্ধ হওয়াকে নতুন সরকার সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেবেন।
১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরুর পর ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে কোনো মন্ত্রীকে জুলাই বিপ্লবীদের প্রতি উচ্চকণ্ঠে শ্রদ্ধা পোষণ করতে দেখা যায়নি। জনগণ জুলাই বিপ্লবকে দেখেছেন নতুন করে রাষ্ট্র বিনির্মাণ এবং সমাজ পরিবর্তনের ইনস্ট্রুমেন্ট হিসেবে। কিন্তু ক্ষমতায় যাওয়ার পর বিএনপির সদস্যদের আচার-আচরণ দেখে জনগণ দুঃখের সাথে লক্ষ করেছেন যে, বিএনপি এটিকে নেহাত সরকার পরিবর্তন হিসেবে গ্রহণ করেছে। তার স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায় জুলাই সনদ এবং সেই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ প্রকাশ্যে লঙ্ঘন করার মধ্য দিয়ে। অন্তর্বর্তী সরকার ৯ মাস সময় নিয়েছেন রাষ্ট্রের সংস্কারের রূপরেখা নির্ণয়ে। ৩৩টি রাজনৈতিক দল ঐকমত্য কমিশনের আহ্বানে মাসের পর মাস সভা করেছেন।
জুলাই বিপ্লব তথা অন্তর্বর্তী সরকারের লক্ষ্যই ছিল ৩টি। এগুলো হলোÑ সংস্কার, বিচার এবং নির্বাচন। কিন্তু বিএনপি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বিপ্লব শেষ হওয়ার পরদিন অর্থাৎ ৬ আগস্ট থেকেই নির্বাচনের দাবিতে সোচ্চার হয়েছে। পরবর্তী দেড় বছর তাদের বলতে গেলে একটিই দাবি ছিল। আর সেটি হলো নির্বাচন। সংস্কার এবং বিচার তাদের কাছে গৌণ হয়ে যায়।
অনেক কাঠখড় পোড়ানোর পর অবশেষে পার্লামেন্টের দক্ষিণ প্লাজায় ৮৪টি প্রস্তাবসংবলিত জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষর করে ৩০টি রাজনৈতিক দল। তখন প্রশ্ন ওঠে, এই সনদ বাস্তবায়িত হবে কীভাবে? ঐকমত্য কমিশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রখ্যাত রাষ্ট্রবিজ্ঞানী প্রফেসর আলী রীয়াজ ৫ জন সংবিধান বিশেষজ্ঞের সাথে দফায় দফায় বৈঠক করেন। একই সময় তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর সাথেও বৈঠক করেন। কীভাবে সনদ বাস্তবায়িত হবে সে সম্পর্কে বিশেষজ্ঞরা যে পথরেখা দেন, সেগুলোও বিএনপিসহ রাজনৈতিক দলগুলোকে জানানো হয়। অতঃপর সকলে মিলে এই মর্মে সমঝোতা হয় যে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য একটি নির্বাহী আদেশ জারি হবে। সেই সিদ্ধান্ত মোতাবেক জারি হয়, ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫।’
উপরোক্ত আদেশ মোতাবেক চলতি সালের ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। ঐ নির্বাহী আদেশে বলা হয় যে, নির্বাচনের মাধ্যমে যারা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবেন, তারা একই সাথে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যও নির্বাচিত হবেন। এজন্য তাদের সংসদ সদস্য ও সংস্কার পরিষদ সদস্য হিসেবে ২টি শপথ গ্রহণ করতে হবে।
১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ গ্রহণের সময় বিএনপি সর্বাগ্রে তাদের ওয়াদা ভঙ্গ করে। তারা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন, কিন্তু সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। পক্ষান্তরে বিরোধীদলের ৭৭ জন সদস্য ২টি শপথই গ্রহণ করেন। এভাবে বিএনপি প্রথম জুলাই সনদ তথা জুলাই বিপ্লবের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে।
অন্তর্বর্তী সরকার তাদের ১৮ মাস সময়ে ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করে। এর মধ্যে সংসদ ১১৩টি অধ্যাদেশ পাস করে। ৪টি অধ্যাদেশ বাতিল করা হয় এবং ১৬টি অধ্যাদেশ অকার্যকর করে। উল্লেখ্য, জনগণ পাস করা ঐ ১১৩টি অধ্যাদেশ নিয়ে মাথা ঘামাননি। তারা চেয়েছিলেন অবশিষ্ট ২০টি অধ্যাদেশ আইনে রূপান্তরিত করা। সেখানে আইনে রূপান্তরিত করার পরিবর্তে ব্রুট মেজরিটির জোরে সরকারি দল ৪টি বাতিল করে এবং ১৬টি অকার্যকর করে। যে ৪টি অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়, সেগুলো হলোÑ ১. জাতীয় সংসদ সচিবালয় (অন্তর্বর্তীকালীন বিশেষ বিধান) অধ্যাদেশ, ২০২৪। ২. সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, ২০২৫। ৩. সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫। ৪. সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬।
যে ১৬টি অধ্যাদেশ অকার্যকর করা হয়েছে সেগুলো হলো- ১. গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫ (Referendum Ordinance)। ২. গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ (দুটি): গুমের অপরাধ প্রতিরোধে বিশেষ আইন। ৩. জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ। ৪. দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ: দুদকের ক্ষমতা ও স্বাধীনতা সংক্রান্ত। ৫. তথ্য অধিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ। ৬. পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ। ৭. সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ: বিচার বিভাগের প্রশাসনিক স্বাধীনতা সংক্রান্ত। ৮. সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ। ৯. রাজস্ব নীতি ও ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০২৫। ১০. মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক অধ্যাদেশ, ২০২৬। ১১. ব্যাংক রেজ্যুলেউশন অধ্যাদেশ। ১২. মানব অঙ্গ প্রতিস্থাপন (সংশোধন) অধ্যাদেশ । ১৩. সাইবার নিরাপত্তা অধ্যাদেশ। ১৪. জাতীয় তথ্য ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ। ১৫. ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিজমি সুরক্ষা অধ্যাদেশ । ১৬. বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) অধ্যাদেশ।
উল্লেখ করা যেতে পারে যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলছেন যে, জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে। কোন জুলাই সনদ? যেটি পার্লামেন্টের দক্ষিণ প্লাজায় রাজনৈতিক দলগুলো স্বাক্ষর করেছে। এই সনদে বিএনপি ২০টিরও বেশি সংস্কার প্রস্তাবে নোট অব ডিসেন্ট বা আপত্তি দিয়েছে। সেই কারণে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশে ৪৭টি প্রস্তাব গণভোটে দেওয়া হয়েছিলো, যেখানে বিএনপির দেওয়া আপত্তিসংবলিত প্রস্তাবও ছিল। জনগণকে বলা হয়েছিল যে, তারা বিএনপির আপত্তি সত্ত্বেও ঐসব প্রস্তাব সমর্থন করেন কিনা। জনগণ গণভোটে ৭০ শতাংশ ভোট দিয়ে রায় দিয়েছেন যে, তারা বিএনপির আপত্তি সত্ত্বেও মোট ৪৭টি প্রস্তাব সমর্থন করেন।
আজ তারেক রহমান যে জুলাই সনদের কথা বলছেন সেটি গণভোটের ঐ ৪৭ দফা নয়। বিএনপি যে ২০টি সংস্কার প্রস্তাব তথা অধ্যাদেশ বাতিল/অকার্যকর করেছে, সেগুলোয়ও জনগণ গণভোটের মাধ্যমে হ্যাঁ সূচক ভোট দিয়েছেন। একটি উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি বোঝানো যেতে পারে।
উচ্চকক্ষে বিএনপির দাবি ছিলো নিম্নকক্ষে যে দল যে কয়টি আসন পাবে, সেই ভিত্তিতে উচ্চকক্ষের আসন নির্ধারিত হবে। পক্ষান্তরে অন্যান্য দল দাবি করেছিলো, যে দল নির্বাচনে সারা দেশ ভিত্তিতে যত ভোট পাবে, সেই ভোটের ভিত্তিতে উচ্চকক্ষে আসন নির্ধারিত হবে। বাস্তবায়ন আদেশে এই দ্বিতীয় প্রস্তাবটিই গণভোটে দেওয়া হয়েছিলো। জনগণ সামষ্টিক ভোটভিত্তিক উচ্চকক্ষের আসন নির্ধারণের পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন। তারেক রহমান যে অক্ষরে অক্ষরে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কথা বলছেন, সেখানে রয়েছে শুভঙ্করের ফাঁক। গণভোটকে সেখানে অস্বীকার করা হয়েছে।
এভাবে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন জনগণকে শুধু হতাশই করেনি, বরং জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে প্রকাশিত জনআকাক্সক্ষা ও জনগণের সার্বভৌমত্বের প্রতি চরম উপেক্ষা প্রদর্শন করা হয়েছে।
Email: jamshedmehdi15@gmail.com