আবার ‘জঙ্গি’ বয়ান নিয়ে ওরা কারা?
৩০ এপ্রিল ২০২৬ ১৪:০৫
॥ হারুন ইবনে শাহাদাত ॥
খবরটি সত্যি না উড়ো- চলছে তুমুল বিতর্ক। বিতর্কের কারণ পুরোনো কার্ডের নতুন চাল। এ কার্ডের নাম জঙ্গিকার্ড। বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি, ভারতের অপমানজনক কর্মের প্রতিবাদীদের গুম-খুন, গ্রেফতার-রিমান্ড, জেল-ফাঁসি দিতে যে এ কার্ডের জুড়িমেলা ভার, তা ফ্যাসিস্ট ও পতিত আওয়ামী লীগ আমলে পরীক্ষিত। পতনের পর থেকেই আ’লীগ ঘুরে দাঁড়াতে এ কার্ড ব্যবহার করে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণের অপচেষ্টা করেছে। কালেমার পতাকা মাথায় বেনামাজি সুবিধাবাদী ভাড়াটে ছিঁচকে সন্ত্রাসীদের নিয়ে মিছিল, অগ্নিসংযোগ এবং লুটপাটের ঘটনা ঘটিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ভারতীয় কিছু চিহ্নিত মিডিয়ার মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী ব্যাপকভাবে ছড়ানো হয়েছে। কিন্তু ড. মুহাম্মদ ইউনূস অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হওয়ায় আন্তর্জাতিক দুনিয়া অপপ্রচারে কান দেয়নি। তার ইতিবাচক ইমেজ ও কূটনৈতিক তৎপরতার কারণে পতিত ফ্যাসিস্ট এবং তার পৃষ্ঠপোষক ভারতের সেই নীলনকশা হালে পানি পায়নি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠন করতে ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ হয়েছে। এরপর বিএনপি নতুন সরকার গঠন করেছে। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও ১১ দলের শীর্ষনেতা ডা. শফিকুর রহমান বিরোধীদলীয় নেতার আসন অলংকৃত করেছেন। কিছু কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও নতুন সরকারের নেতৃত্বে দেশ নতুন গতিতে এগিয়ে চলছে। এমন শুভক্ষণে হঠাৎ রেড অ্যালার্ট। বিষয়টি মনে করিয়ে দিচ্ছে ‘এক দিনও শান্তিতে থাকতে দেব না বলা পতিত আওয়ামী লীগ সভাপতির’ সেই নীলনকশার কথা। ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট সারা দেশের ৬৪ জেলার একমাত্র মুন্সীগঞ্জ ছাড়া ৬৩টি জেলার কমপক্ষে ৫শ’ স্থানে একযোগে বোমা হামলা ঘটানো হয়। সেই বোমা হামলা ঘটনা ছিল পরিকল্পিত। পরে তদন্তে বের হয়ে আসে ভারতে জন্ম নেয়া বাংলাদেশ জামা’আতুল মুজাহিদিন (জেএমবি) এ হামলায় জড়িত। উদ্ধার করা বোমা, বোমা তৈরির সরঞ্জাম সবই ভারত থেকে সরবরাহ করা হয়েছে। তার নেতৃত্বে আছেন বাংলাদেশ আ’লীগের অঙ্গ সংগঠন যুবলীগের নেতা তৎকালীন নেতা মির্জা আজমের দুলাভাই আবদুর রহমান। বিএনপি-জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার সন্ত্রাসী সংগঠন জামা’আতুল মুজাহিদিন (জেএমবি) নিষিদ্ধ করে। তাদের নেতাদের গ্রেফতার ও বিচারের আওতায় আনে। ভারত এখানে এক নোংরা খেলা খেলেছিলো, এ সংগঠনটির এমন নাম রেখেছিলো- যেন পশ্চিমা মিডিয়া বিভ্রান্ত হয়- ‘জামা’আতুল’ ’জামায়াতে ইসলামী’ নামের গোলকধাঁধায় পড়ে।
খালেদা জিয়া ও মাওলানা নিজামীর নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোট সরকারের সরকারের কঠোর ভূমিকার কারণে জামাত উল মুজাহিদিন (জেএমবি) নির্মূল হয়ে যায়। কঠোর হাতে সন্ত্রাসীদের দমন করার পর বেগম খালেদা জিয়া ও মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী আত্মবিশ্বাসের সাথে ঘোষণা দিয়েছিলেন, ‘দেশে কোনো জঙ্গি-সন্ত্রাসী নেই’। কিন্তু ১/১১-এর প্রেক্ষাপটে সেনাসমর্থিত জরুরি সরকারের অধীনে নির্বাচন নাটক মঞ্চস্থ করে আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের নেতা শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় বসায় প্রতিবেশী আগ্রাসী শক্তি। এবার শুরু হয় জঙ্গি নাটক। সরকার ও ভারতের তৈরি সন্ত্রাসীদের নিয়ে ঘটনা ঘটিয়ে দেশের আলেম-ওলামা, ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দল ও দেশপ্রেমিক প্রতিবাদী ছাত্র-জনতাকে জঙ্গি ট্যাগ দিয়ে চলে গ্রেফতার, রিমান্ড, জেল-জুলুম নির্যাতন, গুম, খুন। হাসিনার পতনের পর আয়নাঘর নামের গুমঘরের সন্ধান মেলে, যা দেশের ইতিহাসে ইতোপূর্বে কেউ দেখেনি। নতুন করে রেড অ্যালার্টে সেই পুরোনো ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা করছেন পর্যবেক্ষকরা।
নতুন অ্যালার্ট ও ষড়যন্ত্রের গন্ধ
গত ২৩ এপ্রিল বৃহস্পতিবার পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পুলিশের সব ইউনিটে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (গোপনীয়) কামরুল আহসানের সই করা একটি দাপ্তরিক চিঠি পাওয়ার পর সতর্কতা জারি হয়েছে বিমানবন্দরসহ রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাভুক্ত (কেপিআই) সব প্রতিষ্ঠানে। উল্লেখ্য, কেপিআইভুক্ত এলাকাগুলোয় সবসময়ই কঠোর নিরাপত্তা থাকে। ঐ চিঠি পাওয়ার পর নিরাপত্তা আরো বাড়ানো হয়েছে। বিমানবন্দরে বেবিচকের নিজস্ব এভিয়েশন সিকিউরিটি (এভসেক) ছাড়াও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকেন। ফলে আগে থেকেই নিরাপত্তা রয়েছে। সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক বলেন, পুলিশ সদর দপ্তরের একটি চিঠির পর দেশের আটটি বিমানবন্দরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, তারা বিভিন্ন বাহিনীর অস্ত্রাগারে হামলার পরিকল্পনাও গ্রহণ করে থাকতে পারে বলে গোয়েন্দা তথ্যের ইঙ্গিত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মতে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দেশের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ। এই পরিপ্রেক্ষিতে চিঠিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি নজরদারি বৃদ্ধি এবং সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সেনাবাহিনী থেকে ইতোমধ্যে দুই সদস্যকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এছাড়া অন্য একটি সংস্থা থেকে ১১ জনকে আটক করা হয়েছে। এদের মধ্যে আটজন অফিসার রয়েছেন। তাদের সঙ্গে তেহরিক-ই-তালিবান অব পাকিস্তানের (টিটিপি) যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে দুজন বিমানবন্দর দিয়ে পাকিস্তান যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সেখান থেকে তাদের অফলোড করে গ্রেফতার হয়েছে বলে সূত্রটি দাবি করেছে। যদিও এ ব্যাপারে সরকারের কোনো সংস্থা থেকে পরিষ্কার করে কোনো ধারণা দেওয়া হয়নি। উল্লেখ্য, তেহরিক-ই-তালিবান অব পাকিস্তানের (টিটিপি) নামের এ জঙ্গি সংগঠনের জন্মদাতা ভারত সরকার। তালেবান ও পাকিস্তান নাম ব্যবহার করে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে এ অঞ্চলের মুসলমানদের ফাঁদে ফেলা এবং পশ্চিমাদের কাছে নেতিবাচক বার্তা দেয়ার অসৎ উদ্দেশ্যে ভারত সরকারের মদদে এ জঙ্গি সংগঠনের জন্ম ও কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে পর্যবেক্ষকদের দাবি। তেহরিক-ই-তালিবান অব পাকিস্তানের (টিটিপি) পাকিস্তানে নিষিদ্ধ সংগঠন, সেই সংগঠনের সদস্যরা বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তানে যাবে নিরাপদে আশ্রয়ে বিষয়টি কোন যুক্তিতেই বিশ্বাসযোগ্য নয়। সূত্রগুলো বলছে, সরকারের পক্ষ থেকে পরিষ্কার বক্তব্য আসার আগে গ্রেফতার করা ব্যক্তিদের ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করা বা তাদের পরিচয় সম্পর্কে কিছু বলা সম্ভব নয়, সঙ্গতও নয়।
এখন প্রশ্ন হলোÑ তাহলে পর্দার আড়ালে কী খেলা চলছে? একটি সূত্র ভারতের সাথে আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং ভারতের বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার পুরোনো অভ্যাস মিলিয়ে একটি নতুন সমীকরণ দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে। বাংলাদেশে একটি পত্রিকা এবং বাংলাদেশ ও ভারতের পৃথক দুটি নিউজ পোর্টাল এ-সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করার পর বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের ভাবিয়ে তুলেছে। কী আছে সেই প্রতিবেদনে?
এত ভাবনার কারণ কী?
একটি সূত্রে প্রকাশ, গত বছরের মাঝামাঝি আফগানিস্তান সফর করেন নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার জামিয়া কারামিয়া মাদরাসার পরিচালক আবু সায়েম খালেদ। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরে খালেদ ‘বাংলাদেশ-আফগানিস্তান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (বিএসিসিআই)’ প্রতিষ্ঠা করেন। একটি স্বাধীন দেশের সরকারের সাথে বাণিজ্য-সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করা যেতেই পারে। এতে সন্দেহের কিছু নেই। কিন্তু সমস্যা হলো, বাংলাদেশ সরকারের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার আগে অবশ্যই বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে। যার হাত ধরে এ সংগঠনের প্রতিষ্ঠা, তার অতীত কার্যক্রমের কারণেও বিষয়টি নিয়ে সন্দেহের জাল কাটছে না। অবশ্য সূত্রগুলোর দাবি, খালেদ তালেবান সরকার বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে সক্রিয় ইসলামপন্থীদের সঙ্গেও যোগাযোগ রক্ষা করছেন। খালেদের আফগান সফরের পর গত বছরের সেপ্টেম্বরে দেশটি সফর করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হকসহ ৭ আলেম। সফর শেষে দেশে ফিরে মামুনুল হক সাংবাদিকদের জানান, সফরে আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোল্লা আমির খান মুত্তাকির সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। আমির খান মুত্তাকি তাদের জানিয়েছেন, ‘৪১টি দেশের সঙ্গে তালেবান সরকারের কূটনৈতিক সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে ভারত-পাকিস্তান থাকলেও বাংলাদেশ নেই।’ বাংলাদেশে কূটনৈতিক সম্পর্ক তৈরির জন্য আমির খান মুত্তাকি তাদের কাজ করতে অনুরোধ করেছেন বলেও জানান মামুনুল হক। এই মুহূর্তে তালেবান সরকারের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ রাষ্ট্র ভারত। বাংলাদেশ সফর শেষে গত জানুয়ারিতে দিল্লিতে আফগান দূতাবাসের দায়িত্ব নেন তালেবান নেতা মোল্লা জাওয়ান্দি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত বছরের শেষ দিকে দুবার বাংলাদেশ সফর করে খালেদের অতিথি হন আফগান তালেবান আবদুল্লাহ শাহ মাজহার। তাঁর সম্পর্কে বিবিসির উর্দু প্রতিবেদনে বলা হয়, শাহ মাজহার পাকিস্তানে অত্যন্ত প্রভাবশালী। অতীতে তিনি নিষিদ্ধঘোষিত জইশ-ই-মোহাম্মদের প্রধান মাসুদ আজহারসহ বেশ কয়েকজনের ঘনিষ্ঠ ছিলেন।
বিশ্লেষকদের মন্তব্য
পর্যবেক্ষক ও তরুণ আলেম মনযূরুল হক বাংলা ভাষার নিউজ পোর্টাল ঢাকা স্ট্রিমকে বলেন, উপমহাদেশে ধর্মীয় কূটনীতির ব্যবহার আগেও ছিল। একাত্তরে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময় জমিয়তের উলামায়ে হিন্দের প্রধান আসআদ মাদানিকে বাংলাদেশে পাঠানো ছিল ভারতের ধর্মীয় কূটনীতির অংশ। এদেশে এসে তিনি পাকিস্তানের বিপক্ষে লড়াই করতে আলেমদের উদ্বুদ্ধ করেছিলেন।
পর্যবেক্ষকদের অনেকে মনে করেন, আফগানিস্তানের সরকারকে স্বীকৃতি দিয়ে সরাসরি খোলামেলা কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করলে ভারত তাদের ব্যবহার করে ঘোলা পারিতে মাছ শিকারের সুযোগ কম পাবে। তা না হলে অতীতের মতো তারা ইসলামী সেন্টিমেট ব্যবহার করে দেশকে অস্থির করার ষড়যন্ত্র করবে। তাই বিষয়টি সরকারকে খুব ঠাণ্ডামাথায় নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। অতীতের মতো যেন জঙ্গিকার্ড খেলে দেশের আলেম-ওলামা ও প্রতিবাদী তরুণদের নির্মূল অভিযানের ছক কোনো স্বার্থান্বেষী মহল নিতে না পারে- এদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। কারণ মানুষ আর সেই পুরোনো নোংরা খেলা দেখতে চায় না। এর প্রমাণ ‘জঙ্গি হামলার আশঙ্কা’ শব্দ ব্যবহার করে অতি জরুরি সতর্কবার্তা জারির পর ইতোমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। কেন ‘সন্ত্রাসী’ ‘উগ্রবাদী’ না বলে ‘জঙ্গি’ বলা হচ্ছে? তাহলে কি আবারও ইসলামপন্থীদের হয়রানি করার নতুন কোন ফাঁদে পা দিচ্ছে সরকার।
এ ভুল পথে পা বাড়ালে পতিত ফ্যাসিস্ট নিষিদ্ধ ফ্যাসিস্ট আ’লীগ বিশ্ববাসীকে বিভ্রান্ত করতে আবার শুরু করবে পুরোনো বয়ান, ‘বাংলাদেশ জঙ্গিতে ভরে গেছে।’ অতএব সাবধান।